বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জানি_দেখা_হবে
Imran khan
#Part_19
...
- বিয়েটা অনেক পরের কথা ভাবী। আগে ওকে রাজী করানোটাই ফ্যাক্ট।
যাইহোক, আগে ভিতরে চলো। দেখি ও কি করছে।
- হুম চলো।
তারা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। সম্ভবত ঘুমোচ্ছে। তাই ওকে আর ডিস্টার্ব না করে আকাশ আর সীমা চলে গেলো।
ওরা চলে যেতেই তাকালো তারা। ওদের আসার শব্দ পেয়েই ঘুমের ভান করে শুয়ে ছিলো ও। জানে, ওরা আসলে এখন সহজে যাবেনা। কিন্তু এখন কথা বলার একদমই মুড নেই ওর। তাই ঘুমের ভানে পরে ছিলো।
.
কয়েকটা দিন পার হলো।
তারা এখন সম্পুর্ন সুস্থ। সন্ধ্যার আকাশের দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছে তারা। ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে আছে। চোখের পলক পরছেনা। গুটি পায়ে আকাশ এগিয়ে এলো তার দিকে। তারার কোনো খেয়াল নেই সেদিকে। সে আগের মতোই দাড়িয়ে আছে। পিছন থেকে পিঠে হাত রাখলো আকাশ। চমকে গেলো তারা। ঘুরে দেখলো আকাশ দাড়িয়ে আছে পাশেই। শান্ত গলায় বললো..
- আপনি?
- হ্যাঁ, অফিস থেকে ফিরলাম মাত্র। এখানে কি করছো এই সন্ধ্যায়?
- আকাশ দেখছি। সন্ধ্যার আকাশটা খুব সুন্দর।
- তার সাথে কিন্তু আকাশের তারাগুলো ও অনেক সুন্দর।
তারা ভাবলেশহীন ভাবে বললো..
- হ্যাঁ, সুন্দর।
আকাশ কিছুক্ষন থেমে থাকলো। তারপর বললো..
- তোমাকে একটা কথা বলতাম
- বলুন.. আকাশ পানে তাকিয়েই উত্তর দিলো তারা।
আকাশ কিছুক্ষন অস্বস্তিতে থাকলো। কিভাবে বলবে কিছু বুঝতে পারছেনা। তারা বললো..
- কি যেনো বলবেন বলেছেন, বলছেন না কেন?
- আমি তোমাকে ভালোবাসি তারা। বিয়ে করতে চাই তোমাকে। মনে সাহস নিয়ে তারার দিকে না তাকিয়েই বললো আকাশ।
তারা মোটেও অবাক হলোনা। গভীর দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকালো ও। আকাশ যেনো তারার উত্তরের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছে। তারা একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো..
- জীবনটা বড়ই অদ্ভুত জানেন,,, কেউ ভালোবাসা চেয়েও পায়না, আর কেউ পেয়েও হারায়।
..
তারা চলে গেলো সেখান থেকে। আকাশ এখনো নিজের জায়গায় দাড়িয়ে আছে। তারার কথার মাথামন্ডু ও বুঝতে পারলোনা। ওর কথার জবাব তো দিলোই না, বরং একটা ধাধার মতো কথা বলে চলে গেলো।
রাতের খাবারের টেবিলে যখন সবাই খাচ্ছিলো তখন তারা বললো..
- এ বাসায় আমি আর থাকবোনা।
সকলে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো তারার দিকে। আকাশের মা বললো..
- কেন রে মা? কি হয়েছে এ বাসায়? তোর কোনো সমস্যা হচ্ছে এখানে?
- না আন্টি, তেমন কিছুই না।
- তাহলে এখানে থাকবে না কেন? পাশ থেকে সীমা বললো.।
- আপনাদের উপর আর কতো বোঝা হয়ে পরে থাকবো। অনেক তো হয়েছে। আর তাছাড়া এখন তো আমি সুস্থ। তাই নিজেই কিছু একটা করে নিজের ব্যবস্থা করবো।
- এমন ভাবে বলছিস কেন? আর নিজেকে বোঝাই বা ভাবছিস কেন? তোকে আমি আমার মেয়ের মতোই দেখি।
তারা হাসলো। বললো..
- আপনারা আমার জন্য যা করেছেন তা আমি জীবনেও ভুলতে পারবোনা আন্টি। এর জন্য আমি সারাজীবন আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। কিন্তু এইবার যে আমাকে যেতেই হবে।
.
আকাশ খাওয়া বন্ধ করে ভাতের প্লেটের দিকে তাকিয়ে ছিলো। তারার এই কথায় হাত ধুয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
মা আশ্চর্য হয়ে বললো..
- এর আবার কি হলো। এভাবে না খেয়ে চলে গেলো কেন?
