বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#মেঘের_ওপারে_রৌদ্দুর__
writter:imran khan
#পার্ট_৪র্থ__
.
কলেজে একা একা হাটছিলাম৷এখনও লাবনি আসেনি৷আর আজকে ও নিজেই বলেছিল আমি যেন আগে থেকেই কলেজে চলে যাই৷এখন কলেজে এসে একা একা কেমন যেন লাগছে৷নিজেকে নিজেই বলতে লাগলাম৷একসাথে আসলেই ভালো হত৷ঠিক তখনই পিছন থেকে ডাক দিলো৷একটু আগ্রহ নিয়েই পিছনে তাকালাম যদি লাবনি হয়৷কিন্তু পিছনে তাকিয়ে নিরাশ হয়ে গেলাম৷কারন লাবনি আসেনি৷ওটা লাবনির বান্ধবী আসছে৷আর আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকছে৷মনে মনে ভাবতাছি লাবনির কোনো খবর বলবে নাকি?.
নাকি লাবনি আজকে আসবেনা৷সেটাই বলবে??
আমি আস্তে আস্তে ওনার দিকে এগিয়ে গেলাম৷
সামনে গিয়েই সালাম দিলাম৷
সালাম দিয়েই জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম
.
--কেমন আছেন আপু?আর লাবনি এখনও আসেনি,ও কি কিছু বলতে বলছে নাকি?.
.
কথাটা জিজ্ঞাসা করতেই মেয়েটা কেমন ভ্রু কুচকালো৷আর আমার দিকে তাকিয়ে কেমন রেগে গেল৷
.
--আপু?আপনি কি রাগ করছেন?
আচ্ছা বলুন কি বলবেন?
.
--ওই ছোট লোকের বাচ্ছা?তোর তো দিন দিন সাহস বেড়েই চলছে৷.
.
কথাটা বলাতেই কেমন জানি লাগল৷আমার সাথে এমন ব্যবহার করছে কেন?
.
--আচ্ছা আপু?আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন?আমি কি কোনো ভুল করেছি?(শান্ত গলায়)
.
--ভুল মানে?তুই তো চালাকি করছিস?
আমার সহজ সরল বান্ধবীকে মিথ্যা বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফেলে,তার দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাচ্ছিস
.
--কি বলছেন এগুলা?(অনেকটাই অবাক হয়ে)
.
--ওহ!! বুঝতে পারছিস না আমি কি বলছি?তোদের মত ছোটলোকদের আমার খুব ভালো করেই জানা আছে৷তোরা বড়লোক কোনো মেয়ে দেখলেই মাথা ঠিক রাখতে পারিসনা৷টাকার লোভে নিজেকে স্মার্ট করে তুলে ধরিস,আর তারপর মেয়েটার সাথে আস্তে আস্তে সম্পর্কে জড়িয়ে তাদের টাকর ওপর নজর দিস
.
--চুওওপপপপ৷একদম চুপ করে থাকবেন৷কি ভাবছেন?আমি ওর সাথে ওর টাকার জন্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক করেছি?আর আমি কি ওর সাথে আগে কিছু করতে চাইছি?আর আপনারা বড়লোকরা কি ভাবেন?গরীবরা টাকার নেশায়,টাকার লোভে মগ্ন থাকে?
.
--তা নয়ত কি?
.
--ভুল ভাবছেন৷আমরা গরীবরা কখনই সেটা ভাবিনা৷আরে এগুলা তো আপনারা বড়লোকরা করেন
.
--চুপ ছোটলোকের বাচ্ছা৷তোর কি যোগ্যতা আছে ওর সাথে চলাচল করার?তোর জন্য লাবনি এখন আমাদের সাথে ঠিক মত কথা বলেনা৷সারাদিন তোকে নিয়েই থাকে৷কি জাদু করেছিস?বল বলছি
.
--আমি কোনো জাদু করিনি৷আর ওর টাকার প্রতিও আমার কোনো লোভ নেই৷
.
--ঠিক আছে,তাহলে আজকের পর যেন আর লাবনির সাথে তোকে না দেখি৷মনে রাখবি তুই ছোট লোক৷আহ ছোটলোক হয়ে চাঁদ ধরার স্বপ্ন দেখবি না৷
.
আমি আর কিছুই বলতে পারলাম না৷মাথাটা নিচু করেই সেখান থেকে চলে আসলাম৷ক্লাসে এসে বসে রইলাম৷কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিনা৷বার বারই মেয়েটার কথা মাথায় ভেসে আসছে৷
আসলেই তো আমি ছোটলোক৷তাহলে ওর সাথে কিভাবে আমি চলাফেরা করি?এত বড় বাড়ির মেয়ে লাবনি৷আর আমি কত গরীব৷থাকার মত কোনো জায়গাও নেই৷তাহলে কেন ওর সাথে বন্ধুত্ব করছি?সবাই তো বলবেই আমি টাকার জন্যই এমণ করছি৷
আমি যে গরীব,আমাকে যে বলার মত হাজারও দিক আছে৷
.
