বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ট্রেনে করে রওনা দিলাম আমার সেই পুরনো বাড়িতে। ট্রেন গিয়ে স্টেশন পৌছালো ঠিক রাত ১২ টার সময় আমি নেমে পড়লাম দেখলাম তেমন লোকজন নেই স্টেশনে।
এখান থেকে আমার বাড়িতে যেতে লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা আমি একটি অটোরিকশা চালক কে দেখে আমাদের বাড়ির রাস্তা দেখিয়ে বললাম প্রথমে যেতে চাইছিল না পরে রাজি হলো।
আমি এখানে আসার আগে আমার বাড়ির টেককেয়ার কে সেদিন আমি না আসা পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে থাকতে বলছিলাম।
আমার বাড়ি প্রায় আর ২ কি:মি: হবে তাহলে পৌঁছে যাবো ঠিক তখুনি অটোরিকশা মামা বলল আর যাবে না এই দিকে নাকি দিনের বেলা ও কেউ যায় না..কি সব আবল তাবল বকে চলে গেল। আমি ভাবলাম যে এই রাস্তা টুকু হেটেই যেতে হবে।
আমি হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলাম আমি একটু হাঁটার পর খেয়াল করলাম যে ২ দিকে ঘন জঙ্গল থেকে কি জানি একটা অস্পষ্ট শব্দ বের হচ্ছে , আমি তেমন কিছু মনে না করে একটু জোরে জোরে পা চালাতে লাগলাম , এখন একটু করে আন্দাজ করতে লাগলাম আমার ঠিক পিছনে ৬-৭ হাত দূরে কি জানি সাদা ছায়া আমার পিছু পিছু আসতেছে।
রাতে চাঁদের আলোয় আমি ভালো করে লক্ষ করলাম আসলে একটি মেয়ের ছায়া, ছায়াটি কাঁদতে কাঁদতে আমার পিছু পিছু আসতেছে।
আমি এই মুহূর্তে আর দাঁড়ালাম না জোরে জোরে পা চালিয়ে আমার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
অবশেষে আমার দাদুর বাড়িতে চলে আসলাম এসে বৃদ্ধ কেয়ারটেকার এর সঙ্গে দেখা হলো।
পরেরদিন সকালে আমি ঘটনাটি কেয়ারটেকার কে বললাম ও যা বলল তাতে আমার গায়ের লোমগুলো দাঁড়িয়ে গেলো।
ও বললো যে প্রায় তাদের সবার সঙ্গে এসব হয় আরো বললো যে এখানে অনেক ধরনের আওয়াজ শোনা যায় রাতে।
পরের দিন কেয়ারটেকার আমাকে সব কিছু বুঝে দিয়ে চলে গেল আর বললো রাতে বাহিরে না বেরোনো ভালো আর কোন অসুবিধা হলে আমাকে ফোন দিয়েন এই বলে বৃদ্ধ কেয়ারটেকার চলে গেল।
আর একটি বাবুর্চি ঠিক করে দিলো ও ৩ বেলা রান্না করে দিয়ে যাবে ব্যাস কমপ্লিট।
সবাই চলে যাওয়ার পর সকালে একটু বের হলাম ঘোরাঘুরি করতে এইদিকে জঙ্গল একটু বেশি।
কয়েক টা লোক আমাকে দেখতে পেয়ে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করল আমি কোন সরকারী লোক নাকি আমি বললাম না, লোকগুলো বলল তাদের এই জঙ্গলে নাকি প্রায় প্রতিদিনই এক একটা করে ছেলে মানুষের লাশ পাওয়া যায় এবং লাশগুলোর গাড় সহ সারা শরীরে খত আর নাকমুখ গুলো কে যেন কামড়ে উঠিয়ে ফেলেছে চোখ ২ টা ও।
আমি তেমন ভিতু ছিলাম না তেমন কিছু মনে ও করলাম না তাদের কথায়।
সেদিন এসব ঘোরাঘুরি শেষ করে সন্ধ্যার আগে বাড়িতে পৌঁছালাম
রাতে খেয়ে ঘুমাতে গেলাম আমার একটা অভ্যাস রুম চেঞ্জ হলে আমাকে ঘুমে ধরেনা
এপাশ ওপাশ করতে করতে এইদিকে রাত ১২ টা বেজে গেলো ভাবলাম একটু বেলকোনি থেকে ঘুরে আসলে ঘুমে ধরবে।
যেই ভাবা সেই কাজ চলে গেলাম বেলকোনিতে ওখানে কিছু সময় কাটিয়ে আবার এসে শুয়ে পড়লাম।
কখন জানি ঘুমে মগ্ন হয়ে গেছি হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ঘড়িতে দেখলাম ঠিক ১২:৩০ বাজে।
আমি বললাম কে দরজার ওপাশে থেকে একটি মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলো
"আমি নিহা"
আমি ভাবলাম এই শীতে এতো রাতে একটি মেয়ে কোথা থেকে আসলো.?
যাই হোক আমি ভাবলাম কেউ হয়তো বিপদে পড়ে আসতে পারে।
আমি দরজা খুলে বললাম কি সমস্যা ও বললো আগে ভিতরে ঢুকে তারপর বলি আমি আর না করতে পারলাম না।
বাহিরে মেয়েটি থাকতে আবছা আলোয় বুঝতে পারিনি যে মেয়েটি এতো সুন্দর যেমন সুন্দর রুপ তেমন মিষ্টি কথা।
আমি বললাম এতো রাতে এই জঙ্গলের পথে কোথায় যাচ্ছে।
মেয়েটি বলল একটি দূর্ঘটনা বশত শহর থেকে তার বাড়িতে আসতে হচ্ছে আর ৩-৪ মাইল দূরে নাকি তার বাড়ি এখন এই মুহূর্তে জঙ্গলের মধ্যে রাস্তা দিয়ে যেতে নাকি তার ভয় করতেছে, মেয়েটি বলল আজকের রাত যদি থাকতে দিতো তবে অনেক উপকার হতো।
আমি আবার সুন্দরের পূজারী ????