কথা ঘুরাতে সীমা বললো..
- হয়তো পেট ভরে গেছে ওর। তাই চলে গেছে।
- পেট ভরে গেছে? কিন্তু ওতো কিছুই খেলোনা।
- হয়তো বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে।
মা আর কিছু বললোনা। নিজের কাজে মন দিলো। তারা ঠিক বুঝতে পারলো আকাশের না খেয়ে চলে যাবার কারণ।
..
রাতে শুতে যাবে তারা। তাই দরজাটা ভালো করে আটকে দেওয়ার জন্য দরজায় হাত দিতেই দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলো আকাশ। ঢুকেই দরজাটা লাগিয়ে দিলো ও। তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। আকাশ তারাকে কিছু না বলে ওকে পাশ কাটিয়ে খাটে গিয়ে বসলো। মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে বেশ রেগে আছে ও। তারা ওর রাগের কারণ বুঝার জন্য ওর মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকল। কিন্তু কিছুই বুঝলো না। তাই বললো.
- কি ব্যাপার? এতো রাতে আমার ঘরে? এভাবে তো কখনো আসেন না?
- আসিনা বলে কি, আসতে পারবোনা নাকি? আমার বাড়ি, আমার ঘর। আমি যখন খুশি আসবো, যখন খুশি যাবো। বেশ রেগে বললো আকাশ।
..
- আপনার বাসায় আপনি যা খুশি তা করতে পারেন, কিন্তু আমিতো যা খুশি তা করতে পারবোনা। তাহলে আপনিই বলে দেন, আমি কোথায় যাবো এখন? আপনি তো আমার খাট দখল করে বসে আছেন। আমার এখন ঘুমানোর প্রয়োজন।
আকাশ রেগে গিয়ে তাকালো তারার দিকে। আচমকাই তারাকে দুহাতে চেপে ধরে দেয়ালের সাথে নিয়ে ঠেকালো। তারা ঘাবড়ে গিয়ে বললো
- কি করছেন কি আপনি? ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন বলছি।
- কেন ছাড়বো? আমার বাসায় আমি যা ইচ্ছা তাই করবো। তোমার কথায় আমি ছাড়বো কেন?
- প্লিজ আমাকে ছাড়ুন। খুব লাগছে আমার।
আকাশ তারার চোখের দিকে তাকালো। চোখদুটো ওর ছলছল করছে। তাই ওকে ছেড়ে দিয়ে আবারও খাটে গিয়ে বসলো আকাশ। তারা কিছু বুঝতে পারছেনা আকাশ এমন কেন করছে। এ বাসায় আসার পর থেকে কখনো এমন করেন নি উনি। তবে আজ কেন এমন করছে। মুহুর্তেই যেনো আকাশের চোখদুটো পানিতে ভরে গেলো। করুন চোখে তারার দিকে তাকালো আকাশ। তারাকে খুব শান্ত গলায় বললো..
- এখানে বসোনা প্লিজ।
তারা বসলোনা। আগের জায়গাতেই দাড়িয়ে আছে। আকাশ আবারও রেগে গেলো। উঠে তারাকে দুহাতে বন্দি করে বললো..
- বসবে না তো? না বসলে না বসো। আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ফের যদি বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলেছোনা, খুন করে ফেলব আমি তোমাকে। তারা ওর বাহুডোরে থেকেই কপাল কুঁচকে আকাশের দিকে তাকালো। আকাশ আবারও বললো..
- ভালোবাসা কোনো ছেলেখেলা না বুঝলা? আমাকে ভালোবাসার জালে ফেলে তুমি এখন চলে যেতে চাইছো আমাকে ছেড়ে। এত্তো সহজ। আমি তোমাকে যেতে দিচ্ছিনা। আকাশের বুক থেকে তারা কখনো ঝরে পরেনি আর কোনোদিন পরবেওনা।
তারা অবাক হয়ে শুনছে আকাশের কথা। আকাশ বললো..
- কথা বলছোনা কেন হু? আরেকবার যাওয়ার নাম নাওনা খালি..
- কেউ যদি এসে আমাকে নিয়ে যায়?
- খুন করে দেওয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখবো ওকে হুহ। আকাশের কথায় তারা হাসবে কি কাদবে বুঝতে পারছেনা। তারা আবারও বললো..
- যদি আমি নিজেই চলে যাই, তাহলে?
- আগে তোমাকে মারবো তারপর আমি নিজে মরবো। তবুও তোমাকে যেতে দিবোনা কোথাও।
..
