বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুষ্টপরী ,মিষ্টিপরী আর মোহনকুমার
-জাবেদ ভূঁইয়া
চাঁদটা যখন খিলখিল করে হেসে উঠে
,আলোতে মেতে উঠে পৃথিবী। মাঝরাত্তিরের
কুয়াশার বুকে মাথাগুজে মুক্তোর মত ঘাসের ডগায়
ঝিলমিল করে জ্যোৎস্নারা।
চারদিকে নিঝুমতা যখন বেশ করে ঝেঁকে বসে।
ঠিক তখন, ঐযে ঐ মস্ত মাঠটা দেখছ তার সোজা
ডানে গেলে পাবে একটা মস্ত দীঘি।
পূর্ণিমার রাতে জ্যোৎস্না হেসে লুটোপুটি খায়
দিঘির জলে। তাই দিঘীর নামটাও চাঁদের দিঘি।
জ্যোৎস্নাদের সাথে খেলা করার জন্য প্রায়ই
দিঘির পাড়ে নেমে আসে একঝাক পরী। চাঁদের
আলোয় যেন পরীদের মেলা বসে দিঘির
পাড়ে।
রাত্রিভর জ্যোৎস্না গায়ে মেখে হৈ হুল্লোড়
করে পরীরা।
শেষরাত্রিরে যখন চাঁদটা ডুবো ডুবো হয়ে
সূর্যিমামাকে আমন্ত্রণ জানায় সেসময় দিঘির জলে
স্নান সেরে পরীরা আবার ফিরে যায় তাদের
রাজ্যে।
ভাবছ মিথ্যে বলছি! এইযে মাথায় হাত দিয়ে বলছি।
সেবার তো দিঘিতে স্নান করতে এসে
পরীদের ভারি একটা বিপদই হয়েছিল।
এসো আজ তোমাদের সেই গল্পই শুনাই।
পরীদের রাজ্য চিনত? ঐযে আকাশে রোজ
সাদা সাদা মেঘের ভেলা দেখ? হ্যাঁ ,পরীদের
রাজ্যে যেতে হলে তোমাকে চড়ে বসতে
হবে তার একটায়।
সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে প্রথমে সাতদিন সাঁতরাত
যেতে হবে সোজা উত্তরে। তারপর সেখান
থেকে তিনদিন দক্ষিণে গেলেই দেখতে
পাবে মস্ত একটা লাল রঙের পাহাড়। এর নাম 'হাকুম
হুতুম'। হাকুম হুতুম পাহাড়ের ওপাড়ই পরীদের
রাজ্য।
পাহাড়ের ডানদিকে দেখবে মস্ত রাজহাঁসের মত
দেখতে একটা প্রাসাদ। এটাই এখানকার রাজার
রাজপ্রাসাদ। পরীদের রাজার নামটা ভারি বিটকেলে।
তাই আর লিখলুম না। হাঁসের মত প্রাসাদের যে দুইটা
পাখা আছেনা ,ছড়িয়ে ?
ওই দুটোতে থাকে দুই পরী রাজকন্যা।
মিষ্টিপরী আর দুষ্টপরী।
নামের মতই মিষ্টিপরী ভারি মিষ্টি দেখতে। সে
খুব ভালও। কাওকে কটু কথা বলেনা। রাজ্যের সবাই
তাকে ভালবাসে।
সেসব বলছি কি , রোজ রোজ কাকডাকা ভোরে
উঠে মিষ্টিপরী ঘোটা রাজ্যে একবার না
বেড়ালে তো রাজ্যের কারোর ঘুমই ভাঙেনা ।
ভাঙবে কি করে , রাজ্যের যত পরী আছে
সবার ঘুমযে মিষ্টি পরীর কাছে।
আর দুষ্টপরী। তার তো ঘুম থেকে উঠতেই
ভরদুপুর! দেখতে যেমন কুৎসিত আর স্বভাবও
তেমন।
কারও সাথে ঠিকমত কথা বলেনা।
তার যত কথা সব ঐ হাকুম হুতুম পাহাড়ের দুষ্টু ডাইনিটার
সাথে।
সবাই দুষ্টপরীকে ভয়ে কিছু না বললেও আড়ালে
কেউই তাকে ভালবাসেনা।
সেবার মিষ্টিপরীর অমন সাধের ফুলবাগানটাই না
একবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল। বলে কিনা , অমন
বাজে গাছ কেউ লাগায় ..বিচ্ছিরি গন্ধে রাতে
ঠিকমত ঘুমোতেই পারিনা !
আহারে ! মিষ্টিপরীর অমন সাধের বাগানটা। ভারি
কষ্ট পেয়েছিল সেদিন।
চাঁদের আলোয় আলোকলতা
বিছনে পাতে জুই
এমন রাতে আলতা পায়ের
মিষ্টিপরী কই ?
মিষ্টিপরীর যে খুব কষ্ট। দুদিন ধরে কেবল
কাঁদছে আর কাঁদছে।
একান ওকান করে এ কথা গিয়ে পৌঁছল পরীরাজার
কানে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now