বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার শৈশব_০১

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাকিম (০ পয়েন্ট)

X যখন ছোট ছিলাম তখন ভাবতাম বড় কখন হবো। বড়দের দেখতাম আর ভাবতাম, ইস এদের কত্তো মজা! সাইকেল চালিয়ে কতো দূর-দূরান্তে চলে যেতে পারে! হাত বাড়িয়েই গাছ থেকে বরই, আমগুলো পেড়ে খেতে পারে! হাত দিয়ে টিপেই বাদামের খোসা ছাড়াতে পারে! সাঁতার কেটে পুকুরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে চলে যেতে পারে! উঁচু গাছের মগডালে উঠে লাফিয়ে পড়তে পারে পুকুরে! এত্তো সাহস! রাতের বেলা একা একা বাড়ির বাইরেও থাকতে পারে! ইস! আমি কখন বড় হবো? আজ বড় হয়েছি। আঠারো বছর তো কবেই পার করেছি আমি। কিন্তু, এখন আর তখনকার মতো আরো বড় হতে ইচ্ছে করে না। হ্যাঁ, এখন সাইকেল চালিয়ে ঠিকই দূর-দূরান্তে চলে যেতে পারি, হাত বাড়িয়েই গাছ থেকে আমগুলো পেড়ে খেতে পারি, দাঁত দিয়ে না চিবিয়ে হাত দিয়ে টিপেই বাদামের খোসা ছাড়াতে পারি, রাতের বেলা আমিও বাইরে থাকতে পারি। সাঁতারটা অবশ্যি পারি না। আমার সাঁতারটা সেভাবে শেখা হয়ে উঠেনি। সেবার যখন বন্ধুদেরকে নিয়ে সাঁতার শিখবো বলে নদীতে গেলাম, প্রথমদিনই পানিতে ঘণ্টাখানেক পাছড়াপাছড়ি করে দারুণ জ্বরে পড়ে গেলাম আমি। নাইমের পা কাটলো শামুকে। রক্তারক্তি অবস্থা। অমিন বাড়ি গিয়ে খেলো আচ্ছামতো বকা। তাজকিরের শ্বাসকষ্টের সমস্যা, সে নদীতে নামলো না। অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে দ্বিতীয় দিন আর নদীতে যাওয়া হলো না। আমি জ্বরে কাহিল, মা উঠতে বসতে কথা শুনাচ্ছে, তাজকির তো নামবেই না নদীতে, তীরে বসে থাকবে চুপচাপ, নাইম পা কেটে জখম হয়ে রইলো, অমিনকে আর ওর বাবা কিছুতেই আসতে দিলো না। সুতরাং, আমার সাঁতার শেখার ইতি ঘটলো। শুধু সাঁতারই না, আরেকটা সহজ জিনিস আমি পারিনা। সেটা হলো মোটর সাইকেল চালানো। আমার এপার-ওপার, কোনোপারেই কারো মোটর সাইকেল নেই। এপার বলতে আমার বাবা, চাচারা, দাদা, ফুফারা, কারোরই নেই। আর ওপার বলতে আমার মামারা, আর আমার নানা। আমার কোনো খালা নেই, সেই কারণে কোনো খালুও নেই আমার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার কোনো খালা থাকলে সে হতো অনেক সুন্দরী একজন মহিলা। খালা আমাকে এতোটাই স্নেহ করতেন যে বুঝতে দিতেন না তিনি আমার মা নাকি খালা! আমার একজন খালুও থাকতো! খালুর একটা মোটর সাইকেল থাকতো! একটা সুন্দরী খালাতো বোনও থাকতো আমার! ছোটবেলায় যে কারণগুলোর জন্য বড় হতে চাইতাম, তার প্রায় সবগুলোই এখন উপভোগ করতে পারি, অথচ নিজের এই বয়স, এই সময় নিয়ে আমি খুশি নই। শৈশবটা বারবার হাতছানি দেয়। মন চায়, আবার ফিরে যাই। কিন্তু সে উপায় কই? সেসময় আমাদের গ্রামটা গ্রামের মতোই ছিলো। আমাদের ছিলো বিশাল গৃহস্থ বাড়ি। মাঠে দাদার ছিলো বিশাল বিশাল জমি। সেগুলোতে আখ চাষ করা হতো, মন চাইলেই মাঠে গিয়ে আখের রস খেতে পারতাম। আখ খেতে