বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদ্ভুত জীবন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "বাপ, আমাগো ঘরবাড়ি নাই ক্যান ?" "ক্যা কইছে ? এইডা তো আমাগো ঘর ।" "কিন্তু এইডা তো নাও ।" ছেলের কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আউয়াল মাঝি । কিছু বলে না । কি বলবে । উনিও তো বড় হয়েছেন এই নৌকাতেই । ছোটবেলা থেকে এই নৌকায় থেকেই মাছ ধরেছেন, বসবাস করেছেন । আউয়াল মাঝির বিয়ের কয়েক বছর বাদেই বউ মারা যায় । এখন ছেলেকে নিয়েই নৌকায় থাকেন । নদীর এপারে একদিন, ওই পাড়ে একদিন এভাবেই দিন কাটে ওদের । মাঝে মাঝে গ্রামের হাটেঁ যেতে হয় ওদের । মাছ বিক্রি করতে । মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে খাবার কিনে বাপ বেটা মিলে খায় । নওফেল আউয়াল মাঝির একমাত্র ছেলে ।সবেমাত্র যৌবনে পা দিয়েছে । কালো হলেও চেহারায় খুব মায়া ওর । বাবাকে খুব ভালোবাসে ও । আজকে অনেক মাছ ধরেছে ওরা । সিদ্ধান্ত নিল গঞ্জের বাজারে যাবে । মাছ বিক্রি করে কিছু কাপড়চোপড় আর জাল বানানোর সুতা কিনতে হবে । মাছগুলো ভালোদামেই বিক্রি করলো ওরা । সুতা কিনে কাপড়ের দোকানে গেলো । নওফেলের জন্য লুঙ্গি আর একটা শার্ট কিনলো । নওফেল বলল,"বাপ, অ্যান্নের তো হগল লুঙ্গিই ফুটা । অ্যান্নে একটা লুঙ্গি কিন্না লন ।" আউয়াল মাঝি ছেলেকে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে বলল,"আর টেহা নাই । পরে কিন্না লমু নে । এহন ল নায়ে যাই ।" মন খারাপ করে নওফেল চলে আসলো । সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে । আউয়াল মাঝির শরীরটা একটু খারাপ । শুয়ে আছে । জালটা নিয়ে পা টিপে টিপে নৌকা থেকে নেমে আসলো নওফেল ।নদী থেকে একটু দূরে একটা বিল আছে ।জালটাকে গুছিয়ে নিয়ে সন্তপর্ণে বিলে ছুড়ে মারলো নওফেল । শব্দ শুনে দৌড়ে একটা মেয়ে ছুটে আসলো । বলল,"এখানে মাছ ধরা নিষেধ । জানেন না আপনি ? এটা আমাদের বিল । কে আপনি ?" পিছনে ফিরে তাকালো নওফেল । মেয়েটাকে দেখে ওর মনে হল আকাশ থেকে যেন পরী নেমে এসেছে । মৃদু হাওয়াতে সেই পরীর এলোমেলো চুলগুলো উড়ছে । মেয়েটার দিকে এক মুহূর্ত তাকিঁয়ে নওফেল বলল,"আমি নওফেল । নায়ে থাকি । বাপের লইগ্যা একটা লুঙ্গি কিনমু । হেলিগ্যা কয়ডা মাছ ধরতে আইছি । কয়ডা ধইরাই যামু গ্যা ।" মেয়েটা এক পলক তাকালো নওফেলের দিকে । তারপর বলল,"ঠিক আছে । বাবা আসার আগে মাছ ধরে চলে যান ।তাড়াতাড়ি চলে যাবেন । বাবা দেখলে কিন্তু আপনার সমস্যা হবে ।" ঘাড় নেড়ে সায় দিল নওফেল । বলল,"আইচ্ছা যামু গ্যা ।" মেয়েটা ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুঁটিয়ে বলল,"ঠিক আছে ।" সেই হাসি দেখে নওফেলের শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল । কেমন যেন শিহরণ অনুভব করলো । মুখ ফুটে বলেই ফেলল,"কি নাম আন্নের ?” মেয়েটি মেঘনা বলেই চলে গেল । দ্রুত মাছ ধরে চলে গেল নওফেল । মাছগুলো বিক্রি করে বাবার জন্য লুঙ্গি কিনে নদীরপাড় চলে আসলো । অসুস্থ শরীর নিয়েই আউয়াল মাঝি ছেলের জন্য নৌকা থেকে নেমে নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলো । নওফেলকে দেখেই রেগে গিয়ে বললো, "কই গেছিলি আমারে না কইয়্যা ।" নওফেল লুঙ্গিটা তার বাবাকে দিয়ে বলল "আন্নের লইগ্যা লুঙ্গি কিনতে গেছিলাম ।" লুঙ্গিটা হাতে নিয়ে আউয়াল মাঝি অশ্রুসিক্ত নয়নে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বলল."