বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্ধকারের আলোক বিন্দু

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান SHAHI (০ পয়েন্ট)

X অন্ধকারের মাঝে এক বিন্দু আলো দেখতে কতোই না ভালো লাগে। রাতের অন্ধকার কেটে সূর্যের আলোর এক ফোঁটা ছোয়া পেতে উতলা হয়ে উঠে মন, সেই আশায় হয়তো আগামী দিন ভালো কাটবে , হয়তো কিছু নতুন হবে, কোনো নতুন প্রভাত। কিন্তু না আমাদের আশা, ভাবনাকে ছেদ করে সেই আগের দিন, আগের সেই খারাপ লাগা। প্রতি রাতে সেই অজানা গন্ত্যবে দিকে ছুটে চলছি। হঠাৎ কোনো এক খাদে পরে যাচ্ছি ঠিক সেই মুহূর্তে ঘুম ভেঙে যাওয়া। চোখ খুলে দেখি আমি তো সেই আগের জায়গায় আছি। তখন একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে খোদার দরবারে শুকরিয়া আদায় করা। যেন প্রতিদিনের কাজ হয়ে দাড়িয়েছে gj । বিরক্ত সত্যিই আজ আমি বিরক্ত। মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়া কী অপরাধ। তাহলে কেন চাচা যে প্রতিদিন বলে আমি নাকি অপয়া। আর কত সহ্য করবো। মা বাবা নেই, তাই বলে এটা বলার ও অধিকার নেই যে, আমার খিদে পেয়েছে। বললে চাচি বলবে সারাদিন শুধু খাই খাই। অলক্ষনে মেয়ে। ৭২ ঘন্টা ধরে আমাকে ঘরে বন্ধ করে করে রেখেছে।মনে হয় বলি, কী করেছি আমি , কীসের জন্য আমাকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গতকাল আমার চাচাতো বোন ইমাকে পাএপক্ষ দেখতে এসেছিল। আমি রান্না ঘরে কাজ করছিলাম। রুনা দিদি( কাজের মেয়ে) পরে গিয়ে পায়ে একটু ব্যথা পেয়েছে হাটতে পারছে না ঠিক মতো। তাই আমাকে বললো চা নিয়ে ঐখানে যেতে মানে যে রুমে পাএপক্ষ বসে ছিল সেখানে যেতে। আমি তো হাসি মুখে বলে দিলাম ঠিক আছে নিয়ে যাচ্ছি। যথারীতি মতো ইমাপি কে দেখে চলে গেল আর বলে গেলেন পরে জানাবেন। পরের দিন সন্ধ্যা একটা ফোন এলো তারপর থেকে আমার উপর অত্যাচার। চাচাতো বকা দিচ্ছেন তার উপর চাচির নির্যাতন। দূর আর ভালো লাগে না। কেউ কী নেই এই পৃথিবীতে যে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবে। কেউই কী নেই gj। বাড়ি প্রায় সব কাজই আমাকে দিয়ে করায়। কখনো মনে হয় বলে ফেলি নিজের মেয়েকে ও কিছুকিছু শেখাও না হলে শাশুরি সামন দিয়ে ঠুকাবে আর পিছনের দরজা দিয়ে বের করে দেবে। বাবা এতো সাহস কী আর আমার আছে gj। যদি থাকতো তাহলে আজ আমি সরকার হতে পারতামgj। এই কয়দিন আগে এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছি কিন্তু আমাকে দেখলে মনে হবে আমি ৮০/৯০ বছরের বুড়ি। সব কাজ আমাকে দিয়ে করায় হাত পায়ের তো বারোটা বেজে গেছে। শান্তিতে একটু নামাজ পরতে পারি না। আয়শা আয়শা কানে কী পোকা ধরেছে (চাচি)। কী হয়েছে চাচি।৷ এতক্ষন ধরে ডাকছি কানে যাচ্ছে না। আর ঘরে বসে বসে কী করা হচ্ছে । আয়শা :-একটু বই পড়ছিলাম চাচি। চাচি :-ও বই পরে বুঝি ডাক্তা, উকিল, নাকি মুক্তার হবে। (ভেংচি দিয়ে ) আমি কিছুই বলতে পারলাম না শুধু শুনে যেতে হলো। চাচি:- যাও গিয়ে কাপড় ধুয়ে এসো। আয়শা:- একটু আগেই না এক বালতি কাপর ধুয়ে এলাম। চাচি :- তাতে কী। ইমা এই মাএ গোসল করে এসেছে ওর কাপড় কে ধুয়ে দেবে শুনি। আয়শা :- হুম যাচ্ছি। কাপড়গুলো ধুয়ে দিচ্ছি নিজের অজান্তেই চোখগুলো থেকে অঝোর পানি পরে যাচ্ছে। আজ মা বাবা থাকলে হয়তো আমিও ইমাপির মতো থাকতাম। আমার মাও আমায় মুখে তুলে খাইয়ে দিত, আমায় ঘুম পাড়ানির গান শুনাতো। কোথায় আছো তোমরা, কেন আমায় একা রেখে চলে গেলে। কেন কেন কেন gj। আমার ও ইচ্ছে আছে কিন্তু সেই ইচ্ছের কোনো দাম নেই। সেই ইচ্ছে পূরণ করার মানুষ নেই। কী কমতি আছে আমার,,, নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত পরি, সঠিক পর্দা করি। গুরুজনদের সম্মান করি, সব করি। আর কী করব। কী করলে আমার মা-বাবা কে পাবো। আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয় না যে তোমাদের কবর জিয়ারত করাবো, তবুও আমি জায়নামাজে কেঁদে কেঁদে তোমাদের জন্য দোয়া করি। এ বাড়িতে তোমাদের কোনো ছবি নেই, সেই সাত বছর বয়সে তোমায় দেখেছি বাবা কে আর মাকে তো দেখিই নি । শুনেছি আমার জন্মের সময় মায়ের........ আর বাবা এক্সিডেন্টে।।।।। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আল্লাহ আমাকে কেন এতো অসহায় করলে, কেন আমাকে অনাথ করলে।।।।। আমার কী ভাগ্য। সবার ভালো দিন আসে শুধু আমি ছাড়া, আল্লাহ চাইলেই তো একদিনে সব বদলে দিতে পারেন আর আমি সেই বিশ্বাসী। আমার মনে হয় সেদিন আসবে। সেই একদিনের অপেক্ষায় রোজ সকালে উঠি আর ভাবি হয়তো আজ সেই দিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now