বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

#অবহেলার পরিনতি পর্ব: ৫

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ⏩المامون ⏩ (০ পয়েন্ট)

X _এলোমেলো ভাবে পা ফেলে বাসায় গেলাম ,আমার এমন বেগতিক অবস্থা দেখে সবাই দৌড়ে আসল । কাউকে কিছু বলতে পারি নাই,আমার বাকশক্তি হারিয়ে গেছে । শুধু ওর বলা শেষ কথাগুলো মস্তিষ্কে আঘাত করতেছে । রুমে ডুকে দরজা লক করে দিলাম........ . তারপর আর কিছু ডায়েরিতে লেখা ছিল না । নিঝুমের মাকে ডায়েরিটা ফেরত দিলাম এবং পরের ঘটনা জানতে চাইলাম ......... . ওর এভাবে হঠাৎ দরজা বন্ধ করে দেওয়াতে সবাই খুব ভয় পেয়ে গেলাম । অনেক ডাকাডাকির পর যখন দরজা খুলে নাই ,দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ডুকলাম । আমার মেয়েটা হাত কেটে ফেলছে ,পুরো বিছানা রক্তে ভিজে গেছে । জলদি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। হঠাৎ এমন কেন করলো তাই রোহিতের বাসায় গেলাম । পুরো ঘটনা জানার পর একদম থমকে গেলাম ,রোহিতের বাবা_মা অনেক কান্নাকাটি করছে । . ২দিন পর আমার সোনা মায়ের জ্ঞান ফিরল । এই ঘটনা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল ,আর এই নোংরা সমাজ সম্পূর্ন দোষ আমার মেয়েটার উপর দিতে লাগল । . আমার মেয়েটা হাসতে ভুলে গেছে ,কথাও বলত না । সারাদিন রুমের ভিতর পড়ে পড়ে কাঁদত । লোকলজ্জার ভয়ে বাহিরে বের হত না । . এভাবে ডিপ্রশনের মধ্যে থাকলে ,অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে । তাই সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে শুরু করলাম ওনারা বললেন,,,, ""_আমাদের জীবন থেকে ভালোবাসার মানুষগুলোর প্রত্যাখ্যান আমাদের হৃদপিন্ডের গতিকে কমিয়ে দেয় এবং আমাদের মস্তিষ্কের কিছু স্থানে আঘাত করে । এসময় সম্পর্কের বাজে দিকগুলো মাথায় না এসে , প্রাধান্য পায় সুখের সময়গুলো । ফিরে যেতে ইচ্ছা করে আগের সময়টাতে , পেতে ইচ্ছা করে আগের যত্ন কিংবা ভালোবাসা । এই সমস্যা থেকে মারাত্মক ডিপ্রশনে চলে যায় আর দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ।একসময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে । তাই যতটা সম্ভব ,এদেরকে আনন্দঘন পরিবেশে রাখতে হবে । সবার মাঝে রাখতে হবে । কখনো একা থাকতে দেওয়া যাবে না ,যাতে এগুলো নিয়ে ভাবার সময়ই না পায় । . কিন্তুু আমার মেয়েটা খুবই জেদি । এই ঘটনার পর থেকে কখনো কারো সামনেই যেত না ,খুব চেষ্টা করেছি কিন্তুু ওরে আমাদের দিকে মনোযোগ দেওয়াতে পারিনি । . ধীরে ধীরে ওর আচারনগুলো অস্বাভাবিক মনে হত ,আস্তে আস্তে ও অনেককেই চিনতে পারত না । . মেয়ের এই অবস্থা ওর বাবা কিছুতেই মানতে পারে নি, Heart Attack করে । তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয় নি । . ওর বাবা মারা যাওয়ার পর । শুধু পারা_প্রতিবেশীরাই না , আমার আপনজনরাও আমার মেয়েটাকে অপয়ার সীল লাগিয়ে দিছে । . যে মানুষটাকে সবসময় সাপোর্ট দিয়েছে সেও নেই ,আমার মেয়েটা পুরোপুরি ভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে । . আমি আমার স্বামী সংসার সন্তান হারিয়ে আজ নিংস্ব । যার জন্য আজ আমি নিংস্ব , আল্লাহ তাকেও নিংস্ব বানাইয়া দিবে । (একদম অস্থির হয়ে গেছে) . __ আল্লাহ কখন কার কি #পরিনতি করে বোঝার ক্ষমতা আমাদের নেই । আন্টি আপনি এভাবে ভেঙ্গে পড়লে,নিঝুমকে কে সামলাবে । . (খুব খারাপ লাগতেছে ,একটা মানুষ কতটা জগন্য হলে এধরনের কাজ করতে পারে) . __আমার মেয়েটাকে আবার আমার বুকে ফিরে পাব তো বাবা ? . __আন্টি আমি best ট্রাই করব ,বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা । . __আল্লাহ যেন তোমাকে সফল করে বাবা . __ এ ধরনের রোগিদের জন্য চিকিৎসা ২ধরনের ,, ১.