বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#ঐ♥যে♥রাতে
#ইমরান খান
#পর্ব_7
.
-" অনেক রাতে ঘুমাতে বলছে কে তোকে? তুই নাকি 11 টার সময় অফিস থেকে বের হয়েছিস,জানিস তো তোর বাবা কেমন এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার কি দরকার?"
-" হুম জানি তো বাবা খুব রাগী। তুমি যাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।"
-" এত নার্ভাস দেখাচ্ছে কেন তোকে? "
-" আম্মু তুমি ইদানিং বেশী কথা বলো। তুমি গিয়ে নাস্তা রেডি কর আমি আসছি। "
-" নবাবজাদা নাস্তা অনেক আগেই রেডি। শোন বাবা ,আজকে অফিসে একটা জরুরী মিটিং আছে তোকে একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে।"
-" সে না হয় যাব,যাও তো তুমি এখন।"
-" তোর প্রোবলেম কি বল তো? বারবার যেতে বলছিস কেন?"
-" আরে আমার আবার কিসের প্রোবলেম? ধুর!"
প্রিতম যথারিতী ঘামতে শুরু করল। কপালে আজকে কি আছে কে জানে? আর মেয়ে টাও মরার মত ঘুমাচ্ছে। বলল যে সকালে চলে যাবে । তা এখনও ঘুম থেকে ই উঠে না। আল্লাহ যা করে বান্দার মঙ্গলের জন্য করে। এটা কেমন মঙ্গল?
-" এই তুই কি ভাবছি এত?যা ফ্রেশ হ।এত বড় ছেলে বিছানা টাও ঠিক ভাবে গুছিয়ে রাখতে পারিস না? বালিশ একটা সোফায় আর একটা খাটে ,বিছানার চাদর ফ্লোর পর্যন্ত করে রাখছিস । নিজের রুম টাও গুছিয়ে রাখতে পারিস না।"
প্রিতম জোরপুর্বক একটা হাসি দিয়ে বলল,
-" কে বলছে আমি গুছাতে পারি না? তুমি যাও দেখো পাঁচ মিনিটের মধ্যে রুম পুরো ঝকঝকা- ফকফকা করে ফেলব ।"
-" হয়েছে তোর আর ঝকঝকা- ফকফকা করতে হবে না। তুই দ্রুত ফ্রেশ হয়ে খেয়ে অফিসে যা। বল্লাম না জরুরী মিটিং আছে কানে যাচ্ছে না নাকি? "
-" আম্মু এই বয়সে তোমার কাজ করা একদম ঠিক না। এখন রেস্ট নেওয়ার বয়স। তোমার গুছাতে হবে না আমি ই গুছাচ্ছি।"
-" বাব্বাহ! আমার ছেলের মাথায় এত জ্ঞান হল কবে থেকে? এত ই যদি আমার কথা ভাবতি তাহলে বিয়ে টা অন্তত করতি।"
-" আম্মু বিয়ে- টিয়ে ওসব আমায় দিয়ে হবে না।"
-" ছ্যাকা খেয়ে দেবদাস হয়ে বসে আছিস। ওসব ভন্ডামি বাদ দে। মেয়ে টা তো তোকে ছাড়া দিব্যি আছে।"
-" প্লীজ আম্মু পুরানো কথা তুলো না।"
নিঝুমের কিছু টা হুশ ফিরে। চোখ মেলে ঠিক বুঝতে পারে নি যে সে কোথায় আছে। রাতে তো খাটে ছিল। না কিছু ভাবতে পারছে না। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা,শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে ।
.
প্রিতম নিজেই বিছানা গুছাতে শুরু করল। প্রিতমের মা প্রিতম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
-" বাহ্! আমার ছেলে টা তো দেখছি খুব লক্ষ্মী হয়ে গেছে।"
প্রিতম বিড়বিড় করে বলল,
-" হু। এমন সিচুয়াশনে সবাই ই লক্ষ্মী হয়।"
-" কি বলছিস বিড়বিড়িয়ে?"
-"কই কিছু না?"
নাস্তার টেবিলে বসে ওয়েট করছে প্রিতমের বাবা। ছেলে কে ডাকতে গিয়ে নিজেই নিঁখোজ হয়ে গেছে । এদের আর সময়জ্ঞান হলো না। শেষ পর্যন্ত মা ছেলে কে ডাকতে আমার ই যেতে হবে।
-" তোমাদের প্রোবলেম টা কি বল? ছেলে কে ডাকতে এসে নিজেই নিঁখোজ হয়ে গেলে? আজকে তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে হবে আর তোমরা মা- ছেলে গল্প শুরু করলা।"
-" আব্বু ঠিক বলছো আম্মু এসে গল্প জুড়ে দিছে। সেই কখন থেকে বলছি ,"তুমি যাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি " তা আম্মু আমার কথা শুনল ই গল্প করে ই যাচ্ছে ।"
-" আমি গল্প শুরু করছি? আমি তো তোকে সেই কখন থেকে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেতে বলছি তুই তো বিছানা গুছাচ্ছিস। দেখলা তোমার ছেলে হুদাই আমার দোষ দিল?"
