বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যাদের গল্পের কোন নায়িকা নেই

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X যাদের গল্পের কোন নায়িকা নেই ---------------- নাজমুস সাকিব অনিক ফোন ধরতেই প্রেমিকা বললো, “ঘুমাও নাই এখনো?” -“মাত্র সাড়ে নয়টা বাজে।“ -“ও আচ্ছা সাড়ে নয়টা নাকি মাত্র? যাই হোক এখনি খেয়ে ঘুমায় পড়ো। শার্প সকাল আটটায় আসবা।“ -“সূর্যই তো উঠে সাড়ে দশটায়।“ -“ধ্রুব আমি রাখি।“ -“আরে আরে রাইখোনা, শোনো শোনো। ঘুমাইতেছি, তাহলে একটা কবিতা আবৃত্তি করো, শুনতে শুনতে ঘুমাই।“ -“হঠাৎ দেখা টা আবৃত্তি করি?” -“তুমি খালি দুঃখের কবিতা আবৃত্তি করো কেন?” -“শুনলে শুনো, না শুনলে নাই।“ -“আচ্ছা করো” -“রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা, ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন। আগে ওকে বারবার দেখেছি লালরঙের শাড়িতে দালিম ফুলের মতো রাঙা; আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়” -“ এই এইডা মেলা বড়, বারবার এত মন খারাপ করা কবিতা পুরা শুনতে ভাল্লাগেনা। ঐযে ঐটুক শোনাও।“ -“আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি। একটুকু রইলেম চুপ করে; তারপর বললেম, "রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।" “ ওর কবিতা শেষ হয়। আমি চুপ করে থাকি। অর্ভি রবীন্দ্রনাথের খুব ভক্ত। আমি একবার চুমু খেতে চেয়েছিলাম, সে মুখ বাঁকায়ে বলেছিল, “শেষের কবিতা কিনে দিব বরং”। আমার আর চুমু খাওয়া হয়নি। আমি অপেক্ষা করছি শেষের কবিতা কবে কিনে দিবে, তাতে চুমুর থেকে মধুর কি আছে জানবার ইচ্ছা। -“ঘুমিয়ে গেছো?” -“নাহ” -“আরেকটা শুনবা?” -“নাহ” “থাকো তুমি তাইলে, সকালে লেট হইলে খবর আছে।“ -“আচ্ছা আচ্ছা” -“দেখো আজকে রাত্রে কিন্তু কথা বলতে পারব না। প্রত্যেকদিন তোমার ঘ্যানঘ্যান ভাল লাগে না। আর মাঝরাতে ঘুম ভাংগাবা না ফোন দিয়ে, খুব অসহ্য লাগে কিন্তু।“ মনে মনে খুশিই হইলাম। বন্ধু লিটন আসছে। সাথে দুইটা বোতল আনছে। আমি বললাম, “আরে না না কি যে কউ, আমার ইনসোমনিয়া আছে তো, তোমার ভয়েস ছাড়া ঘুম আসেনা, সমস্যা নাই, আজকে মাইলাম ৭.৫ খেয়ে নিবানে একটা।“ প্রেমিকা মেনে নিল। সম্পর্ক হইতে হয় এমন, কম্প্রোমাইজ। কম্প্রোমাইজ না করলে কি সম্পর্ক টিকে? বন্ধু লিটনরে এইটাই বুঝাইতে পারলাম না। আজকে সে মিথিলার সাথে ব্রেক আপ করে আসছে। ওর প্রেমিকা (প্রাক্তন) মিথিলা ওর কাছে প্রেমবিরতি চাইছে। বন্ধুর কাছে গিয়া বসলাম। বন্ধু হাতে সবজি ধরায়ে দিয়ে বলল, “সব বাইচ্ছা দিছি, খালি কচাত কচাত কইরা কাটবি।