পারতাম। গুড় বানানোর জন্য কড়াইয়ে রস গরম করে গাঢ় হয়ে যে একটা অবস্থা তৈরি হয়, (আমরা বলি ফুলি/ফুলী, আপনারা কী বলেন?) তা আখে লাগিয়ে খেতাম। মাঠে কলাই, পেঁয়াজ, রসুন লাগানো হতো। বাগানে লিচু গাছে লিচু, আম গাছে আম ধরতো, কত্তো খেতাম! আমাদের বাড়ির বাইরে ছিলো বিরাট ফাঁকা জায়গা। সেখানে দুইটা গরুর গাড়ি। গরুর গাড়ির দুই প্রান্তে দুইতিনজন মিলে বসে দোলনা কিংবা নাগরদোলার মতো দুলতাম। একটা ট্রলি থাকতো সেখানে। গরুর গাড়ি টানার জন্য থাকতো চারটা বিশাল বিশাল বলদ। এটুকু শুধু আমাদের স্থানীয় ব্যাপার ছিলো। বরেন্দ্র এলাকাটাতে ছিলো আমাদের বিশাল বিশাল জমি। সেখানে ধানের চাষাবাদ হতো। সে এলাকায় আমার দাদা একটা বাড়িও বানিয়েছিলেন। আমার দাদী থাকতেন সে বাড়িতে। আমরা মাঝেমাঝে সে বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। পাশেই সাঁওতালদের গ্রাম ছিলো। তাদের বাড়িতে অবাধ যাতায়াতের মতো সম্পর্কও ছিলো। কিন্তু সেসময় এতোটা বুঝতাম না। এখন আদিবাসীদের প্রতি আমার এতোটা কৌতূহল যে আমি বলে বুঝাতে পারবো না। তখন কোনো কৌতূহল ছিলো না, যেতামও না। তাদের কালো কালো চেহারা, মোটা মোটা ঠোঁট, সুঠাম দেহ দেখে একটু ভয়ভয়ই লাগতো। বরেন্দ্র-তে আমাদের যে বাড়িটা ছিলো, সেখানে সাপের অভাব ছিলো না। কলসে পানি রাখা হতো। পানি খাওয়ার জন্য কলসের কাছে গিয়ে দেখি কলসের গলা জড়িয়ে সাপ। কখনো বা হিস্ হিস্ শব্দে ঘুমও ভেঙে যেতো। পুকুরে গোসল করতে গিয়ে দেখতাম পুকুরের পাশে সাপের কলস(খোলস) ছাড়া আছে। গোসল করতে নামতাম, পাশ দিয়ে সাঁতার কেটে চলে যেতো কোনো সাপ। এখন আর সেই বাড়ি নেই, সেই বসতি নেই সেখানে। সবখানে হয়েছে বড় বড় রাইস মিল। আমাদের নিজেরই গ্রামটার কথাই বলিনা কেন! আমাদের গ্রামে এখন হয়েছে সব ছাদ-পেটা বাড়ি। ফাঁকা থাকা জায়গাগুলোতে হয়ে গেছে বাড়িঘর। আমাদের নিজের বাড়িটাও আর গৃহস্থ বাড়ি নেই। চাচারা সবাই আলাদা আলাদা বাড়ি বানিয়ে নিয়েছে। আমাদের গলিটাতে আর কোনো গরুর গাড়ি নেই, গাড়ি টানা কোনো বলদ নেই, কোনো ট্রলি নেই। আসলে গলিটাই নেই। সেখানেও বাড়ি উঠে গেছে। একসময় বরেন্দ্র থেকে অনেক অনেক খড় আসতো। জায়গায় জায়গায় সেগুলো পালা করে রাখা হতো। বস্তা বস্তা ধান আসতো। সেগুলোও রাখা হতো জায়গায় জায়গায় পালা করে। আমরা চাচাতো ভাইয়েরা, আর এলাকার ছেলেরা সবাই মিলে রাতে লুকোচুরি খেলতাম। সবাই লুকোতাম সেই খড়ের গাদায়, বিভিন্নজন বিভিন্ন জায়গায়। সেই খেলার বয়স আর নেই, খড়ের গাদাগুলোও নেই। খেলার সাথীরাও সব আলাদা আলাদা হয়ে গেছে। আমাদের দলের নেতা ছিলো লিটু ভাইয়া, সে বিয়ে করলো, তার ছোট ভাই ইউসুফ আর্মিতে জয়েন করলো, আরেক চাচাতো ভাই শাহীন গেলো বিদেশে, তার বাবা নেই, সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। শাহীন ভাইয়ার ছোট ভাই রনিটা গেছে উচ্ছন্নে। আর, আমিতো আমিই। *** বোধহয় চলবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now