বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চার.
অমিত সাহেব শুভকে বললেন ," এই লকেটটা তুমি ওর গায়ে লাগিয়ে দেও তাড়াতাড়ি । শুভ লকেটটা নিয়ে দ্রুত পাবনের উপর ছুড়ে দিল ।অদৃশ্য বস্তুটা মুহূর্তেই ওর উপর থেকে সরে গেল । দ্রুত পাবনকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল ওরা । অন্য ঘরে নিয়ে পাবনকে বিছানায় শুয়ে দেওয়া হল । শুয়ে শুয়েই পাবন অমিত সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলো ," লকেটটা কার ?
অমিত সাহেব বললেন," এটা গৌতম আংকেলের লকেট । ফুফু আংকেলকে খুব ভালবাসতো তাই লকেটটা থাকলে উনার আত্মা কাওকে ক্ষতি করে না ।আসলে ওই আত্মাটার শক্তি সবচেয়ে বেশি থাকে বুধবারে । প্রথম লোকটাকে মারার পর পরের দুই বুধবারে আরও দুইজনকে মারে আত্মাটা । বাকি দুইজনকে মারার আগেই আমি কম্পিউটারটা আমার ঘরে নিয়ে আসি । তার পরের বুধবারে কম্পিউটারটা উল্টাপাল্টা আচরণ করলো ঠিকই কিন্তু কাউকে মারতে পারলো না । কারণ এই কম্পিউটারের শক্তিটা ওই রুমের মাঝেই সীমাবদ্ধ বাহিরে না । তবে হালকা পাতলা ক্ষতি করতে পারতো । আমি কম্পিউটারটা নিয়ে স্টোররুমে রেখে দিলাম । কিন্তু বুধবার হলেই আমার কোন না কোন সমস্যা হত । কয়েকটা বছর আমার ক্ষতি করতে করতে অতিষ্ঠ করে তুললো । বাধ্য হয়ে কম্পিউটারটা বিক্রি করে দিলাম দোকানে । ভেবেছিলাম বিক্রি করে দিলে হয়তো ওটা আর কাউকে ক্ষতি করবে না । কিন্তু ওটা আমার ক্ষতি করতেই লাগলো । আমি জানতাম কম্পিউটারটা যে কিনবে তারও ক্ষতি করবে ওটা তাই তো আমার ঠিকানাটা দিয়ে আসলাম দোকানদারকে। আর এভাবেই তোমরা আমার কাছে আসলে ।
জয় জিজ্ঞাসা করলো," আত্মাটা আসলে কি চায় ?" অমিত সাহেব বলল," ও আসলে প্রতিশোধ নিতে চায় । শুভ বলল," তাইলে ওকে প্রতিশোধ নিতে দেন ।" সেতু বলল," ঠিকই তো ওটা তো আর ভাল মানুষকে মারছে না ।" মানুষরুপী হায়েনাগুলোকে মারছে ।" কিছুটা বিব্রত অবস্থায় অমিত সাহেব বললেন ," না না ওটাকে প্রতিশোধ নিতে দেওয়া যাবে না ।আর তোমরা ওই রুমে আর যাবে না । কম্পিউটারও অন করবে না । আমি কাল একজন ওঝা নিয়ে আসবো । দেখি কিছু করা যায় কিনা তোমরা বিশ্রাম নেও । বলেই অমিত সাহেব চলে গেল ।
পরদিন খুব ভোরে পাবন ঘুম থেকে উঠে পুজা রায়ের ঘরে গেল । তখনোও কেউ ঘুম থেকে উঠে নি । চেয়ারে বসে ডায়েরীটা খুলল । আজ বৃহস্পতিবার । তাই কোন সমস্যা হল না । ডায়েরীটাতে পুজা রায়ের জীবন কাহিনী লেখা আছে ।অমিত সাহেব যেরকম বলেছিল সেরকমই । খারাপ লাগলো শেষ কয়েকটা পৃষ্ঠা পড়ে । লিখা আছে," সামান্য একটা সফটওয়্যারের জন্য ওরা আমার দেহটাকে শকুনের মত ছিড়েঁকুরে খেল । আজ বুধবার । আমি আমার কম্পিউটারের সামনে জীবনের শেষ কয়েকটা মুহূর্ত কাটাচ্ছি । চোখের সামনে কম্পিউটারে আমার শরীর নিয়ে শয়তানগুলোর নরকীয় খেলার ভিডিওটা চলছে । আমি আমার গৌতমের কাছে চলে যাব । তবে ঈশ্বরের নিকট আমার একটা অনুরোধ," বেচেঁ থাকতে তো আর আমাকে প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা দেও নি । মরার পরে অন্তত এই ক্ষমতাটা দিও । পাবন মনে মনে ভাবলো ঈশ্বর ওনার অনুরোধ রেখেছে । শেষ দুইটা পৃষ্ঠাতে অদ্ভুত ভাষায় কি যেন লেখা । পাবন পড়তেই পারলো না । জয় ডাকতেই ও দ্রুত ওখান থেকে চলে আসলো ।
১০ টার দিকে অমিত সাহেব গেলেন ওঝার কাছে । এই সুযোগে পাবন কম্পিউটারটা অন করলো । সি-ড্রাইভে ঢুকলো । একটা Folder পেলো Pooja Roy নামে । কি্লক করতেই বেশ কিছু software পেলো । একটা software এ সেই অদ্ভুত ভাষাগুলোর বাংলা অনুবাদ দেখতে পেয়ে ও জয়কে পাঠালো ডায়েরীটা নিয়ে আসতে । জয় ডায়েরীটা নিয়ে আসতেই পাবন ওই software টার মাধ্যমে শব্দগুলোর বাংলা অনুবাদ করে পড়লো ।
অমিত সাহেব আসার আগেই কম্পিউটারটা ওরা আগের জায়গায় রেখে দিলো । ওঝা নিয়ে আসলেন তিনি । ওঝা সব শুনে বললো আমি ওনার ঘরটা দেখতে চাই । অমিত সাহেব বললেন ঠিক আছে। আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি । আপনি ওদের সাথে যান । যেতে যেতে পাবন ওঝাকে কিছু কথা বললো । অমিত সাহেব আসতেই ওঝা বললো," আমি সব প্রস্তুতি নিয়ে সামনের বুধবারে আসবো । তখন এই চারজনকেও লাগবে । ততদিন ওদেরকে আপনার কাছেই রেখে দিয়েন ।ওঝা চলে গেলো ।
সোমবার জয়ের খুব শরীর খারাপ করলো । সেতুকে সাথে করে জয় বাড়ি চলে গেল । পাবন বললো," ওরা আবার বুধবারে চলে আসবে । ততদিনে ওর শরীর ভালো হয়ে যাবে । আর আমি, শুভ তো আছি । পুজা রায়ের ঘরের দিকে তাকিয়ে শুভ রহস্যময়ী কন্ঠে বললো ," বুধবারেই আপনার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন ।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now