“ আমি কচাত কচাত করে কাটতে কাটতে জিজ্ঞাসা করলাম, “কি হইছে বল। এতো সেন্টি কেন? সমস্যা তো প্রেমে হয়, আবার ঠিক হয়ে যায়।“ -“আরে কইস না। আমারে বললো সম্পর্ক তার কাছে বোঝা হয়ে যাচ্ছে।“ -“ভাল তো, বেশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং মেয়ে। বুঝে ফেলতেছে সব।“ কচাত কচাত করে কাটতে কাটতে বললাম। -“বালডা বুঝছো তুমি। বোঝা মানে সম্পর্ক তার কাছে বার্ডেন হইয়া যাইতেছে। সে নাকি ক্যারি করতে পারতেছে না।“ -“মানে কি? সম্পর্ক কি ব্যাগ নাকি? কয় কেজি কাপড় চোপড় দিছস ব্যাগে?” বন্ধু কোত কোত করে হাফগ্লাস মেরে দিয়ে নাকমুখ শিটকায় বললো “বিড়ি ধরা বিড়ি ধরা”। আমি বিড়ি ধরায়ে দিলাম। বিড়িতে দুই টান মারার পর বন্ধুর শিটকানো মুখ একটু স্বাভাবিক হলো। আমি আবার কচাত কচাত করে সবজি কাটতে শুরু করলাম। হালারপুত কিচ্ছু বাছে নাই, প্যারা হয়ে যাচ্ছে। বন্ধু আবার শুরু করে। -“শালা চাকরিডা পর্যন্ত করতে পারলাম না জানিস? ভোর ৫ টা পর্যন্ত ফোনে প্যানপ্যান করে সকাল আটটায় অফিস ধরা লাগত। সারাদিন অফিসে ঘুমাইতাম আর বসের গালি খাইতাম। শালা শেষমেষ চাকরিটাই ছাইড়া দিলাম। বস ***র পোলাও খুব ****দ ছিল, কিন্তু তাও মাস শেষে টাকা তো দিত। তাই মাটি কামড়াইয়া পইড়া ছিলাম। মিথিলা আসার পর দেখলাম মাটি কামড়াইয়া ধইরা পইড়া থাকার চেয়ে মিথিলা কামড়াইয়া ধইরা পইড়া থাকা বেশি মজার। দিলাম চাকরি ছাইড়া। আইজ মিথিলা কয় রাতে ফোন দিলে নাকি তার ঘুমে ডিস্টার্ব হয়।“ সবজি কাটতে কাটতে আমি কিছুক্ষনের জন্য থেমে গেলাম। ওর দিকে কিছুক্ষন তাকায়ে থাকলাম। লিটন কয়, “হালারপুত তাকায় আছস কেন?” আমি বললাম, “না কিছুনা।“ বলে ওরে আরো হাফগ্লাস ঢেলে দিলাম। বন্ধু বলে, “শালা ফকিরের মত করতাছস কেন, পুরা গ্লাস ঢাল, আজকে লিটারে হিসাব হবে।“ আমি বললাম, “অকা”। বন্ধু আবার বলে, “আর শোন, এইসব প্রেম পিরিতির গল্প লেখা বাদ দে। আমরা তো জানি তোর মধ্যে এইসব কোন প্রতিভা নাই। সব মাইয়া পটানোর ধান্দা। অর্ভিরে তো পটায়াই ফালাইছস। এইসব গোধুলীবেলা, পটলচেরা চোখ এইসব ভুগিচুগি বাদ দাও। গল্প লেখলে লিখবি লিটনের ফ্ল্যাট নিয়া। গোধুলীবেলার বদলে থাকবে লিটনের রুমের পার্টি লাইট, এক ঘন্টার কাম এর গল্প”। বুঝলাম বন্ধুর উইকেট পড়তে আর বেশি বাকি নাই। দর্শক আসার আগেই উইকেট পড়ে গেলে সমস্যা। সব পোলাপান এখনো বাইরে। রাত দশটার পর বাকিরাও বাড়ি ফিরল। বিশাল পার্টিশার্টি হলো। রাহুল “কেভু কেকা” নামক মারাঠি গানের সাথে বেশি নিষ্ঠার সাথে নাচতে গিয়ে বেড ভেংগে ফেলল। ভোর চারটার দিকে আমি আবিস্কার করলাম সবাই এদিক সেদিক ছড়ায় ছিটায় ঘুমাচ্ছে আর আমি “নাক্কামুক্কা” গানের তালে তালে নিজের ছায়ার সাথে কাপল ড্যান্স করতেছি। মাহমুদ সবজি খায় আর আয়েশি ভংগিতে আমার নাচ দেখে। মাহমুদ এই লাইনের মাহেলা জয়াবর্ধনে, সবার উইকেট পড়ে যায়, মাহমুদ ব্যাটিং করতেই থাকে। হঠাত মনে পড়ল সকালে অর্ভির সাথে ডেট আছে। ঘুমায় পড়তে হবে। আমার রুমে গিয়ে দেখি লিটন বমি টমি করে তার মধ্যে শুয়ে “আল্লাহ আল্লাহ” করতেছে। লিটনরে তুলে বাথরুমে পাঠাইলাম, বমি টমি পরিস্কার করে শুইতে শুইতে বাইরে আলো ফুটে গেল। সকালে ঘুম ভেংগে দেখি সকাল আর সকাল নাই। বিকাল হয়ে গেছে। ফোনে ৫ টা মিসকল। আমি তো ভাবছিলাম ৫০০ টা মিসকল পাব। যাই হোক, কলব্যাক করলাম। অর্ভি দিয়াবাড়ি যাইতে বললো। আমি তাড়াতাড়ি কোনরকম রেডি হয়ে বের হয়ে পড়লাম, শিওর দুইটা বেত নিয়ে আসবে আজকে দেখা করতে। অর্ভির হাতের মাইর খাইতেও মজা। একটা মেয়েরে যখন খুব ভালবাসতে পারা যায়, এতটা ভালবাসতে পারা যায় যখন কোন সেক্সি মেয়ের দিকেও আর চোখ যায়না, যখন আর পর্নও দেখতে ইচ্ছা করেনা, কি যে ভাল লাগে, কি যে ভাল লাগে! বের হওয়ার পথে দেখলাম লিটন ফোন কানে নিয়ে কান্নাকাটি করতেছে। অর্ভিকে আজ খুব সুন্দর লাগছে। প্রতিদিন লাগে। দিয়াবাড়ির এই লেকের ধারটায় বিকালে খুব সুন্দর একটা রোদ পড়ে লালচে। সেই লালচে রোদ অর্ভির আঙুররঙা গালে পড়ে অদ্ভূর এক শিল্পকর্ম তৈরী হয়। যে শিল্পকর্মটা দেখার জন্য আমি বারবার এইখানে ওরে ডেকে আনি। বজলু এসে বলে, “মামা চটপটি নাকি ফুচকা?” এদের কোনটাই ভাল না। যেইটাই খাই না কেন বাসায় গিয়ে টানা ৫ বার বাথরুম যাওয়া অবধারিত। মেয়েদের পেটের ডাইজেস্টিভ এসিডগুলা সম্ভবত খুব শক্তিশালী হয়। এদের কিছু হয় না। অর্ভি বলে, “টক ঝাল বাড়ায়ে একটা চটপটি।“ বজলু অর্ডার নিয়ে চলে যায়। আজকে অর্ভি অদ্ভূত চুপ। অন্যদিন আমার চুল, কান, নাকের উপর দিয়ে বেশ অত্যাচার যায়। আজকে কোন অত্যাচার নাই। আমার সুবিধা, আমি প্রানভরে ওর গালে শিল্পকর্ম দেখি। চটপটি আসে, চটপটি শেষ হয়। কিন্তু শিল্পকর্ম শেষ হয় না। কি এক অবাক ব্যাপার। এ যেন শক্তির নিত্যতা সূত্রের মত। “অর্ভির গালের শিল্পকর্মের কোন সৃষ্টি বা ধ্বংস নাই, শুধু তা এক রুপ থেকে অন্য রুপে পরিবর্তিত হয়।“ অর্ভি নীরবতা ভাঙে। “আমি আর সম্পর্কটা নিতে পারছি না ধ্রুব”। তারপর হাবিজাবি আরো কি কি জানি বলে। আমার কানটা ঝাঁ ঝাঁ করে কিছুক্ষন। কিছু শুনতে পাইনা। সম্বিত ফিরে পাই বজলুর ডাকে, “মামা আশি টেকা, পানিসহ”। অর্ভি ব্যাগ থেকে একশ’ টাকা বের করে দিয়ে বলে “বাকিটা তোর বকশিশ যা”। তারপর “ভালো থেকো ধ্রুব” বলে উঠে যায়। আমি বসে থাকি। লিটনের ফোন আসে। ফোন