তার মতো এত্ত সুইট মেয়ের কথায় মন টা গলে গেল।
আমি বললাম ঠিক আছে কোন অসুবিধা নেই।
আমার একটা ব্যাড হাবিড মেয়ে দেখলেই খালি পায়ের দিকে নজর চলে যায় ????????????????
বড় গাউন জামা পা পর্যন্ত নেমে পড়ছে তাই তার পা গুলো কেমন দেখতে পেলাম না। So sad ????
আমি বললাম কিছু খাইছেন ও মাথা নত করে বলল না.... আমি বুঝলাম মেয়েটি লজ্জা পাইছে রাতে কিছু খাবার ছিলো তা দিলাম।
এরপর ঘুমানোর পালা তো আমি মেয়েটিকে তার রুম দেখিয়ে দিলাম।
মেয়েটি একা একা ভয় পাচ্ছে ও বললো আমি একা থাকতে পারি না বাড়িতে নাকি মা কে জরিয়ে ধরে ঘুমায়।
হায় আল্লাহ..একি বিপদের মধ্যে পড়লাম।
মনে মনে ইচ্ছে করছে বাড়ি থেকে বাহির করে দিই।
কি আর করার "হাকিম" তুমি এখন খাল কেটে কুমির নিয়ে আসছো ????
মেয়েটি বললো যে এক রুমে আপনি বেডে ঘুমান আর আমি সোফায় ঘুমায় ?
আমি তো পুরাই ঠাসকি ????????????????
এই মেয়ে কি চীজ গো...পট পট করে করে কথাও বলে আবার????????????
আমি একা থাকতে ভালোবাসি কেউ যদি আমার রুমে থাকে তো সারারাত ঘুম আসবে না।
আমি বললাম বললাম এইটা possible না।
মেয়েটি হঠাৎ করে কেঁদে ফেললো।
ইচ্ছা করলো একটা #থাপ্পড় দিয়ে বলি যে তোর বাপ এই বাড়ি বানিয়ে দিয়েছিল ????????
যাই হোক কি আর করার মেয়েটি কে বললাম আপনি বেডে ঘুমান আর আমি সোফায় ঘুমায় মেয়ে তো আমার কথা শুনে খুব খুশি এক কথায় রাজি হয়ে গেলো ????
আমি মনে মনে বললাম হায় আল্লাহ এই মেয়ে যেন কারো বউ হিসেবে দেই না.... জীবন জ্বালিয়ে তেজপাতা করে দিবে ????
যাই হোক কি আর করার এভাবেই ঘুমালাম।
.
রাত যখন ১:৩০ ঠিক তখুনি কিসের যেন শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, আমি লক্ষ করলাম আমার বেডে সেই মেয়েটি নেই, দরজা টা ও আধো খোলা অবস্থায় আছে এক পা দু পা করে বাহিরে বেরিয়ে দেখি রাস্তার ঠিক শেষের দিকের জঙ্গল থেকে আলো বাহির হয় আসতেছে, আবছা আবছা আলো। আমি বুকে সাহস নিয়ে এগুতে থাকলাম আলো থেকে ঠিক একটু দূরে দাঁড়ালাম।
.
আর আমি আবছা আলোয় দাঁড়িয়ে যা দেখলাম মোটেই সেই বিষয়ে আমি প্রস্তুত ছিলাম না।
যে মেয়েটি কে আমি থাকার জন্য জায়গা দিসলাম সেই মেয়েটি একটি ছেলে মানুষ কে কামড়ে কামড়ে খাচ্ছে।
মেয়েটির চেহারা এমন ছিলো যে তার পা গুলো উল্টো আকৃতির এবং দাঁত গুলো লম্বা লম্বা আর হাতের নখগুলো বড় বড় আর গালের মাংস গুলো মাড়ির সঙ্গে লেগে গেছে চোখগুলো ভিতরে বসা আর চোখগুলো থেকে আগুন বেরোচ্ছে।
সে মানুষের গলায় কামড় দিয়ে গলার রগ সব ছিঁড়ে ফেলল আর ২ হাত দিয়ে চোখগুলো উঠিয়ে খাচ্ছে।
.
আমি এই অবস্থা দেখে জ্ঞান হারালাম।
দুপুর ১২ টার দেখি আমি আমার বেডে মাথা প্রচন্ড ব্যথা করতেছে আশেপাশে মা বাবা ভাইয়া সবাই দাঁড়িয়ে আছে মা কাঁদতে কাঁদতে বলতেছে তোকে কতবার বলছি এখানে আসতে হবে না ।
.
পড়ে শুনলাম সকালে কাঠ কাটতে লোকেরা জঙ্গলে আসতে আমাকে বেহুঁশ অবস্থায় দেখতে পায় তার পর বাড়িতে নিয়ে আসে।
.
এরপর একটু সুস্থ অনুভব করলাম বিকেলে মা বাবা ভাইয়া মিলে শহরে রওনা দিলাম ।
.
.
সমাপ্ত ????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now