বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তিন.
বইখাতাগুলো দেখে পাবনের মাথাই ঘুরে গেল । আর কানে বাজছে Can U hear my shout,Can u see my heart.....গানের লাইন গুলো । এক দৌড়ে পাজয় থেকে বের হয়ে লিভিং রুমে গিয়ে নাম্বারটা তুলেই ফোন দিল জয়কে । বলল ," শুভ আর সেতুকে নিয়ে আমাদের বাসায় আয় ।" বলেই ফোনটা কেটে দিল । দশ মিনিটের মধে্য ওরা এসে পৌছেঁ গেল পাবনের বাড়িতে । পাবন ওদেরকে নিয়ে ঢুকল পাজয়ে । সব কিছু খুলে বলল ।
সবকিছু শুনে আর নিজের চোখে অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখে ওরা তো হতবাক । পাবন চেয়ারে বসে কম্পিউটারটা অফ করে আবার অন করলো । সবকিছু ঠিক হয়ে গেল । ও হাজারো খুজেঁও গানটা পেল না কম্পিউটারে । পাবন ভাবতে থাকলো ," কম্পিউটারটা কি বিপদের সংকেত দেয় নাকি বিপদ ডেকে আনে । প্রতি বুধবারে কম্পিউটারটা উল্টাপল্টা আচরণ করে আর ওদের কোন না কোন বিপদ ঘটে । " ওরা কেউই বিষয়টা নিয়ে ভেবে কোন কূল-কিনারা খুঁজে পেল না । কিছুক্ষণ পর পাবন বলল ," আমি জানি পরের ৬ দিন কোন সমস্যা হবে না । তবে বুধবারে আবার কিছু ঘটতে পারে । আমরা বরং পরের বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করি । দেখি কি হয় ।"
ছয়টা দিন অজানা দুশ্চিন্তায় কাটলো ওদের । ফিরে আসলো সেই অভিশপ্ত বুধবার । সকাল সকালই পাবনের বাসায় এসে হাজির হল জয়,শুভ আর সেতু । সবাই মিলে বারান্দায় বসে কথা বলতেছিল হঠাৎ-ই পাজয় থেকে সেই অদ্ভুত গানের সুরটা ভেসে আসতে লাগলো । দৌড়ে সবাই পাজয়ে ঢুকে দেখলো কম্পিউটারটার ডিসপ্লেটা কালো হয়ে আছে আর ঘড়িটা জ্বলজ্বল করছে । পাবন এক দৌড়ে গিয়ে কম্পিউটারের সবগুলো তার খুলে ফেলল । আর বলল ," চল, যেই দোকান থেকে এটা কিনেছিলাম সেখানে যাব । বলেই কম্পিউটারটা নিয়ে পাজয় থেকে বের হয়ে গেল । সবাই একসাথে গেল দোকানটাতে । দোকানদারকে জিঞ্জাসা করলো ," এই কম্পিউটারটা আপনার কাছে কে বিক্রি করেছিল ? তার কোন ঠিকানা আছে আপনার কাছে ?" দোকানদার একটা কাগজ দিল । কাগজে লিখা আছে ," অমিত রায় আর নামের নিচে একটা ঠিকানা আছে । ধন্যবাদ দিয়ে ওরা দোকান থেকে বের হয়ে আসলো ।
৪৫ মিনিট লাগলো ঠিকানা মত জায়গায় পৌঁছাতে । শহর থেকে একটু দূরে একটা গ্রামের ঠিকানা এটা । ঠিকানা অনুযায়ী ওরা একটা বাড়ির কাছে এসে দাড়াঁলো ।গেইট খুলে ভিতরে ঢুকতেই দেখা গেল অনেক পুরানো ২টা ছোট্ট ঘর ।আশেপাশে আর কোন বাড়িঘর দেখা গেল না । হঠাৎই কে যেন ঘরের ভিতর থেকে চেচিঁয়ে বলল ," তোমারা ঠিক জায়গায় এসেছো । ভিতরে আসো ।" ভিতরে গিয়ে ওরা দেখলো মাঝ বয়সী একটা লোক চেয়ারে বসে আছে । লোকটা বলল," আমিই অমিত রায় ।আর তোমরা নিশ্চয়ই ওই কম্পিউটারটা কিনেছিলে ।" পাবন হাত থেকে কম্পিউটারটা নিচে রেখে লোকটার কাছে এগিয়ে গেলো । জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকালো । লোকটা বলল," আমি জানি তোমরা এখানে কেন আসছো আর কি জানতে চাও ।