তারা নিরব হয়ে গেলো আকাশের কথায়। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে বোধ হয়। আকাশ অঝোরে কাঁদছে আর বলছে
- আমাকে ছেড়ে যেওনা প্লিজ। তোমাকে বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি আমি। মরেই যাবো তুমি চলে গেলে। তুমি যা বলবে তাই করবো আমি। দরকার হলে সারাক্ষণ তোমার থেকে দুরত্ব বজায় রাখবো। তোমাকে ভুলেও স্পর্শ করবোনা,, অধিকার খাটাবোনা কখনো তোমার উপর। তবুও তুমি যেওনা আমাকে ছেড়ে প্লিজ।
তারা অবাক হয়ে শুনছে আকাশের কথা। ওর করা পাগলামো গুলো তারার বুকে যেনো তীরের মতো বিধছে। কতোটা ভালোবাসলে এইরকম করা যায় সেটা ভাবতেও পারছেনা তারা।
..
- কতো করে বলেছি তুমি আমাকে আর কখনো ফোন করবেনা। কেন বিরক্ত করছো আমাকে বারবার?
নিজের কেবিনে বসে চিল্লিয়ে ফোনে কথাগুলো বলছিলো ধ্রুব। অনেক্ষণ এভাবে রাগারাগি করে কথা বলার পর ফোনটা নিজেই কেটে দিলো ধ্রুব। রেগে শরীরটা ফেটে যাচ্ছে ওর। কি পেয়েছে কি মেয়েটা? এতোকিছুর পর কোন সাহসে আমাকে আবারও ফোন দেয় ও? আবার কি মতলব এটেছে ওর মনে? এইসব কথা যতোই ভাবছে ততোই রাগে চোখদুটো লাল হয়ে যাচ্ছে ধ্রুবর। নাহ, আর না। অনেক হয়েছে। এবার এর একটা বিহিত করতেই হবে।
ধ্রুব আর বসে থাকলো না। ব্লেজার টা চেয়ারের মাথা থেকে নিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলো।
..
অনেক ফর্মালিটির কম্প্লিট করার পর ধ্রুব নিজে উপস্থিত থেকে পেপার্সগুলো পাঠিয়ে বাসায় এসেছে। বাসায় ঢুকেই দেখলো মা সোফায় বসে থেকে কি যেনো ভাবছে। সেদিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো ধ্রুব। মনের মধ্যে তার ঝর বয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই থামছেনা সে ঝর। অনেক্ষণ পর বাইরে এলো ধ্রুব। মা এখনো বসে আছে আগের জায়গায়। ধ্রুব মায়ের পাশে বসে বললো..
- কি ভাবছো মা?
মা কিছু বলছে না। আগের মতোই বসে আছে। ধ্রুব মাকে ধরে একটু নাড়া দিয়ে বললো.
- কি হলো মা? এতো কি ভাবছো?
নাড়া পেয়ে মা হুশ ফিরে পেলো। ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে বললো..
- কখন এলি তুই?
- অনেক্ষণ আগেই এসেছি। তোমার সামনে দিয়েই তো গেলাম।
- ওহ, খেয়াল করিনি। দরজা কে খোলে দিয়েছে?
- দরজাটা তো খোলাই ছিলো।
ধ্রুব কিছুক্ষন মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো মা যেনো কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত। তাই বললো..
- কিছু হয়েছে মা?
- ভাবছি, তোর বাবার কথা।
- কেন? বাবার কি হয়েছে?
- তোর বাবার কোন ক্লায়েন্টের সাথে নাকি দেখা করার কথা।
- তো? এতে হয়েছে কি
- ওদের মিটিং টা সিলেটে হবে। উনার বয়স হয়েছে। কিভাবে যে কি করবে।
- ওহ মা, এতো ভেবোনা তো। বাবার কিচ্ছু হবেনা। দরকার হলে বাবার সাথে আমিও যাবো।
- আচ্ছা।
- মিটিং কবে?
- আরো সপ্তাহ খানেক পর বোধহয়। আনমনা হয়ে বললো মা।
.
ধ্রুব ভালো করে খেয়াল করলো মা এখনো চিন্তিত। তাই আবার বললো..
- কি নিয়ে এতো ভাবছো মা?
- তুরিনের সাথে তোর কথা হয় বাবা?
মায়ের মুখে তুরিনের নাম শুনে অবাক হয় ধ্রুব। বললো..
- কেন মা? হটাৎ ওর কথা বলছো কেন?
- মেয়েটা আজ এসেছিলো বাবা। মুখটা একদম শুকিয়ে মলিন হয়ে গেছে।
ধ্রুব রেগে গেলো। বললো..
- ও এখানে এসেছিলো? এতো বড় সাহস ওর? ওকেতো আমি বলেই উঠতে যাবে তখনই মা ওর হাত ধরে ফেললো। বললো..
- এই রাতের বেলা ঝামেলা করবিনা। মেয়েটা এসেছিলো ঠিকই আবার চলেও গেছে।
- কেন এসেছিলো ও ? কি বলেছে?
....
To be Continued ......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now