বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"খুনসুটিগুলো"

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X - চুমু খেতে চাই? - কোথায়? - ঠোঁটে। - এটাই তোর আসল রূপ! বদমাশ! রুপা রাগে অনুরাগে হনহন করে চলে গেল, সাথে কি নিয়ে গেল আমার এক বছরের প্রেমও? মাঝে মাঝে নিজেকে খুব ছোটো মনে হয়। এক বছরের প্রেমে একটা চুমু খেতে পারিনি। কতজনকে বলতে শুনি মাত্র কদিনের প্রেমেই কতকিছু, মাথা নিচু করে চুপচাপ থাকি সে সময়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রুপার সাথে আমার প্রথম বছরে বন্ধুত্ব, দ্বিতীয় বছরে প্রেম। এখন থার্ড ইয়ার চলছে। এক বছরই তো হলো? রুপার অভিমান ভাঙে তিনদিন পরে। তিনদিনের বিরহে আমিই ফের অভিমান করি, কেটে যায় ফের তিনদিন। সাত দিনের মাথায় রুপা ফোন দেয়। - কাল ক্যাম্পাসে আসবি, প্লিজ? - তবে তোকে চুমু খেতে দিবি? এ যেন অবোধ শিশুর বায়না! - আগে আয়! তারপর খাওয়াচ্ছি তোর চুমো! পরদিন রুপা আমাকে টেনে ধরে নিয়ে যায় কাজি অফিসে। কাজি সাহেব নামধাম লিখে জিজ্ঞেস করে দেনমোহর কত হবে? রুপা-দশ লাখ। আমি বলি, দশ হাজার! ফের ঝগড়া!  কাজি সাহেব বিরক্ত হয়ে বলেন, যান তো। অযথা সময় নষ্ট করবেন না। বেরিয়ে এসে রুপা বলে, বিয়ে করার মুরোদ নেই। উনার চুমু খাওয়া চাই! আহা! -পকেটে পয়সা নেই বলে একটা চুমু খেতেও পারব না? এই প্রেম করে লাভ কি? ধূ ধূ মরুভূমি! অভিমানে চলে আসি। ফের তিন দিন যায়। ফোন দেয় রুপা।  - বেশ! একটা চুমুই তো? - হুঁ। - আচ্ছা। কাল আয়। সুযোগ বুঝে লিফটে চুমু খেতেই লবনাক্ত স্বাদে গুলিয়ে যায় আমার শরীর। আমি বলি, চাই? -কী? -আরও কিছু, এর চেয়েও বেশি কিছু। ডিপার্টমেন্টে এসে লিফট খুলে যায়। রুপা আমাকে ধাওয়া করে, আমি দৌড়ে পালাই। রুপা পিছু নেয়, পুরো ডিপার্টমেন্টে শুরু হয় ছুটোছুটি! শিক্ষক, কমর্চারী আমাদের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে দেখেন! নিজেদের ফেলে আসা দিনগুলোও কি রোমন্থন করেন? মধ্য দুপুরে রুপা বায়না ধরে ফুচকা খাবে। বাচ্চাদের একটি স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়াই, ফুচকা খেতে। কোন এক বাচ্চার মায়ের অসতর্কতাবশত ওড়না যথাস্থান থেকে সরে যায়।  ভুলবশত আমার চোখ আটকে যায় সেখানেই, রুপার দৃষ্টিতে এড়ায় না আমার সামান্য এই ভুলটুকুও।রিকশার হুড উঠিয়ে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে কী মারটাই না দিল আমাকে! রাগে ক্রোধে আমি বলে ফেলি, দেখবই তো! তুই দেখাস না কেন? মুহূর্তেই রুপার চোখে জল চলে আসে, আমি মুছে দেই পরম মমতায়! গালে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে বলি, টুকটুকি! রুপা খুশিতে গদগদ হয়ে যায়! সুযোগ বুঝে আমিও বলে ফেলি, চাই? -কী? -অনেক কিছু, সেদিন লিফটের বাকি অংশ। ফের খেতে হয় মার, কী নরাধম আমি! প্রেমিক জাতটার কলঙ্ক যেন। সেদিন বইমেলায় আমি আর রুপা হাঁটছি, বই দেখছি। রুপার দেখা হলো ওর এক স্কুলের বন্ধুর সাথে,ছেলে। সেই থেকে ছেলেটা আঠার মত লেগে রইলো আমাদের সাথে। আমার যেন বিরক্তির শেষ নেই, চুপিচুপি রুপাকে বললাম তোর লুইচ্চা বন্ধুটা দিনটাই মাটি করে দিল। সন্ধে নাগাদ বাসায় ফিরব। রিকশায় রাজ্যের অভিমান নিয়ে বসে আছি। রুপা জড়িয়ে ধরে বললো, আমি তো সারাজীবনই তোর সাথে থাকব। একটি বিকেল নষ্ট হওয়াতেই এত মন খারাপ করতে আছে বুঝি? আমার সেই বিকেলটা গেছে, সেই দিনগুলোও। আর ফিরে পাব না কোনদিন। তারপর প্রায় দশ বছর পর সেদিন ডিপার্টমেন্টের পুনর্মিলনীতে রুপার সাথে দেখা। মজা করে বললাম, - মুটিয়ে গেছিসরে।  -তোর চুলেও তো পাক ধরেছে।  -হুঁ, একসাথে বুড়ো হওয়া হলো না আমাদের। রুপা টিসু পেপার দিয়ে চোখের কাজল ঠিক করলো। আমি তাকিয়ে রইলাম অন্যদিকে, দৃষ্টি ফিরিয়ে! লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now