লোকটা বলতে লাগলো ,"এই কম্পিউটারটা খুবই অদ্ভুত । তোমাদের খুব বিপদে ফেলেছে তাই তো । আসলে এই কম্পিউটারটা হল আমার ফুফুর ।উনি ৮ বছর আগে আত্মহত্যা করেছেন । উনি ছিলেন একজন কম্পিউটার সাইনটিস্ট । গৌতম নামের একটা লোকের সাথে ওনার বিয়ে হয়েছিল ।খুব ভালবাসতো তার স্বামীকে ।কিন্তু সুখ বেশি দিন সইলো না । অসুস্থ হয়ে মারা গেল গৌতম । একাকী হয়ে গেল পুজা ফুফু । এসে পড়লেন আমার বাবার কাছে । সারাদিন শুধু এই কম্পিউটার টা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন । অনেক সাধনা করে একটা সফটওয়্যার তৈরি করলেন । ওটার মাধ্যমে মানুষের ভবিষ্যৎ জানা যেত । কয়েকদিনের মধে্যই খবরটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো । কয়েকজন সাইনটিস্ট সফটওয়্যারটা কিনতে চাইলো । কিন্তু ফুফু কিছুতেই রাজি হলো না । একদিন ফুফু সকাল বেলা কোথায় যেন গিয়েছিল । প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল তখন । রাস্তা থেকে ওনাকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকটা লোক । একটা ঘরে নিয়ে ওনাকে ৫ জনে মিলে ধর্ষণ করে । বিধ্বস্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে আসলেন তিনি । শয়তানগুলা ধর্ষণের ভিডিওটা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিল । পরদিন ছিল বুধবার । ঠিক ১২ টার সময় পুজা ফুফু ফ্যানে ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করলো । আমি ফুফু মরার ৬ দিন পর অর্থাৎ বুধবারে ওনার রুমে গেলাম । গিয়ে দেখলাম কম্পিউটারের ডিসপ্লেতে একটা ঘড়ি ঝলঝল করছে । আর ৫টা মানুষের ছবি ভাসছে কম্পিউটারে । প্রথম লোকটার ছবির উপর ক্রস চিহ্ন দেওয়া । আর মৃদু সুরে গান বাজছে ," Can U hear my shout,Can U see my heart..." আমি ভয়ে চলে আসলাম রুম থেকে । পরদিন পত্রিকায় দেখলাম একটা লোক গাড়ি অ্যাক্সিডন্টে মারা গেছেন । লোকটার ছবিও দেওয়া ছিল । লোকটাকে চিনতে পারলাম আমি ।কাল কম্পিউটারে ওনার ছবির উপরই ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল ।
অতঃপর পাবন কি যেন ভেবে বললো ," বাকিটা পরে শুনব । আমি আগে আপনার ফুফুর ঘরটা দেখব । অমিত সাহেব বললেন ," চল, তবে মেয়ে মানুষ ও ঘরে যেতে পারবে না ।আর তোমরাও একটু সাবধানে থাকবে কারণ আজতো বুধবার । পাবন বললো," ঠিক আছে , সেতু তুই এই ঘরেই থাক । আমরা একটু পুজা রায়ের ঘরটা দেখে আসি ।"
পাবন,জয়,শুভ আর অমিত সাহেব ধীর পায়ে পুজা রায়ের ঘরে ঢুকলো । ঘরটাতে একটাই রুম । ছোট একটা কম্পিউটার রাখার টেবিল , একটা চেয়ার আর একটা শোয়ার বিছানা আছে রুমটাতে । তবে সবগুলোই অনেক পুরানো । বিছানাটা ভেঙ্গে গেছে । উপরে একটা পুরানো মরচে ধরা ফ্যান এ একটা ময়লা,ধূসর আর মাকড়সার জালে মোড়ানো ওড়না ঝুলছে । এই ওড়নাটাতে ঝুলেই হয়তো ওনি আত্মহত্যা করেছিলেন । তবে ঘরটাতে অনেকদিন কেউ ঢুকে নি সেটা স্পষ্টই বুঝা যায় । পাবন টেবিলের নিচে একটা ডায়েরী দেখে ওটা নিতে গেলো । তখনই অদৃশ্য কি যেন পাবনকে উড়িয়ে বিছানার উপর নিয়ে গেলো । অদৃশ্য বস্তুটা পাবনের বুকের উপর বসে ওর গলাটা চেপে ধরলো । পাবন ছুটার জন্য ছটফট করতে লাগলো । কিন্তু নড়তে পারলো না ।
বাকি তিনজন স্তব্ধ হয়ে দাড়িঁয়ে রইলো ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now