বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাউজে কাউসার কী?
আয়াত ও হরফ সংখ্যার দিক দিয়ে পবিত্র কোরআনে সর্বকনিষ্ঠ সুরা ‘কাউসার’। ‘কাউসার’ হলো জান্নাতের একটি ঝরনার নাম। যার পানি হবে মিশকের মতো সুগন্ধি। দুই ধারে থাকবে মুক্তার গম্বুজ। আনাস ইবনে মালেক (রা.) সূত্রে রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি জান্নাতে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় এক ঝরনার কাছে এলে দেখি যে তার দুই ধারে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিবরিল! এটা কী? তিনি বললেন, এটা ওই ‘কাউসার’ যা আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮১)
পবিত্র কোরআনের এই সুরাটিকে ‘কাউসার’ নাম দেওয়ার কারণ হলো এর শুরুটা হয়েছে ‘কাউসারের’ সুসংবাদ দিয়ে। কোনো কোনো তাফসিরবিদ ‘কাউসারে’র ব্যাখ্যা ‘অফুরন্ত কল্যাণ’ বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন, ‘কাউসার’ মানে জান্নাতের বিশেষ ঝরনা।
আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মজলিশে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ তাঁর ওপর অচৈতন্য ভাব চেপে বসল। অতঃপর তিনি মুচকি হেসে মাথা তুললেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? তিনি বললেন, এই মাত্র আমার ওপর একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি পাঠ করলেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে ‘কাউসার’ দান করেছি। অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করো এবং কোরবানি দাও। তোমার কুৎসা রটনাকারীরাই মূলত (আবতার) শিকড় কাটা, নির্মূল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জানো ‘কাউসার’ কী? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেন, এটা একটা ঝরনা। আমার মহান প্রতিপালক আমাকে তা দেওয়ার জন্য ওয়াদা করেছেন। এর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে, আমার উম্মতেরা কিয়ামতের দিন এ হাউজের পানি পান করতে আসবে। এ হাউজে রয়েছে তারকার মতো অসংখ্য পানপাত্র (গ্লাস)। এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি তখন বলব, প্রভু! সে আমার উম্মতেরই লোক। আমাকে তখন বলা হবে, তুমি জানো না, তোমার মৃত্যুর পর এরা কী অভিনব কাজ (বিদআত) করেছে। (মুসলিম, হাদিস : ৭৮০)
যে রাসুল (সা.) হাউজে কাউসার উপহার পেলেন
উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুরা। যা অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসুল (সা.) মুচকি হেসেছেন। এই সুরা অবতীর্ণ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বন্ধুকে জান্নাতের একটি বিশেষ ‘ঝরনা’ উপহার দেওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। এবং মক্কার কাফিররা তাঁকে ‘আবতার’ বলে যে তিরস্কার করত, তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আরবের লোকেরা ‘আবতার’ বলত ওই ব্যক্তিকে, যার শিকড় কাটা গেছে। সে কোনো প্রতিষ্ঠা ও শক্তিমত্তা লাভ করতে পারে না। অথবা তার পরিণাম ভালো নয়। যে ব্যক্তির কোনো উপকার ও কল্যাণের আশা নেই এবং যার সাফল্যের সব আশা নির্মূল হয়ে গেছে তাকেও ‘আবতার’ বলা হতো। যার কোনো ছেলে সন্তান নেই অথবা হয়ে মারা গেছে তার ব্যাপারেও ‘আবতার’ শব্দ ব্যবহার করা হতো। কারণ তার অবর্তমানে তার নাম নেওয়ার মতো কেউ থাকে না এবং মারা যাওয়ার পর তার নাম-নিশানা মুছে যাবে।
রাসুল (সা.) পুত্র আব্দুল্লাহর ইন্তেকাল হলে, আস ইবনে আব্দুল্লাহ নামে এক কাফির যখনই কোথাও আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর আলোচনা করত, বলত, তোমরা তাঁকে ‘আবতার’ বলো (নাউজুবিল্লাহ)। ফলে মহান আল্লাহ এই সুরা নাজিল করেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
হাউজে কাউসারে পানি
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, আমার হাউজের প্রশস্ততা এক মাসের পথের সমান। তার পানি দুধের চেয়ে সাদা, তার ঘ্রাণ মিশকের চেয়ে বেশি সুগন্ধযুক্ত এবং তার পানপাত্রগুলো হবে আকাশের তারকার মতো অধিক। তা থেকে যে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৭৯)
যারা হাউজে কাউসার থেকে বিতাড়িত হবে
যারা দ্বিনের নামে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে এবং নিজেদের পার্থিব স্বার্থে সেগুলো দ্বিন বলে চালিয়ে দেয়। ইবাদত মনে করে। মানুষকে বিদআত করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তারা হাউজে কাউসারের পানি থেকে বঞ্চিত হবে। তাই আমাদের উচিত বিদআত-শিরক থেকে মুক্ত থাকা। আল্লাহকে ভয় করা। আবেগের বশবর্তী হয়ে দ্বিনের নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা আমাদের উভয় জাহানে ব্যর্থ করে দেয়।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, আমি তোমাদের আগে হাউজের কাছে গিয়ে হাজির হব। আর (ওই সময়) তোমাদের কতগুলো লোককে অবশ্যই আমার সামনে উঠানো হবে। আবার আমার সামনে থেকে তাদের আলাদা করে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব, হে প্রতিপালক! এরা তো আমার উম্মত। তখন বলা হবে, তোমার পরে এরা কী নতুন কাজ করেছে তা তো তুমি জানো না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৭৬
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now