বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সন্ধ্যে প্রায় হয়ে গেল। ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা শেষে যার যার বাড়িতে ফিরছে।
মাঠের কৃষকরাও তাদের জিনিসপত্র গুছিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালো।
সন্ধ্যে হতে গাঁয়ের বাজার আলোকিত হয়ে ওঠে ।মানুষগুলো সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এখানে মিলিত হয় একটু কিছু সময় কাটাতে।
সন্ধ্যার দিকটায় বিদ্যুৎ চলে যায় প্রায় সময়ই। সোলায়মান মিয়া অন্ধকারে চোখ বুঝে শুয়ে আছেন। ছেলের বউ একটা কুপি এনে তার ঘরে দিয়ে গেল।
ঘরে কেউ এসেছে বুঝতে পেরে আস্তে করে জিজ্ঞাসা করলেন- কে?
-"আব্বা, আমি ময়না। কারেন তো গেছে গা। কুপিটা দিয়া গেলাম।"
-ও। আইচ্ছা।
-"জানালাটা কি বন্ধ করে দিবো আব্বা?"
-"না থাক। বাতাস আইয়ে। পরে লাগাইয়ো।"
আইচ্ছা বলে ময়না বের হয়ে গেল।
বেরুতে গিয়ে দরজার চৌকাঠটায় হোঁচট খেয়ে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল ই।
"ওহ, মাগো" বলে কুঁকড়ে ওঠে ধপাস করে বসে পড়লো । চোখে পানি চলে এলো ময়নার। অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে না রক্ত এলো কিনা। কিন্তু খুব টনটন একটা ব্যথা করছে পায়ে।
সোলায়মান মিয়া ডেকে বললেন -"কি হইলো ? পইড়া গেছো নাকি? দু:খু পাইছো? পানি দেও। আইন্ধারে তুমি দেইখা শুইনা চলবা তো"
.... ...
সোলায়মান মিঞা শুয়ে শুয়ে ভাবছেন তার জীবনের কথা। বউ তারে রেখে অনেক আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে।
ছেলের বউ ই দেখভাল করে। সারাদিন বিছানায় শুয়ে বসে তিনি ছেলের বউয়ের ব্যস্ততা দেখেন।
সংসারটাকে আগলে রেখেছে ময়না।
হঠাৎ করে তার চা খাওয়ার ইচ্ছে হলো তার। কিন্তু ময়না কে বলতে সাহস পেলেন না।
বাজারের চা দোকানের কথা মনে পড়লো তার। জোয়ান বয়সে কত আড্ডা দিয়েছেন সেখানে।
এখন চোখে ঝাপসা দেখেন। পাগুলো কেমন অবশ হয়ে যায়। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। বিছানায় পড়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তার সঙ্গীসাথীরা আজ অনেকেই নেই পৃথিবীতে।
গ্রামের বাজারে মানুষ গিজগিজ করছে। বাজারে ঢুকার একটু পরেই করিম মওলার চা দোকান। লোকটা বেশ মিশুক। তার বাড়ি এ গ্রামে ছিলনা। নিজের বাড়িঘর নদীভাঙনে হারিয়ে জীবিকার খোজে এখানে এসেছিলেন।
মাঠে, বাড়িতে কামলা খেটেছেন। একসময় বাজারে এই চা দোকান দিয়ে বসলেন। বিয়েও করলেন।
অনেক আগের কথা। কিন্তু করিম মওলার মনে হয় এইতো সেদিন।
চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলে তুমুল আলাপ আলোচনা। গাঁও-গেরাম, পরিবার, দেশ-বিদেশ কোনো কিছুই বাদ যায়না।
ওপাশে সালামের কাপড়ের দোকান। সেলাই মেশিনও আছে দুইটা। পড়ালেখা কিছু করেছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ করেনি। বাবা মারা যাওয়ার পর সালামকেই সংসারের হাল ধরতে হলো কিনা! শহর থেকে পোশাক কিনে আনে। নিজেও বানায়। মোটামোটি ভালোই হয় তার আয়।
কলির বাবা আজকে চায়ের দোকানে বেশিক্ষণ বসলেন না। মনটা কেমন জানি আনচান করছে তার। সে বাড়ির দিকে রওনা দিল। ঠিকই বাড়িতে গিয়ে জামতে পারলেন তার ছেলে শ্যামল আমগাছ থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে।
পাশের বাড়ির জয়া মাসি বলছে "শুনরে, তোর ছেলে সন্ধ্যেবেলা গাছে ওঠেছিল। নিশ্চয় ভূতে টুতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। সময় করে ঝাড়ফুক দিয়ে আনিস"
-না মাসি। একটু থেকো এইখানে। আমি যাই। ঔষধ নিয়ে আসি গে।
...........
চলবে.........
-রেহনুমা আহমেদ ।
| অনেক দিন পর লিখলাম। গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ । সবাইকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা । আনন্দে আর সফলতায় কাটুক নতুন বছর।
HaPpY NeW YeAR 2020|
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now