বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঐ♥যে♥রাতে-৮

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #ঐ♥যে♥রাতে #ইমরান খান #পর্ব_৮ . প্রিতমের মা ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল, -"কি আমি দুই লাইন বেশী বুঝি?" -"না তুমি দুই লাইন কম বুঝো। এখন চুপ-চাপ নাস্তা খাও। খাওয়ার সময় বেশী কথা বলতে নেই। প্রিতম নাস্তা নিয়ে রুমে চলে আসল। রুমের দরজা- জানালা সব আটকে দিল। তারপর বেলকুনিতে গেল। গিয়ে দেখে মেয়ে টার এখনো জ্ঞান ফিরে। প্রিতম খুব টেনশনে পরে গেল। প্রিতম নিঝুমের পাশে বসে আবার নাকের কাছে হাত নিল।না! মেয়ে টা শ্বাস নিচ্ছে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর টাও কমে নি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে মনে হচ্ছে । কি নিষ্পাপ দেখাচ্ছে ওর মুখ টা! পৃথিবীর সমস্ত মায়া,মুগ্ধতা,স্ নিগ্ধতা যেন ওর মুখে। নড়াচড়াও করছে না। বারান্দা থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নামা যাবে। ওই পাশের বিল্ডিং বেয়ে আবার এখানে আসা যাবে। কিন্তু ডাক্তার কি বিল্ডিং বেয়ে রোগী দেখতে আসবে? ধুর! কি সব ছেলে মানুষি ভাবনা ভাবছি। প্রিতম হাতে একটু পানি নিয়ে নিঝুমের নাক-মুখে ছিটিয়ে দিল। তাও জ্ঞান ফিরছে না । আবার হাতে পানি নিয়ে মাথায় দিল একটু। এই তো মেয়ে টা চোখ খুলছে! প্রিতমের সত্যিকারের একটা ভাবনা ঘুচল। যা ই হোক জ্ঞান তো ফিরছে। প্রিতম কিছু বুঝে উঠার আগেই নিঝুম ওকে জাপটে জড়াই ধরল। প্রিতম কি করবে বুঝতে পারছে না। এই টুকু মেয়ে এত শক্তি কোথায় পায়? প্রিতম চাইলেও নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারল,নিঝুম ওর গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে জড়াই রাখছে। প্রিতমের বুকে মুখ গুজে বাচ্চা দের মত ডুকরে কেঁদে উঠল নিঝুম। প্রিতম বুঝতে পারল মেয়ে টা জ্বরের ঘোরে এমন করছে। -" তুমি আমার সাথে এমন টা কেন করলে? আমায় কেন ঠকালে? এত টা প্রতারনা করতে পারলে আমার সাথে? একবারও ভাবলে না আমার কি হবে? তোমার জন্য ফ্যামিলি প্রত্যেক টা মানুষ কে কষ্ট দিছি। কেউ আমায় বুঝল না, তুমিও আমায় বুঝলে না। এমন টা তো কথা ছিল না। তোমায় পাওয়ায় জন্য সব হারালাম কিন্তু তবুও তোমায় পেলাম না।" এসব বলতে বলতে নিঝুম প্রিতমের বুকে এলোপাথরি কিল-ঘুষি দিতে লাগল। প্রিতম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। এবার নিশ্চিত হল জ্বরের ঘোরে আবল-তাবল বকছে। নিঝুম এবার যথারিতী জোরে জোরে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল , -" কেন ?কেন? এমন করলে আমার সাথ? কি ভুল ছিল আমার? তোমায় নিজের থেকে বেশী ভালোবাসি এটাই ভুল।" প্রিতম বুঝতে পারল এ মেয়ের মাঝে নিশ্চই অন্য কোন রহস্য আছে । কিন্তু এখন রহস্য খোঁজার সময় না। মেয়ে টা যে পরিমানে চিল্লাচ্ছে তাতে বাবা-মায়ে শুনে যাবে। প্রিতম এবার নিঝুমের মুখ চেপে ধরল যাতে আর চিৎকার করতে না পারে। তারপর আস্তে আস্তে নিঝুমের কানে কাছে মুখ নিয়ে বলল, -" নিঝুম চিল্লাপাল্লা কর না,প্রোবলেম হবে তো।" নিঝুম বাচ্চা দের মত গাল ফুলিয়ে বলল , -" চিল্লাবো না তো কি করব? তুমি আমায় ঠকালে কেন?" প্রিতম এবার মহা বিপদে পরে গেল। এই মেয়ের মেন্টালিটি কোন প্রোবলেম নেই তো আবার? না! কালকে রাতে তো স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছে। জ্বরের ঘোরেই আবল- তাবল বকছে। নিঝুম এবার প্রিতম কলার ধরে আস্তে আস্তে কান্না জড়ানো গলায় বলল -" কি কথা বল না কেন? আমায় ঠকালে কেন? আমি কিন্তু আবার চিল্লাবো।" প্রিতম মনে মনে ভাবল মেয়ে টার সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলতে হবে নাহলে আবার পাগলামী শুরু করবে। -" না ,না আমি আর তোমায় ঠকাব না। এই যে কান ধরছি আর ঠকাবো না তোমায়।" -" তুমি খুব পঁচা হয়ে গেছ। একবারও চিন্তা করলে না আমার কষ্ট হবে। " -" আর ঠকাবো না তোমায়। প্লীজ চিল্লাপাল্লা