বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভেসে আসা মেঘ-৪

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #ভেসে_আসা_মেঘ♥ #ইমরান খান# #পর্ব_৪ , >>>♥>>> অধরার আজ অনেক ব্যথা উঠেছে। সেজন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। হয়তো তাদের প্রথম সন্তান আজ পৃথিবীতে আসবে। , একটু পর অধরার কেবিন থেকে ডাক্তার কে বের হতে দেখে রকি ছুটে তার কাছে গিয়ে বলতে লাগলো, ডাক্তার আমার স্ত্রী আর সন্তানের কি অবস্থা? তারা ভাল আছে তো? ডাক্তার একটু মৃদু হেসে বললো, চিন্তার কিছু নেই আপনার স্ত্রী আর সন্তান দুজনই ভাল আছে। আপনার স্ত্রী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। আপনারা চাইলে এখনই দেখা করতে পারেন। - ধন্যবাদ ডাক্তার আপনাকে। - আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া কিছুই নেই, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি শুধু। ধন্যবাদ দিতে চাইলে আল্লাহ কে দেন। (কথাটা বলেই ডাক্তার চলে গেল) রকির বাবা বলতে লাগলো, তুই গিয়ে আগে বৌমার সাথে দেখা কর। আমরা পরে যাচ্ছি। - আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।( কথাটা বলেই রকি অধরার কেবিনে চলে যায়।) , অধরা আর রকি আজ অনেক খুশি। তাদের ভালবাসার ফল সরূপ এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। রকির খুশি আজ দেখে কে। বুক ফুলিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে যে, আমি বাবা হয়েছি। বাবা হওয়া টা অনেক সম্মানের এবং দায়িত্বের। , অধরা বলতে লাগলো, ধন্যবাদ আপনাকে। ধন্যবাদ আমাকে এত সুন্দর ফুটফুটে একটা কন্যা সন্তান উপহার দেওয়ার জন্য। আমি আজ অনেক খুশি, আমার কাছে মনে হচ্ছে পৃথিবীতে আমার মত সুখি মানুষ আর একটাও নেই। আল্লাহর কাছে আমি আমার মেয়ের জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। রকি একটু হাসি দিয়ে বলতে লাগলো, আমার একার পক্ষে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব হত নাকি যদি তুমি না থাকতে? (ফাজলামি করে কথাটা বললো রকি) -ধ্যাত আপনি এখানেও রোমান্টিক দেখাচ্ছেন? পাশে মেয়ে শুয়ে আছে দেখতে পাচ্ছেন না? লজ্জার মাথা খেয়ে ফেলেছেন নাকি? -আরে বাবা! ভয় নেই মেয়ে এখনো কিছু বুঝতে শেখেনি। - বুঝতে পারে না বলেই কি বলতে হবে নাকি? লজ্জার মাথা খেয়ে ফেলা ভাল না। এখন থেকে মেয়ের যত্ন নেবেন বুঝলেন। - এখন তো দেখছি আমার কাজ অনেক টাই বেড়ে গেল। আগে অফিসের কাজ করতাম এখন বাসার কাজও করতে হবে আর কি। -আপনি খুশি তো? - এটা কেমন প্রশ্ন হলো অধরা? খুশি না হয়ে আর কি হব? তুমি জানো কন্যা সন্তানের বাবা হওয়া কতটা সম্মানের? আমি সত্যি আজ অনেক খুশি। জীবনে এত খুশি প্রথম বার হলাম। -এমনিতেই প্রশ্ন টা করলাম আর কি। আমিও আজ অনেক খুশি । , , প্রায় ৫ মাস পর...... রাতের বেলায় অধরা তার মেয়েকে কোলে নিয়ে ছাদে দোলনার উপর বসে আছে আর রকি পিছন থেকে দোলনা ধাক্কা দিচ্ছে৷ অধরা তাদের মেয়ের নাম রেখেছে আদিবা। এই নাম টা আবিরের খুব পছন্দ ছিল, সেই সাথে অধরারও। আবির কে ঘৃণা করলেও কেন জানি তার সেই রেখে যাওয়া নামটা ভাল লাগে অধরার। সেজন্য তার মেয়ের নাম আদিবা রাখে। , ৩বছর আগে একদিন বিকেলে হাটতে হাটতে আবির বলে ওঠে, আচ্ছা অধরা আমাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মেয়ের নাম রাখবো আদিবা কেমন হয়? অধরা হাসতে হাসতে বলেছিল, আগে বিয়ে তো হোক তারপর না হয় ভাবা যাবে। তাছাড়া বিয়ের পর যে, মেয়েই হবে এতটা শিওর কিভাবে দেবে। ছেলেও তো হতে পারে। -তার মানে তুমি কি বলতে চাইছো যে, আমাদের বিয়ে কখনো