রিসিভ করতেই ভ্যা ভ্যা করে কান্নাকাটি করে কি কি জানি বলে। একটা কথা শুনতে পাই শুধু, “অয় অন্য কারো গল্পের নায়িকা মামা, আমার গল্পের না”। আমি ছোট্ট ছাউনির নিচে বসে অর্ভির চলে যাওয়া দেখি। কাশবনের পাশ দিয়ে এলো চুলে একটা মেয়ে হেঁটে যায়, শীতের বিকালের শীতল বাতাসে ওর খোলা চুল উড়ছে। আকাশের ঐ কোনাটায় কেন জানি কালো করে মেঘ জমেছে। চুল মেঘ কাশফুল সবকিছুকে হঠাত আলোকিত করে একফালি গোধুলী রোদ ওদেরকে ঝলসে দেয়। যেন স্বয়ং ভ্যান গগ উপর থেকে অদৃশ্য কোন তুলি বোলাচ্ছেন আর্টপেপারে। আমি লিটনকে বলি, “আমাদের গল্পে কোন নায়িকা নাই, হালার পুত।“ আমাদের গল্পের নায়িকাগুলাকে আমরা চিনতে পারি না। একদা এক মেয়ে কার্জনের সিড়িতে বসে চোখের কাজল ভিজিয়ে লেপ্টে একাকার করেছিল আমি একবেলা খাই শুনে। তখন খুব কষ্টের দিন ছিল, দিনে একবেলা খেতাম। আমার গল্পের নায়িকার পানে চেয়ে আমার মন খারাপ হয়েছিল, অন্যের গল্পের নায়িকাদের মত আমার গল্পের নায়িকা কি একটু সুন্দর হতে পারত না? মানুষের চাহিদার শেষ নাই। আর আমাদের গল্পেরও কোন নায়িকা নাই। আমাদের গল্পে থাকে ভাই। যারা ভাত খাওয়ার আগ দিয়ে দুইটা ডিম ভেজে বলে, “ধ্রুব ডিম ভাজছি, খেয়ে নিস।“ আমাদের গল্পে সাত সকালে কোকিল কন্ঠে ঘুম ভাংগানো পাখি থাকেনা। আমাদের গল্পে থাকে ভাই, যে সকালে উঠে একহাতে চোখ আরেক হাতে গোপন জায়গা ডলতে ডলতে এসে বলে, “মামা একটা বিড়ি হবে?” জাবালে নূর পরিবহনে করে বাসায় ব্যাক করার পথে বাসে ঘুমায় গেছিলাম। খিলক্ষেত থেকে এক সুব্দরী করে আপু উঠে ঘাড় ধরে ঠেলাঠেলি করে বলে, “ভাইয়া একটু সরেন, ভিতরে যাই”। আমি সাইড দেই, সুন্দরী আপু ভিতরে গিয়ে বসে। আমি কখন জানি আবার ঘুমায়ে যাই। কালশীতে গিয়ে কন্ডাক্টর ঠেলাটেলি শুরু করে, মামা টেকা দেন টেকা দেন। আমি আজকে পুরা তিরিশ টাকাই দেই। আজকে পকেটে তিরিশ টাকা আছে। বাস থেকে নামার সময় আমার ঘড়ির চেইনে সুন্দরী আপুর ওড়না বেধে যায়। ভাবছিলাম ক্ষেপে যাবে। কিন্তু আমি সরি বলতেই মিষ্টি করে হেসে বলে, “ইটস ওকে ভাইয়া”। আমি নেমে পড়ি। চোখ ডলতে ডলতে হঠাত মনে হয়, “শালা অন্তত আর কোনদিন কোন শিল্পকর্ম হৃদয়টারে প্যারা দিবেনা”। শান্তি শান্তি লাগে কেন জানি। একটা বিড়ি ধরাই। শেষের কবিতায় রবি বাবু কি বলেছেন জানিনা, তবে তার নামে প্রপাগান্ডা আছে যে তিনি বলেছেন, “ মদ খা, গাঁজা খা, পারলে একটু বিড়িও খা, তবু প্রেম করিস না। কলিজাটা পঁচে যাক, হৃদয়টা ভাল থাকুক।“ আসলেই রবি ঠাকুর বলেছেন কিনা জানিনা, তবে যিনি বলেছেন, বড্ড খাঁটি বলেছেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now