কর না।" -" বল আগের মত ভালোবাসবে। জানো,আমি কখনও ভাবতে পারি নি তুমি এমন করবে আমার সাথে।" প্রিতম নিরুপয় হয়ে বলল, -" হ্যাঁ ,হ্যাঁ আগের থেকে বেশী ভালোবাসবো তোমায় । আর এমন করব না।" -" নাক ধরে প্রমিস কর আর ঠকাবে না।" প্রিতম ঠিক বুঝে উঠতে পারল না কি বলল, -" আবার বল বুঝি নি।" -" আরে বোকা টা তোমার এত ভুলোমন কেন বলো তো? আগে তো আমি রাগ করলে আমার নাক ধরে বলতে,"নিঝুম পাগলী তোমায় আর এমন হবে না।" প্রিতম বুঝতে পারল মেয়ে টা ওর বয়ফ্রেন্ড ভেবে তাকে এসব বলছে। মেয়ে টার কথা বাইরে যাওয়া যাবে না,তাহলে আবার চিল্লাপাল্লা শুরু করবে। প্রিতম নিঝুমের নাক ধরে বলল, -" নিঝুম পাগলি আর ঠকাবো না তোমায়।" নিঝুম এবার মুচকি হেসে দিল। প্রিতম মনে মনে ভাবল,এ কেমন রাগ ভাঙানোর সিস্টেম?" মেয়ে টার জ্বর না কমলে পাগলামিও কমবে না। যেভাবে হোক জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে হবে। -" নিঝুম ছাড়ো এখন । নাস্তা খাবে না?" -" না,না পরে নাস্তা খাবো এখন তোমার বুকে থাকব।" কি মহা মসিবত! প্রিতমের কেমন জানি অজানা এক অনুভূতি হচ্ছে । এমন অনুভূতির সাথে কখনো ও পরিচিত ছিল না। মেয়ে টা কিভাবে আকড়ে ধরে আছে! বুকে যে এলোপাথরি কিল-ঘুষি দিয়ে তাতে প্রিতমের অবস্থা খারাপ। কি বিচ্ছু মেয়ে! এত শক্তি কোথায় পায়? অফিসের টাইম হয়ে যাচ্ছে ,একটু এর অফিসে যাওয়ার জন্য চিল্লাপাল্লা শুরু হবে, -" নিঝুম ছাড়ো এখন প্লীজ।" -" না,না ছাড়ব না। তোমার বুকে অনেক শান্তি ।" প্রিতম এবার লজ্জা পেয়ে গেল। জ্বরের ঘোরে কিসব বলছে! -" আমার অফিসে যেতে হবে ছাড়ো তো।" -" না যেতে হবে না অফিসে। তোমার অফিস আজ ছুটি।" প্রিতম এবার কড়া গলায় বলল, -" ছাড়ো বলছি।" নিঝুম এবার ওর বুকে থেকে মাথা সরিয়ে ফেলল। বাচ্চা দের মত ঠোট বাঁকিয়ে কেঁদে দিল, -" তুমি আবার আমার সাথে খারাপ বিহেভ করলে? আসলে ই তুমি বদলে গেছ।" ও মাই গড! এই মেয়ে টা রে নিয়ে কি করব? প্রিতম নিঝুমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, -" না ,আমি মোটেও বদলে যাই নি।" -" বদলে না গেলে আমার সাথে কড়া গলায় কথা বললে কেন? " -" সরি ভুল হয়েছে। তুমি নাস্তা খাবে না?" গাল ফুলিয়ে বলল, -" না খাব না। তুমি আমার সাথে কড়া গলায় কথা কেন বললে সেটা বল?" -" সরি আর বলল না।" -" সরি তে কাজ হবে না। " -" তো কিসে কাজ হবে?" -" জানো না কিসে কাজ হয়?" প্রিতম অস্ফুট স্বরে বলল, -" তোমায় এখন কয়েক টা থাপ্পর দিলে ই কাজ হবে ।" -" কি বললে?" -" না,না কিছু বলি নি? নাস্তা খেয়ে নেও।" -" কান ধরে সরি বল নয়তো নাস্তা খাব না।" -" কি বললে? আমি কান ধরব কেন? " -" ইস এমন ভাব করছ মনে হয় আমার সামনে কখনো কান ধর নি ।" প্রিতম যেন আকাশ থেকে পড়ল। কি সব বলছে এগুলো! -" আমি কান ধরতে পারব না, তুমি নাস্তা খাও তো।" -" কান না ধরলে নাস্তা খাব না।" আচ্ছা মেয়ে তো এটা। আমায় নিজের বয়ফ্রেন্ড ভেবে কি সব বলতেছে। হয়ত ওদের রিলেশনশিপে দু জন এমন টা করত । প্রিতম নিরুপয় হয়ে কান ধরে বলল, -"এই যে কান ধরছি এবার নাস্তা খাও দয়া করে । " -" আজব! তুমি তোমার কান কেন ধরলে?" -" তো আমি কার কান ধরব? প্রিতম অস্ফুট স্বরে বলল, নিজে একটা আজব প্রানী। আর আমায় আজব বলছে! ইচ্ছে হচ্ছে চিড়িয়াখানায় রেখে আসি।" -" এই তোমার হয়েছে টা কি বল তো? আগে তো আমার কান ধরে মাফ চাইতে এখন নিজের কান ধরে মাফ চাও কেন? " প্রিতম এবার বুঝতে পারল। উনার ভালোবাসার মানুষ উনার কান ধরে মাফ চাইত। হায়রে ঢং! ঢংয়ের চাপে পরে আজ আমার জীবন টা তেজপাতা। প্রিতম এবার নিঝুমের কান ধরে বলল, -" সরি।" -" হুম এবার ঠিক আছে।" -" এবার নাস্তা খেয়ে নেও।" -" আজব তো! ফ্রেশ না হয়ে নাস্তা খাব বুঝি।" -" তাহলে যাও ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসো।" নিঝুম উঠতে চাইলেও জ্বরের জন্য উঠতে পারছে না। হাত-পা কাঁপছে। ......♦চলবে♦.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now