হবে না? (রাগ দেখিয়ে কথাটা বলে আবির) - আরে বাবা!! আমি সেটা বলিনি। আগে ততদিন বেঁচে থাকি। বেঁচে থাকলে বিয়ে অবশ্যই হবে। তাছারা বিয়ের পর মেয়ে হবে তুমি কিভাবে জানো? -বিয়ে হলে অবশ্যই আমাদের প্রথম সন্তান মেয়ে হবে। - এতটা নিশ্চিত কিভাবে হচ্ছো? -জানি না, তবে আমার মন বলছে আমাদের প্রথম সন্তান মেয়েই হবে। আর তার নাম রাখবো আদিবা। -আচ্ছা ঠিক আছে...... , আবিরের সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো মনে করছিল অধরা, কিন্তু কখন থেকে রকি তাকে ডেকে যাচ্ছে খেয়াল করেনি। -অধরা শুনতে পাচ্ছো কি? দোলনার দোল খেয়ে চোখ খুলেই ঘুমিয়ে পড়েছ নাকি? অধরা একটু ঘার নাড়িয়ে বলতে লাগলো, নাহ আসলে ঘুম ঘুম পাচ্ছিল। - ওহহ আচ্ছা তাহলে চল রুমে যাই। - রুমে আর একটু পরে যাই না? আপনি আমার পাশে এসে বসুন, আপনার কাধে মাথা রেখে একটু ঘুমাই। - তোমার মেয়ে তোমার কোলে ভেবে দেখেছ? মেয়ের সামনে একটু বেশিই রোমান্টিক হয়ে যাচ্ছো না?(একটা হাসি দিয়ে) - ও এখন ঘুমিয়ে আছে, কিছু দেখবে না। আপনি বসলে বসুন নইলে চলুন রুমে যাই।। - আরে রেগে যাচ্ছো কেন? বসছি। (দোলনায় অধরার এক পাশে বসে পড়ে রকি।) , রকির কাধের উপর মাথা রেখে একটু শান্তিতে চোখ বুঝে রইলো অধরা। কাধে মাথা রেখে বসে থাকতে ওর বেশ ভালই লাগছিল। - একটা গান বলুন না, এখন একটা গান শুনলে ভালই লাগবে। -আমি গান পারিনা। তাছাড়া আমার কণ্ঠে গান শুনলে তুমি দোলনা থেকে নিচে পড়ে যাবে। - পড়বো না। আপনার কণ্ঠ যেমনই হোক না কেন আমার কাছে ভালই লাগবে। -আমার গান শুনে তোমার মেয়ের ঘুম ভেঙ্গে যাবে। তখন সে উঠে কান্না শুরু করে দেবে আর পরে আমায় দোষ দেবে। তার থেকে চল রুমে গিয়ে ঘুমাই। - হুম ঠিক বলেছেন মেয়ে ঘুম থেকে উঠে যাবে। কি আর করার চলুন রুমেই যাই। অন্য একদিন না হয় আপনার থেকে গান শোনা যাবে। - হুম, অন্য একদিনের জন্য আমি প্রস্তুত হই ততদিন। আর কণ্ঠ টাও জ্বালাই করে নেই৷ - আপনি একটু বেশিই কথা বলেন সবসময়। একটু কম কথা বলতে পারেন না? - কেন আবির কি কম কথা বলতো নাকি? আবিরের নাম টা তুলতে অধরার মুখটা কালো হয়ে যায়। দোলনা থেকে রুমের দিমে হাটা ধরে সে। রকি বুঝতে পারে, আবিরের নামটা তোলা তার ঠিক হয়নি। অধরা এতে অনেকটা কষ্ট পেয়েছে। সেজন্যই দোলনা থেকে উঠে চলে গেছে। নাহ, অধরাকে গিয়ে এখনই সরি বলতে হবে। , রকি, অধরার পিছন পিছন রুনে চলে যায়। - সরি অধরা, তখন আমার ঐ নামটা তোলা ঠিক হয়নি। বুঝতে পারিনি তোমার এতটা খারাপ লাগবে। জানলে কখনো তুলতাম না। - হুম, এখন বুঝতে পারছেন এতেই অনেক। (আদিবাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে) - তো মন খারাপ কেন? একটু হাসো। হাসিতে তোমায় অনেক সুন্দর দেখায়? - কেন হাসি না দিলে বুঝি সুন্দর দেখায় না আমায়? - আরে আমি সেটা বলিনি। তোমার হাসি টা আমার কাছে অনেক ভাল লাগে। বলতে গেলে পৃথিবীতে সব চেয়ে মূল্যবান জিনিস আমার কাছে তোমার হাসি টা। - তার মানে কি বোঝাতে চাইছেন আমার হাসি ছাড়া আমার আর কিছুই আপনার ভাল লাগে না? এভাবে বলতে পারলেন আপনি। তার মানে আমার চোখ, নাক, হাত-পা কিছুই ভাল না। - আল্লাহ আমারে বাঁচাও, এই মাইয়ারে আমি কি করি? এতো আমায় পাগল বানায় ফেলবে। - কি বলতে চাইছেন আমি পাগলী? যান, আপনার সাথে কথাই বলবো না। , রকি কিছু না ভেবে অধরাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে কিস করে দেয়। যার ফলে অধরা আর কোন কথা বলতে পারলো না। অধরা প্রথমে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও পরে সেটা আর করেনি। , , , চলবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now