বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দিদৃক্ষা -পার্ট-১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Hossain (০ পয়েন্ট)

X নতুন চাকরির আশায় ঢাকায় এসে ফেঁসে গেছি নতুন ফাদে। কোথাও ব্যাচেলর ভাড়া দেয়া হয়না। বাসা খুঁজতে খুঁজতে যখন গায়ের রঙ অর্ধেক পুরে ছাই তখন গ্রাম থেকে বাবার কল আসলো। ফোন রিসিভ করে সালাম দিলাম, - আসসালামু আলাইকুম আব্বা। - ওয়ালাইকুম আসসালাম। শোনো, তুমি যেই কানে মোবাইল ধরে আছো তার বিপরীত কানে একটা তুলা গুজো। - আব্বা, তুলা তো আশেপাশে নাই। তবে টিস্যু আছে পকেটে। - আচ্ছা ঠিকাছে, একটা কান টিস্যু দিয়ে বন্ধ করে রাখো। - জ্বি আব্বা বলেন। - তোমার এক আংকেলের সাথে আমার যোগাযোগ হইছে। তার নাম কাউছার আহমেদ। সে আমার ছোটবেলার বন্ধু। এখন মিরপুরেই থাকে। বিরাট ধনী মানুষ। তার ঠিকানাটা তোমারে মেসেজে পাঠায়া দিতেছি। তার কাছে গেলে সে অবশ্যই থাকার একটা ব্যাবস্থা করে দিবে। তার সামনে অতিরিক্ত ভদ্রতা দেখাবা। অতিরিক্ত ভদ্রতা দেখাতে গিয়ে যদি যন্ত্রমানবের মতো আচরণ করতে হয় তবে তাই করবা। আমার কথাগুলো এক কান দিয়ে ঢুকায়া অন্য কান দিয়ে বেড় করে দিও না বুঝলা? - না আব্বা বেড় হয়নি। সব কথা টিস্যুর জন্য আটকে আছে। টিস্যু সরালেই বের হয়ে যাবে। - মশকরা কইরো না। - ঠিকাছে আব্বা। আসসালামু আলাইকুম। বাবার পাঠানো ঠিকানা অনুযায়ী চলে গেলাম মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায়। বাসাটা খুঁজে পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হলনা। দুইতলা বিশিষ্ট মাঝারী সাইজের বাগান বাড়ি। বাড়ির সামনে পুরোনো আমলের ইস্পাতের তৈরি সদর দরজা। একটা বড় গাড়ি কোনমতে পাস করতে পারবে এমন। গেটে একটা দারোয়ান আছে বয়স্ক মতো। বাবার কথা মতো তাকে লম্বা করে একটা সালাম দিলাম। - আসসালামু আলাইকুম আংকেল। মসাই অজ্ঞাত ব্যক্তির সালাম পেয়ে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠলেন। তাকে গিয়ে ইতিবৃত্ত খুলে বললাম। সব কিছু শুনে আমাকে নিয়ে বাড়ির মধ্যে রওয়ানা হলেন। আরেকটু খাতির জমাতে প্রশ্ন করলাম, - আংকেল মনে হয় এখানে অনেক দিন যাবত আছেন তাই না? উনি একটু গাম্ভীর্য নিয়ে জবাব দিলেন, - হ্যা বাবা প্রায় ২০ বছর যাবত এখানে আছি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত দারোয়ানরা মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, অথবা কিছুক্ষন বসিয়ে রাখে তারপর মালিকের সঙ্গে দেখা করানোর ব্যাবস্থা করে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সে সব কিছুই ঘটল ব্যতিক্রম। এখনো বাড়ির কোনো সদস্য আমার চোখে পরেনি। দারোয়ান আংকেল হাত ধরে টেনে একেবারে ছাদে নিয়ে গেলেন। চিলেকোঠায় একটা পরিত্যক্ত ঘর দেখিয়ে দিয়ে বললেন, এটা আমাদের স্টোর রুম হিসেবে এতোদিন ছিলো, কিন্তু এখন থেকে তুমি এখানে থাকবে। ঘরটা যদি নোংরা থাকে তবে নিজ দায়িত্বে পরিস্কার করে নেবে। কারন এ বাড়িতে কাজের লোকের সংখ্যা খুবই কম। আর কোনো কিছুর দরকার হলে আমার নম্বরে কল করবে। আমার নম্বর নোট করে নাও। - আংকেল, বাবা আমাকে যার কাছে পাঠিয়েছেন জনাব কাউছার আহমেদ। উনার সঙ্গে একটু দেখা করা উচিৎ নয় কি? - ও বিষয় নিয়ে তোমাকে এত ভাবতে হবে না। তোমার থাকার জায়গার দরকার ছিলো, পেয়ে গেছো। আর