বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতুড়ে কম্পিউটার-০১

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভূতুড়ে কম্পিউটার লেখক - তুর্জয় শাকিল **************************TO.CEM----2************************************* এক. শুভ দেখলো সেতু মাঠে বসে খেলা দেখছে । সেতুকে গিয়ে বলল," চল ,পাবন যেতে বলেছে । কী যেন কথা আছে ।" তখনই কোথা থেকে যেন অরকিয়া ছুটে আসলো । বলল," কিরে শুভ , কি খবর ? তুই নাকি পাবনদের সাথে গোয়েন্দা দলে নাম লিখিয়েছিস ?" , তোর মত একটা মাথা মোটাকে পাবন কি করে যে ওদের দলে নিল বোঝলাম না । " অরকিয়ার কথা শুনে শুভ রাগে ফোসঁ ফোসঁ করে কি যেন বলতে চেয়েছিল । তখনই সেতু বাধা দিয়ে বলল ," শুভ , ওর সাথে পরে কথা বলিস, পাবন নিশ্চয়ই কোন জরুরী কাজে ডেকেছে আমাদের । আগে ওর কাছে চল ।" সেতু জানে শুভ আর অরকিয়ার মাঝে সারাক্ষন ঝগড়া লেগেই থাকে । কেউ কাউকে দেখতে পারে না । তাই আরেকটা ঝগড়া হওয়ার আগেই সেতু অরকিয়াকে বিদায় জানিয়ে শুভর হাত ধরে টেনে ওখান থেকে নিয়ে চলল । যেতে যেতে শুভকে জিঞ্জাসা করল," ও কোথায় আছে ?" "পাজয়ে আছে," রাগটাকে একটু কমিয়ে মৃদু কন্ঠে বলল শুভ । সেতু আর শুভ TO.CEM এর নতুন সদস্য । তদন্তে সহযোগীতার জন্য পাবন ওদেরকে TO.CEM এর সদস্য হিসাবে নিয়েছে । ওরা পাবনের সাথে একসাথেই পড়াশুনা করে । শুভ খুব সাহসী আর বুদ্ধিমান ছেলে । আর সেতু ভীষণ চটপটে আর চালাক মেয়ে । হাটঁতে হাটঁতে ওরা আসলো পাজয়ের সামনে । পাবনদের সেই সেমিপাকা পুরাতন বাড়িটার নামই পাজয় ভিলা । বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই পাবন বলল ," তোরা এসেছিস , বস ।" শুন কাল আমরা সবাই মিলে একটা কম্পিউটার কিনতে যাব । অনেক পুরাতন মডেলের একটা কম্পিউটার চালানো আমার অনেকদিনের শখ । শহরের শেষ প্রান্তে পুরাতন কম্পিউটার বিকি্র করার একটা দোকান আছে । ওখান থেকেই একটা পছন্দ করে কিনবো । আর কম্পিউটারটা এখানেই রাখবো । যার যখন ইচ্ছে তখনই এসেই চালাতে পারবি । আমি জয়কে বলে দিয়েছে । ও আসবে। তোরাও বিকাল বেলা চলে আসিস ।" পরদিন বিকালে সেতু , শুভ আর জয় আসলো পাবনদের বাড়িতে । পাবনের আম্মুর হাতে বানানো গরম লুচি আর মাংস দিয়ে নাস্তাটা একসাথে সেরে ওরা বেরিয়ে পড়লো । আধঘন্টা লাগলো দোকানের কাছে পৌঁছাতে । শহরের শেষ প্রান্তেই দোকানটা । বাস থেকে নেমে ওরা হেটেঁ দোকানের কাছে পৌঁছে গেল । দোকানে ঢুকতেই দোকানদার বলল ," গুড আফটারনুন স্যার মহোদয়গণ । আমি আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি ?" পাবন বলল ," আমাদের একটা পুরাতন মডেলের কম্পিউটার চাই । সেকেন্ড হ্যানড হলেও চলবে ।" দোকানদার একটা কম্পিউটারের দিকে ইশারা করে বলল ," ওটা এই দোকানের সবচেয়ে পুরাতন মডেলের কম্পিউটার । মনে হয় ১৯৭৪-৭৫ সালের হবে । সপ্তাহখানেক আগে একটা লোক এসে এটা বিক্রি করে দিয়ে গেছে । আপনি চাইলে ওটা নিতে পারেন ।" ওরা এগিয়ে গিয়ে কম্পিউটারটা ভাল করে দেখলো । পুরোটা বডি কালো । দেখে টেখে ওদের পছন্দ হয়ে গেল । দাম মিটিয়ে দিয়ে কম্পিউটারটা নিয়ে চলে গেল । ওদিনই পাজয়ে কম্পিউটারটাকে ওরা সুন্দর করে সেটিং করলো । পরদিন বিকালে এসে ওরা একসাথে মুভি দেখলো । বেশকদিন ওদের আনন্দেই কাটলো । সেদিন ছিল বুধবার । পাবন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে পাজয়ে গেল । গান শুনার জন্য কম্পিউটারটা অন করল । কয়েকবার রিফ্রেশ করল । কম্পিউটারের ডানদিকেই ছিল একটা অ্যানালগ ঘড়ি । ও ই সেট করেছে ঘড়িটা । ওখানে চোখ পড়তেই ও দেখলো ঘড়িটাতে ১২টা বাজে । কিন্তু তখন তো সকাল । ওর হাতঘড়িতে ৮:০০ বাজছে । কিন্তু কম্পিউটারের ঘড়িটাতে মিনিট আর ঘন্টার কাটাঁগুলো ১২ টায় গিয়ে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে , আর সেকেন্টের কাটাঁটা উধাও । ও তেমন অবাক হল না । অনেক পুরান মডেলের কম্পিউটার । একটু সমস্যা থাকতেই পারে । ও সময়টা ঠিক করার জন্য ঘড়িটার উপর ক্লিক করলো । তখনই কম্পিউটারের ডিসপ্লেটা কালো হয়ে গেল । রুমের মধে্য কেমন একটা অন্ধকার নেমে আসলো । শুধু ঘড়িটা রক্তের ন্যায় লাল হয়ে ঝলঝল করতে লাগল । পাবন পাওয়ার বাটনে চাপ দিয়ে কম্পিউটার টা অফ করে দিল । কিছুক্ষণ পর আবার অন করলো । এবার আর কোন সমস্যা হল না । ঘড়িও ঠিক মত চলল । ও কিছুক্ষণ গান শুনে কম্পিউটারটা অফ করে ক্লাশ করতে চলে গেল । ঘটনাটাকে সাধারন ভেবে ওটা নিয়ে আর কিছু ভাবলো না । ক্লাশে গিয়ে দেখলো অরকিয়া আর শুভ আবার ঝগড়া লেগেছে । তবে অনান্য দিনের মত সাধারন ঝগড়া না । রীতিমত যুদ্ধ । ঝগড়ার এক পর্যায়ে হঠাৎই অরকিয়া শুভর হাতে তার ধারালো নখ দিয়ে খামচি দিল। রক্ত পড়তে শুরু করল ওর হাত বেয়ে । রক্ত দেখে অরকিয়াও হতবাক হয়ে গেল । ও আসলে শুভকে এত কঠিনভাবে আঘাত করতে চায় নি । পাবন গিয়ে শুভকে ধরল । মাঠ থেকে দূর্বাঘাস এনে ডলে ওর হাতে দিয়ে দিল । কিছুক্ষন পর ওর হাত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হল । অরকিয়া এসে ওকে সরি বললেও শুভ রাগে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল । ওর সাথে কথা বলল না । কিছুক্ষন বাদে স্যার আসল । সবার নোটখাতা দেখতে চাইলো । পাবন ব্যাগে হাত দিল নোটখাতা বের করার জন্য । কিন্তু হাজারো খুজেঁ ও খাতাটা পেল না । তাহলে কি ও খাতাটা ভুলে বাসায় রেখে আসছে ? কিন্তু ওর তো ভুল হওয়ার কথা না । প্রতিদিন ক্লাশ করতে আসার আগে ও ব্যাগে নোটখাতা মনে করে নিয়ে আসে । আজ কি ও খাতাটা আনতে ভুলে গেলো ? খুব মার খেলো স্যারের হাতে । পাবন বুঝতে পারলো না ও খাতাটা আনতে ভুললো কীভাবে । বিকালে পাবন বাসায় এসে খাতাটা খুজঁলো । কোথায় পেলো না । পড়ার টেবিলে, ওর শোবার রুমে কোথায়ও পেল না । ভাবতে ভাবতে পাজয়ে গিয়ে ঢুকল । গিয়ে দেখল ওর নোট খাতাটা কম্পিউটারের পাশে পড়ে আছে । ও বুঝতে পারলো না খাতাটা এই ঘরে কি করে আসলো । ওতো কোনদিনও ওর কোন বইখাতা এই ঘরে আনে না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now