-" আমি কি বলল? যেমন মা তেমন ছেলে।"
-" বাবা আর ছেলে মিলে ভালো ই আমার দোষ দিচ্ছিস। আর কখনো যদি তোর হয়ে সুপারিশ করছি... "
-" এই চুপ কর! চলো,ও ফ্রেশ হয়ে আসবে। তুমি এখানে থাকলে এখানে থাকলে মা-ছেলের ঝগড়া ছাড়া আর কিছু হবে না।"
প্রিতম মনে মনে ওর বাবা কে অসংখ্যা ধন্যবাদ দিল। বাবা ঠিক সময় এসে রক্ষা করছে। হাপ ছেড়ে বাচল!
কিন্তু এই মেয়ে টা কে নিয়ে কি করবে? এ কোন বিপদে পড়ল? ভাবলাম রাত পোহালে ই মেয়ে টা চলে যাবে কিন্তু এখন মেয়ে টা জ্বরে অসুস্থ হয়ে পরে আছে। প্রিতম দরজা লাগিয়ে খাটের নিচে তাকিয়ে দেখে মেয়ে টা এখনো সে ভাবে ই আছে। এখনও হুশ ফিরে নি?
মেয়ে টার তো হুশ ই নেই এখন কি করব আমি?
অফিসেও যেতে হবে। আর ডাক্তারের আছে কিভাবে নিব? বাসায়ও ডাক্তার আনা যাবে না। মেয়ে টা কে রুমে রেখে অফিসে যাব কিভাবে?
জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে ফ্লোরে আরও ঠান্ডা লাগবে। প্রিতম বেলকুনিতে একটা চাদর বিচিয়ে নিঝুম কে খাটের নিচ থেকে বের করল।
পাজা কোলে নিয়ে বেলকুনিতে চাদরের উপর শুইয়ে দিল। মেয়ে টার ওয়েট বেশী হলে 37-38 কেজি হবে। হাইট 5 ফিট হবে মনে হয়। মেয়ে টা কিসে পড়ে ? ঠিকানা কোথায় কিছুই জানা হল না?
এমনও হুশ ফিরছে না কেন? রুমে জ্বরের ওষুধ আছে,হুশ না ফিরলে কিভাবে খাওয়াবো? মেয়ে টার নাক- মুখ সব ফুলে গেছে কান্না করতে করতে। কোথায়ও যাওয়ার জায়গা নেই? এই অবস্থায় চলে যেতে বলা টা ঠিক হবে না। এত পিচ্ছি একটা মেয়ে কি সাহস! কোথায় যাবে, কি করবে, কিছু জানে না অথচ বাসা থেকে পালিয়ে আসছে।রাতে হয়ত খুব খারাপ ব্যবহার করে ফেলছি।
ডাইনিং রুম থেকে মায়ের ডাকের শব্দ পেয়ে তাড়াহুড়া করে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেতে গেল।
-" এই তোর তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হওয়া?"
-" তোমরা এখনও খাওয়া শুরু কর নি?"
-" তোকে রেখে কখনও খেয়েছি নাকি?"
-" আমি কি বলছি খেয়েছ আমায় রেখে?"
-" আম্মু আমি নাস্তা নিয়ে যাই রুমে বসে খাব। নাস্তা বেশী করে দিও।"
প্রিতমের মা অবাক হয়ে বলল,
-" নাস্তা রুমে বসে খাবি কেন? জোর করেও তো বেশী করে খাওয়ানো যায় না আর আজকে বেশী নাস্তা চাচ্ছিস?"
-" উফ আম্মু! অফিসের একটা ফাইল রেডি করতে হবে। কালকে রাতে রেডি করতে পারি নি। খেতে খেতে ফাইল টা রেডি করে ফেলব। কালকে অত রাতে খেতে ইচ্ছে করে নি তাই খাই নি শুধু একটা ডিম খেয়েছি। ক্ষুদা লাগছে খুব।"
প্রিতমের বাবা প্রিতম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
-" যা তুই ফাইল রেডি কর ,নাস্তা রুমে নিয়ে যা। তোর মা তো সব সময় দুই লাইন বেশী বুঝে ।"
.
.....♦চলবে♦.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now