বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এ কারণে আমরা দেখতে পাই, আজকাল যাদেরকে তালিবে ইল্ম বলা হয় তাদের সবচেয়ে বড় দোষ হলো- তারা ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায় অনর্থক কথাবার্তায়, গালগপ্পে। যেগুলোর সাথে ইল্মের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এই যার অবস্থা সে তালিবে ইল্ম নয়; বরং অন্যকিছু। যে কাজ নিয়ে সে ব্যস্ত সেটাই তার পরিচয় হওয়া উচিত। পক্ষান্তরে তালিবে ইল্ম তার আত্মপ্রশান্তি, তার শখ, তার আকাঙ্ক্ষা সবকিছু হচ্ছে ইল্মকে নিয়ে। যে মজলিসে ইল্ম নিয়ে আলোচনা হয় অথবা আল্লাহর অবতীর্ণ কালাম নিয়ে আলোচনা হয় অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী নিয়ে আলোচনা হয় সে মজলিসে গেলে তালিবে ইল্মের আত্মা সুপ্রসন্ন হয়, মনে তৃপ্তি আসে। সুতরাং তালিবে ইল্মের বৈশিষ্ট হবে- নিরবিচ্ছিন্ন অধ্যবসায়। তালিবে ইল্ম ইল্ম হাছিলের জন্য তার যৌবনকালের কিছু সময় নয়; সবটুকু সময় ব্যয় করবে অথবা অধিকাংশ সময় ব্যয় করবে। যেহেতু যৌবনকাল ইল্ম হাছিলের উপযুক্ত সময়।
এ কারণে পূর্ববর্তী কোনো এক আলেম বলেছেন: “তোমার সবটুকু তুমি ইল্মকে দান করো; তাহলে ইল্ম তোমাকে সামান্য কিছু দান করবে।” কারণ ইল্ম অনেক বিস্তৃত, অনেক প্রশস্ত। তাইতো জনৈক মুহাদ্দিস মৃত্যু শয্যায় থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন এবং তাঁর অনুলেখককে নির্দেশ দেন: লিখে রাখ। মৃত্যুর এই কঠিন মূহূর্তেও তিনি ইল্ম বিতরনে আগ্রহী ছিলেন। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি ইল্ম বিতরণে তিনি কতবেশী মুখলিস (একনিষ্ঠ) ছিলেন। তাঁর গোটা অন্তর ইল্মের মহব্বতে ভরপুর ছিল। ইমাম আহমাদ রাহেমাহুল্লাহ যখন মৃত্যু শয্যায় ছিলেন তখন ব্যথায় কাতর হয়ে তিনি কিছুটা কাতরাচ্ছিলেন। তখন তাঁর জনৈক ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে সীরিনের সনদে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কাতরানোকে অপছন্দ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইমাম আহমাদকে আর কাতরাতে শুনা যায়নি। এই মনমানসিকতা যদি তালিবে ইল্মের মধ্যে থাকে তাহলে সে তালিবে ইল্ম ভবিষতে উম্মতের কল্যাণকামী আলেমে দ্বীন হতে পারবে- ইনশাআল্লাহ্। রাতদিন তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকবে শুধু ইল্মকে ঘিরে। ছোটবড় সবার কাছ থেকে সে শিখবে। কোনো ইল্মকে সে তুচ্ছ মনে করবে না।
কিছু মানুষ আছে এমন যখন তার চেয়ে কম মর্যাদার কেউ একজন কোনো একটি উপকারী বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চায় তখন সে আত্মম্ভরিতা করে এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে না। এটি এ কারণে যে, সে ব্যক্তি নিজেকে ইল্মের চেয়ে বড় মনে করে। যে ব্যক্তি ইল্মের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে সে ইল্ম হাছিল করতে পারবে না। হতে পারে কম মর্যাদার কারো কাছে এমন একটি ইল্ম আছে বড় মর্যাদার কারো নিকট সে ইল্মটি নেই। হতে পারে কোনো একটি ইল্ম ছোট্ট একজন তালিবে ইল্ম বুঝতে পেরেছে; অথচ বড় কোনো আলেম সে ইল্মটি বুঝতে পারেনি। ছোট্ট ছাত্রটি যখন সে জ্ঞানটি বুঝিয়ে বলে তখন বড় আলেমেরও বুঝে আসে। এ প্রসঙ্গে আলেমগণ সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাথে হুদহুদ পাখির ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন। হুদহুদ পাখির মর্যাদাগত ও সৃষ্টিগত অবস্থান নিম্ন পর্যায়ের হওয়া সত্ত্বেও এবং নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের মর্যাদা অনেক উন্নত হওয়া সত্ত্বেও সুলাইমান আলাইহিস সালামকে লক্ষ্য করে হুদহুদ পাখি বলে: “অতঃপর হুদহুদ এসে বলল: আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি।” [সূরা নমল, আয়াত ২৭:২২]
হুদহুদ পাখি যা জেনেছে সুলাইমান আলাইহিস সালাম তা জানতেন না। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আলেমগণ বলেন: ছোট হোক, বড় হোক যে ব্যক্তি তোমার নিকট কোন জ্ঞান নিয়ে আসবে তার সাথে আত্মম্ভরিতা করবে না। যে ব্যক্তি জ্ঞান নিয়ে এসেছে তুমি মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুন। কারণ হতে পারে সে তোমার জন্য নতুন কোন জ্ঞানের ফটক উন্মুক্ত করে দিবে।
এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এ রকম আরো অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইতোপূর্বে আমরা বলেছি আপনি সেগুলো এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলী থেকে জেনে নিতে পারবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now