বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নামঃ বন্ধুত্ব ও জন্মদিন
উৎসর্গঃ Blue Butterfly
"বন্ধুত্ব" শব্দটি হতে পারে অনেক ছোট। কিন্তু তার গভীরতা এবং ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভালবাসা,মমতা,স্নেহ, সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং বিশ্বাস সবকিছুর থেকে অনেক বড়। অনেক। "বন্ধুত্ব" শব্দটা যেন মনের নীল আকাশটায় ডানা মেলে উড়তে থাকা রঙিন ঘুড়ি,ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে চলা প্রজাপতি। যেন সাতরঙা রংধনু নীল দিগন্তবিস্তৃত। বা হঠাৎ জুড়ে আসা এক পশলা সুখ।
বন্ধুত্ব মানেই নির্মল হাসি অকারণ,বাধাহীন না মানা যত বারণ।
যে শব্দটা শুনলেই স্মৃতিতে ফিরে আসে হারানো যত শৈশব,কৈশোর আর তারুণ্যের মাতালতা তা হলো বন্ধু...বন্ধুত্ব। যেন হাজার বছর পর ফিরে পাওয়া কোনো এক না পাওয়া,হারানো বসন্ত,স্মৃতিগন্ধা।
.
.
শৈশবের চরম দুষ্টুমি, কৈশোরের চাতুর্যময় সময়যাপন সবকিছুই "বন্ধুত্ব"কে ঘিরেই বেড়ে ওঠে...বেড়ে ওঠা।আর না বলা শত ফুটন্ত,জীবন্ত চিত্রপট যা শুধু স্মৃতিতেই মানাই। শুধু স্মৃতিতে। সবমিলিয়ে এক অনবদ্য,হৃদয়স্পর্শী স্মৃতির পাঠশালা।
সত্য যে তোর সাথে না কেটেছে আমার শৈশব না কেটেছে কৈশোর। না আছে কোনো বাধা-ধরা নিয়মের হিসেব।নেই ধরাবাঁধা সূত্র সমীকরণও।
শুধু আছে অকৃত্রিম ভালবাসার আত্মিক টান,নিখাদ এক ভালবাসা...হ্যা ভালবাসা।তোর প্রতি বেহিসাবি ভালবাসা,বিশ্বাস সবই ভাবনাতীত।
.
.
বন্ধুত্বের শুরুটা জিজে ও ফেসবুক দুইয়ের মিশ্রণেই। তবে প্রথম আলাপপরিচয় ফেসবুকেই। যতদূর মনে পড়ে গল্পে অনুপ্রেরণাদায়ী মন্ত্যব্যের জন্য তোর আইডির নাম চোখে আয়না হয়ে লেগে ছিল।
ফেসবুকে আমার কোনো এক পোষ্টে তোর কমেন্ট চোখে পড়ে। ফেসবুকে প্রথম। তারপর কমেন্টে রিপ্লের খেলা,মেলা। কথার ফাদে তোকে দিয়েই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট নেওয়া....ইনবক্স.... খেজুরে আলাপ.. তারপর জানিনা এই গন্য মান্য জঘন্য দুগ্ধপোষ্য আমিটার মাঝে কি পেলি। জানিনা,বুঝলামও না।
দিন তো কাটতে লাগলে..কাটতে কাটতে বন্ধুত্বের দাগকাঠি দুই বছর ছুঁই ছুঁই। সীমানাও ছাড়িয়েছে সকল অভিমানের।এরই মাঝে স্মৃতিরাও অট্টালিকা গড়েছে। তোর দেওয়া নামগুলোও স্মৃতিফলকের রূপ নিয়েছে।শুধু কি একটা দুটা নাম..কত'শত নাম। নামেও আজ স্মৃতিতোলপাড়।.............