তুই আমারে এত ভালোবাসিস ।" নওফেল বলল,"বাপ, আন্নে ছাড়া আমার আর কে আছে ?" রাত গভীর হতে লাগলো ।আউয়াল মাঝি ঘুমাচ্ছে । নওফেল নৌকার গুলইয়ে বসে মেঘনার কথা ভাবছে । মেঘনার এলোমেলো চুলগুলো ওর চোখে ভাসছে । এই মেঘনা নদীর অপরূপ প্রকৃতিও যেন মেঘনার রূপের কাছে ম্লান । হঠাৎ আকাশে বিজলী চমকানো শুরু হল । বড় বড় ঢেউ উঠতে লাগলো নদীতে ।বৃষ্টি শুরু হল । আউয়াল মাঝিও তখন হঠাৎ করে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়লেন । নওফেল কি করবে বুঝতে পারছিলো না । এত রাতে ডাক্তার তো পাওয়া যাবে না । সকাল হল । কিন্তু নিত্যদিনের মত না । আওয়াল মাঝি সকালের আলো দেখতে পেল না । মৃত বাবার পাশে গোমরা মুখে বসে আছে নওফেল । চারদিক অন্ধকার লাগছে ওর কাছে । ও যে একা হয়ে গেল । কি করবে ? কার কাছে যাবে ? ধীরে ধীরে উঠে দাড়াঁলো নওফেল । জীবন যুদ্ধটা যে ওকে একাই করতে হবে । কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে বাবাকে কবর দিলো নদীর পাশে । সারাদিন কিছু খেলো না ও । মাছও ধরলো না । সারাদিন বাবার কবরের পাশে বসে রইলো । পরদিন থেকে নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলো নওফেল । মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ শুরু করলো । কিছুদিন পর নওফেল আবার সেই বিলে গেল । মেঘনা বিলের পাড়ে বসে ছিল । মেঘনাকে দেখেই কেমন যেন শিহরণ অনুভব করলো ও । ধীর পায়ে কাছে গিয়ে বলল,"অ্যান্নের লগে বইতে পারি ?" মেঘনা নওফেলের দিকে তাকিঁয়ে বলল,"হ্যা বসতে পারেন । আজকে আবার কেন আসছেন ? মাছ ধরতে ?" নওফেল বলল,"নাহ্ । বাপটা মইরা গেছে । একলা থাকতে ভাল্লাগে না । অ্যান্নে যাইবেন আমার লগে ?" মেঘনা নওফেলের মায়াবী চোখ দুটোর দিকে তাকিঁয়ে বলল,"যেতে পারি । তবে একটা শর্ত আছে । ওই নৌকায় আপনি আর যেতে পারবেন না । এখানে ঘর বানিয়ে থাকবো আমরা ।" নওফেল কিছুক্ষণ স্থিরভাবে বসে থাকলো । তারপর উঠে দাড়াঁলো । মেঘনার মায়ার বন্ধন ছিঁড়ে চলে আসলো নদীর তীরে । এই নদী, এই নৌকা, এই নৌকাঘর , বাবার স্মৃতি এতসব ফেলে ও থাকবে কি করে। নৌকায় উঠে বসলো নওফেল । বাবার তৈরী বৈঠা দিয়ে নৌকা বাইতে শুরু করলো ও । মেঘনা পিছন পিছন এসে নদীর তীরে দাড়াঁলো । দূর নদীর দিকে নৌকা চালাচ্ছে নওফেল । আর মেঘনা দাড়িঁয়ে দাড়িঁয়ে দেখছে নওফেলের অদ্ভুত জীবনের দিকে যাত্রা করার দৃশ্য ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছেলেদের জীবন বড়ই অদ্ভুত
→ জীবন বড় অদ্ভুত //
→ জীবনটা অদ্ভুত এক কষ্ট বোঝা মুশকিল।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now