ধরে নাও আমার সাথে দেখা হয়েছে মানে মালিকের সাথে দেখা হয়ে গেছে। - ঠিকাছে আংকেল, আসসালামু আলাইকুম। . এ বাড়ির ছাদটা যতখানি সুন্দর তার চেয়ে অধিক নোংরা চিলেকোঠার ঘরটা। দরজা খুলে যেন দম বন্ধ হয়ে এলো আমার। দুই পাশে বড় বড় দুটো জানালা। অথচ খোলার কোনো কায়দা নেই। জানালাগুলো খুলতে হলে আমাকে অনেক কিছু সরাতে হবে। একটা ভাঙ্গা খাট পরে আছে কিন্তু তার পাশী নেই। একটা টেবিল আছে যার তিনিটে পায়া। চেয়ারটা কোনরকম ঠিক আছে। একটা ফোমের বিছানা তিন ভাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে যার সাথে ধুলো ময়লার স্তুপ পরে আছে। ওটাই ঝেরে পরিস্কার করে ফ্লোরিং করলাম। পুরো ঘর ওয়াশিং পাউডার দিয়ে ভাল ভাবে ধুয়ে ফেললাম। এই সেই করতে করতে রাত হয়ে গেল। প্রায় সোয়া আটটার দিকে দারোয়ান আংকেল ফোন করলো। - কি খবর লেখক সাহেব? ঘর গোছানো হল? এবার আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। আমি ফেসবুকে সামান্য লেখালিখি করি, সেটা এই লোকের জানার কথা নয়। কপট হেসে জিজ্ঞেস করলাম, - আংকেল আমি বুঝতে পারিনি আপনার কথা। - আরে তুমি যে ফেসবুকে গল্প লিখো সেগুলো তো আমি রেগুলার পড়ি। আমার মেয়েও পড়ে। আমাদের ফ্যামিলির সবাই তোমার লেখার ভক্ত। - আংকেল আপনি কিন্তু সত্যিই আমাকে অবাক করে দিচ্ছেন। - আরো অবাক হবে, সময় হোক। আমি খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি। সময়মতো খেয়ে নিও। আর খবরদার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না। উনি কিন্তু ভীষণ বদরাগী মানুষ। আর ছাদে যদি স্ত্রী লিঙ্গের কেউ প্রবেশ করে সেক্ষেত্রে চিলেকোঠার দরজা জানালাগুলো বন্ধ করে দেবে। যাতে বাইরে থেকে ভেতরে কিছু দেখা না যায়। অথবা ভেতর থেকে বাইরে। - এমন করার কারনটা কি জানতে পারি আংকেল? - বাবা শোনো, বিপরীত লিঙ্গের কোনো অপরিচিত মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকা পাপ। আর তুমি দরজা বন্ধ করে থাকলে সেই পাপটা হবে না। আর তুমি যেহেতু পুরুষ, সেহেতু তোমাকেই দৃষ্টি সংযত রাখতে হবে। কেননা পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা নারীর আগে পুরুষের হিজাবের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই হিজাব কিন্তু মাথার হিজাব না বুঝেছো বাবা? সেই হিজাব হল চোখের হিজাব, মনের হিজাব। একটা মেয়ে ছাদে হাটাহাটি করতেই পারে। তুমি চিলেকোঠায় থাকো বলে পুরো ছাদটাই যে তোমার দখলে তা কিন্তু নয়। এই বাড়ির নিচতলা ভাড়া দেওয়া আছে। উপর তলায় থাকেন মালিক। মালিকের ঘরেও অবিবাহিত মেয়ে আছে। নিচতলাতেও অবিবাহিত মেয়েছেলে আছে। সুতরাং তাদের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হলে তোমাকে একটু স্যাক্রিফাইজ করতেই হবে বাবা। - জ্বি আংকেল, আপনি যা বলবেন তাই হবে। আমি বেশির ভাগ সময় ঘরের দরজা বন্ধ করেই থাকবো। . দারোয়ান আংকেল ফোন কেটে দিলেন। আর আমি ভাবতে লাগলাম, এমন দারোয়ান এই পৃথিবীতে আরেকটা পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। আর আমার ফেসবুক আইডি তার জানার কথা নয়। দারোয়ানরা কি ফেসবুক ব্যবহার করে? তার মেয়েরাও কি করে? কিন্তু কিভাবে সম্ভব। এসব ভাবতে ভাবতেই দরজার আড়ালে কেউ একজন থমকে দাঁড়ালো। মনে হচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের কেউ। আমি সাথে সাথে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। অমনি ওপাশ থেকে চিকনকন্ঠী একটা মেয়ে আঞ্চলিক সুরে বলল, - আরে আরে, দরজা লাগাইতেছেন ক্যান? আপনের জন্য কাউছার হুজুর খাউন পাঠাইছে। খায়া লন। সাথে সাথে দরজা খুলে দিলাম। মেয়েটি মুখ লুকিয়ে সিঁড়ির দিকে দৌর দিলো। . খুব ইচ্ছে হচ্ছিল এই কাউছার হুজুরকে একবার দেখবো। কিন্তু তার সঙ্গে আজ আর দেখা হলনা। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিছানায় পিঠ ছোঁয়ালাম। ফেসবুকে শেষ কবে গল্প লিখেছিলাম মনে নেই। আজ কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু তার আগে লিজা নামের কোনো একটা মেয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে সেটা দেখতে হবে। ছবিতে শুধু একটা পুতুলের ছবি দেওয়া। কিন্তু ঠিকানা দেওয়া আছে মিরপুর ১০ নম্বর। সেই সুবাদেই এক্সেপ্ট করলাম। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে লিজা নামের আইডি থেকে একটা মেসেজ আসলো, "খাওয়া দাওয়া শেষ হইলে থালাবাসন দরজার সামনে রাইখা দিয়েন। আমি সকালে নিয়া যামু। বুঝছেন?" . শেষে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে দিয়েছে কাজের মেয়েটা। এই যুগে সবাই কি ফেসবুক ব্যবহার করে? কাজের মেয়েরাও? কিন্তু এরা সবাই আমার আইডির খবর জানে কিভাবে? এই বাড়িতে আসার পর থেকে, নানান রহস্য যেন আমাকে গিলে খেতে চাইছে। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন আমার বাবা। তাই আর দেড়ি না করে বাবাকে কল দিলাম, - আসসালামু আলাইকুম আব্বা। - ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি খবর তোমার? বাসা খুঁজে পাইছো? - জ্বি আব্বা। কিন্তু আপনার বন্ধুর সঙ্গে তো আমার এখনো দেখা হয়নি। - সে হয়তো ব্যস্ত আছে। পরে দেখা করবে। আচ্ছা তুমি এসব নিয়ে টেনশন কইরো না। নিষ্ঠা এবং সততার সহিত চাকরি করো। - আব্বা আমার একটা প্রশ্ন ছিলো। - কি প্রশ্ন আবার? - হঠাৎ আপনার এই বন্ধুর খোঁজ কিভাবে পেলেন আপনি? - ওহ আচ্ছা, ওরাই কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামে বেড়াতে আসছিলো। আমার সাথেও দেখা করতে আসছিলো। তোমার কথা জানতে চাইলো। তোমাকে দেখতে চাইলো, কিন্তু তুমিতো ঢাকায় ব্যাচেলর বাসা খোঁজা নিয়ে ব্যস্ত। তখন আমি কাউছারকে তোমার সমস্যার কথাটা বললাম, তখন সে তার ঠিকানাটা আমারে দিলো। এবার বুঝছো? - জ্বি আব্বা। - এখন ঘুমাও অনেক রাত হইছে। . সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করেছি। কাউকে চোখে পরেনি। নাস্তা দরজার সামনে প্রস্তুত ছিলো। অফিসের জন্য বেড় হয়ে মেইন গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই আরেকটা বিষয় চোখে আটকে গেল। কাল যে আংকেল ডিউটিতে ছিলো সেই আংকেল আজ নেই। আজ তার বদলে রয়েছে অন্য একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। তার সামনে গিয়েও সালাম দিলাম, - আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আসসালাম। - ভাই গতকাল এক বয়স্ক আংকেল ডিউটিতে ছিলেন উনি কোথায়? দারোয়ান ভাইসাব ভ্রু কুঞ্চিত করে বললেন, - এই বাসায় আমি ছাড়া আর কোনো দারোয়ান নেই। আপনি আবার ডিউটিতে আংকেল কই পাইলেন? মাথা ঠিক আছে তো আপনার? . চলবে----.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now