এরিস্টটলের একটা উক্তি পড়েছিলাম,উক্তিটা এমন "প্রত্যেক নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়,কিন্তু বন্ধুত্ব যত পুরাতন হয় ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়।"
উক্তিবাক্য কতটা যথার্থ এবিষয়ে সন্দেহ প্রকাশের বিন্দুমাত্র অবকাশ বা সুযোগ নেই। আমি তো ভুক্তভোগী। সুতরাং সহমত প্রকাশই একমাত্র খোলা দুয়ার।সবকিছুর সংযোগী কারণ বন্ধুত্ব। এই যে আমাদের বন্ধুত্ব।
ফেসবুকের কল্যাণে একটি উক্তি পড়ে ছিলাম। দার্শনিকের নামটা মনে করতে পারছিনা। তবে উক্তিটি মনে আছে হয়তো " বিশ্বস্ত বন্ধু হলো প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে খুজে পেল সে একটা গুপ্তধন পেল।"
আল্লাহ্র অশেষ রহমতে আমি এমন একটা গুপ্তধনের মালিক। সত্যি শিশির দীপ্ত ভাগ্য আমার।সবকিছু ছাড়িয়ে কোনো এক ঘোরে বিভোর। তাইতো এই সুযোগে সুখের হাসিটা গোপনে হেসে নিলাম।
তোকে নিয়ে কতটুকু ভাবি ঠিক জানিনা। তবে তোর বাহিরের হরিণ নিশীথ চোখের মুখশ্রী সৌষ্ঠব নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। কারণ তোর ভিতরটুকু তো আমার জানা। বাইরের সৌন্দর্য দিয়ে কি মার্কেট পাওন যাইবো!! যাইবো না। তাছাড়া বাইরের টুকুও তো রোজ দেখি। সূর্য সমুদ্রের বুকে তরল আয়নায় নিজেকে যেমন দেখে তেমন আমিও দেখি। তোকে দেখি।
দেখতে দেখতে দিন কে দিন চলে গেল।শুধু যে দিন গেল তাইনা এলোও বটে।তাইতো বছর ঘুরে আবারো এলো স্পেশাল কিছু সময়,কিছু মুহূর্ত,একটি দিন..জন্মদিন।তোর জন্মদিন।সবমিলিয়ে এক অনাবিল সুখ। এ সুখের রেষ না কাটলেই ভালো হতো বেশ। এ সুখের মাঝেই পূর্ণতা পাক তোর সকল চাওয়া। ফাগুন না আসতেই আগুন লাগা ফাগুনে তোর দুঃখগুলো পুড়লেও বেশ ভালো হতো। যাইহোক তোকে নিয়ে বর্ণনার খেলা করা আমার সাধ্যির বাইরে। তবুও কিছু কথা তো বলা হলোই।
বাকি কথা আছে যত,থাক না অলিখিত।
কবিতার সল্প ব্যাপ্তি, তাতেই হোক সমাপ্তি।
..
শিশির ভেজা প্রান্ত পথে,
এসেছিলি প্রান্তশেষ তিমির হতে।
অতীত বছরকে ছাড়পত্র দিয়ে জানি
দ্বিতীয় মাসেই পড়লি উদীর্ণ মালাখানি।
হু' হু' উত্তরের হিমেল হাওয়ায়,
নাম...ডাক হলো তোর,অরুণ লেখায়।
ঊষার আলোয় নাকি নামিয়ে সন্ধ্যা,
সবার স্মৃতিতে হলি স্মৃতিগন্ধা।
বকুল মুগ্ধতায় নাকি তারই ব্যাকুলতা?
চারিদিক তবু সুবাসিত স্নিগ্ধতা।
কারণে অকারণ নাকি হাতের পরশে!
না..না.. সবই যে তোর প্রীতিরসে।
..
.
নিয়ে মেঘ,খুশি বেশ
জানি তোর মহল,
তবুও বৃষ্টি,হঠাৎ ঝুমঝুম
করলো দখল।
চুপ কথায়,রাত গহিন
চোখ ছলছল,
জানি পারবি,জল মুছতে
শুকাবে জল।
চোখ টানটান,চোখে পড়বি
সুখ কাজল।
সুখ আসবে,নিয়ে রোদ্দুর
খোলা জানালায়,
ঘুম ভাঙতেই,নেই কোলাহল
তোর দরজায়।
একা হাটঁতেই,পথ নিঝুম
নেই আলো,
দেখে হাসতেই,খোলা রাস্তায়
দীপ জোড়ালো।
..
তুই হাসলে,রঙ বন্যা
দিন-প্রতিদিন,
খুব রঙিন,
আসুক আবার,ফিরে বারবার
তোর জন্মদিন,
শুভ জন্মদিন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now