বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাংলায় একটি প্রবাদবাক্য আছে, ‘এক মাঘে শীত যায় না।’ এখানে শীতকে বিপদের অনুষঙ্গ হিসেবে বোঝানো হয়েছে। অতিরিক্ত শীত সব মহলকেই কাঁপিয়ে ছাড়ে। কথায় আছে, ‘মাঘের শীতে বাঘে পালায়।’ এখন মাঘ মাস না হলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় পুরো দেশ কাবু হয়ে আছে।
বিশ্বব্যাপী ঋতুর এই পরিবর্তন মহান আল্লাহই করেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে দুটি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন—একটি শীতকালে, আরেকটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দুটি হলো, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ড উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভব করো, তা-ই। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৭)
তাই বলে শীতকে শুধু নিজেদের ওপর শাস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এই শীতেই মহান আল্লাহ রহমত ও বরকত অবতীর্ণ করেন। খেজুরের রস, পাটালি গুড়, কোঁচাভর্তি মুড়ি-মুড়কি, পিঠা-পায়েস নিয়ে আমাদের জীবনে শীতকাল হাজির হয়।
উপহার হিসেবে নিয়ে আসে শীতের টাটকা সবজি। এই সময় বেশি পাওয়া যায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, মুলা, গাজর, শালগম, শিম, টমেটো, পেঁয়াজপাতা (পেঁয়াজের হাই), মটরশুঁটি, লালশাক, পালংশাক ইত্যাদি। এসব শাকসবজি জমিনে ফলানোর জন্য উর্বর ভূমির প্রয়োজন। মহান আল্লাহ আমাদের জমিকে প্রয়োজনীয় ফসল প্রদানের জন্য প্রস্তুত করেন অনেক আগ থেকেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা নিরাশ হয়ে পড়লে তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। আর তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসিত।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৮)
এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, মহান আল্লাহ বৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের ভূমিগুলোকে উর্বর করে তোলেন। ফলে তা থেকে আমরা ব্যাপক হারে টাটকা শাকসবজি লাভ করতে পারি। এর চূড়ান্ত ফলাফল আমরা পেয়ে থাকি শীতকালে।
শীত এলে আমরা রংবেরঙের পোশাক পরে ঘুরে বেড়াই। কুয়াশা ঢাকা শীতের সকালে গরম চাদর জড়িয়ে মহান আল্লাহকে সিজদা করতে মসজিদে যাই। এই শীতের পোশাকগুলোও মহান আল্লাহর নিয়ামত। শীত এলে আমরা যেই অভিজাত শীতের পোশাকগুলো ব্যবহার করি, তার বেশির ভাগ আসে বিভিন্ন চতুষ্পদ জন্তুর চামড়া থেকে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর চতুষ্পদ জন্তুগুলো তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে উষ্ণতার উপকরণ ও বিবিধ উপকার। আর তা থেকে তোমরা আহার গ্রহণ করো।’ (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৫)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের পশম, তাদের লোম ও তাদের চুল দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গৃহসামগ্রী ও ভোগ-উপকরণ (তৈরি করেছেন)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮০)
শীতকালে মুমিনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো—
অজু-নামাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব
শীতকালে অজু করা ও নামাজের জন্য বের হওয়া কিছুটা কষ্টকর। কিন্তু যারা এই কষ্ট সাদরে গ্রহণ করতে পারবে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর বিশেষ উপহার। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কাজ জানাব না, যা করলে আল্লাহ (বান্দার) পাপরাশি দূর করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?’ লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলুন। তিনি বলেন, ‘অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে অজু করা, মসজিদে আসার জন্য বেশি পদচারণ করা এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের জন্য প্রতীক্ষা করা; আর এ কাজগুলোই হলো সীমান্ত প্রহরা।’ (মুসিলম, হাদিস : ৪৭৫)
রাতে অধিক নামাজের সুযোগ
শীতকালে রাত বড় হয়। ফলে সে সময় কিয়ামুল লাইলের বেশি সুযোগ পাওয়া যায়। যেসব মুত্তাকি আল্লাহর প্রেমে রাতকে উৎসর্গ করে, রাতের বেশির ভাগ অংশ আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে যাপন করে, তাদের মহান আল্লাহ জান্নাত উপহার দেবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতসমূহে ও ঝরনাধারায়, তাদের রব তাদের যা দেবেন তা তারা খুশিতে গ্রহণকারী হবে। এর আগে এরাই ছিল সৎকর্মশীল। রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাত।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৫-১৭)
শীতকালে রোজা
শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখা খুবই সহজ। তাই যাঁদের কাজা রোজা রয়েছে, তাঁরা তাঁদের কাজা রোজাগুলো খুব সহজেই আদায় করে নিতে পারেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘শীতকালের সিয়াম হলো অনায়াশলব্ধ গনিমতের সম্পদের মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৯৫)
এ ছাড়া যাঁরা নফল রোজার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চান তাঁরাও এই বিশাল সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
সুরা ও দোয়া মুখস্থ করার সুযোগ
খতিব বাগদাদি (রহ.) বলেন, শীতকালের রাত অনেক লম্বা হয়। আর রাত যেকোনো কিছু মুখস্থ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই তোমরা শীত এলে বেশি বেশি ইলম অন্বেষণে সময় ব্যয় করো।
শীতকাল এলে উবায়েদ ইবনে উমায়ের (রহ.) বলতেন, হে কোরআনের পাখিরা! রাতকে লম্বা করা হয়েছে তোমাদের তিলাওয়াতের জন্য। সুতরাং বেশি বেশি তিলাওয়াত করো। আর দিনকে ছোট করা হয়েছে রোজা রাখার জন্য। তাই তোমরা রোজা রাখো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now