বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাস্তব অভিঙ্গতা তথা বাস্তবতা

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাঈদ বিন দুলাল (০ পয়েন্ট)

X একটা বয়স পার হয়ে গেলে মনে হয় হুট করে বড় হয়ে গেছি। অনেক কিছু বুঝে ফেলেছি। এতো কিছু হয়তো না বুঝলেও চলতো। ইচ্ছা করে শৈশবের চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখতে। আহ! কতোই না পবিত্র পৃথিবী! যে বয়সে বন্ধুর সাথে সকালে কাট্টি নিলে বিকেলে আঙুল মিলিয়ে মিল করিয়ে নেয়া যেতো। যে বয়সে ঠাস করে আছাড় খেলে একটু পরেই ব্যাথা ভুলে দৌড় দেয়া যেতো। সে বয়সে স্বপ্নগুলো বুকে লালন করে বাঁচতাম। ভাবতাম একদিন না একদিন ঠিকই পূরণ হবে। এখনকার মত স্বপ্নগুলো দিন দিন মরে যেতো না। সে বয়সে যা ইচ্ছা ভাবতে পারতাম। ইচ্ছের আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াতাম। এখনকার মত ইচ্ছেগুলোকে শাসন করতে হতো না। বাস্তবতা শেখার নামে ইচ্ছেগুলোকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করা লাগতো না। সে বয়সে মানু্ষের ঠেস দেয়া কথাগুলো শুনতে হতো না। কিংবা শুনলেও বুঝতে পারতাম না। এখন মনে হয় না বুঝলেই হয়তো ভালো হতো। তাহলে মায়ের কথা, ভাই-বোনদের কথা, বন্ধুদের কথা- এভাবে তীর হয়ে বুকটা ভেদ করে চলে যেতো না। নিজের মুখ থেকেও অবলীলায় কথার তীর ছুটতো না। বয়স বেড়ে গেলে কেন যেন মানুষকে সহজে ক্ষমা করা যায় না। সহজে ক্ষমা চাওয়াও যায় না। একই কারণেই হয়তো শরীরে ব্যাথা পেলে সে ব্যাথা সারতে অনেক সময় লাগে। একটা বয়স পার হয়ে গেলে আমরা বুঝতে শিখি আমাদের সব ইচ্ছা পূরণ হবার নয়। শুধু তাই না, আমাদের বেশিরভাগ ইচ্ছাই এ সমাজের নিকট, এমনকি আমাদের পরিবারের নিকটই খুব হাস্যকর। ঠিক যেমনটা আমাদের নিকট হাস্যকর শুধু অর্থ- সম্পদের চিন্তা করতে করতেই পুরোটা জীবন কাটিয়ে দেয়া। একটা বয়স পার হয়ে গেলে মনে হয়, কেউ আর আমাদের বুঝতে চাইছে না। বুঝতে পারছে না। বন্ধু-বান্ধব না, ভাই-বোন না। এমনকি মা-ও না। আমাদের মনের কষ্টগুলো মনেই রয়ে যায়। আমাদের ঠাণ্ডা লাগলে নাক দিয়ে অনবরত সর্দি পড়ে। শরীরের ব্যাথা সইতে না পারলে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ে। একইভাবে অন্তর দিয়েও সর্দি পড়ে, কষ্টের বৃষ্টি ঝড়ে। সেটা অবশ্য দেখা যায় না। সবার দেখার কি প্রয়োজন আছে? আবু ইসহাক আল-হারবি বলেন, "আমি আমার জ্বরের ব্যাপারে আমার মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যার নিকট কখনোই অভিযোগ করিনি। সত্যিকারের পুরুষ তো সে যে, নিজের সমস্যাগুলো নিজের কাছেই রাখে, নিজের বোঝা পরিবারের উপর চাপায় না।" তিনি আরো বলেন, "আমি ২৫ বছর ধরে মাইগ্রেনের ব্যাথায় কষ্ট পেয়েছি কিন্তু কাউকেই তা জানাইনি। ২০ বছর আগে আমার এক চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। এটার ব্যাপারেও আমি কাউকে জানাইনি।" [তাবাকাত আল হানাবিলাহ] একটা বয়স পার হয়ে গেলে আমরা বুঝতে শিখি সবার সব কিছু জানার প্রয়োজন নেই। আমাদের মনের ব্যাথাগুলো। শরীরের কষ্টগুলো। আবু ইসহাক (রহ)-এর কথাগুলো আমাদের নিকট হয়তো খুব উগ্র মনে হতে পারে। কিন্তু তাকে কি খুব বেশি দোষ দেয়া যায়? উনি তো ইয়াকুব (আ)-এর ঈমানের স্বাদ অনুভব করেছিলেন। যিনি হারিয়েছিলেন তার আদরের ছেলে ইউসুফ (আ)-কে। শোকে হয়ে গিয়েছিলেন অন্ধ। তারপরেও কাউকে তার জীবনের কষ্ট জানাতে চাননি। শুধু বলেছিলেন- "আমি তো আমার দু:খ কষ্টগুলো আল্লাহর কাছেই জানিয়েছি।" (সূরা ইউসুফ, ১২:৮৬) সবার সব কিছু জানার প্রয়োজনও নেই। শুধু একজন ছাড়া। আমার রব জানলেই চলবে। আমার কষ্ট, ক্লান্তি, অশ্রু, অভিমান, স্বপ্ন, ইচ্ছা- সবকিছু তাঁর কাছেই জমা থাকুক ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now