মেডিসিন ২. সিভিক জীবন (সিভিক জীবন হল ,যেখানে আপনার সমস্যা সেটা বারবার মনে করানো । আপনি যেটা করতে ভয় পাবেন ,ওইটাই করতে হবে । যাতে ভয়টা কেটে যায় ।) খুব তারাতারি এই সমস্যাটা দূর করতে ২টাই প্রয়োগ করতে হবে । রোহিতের কোন খোঁজ আপনাদের কাছে আছে . __নাহ...তবে শুনছি ওই মেয়েটাকে বিয়ে করে আমেরিকা চলে গেছে . __ওহ ওকে নো প্রবলেম । . আজ আর অরন্যর চোখে ঘুম নেই ,শুধু নিঝুমের ভাবনাগুলো ওরে নাড়া দিচ্ছে । কিছুতেই ভাবনাগুলো মাথা থেকে সরাতে পারতেছেনা ।__উফফ আমি কেন ওরে নিয়ে এত ভাবতেছি ,কেন এভাবে আমার বুকের ভিতরে ব্যাথা অনুভব হচ্ছে । চোখ বুঝলেই ওর দুষ্টমি ,বাচ্চাদের মত খিলখিলিয়ে হাসতে থাকা ,এক দৃষ্টিতে চেয়ে গান গাওয়া ,আমার বুকে মাথা রেখে কাঁন্না করা ,ওর এটো আইসক্রীম খাইয়ে দেয়া । কিছুতেই ঘুম আসতেছে না ।ইয়া মাবুদ ,আমি যেন সর্বোচ্চ ট্রাই করতে পারি । তুমি সহায় থেকো । . সকালে অরন্য হাসপাতালে গিয়ে সোজা নিঝুমের রুমের কাছে গিয়ে থমকে গেল,, নীল একটা 3পিছ পড়ছে । চুলগুলো গুলো বাতাসে উঁড়তেছে ।২চোখ দিয়ে অঝরে জল পড়তেছে,হাত জোর করে কি যেন বলতেছে । অরন্য শোনার চেষ্টা করতেছে,,, __তুমি এতটা পাষান হইও না গো । এই কত না স্বপ্ন দেখছি ২জন ,আমার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দিও না ।এই সমাজ যখন আমার দিকে আঙ্গুল তুলবে ,তখন কি জবাব দিব । তোমার স্পর্শ প্রতিটা মুহুর্তে আমাকে পাগল করে দেয় ,আমি কিভাবে নিজেকে সামলাবো । আমার বাবা-মা মরে যাবে । আমাকে ভালোবাসতে হবে না ,তোমার বউ হওয়ার সুযোগটুকু দাও । আমার খুব কষ্ট হয় প্রতিটা মূহুর্ত আমার বুকের ভিতরটা পুঁড়ে যাচ্ছে গো । ছেড়েই যখন যাবে কেন আসলে আমার জীবনে । হাতছানি দিয়ে ডেকে দূরে চলে গেলে ,কোন যনমের তুমি প্রতিশোধ নিলে । মেঝেতে গড়াগড়ি খেয়ে কাঁদতেছে আর বিলাপ করতেছে । . অরন্য গিয়ে ওর মাথার কাছে বসে পড়ল,,, মাথায় হাত বুলাতে লাগল আর নিঝুমকে ডাকতে লাগল । কিন্তু নিঝুম ঘুমিয়ে পড়েছে । অরন্য কোলে করে নিয়ে বেডে সুইয়ে দিয়ে আসতে নিলে,, নিঝুম হাত ধরে টান মারে ,হঠাৎ তাল সামলাতে না পেরে নিঝুমের উপরে পড়ে যায় । নিঝুম খুব শক্তভাবে অরন্যকে জড়িয়ে ধরে (মনে হচ্ছে ছেড়ে দিলে আর পাবে না) । . __আমাকে নিংস্ব করে যেওনা । আমার বড্ড কষ্ট হয় । (অরন্য বুজতে পারল,নিঝুম অচেতন অবস্থায় এমন বকতেছে ) । . এই অবস্থায় কি করা উচিত বুঝতে পারতেছে না ,তবুও খুব যত্ন করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল ... . (অরন্যর কি নিঝুমের প্রতি ভালোবাসা নাকি করুনা । করুনাই বলা চলে । মেয়েটার এত্ত বুক ভাঙ্গা আর্তনাথ , ওর বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা সেই ছুরির মত দাড়ালো কান্নাগুলো হয়ত অরন্যর হৃদয় ছুঁতে পেরেছে । ওর মায়ের সব হারিয়ে নিংস্ব হয়ে যাওয়া বিলাপগুলো হয়ত বিবেককে নাড়া দিয়েছে । সেখান থেকেই করুনা কিংবা দয়া জন্ম হয়েছে)..... .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ #অবহেলার পরিনতি পর্ব: ৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now