নাহ আর ভালো লাগছে না৷বাসায় চলে যাবো৷
ক্লাস থেকে বের বাসায় চলে যাচ্ছি৷রাস্তা দিয়ে আনমনে হাটছি আর বার বার শুধু নিজের অবস্থানের কথা মনে পড়ছে৷হাঠাৎই সামনে লাবনি এসে গেল৷
আমি কলেজের গেট থেকে বের হতেই লাবনি এসে হাজির৷এসেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷
একদম অপরাধীর মত দাড়িয়ে বলতে লাগল
.
--সরি আবিদ,আসলে বাসা থেকে বের হতে হতে দেড়ি হয়ে গেছে৷আর দেড়ি হবে না৷চলো ভিতরে যাই৷
.
কিছু বললাম না৷শুধু ওর মুখের দিকে একটু তাকালাম৷একটু তাকিয়েই হাটা শুরু করলাম৷
.
--এই আবিদ?চলে যাচ্ছো কেন?বলছি তো আর হবে না৷এই যে কান ধরছি৷আর হবেনা
.
ও আর কিছু বলতে পারল না৷তার আগেই আমি বাসার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করলাম৷
যাওয়ার আগে দেখেছিলাম মেয়েটা কতটা অসহায় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷কিন্তু আমার আর কিছু করার নেই৷
কয়েকবার পিছনে তাকিয়ে দেখতে ইচ্ছা করছিল ও কি করে?কিন্তু তাও তাকালাম না৷আজকে যে নিজের অবস্থানের কথাটা বার বার চোখের সামনে ভেসে আসছে৷
বাসায় আসলাম৷আসার পর খুব বেশি খারাপ লাগা শুরু করল৷
বার বার চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিলো৷গরীব হওয়াতে কি আমি খুব বেশি অন্যায় করে ফেলছি?গরীবদের কি এভাবেই অপমানিত হতে হবে?
.
অনেক প্রশ্নই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল৷এমন সময়ই পাশের রুম থেকে চাচির ঝাঝালো কন্ঠের আওয়াজ
.
--বাজার করে না আনলে গিলবে কি?গত মাসে যে বাজার করছো?এই মাসে এখনও তো বাজার করোনি৷তাহলে আমি কি এখন বাজার করে আনব নাকি?
ঘরের কাজ করতে করতেই আমি শেষ৷আর ওনি বাজার না করে গিলার জন্য উঠে পড়ে লাগছে(চাচি চাচাকে কথাগুলো বলছিল)
.
--দেখ,এমনিতেই শরীরটা ভালো নেই,আর কেমন জানি লাগছে,আজকে না গেলে হয়না?(চাচা)
.
--না গেলে গিলবে কি?আর ওই বাপ মা মরা পোলাডারও তো কোনো কাজ কাম নাই৷বাপ মা মইরা তো বেঁচে গেছে,আর আমার কপালে সব দুঃখ দিয়া গেছে
.
--দেখ,তুমি আবিদকে নীয়ে কথা বলছো কেন?ও কি করছে?
.
--কি করে নাই,ও নিজেও তো গিলে৷বাসার একটু কাজ কাম করতে পারেনা৷বাজার টা করে আনলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে
.
--দাও,আমিই বাজারে যাচ্ছি,তারপরও ওরে কিছু বইলো না৷
.
--ইসসস,কী আমর দরদ রে,একেবারে দরদ উতলাইয়া পরতাছে
.
পাশের রুম থেকে কথাগুলো শুনে চোখে কেমন বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে৷টপটপ করে পানি পড়ছে৷
চাচিও তো ঠিকি বলছে?মিথ্যা তো বলেনি৷বার বার আমি আসলেই একটা অকর্মা৷
হা হা হা হা
,
চোখের পানি গুলো কোনোমতে মুছে ভাবতেছি,বসেই তো আছি,অসুস্থ চাচাকে বাজারে না পাঠিয়ে আমি নিজেই যাই৷
.
চাচার রুমে গিয়ে বললাম৷
,
--চাচি,কি কি বাজার করতে হবে দেন,আমি বাজার করে এনে দিচ্ছি
.
--না তোর যাওয়া লাগবেনা৷,আর তুই কলেজে যাসনি?কখন আসলি?আর তোর যাওয়া লাগবে না৷তুই পড়তে বস(চাচা)
.
--না চাচা,পড়তে ভাল লাগছেনা৷তুমি দাও তো আমি যাচ্ছি৷চাচি বাজারের লিষ্ট টা দেন৷
.
--এই যে নাও, বাজারের লিষ্ট,আর শুনো সব গুলো বাজার করে আনবা৷আর বাজারের কোনো জিনিস যেন বাকি না থাকে৷আর আরেকটা কথা,কত কত দিয়ে কোন জিনিস আনছো লিখে রাখবা৷ভুলেও বেশি করে লিখে টাকা সরাবে না৷তাহলে খুব খারাপ হবে৷আমি কিন্তু জানি কোনটার দাম কত.(চাচি)
.
কথাটা শুনেই কেমন তীরের মত কথাটা বুকে লাগল৷বাজারের আগেই আমাকে চুরি না করার জন্য বলে দিচ্ছে৷আমি কি আসলেই একটা চোর নাকি?
হা হা হা
খুব হাসতে ইচ্ছা করছে৷শালার চোখ৷আমার চোখ হয়েও আমার কথা শুনেনা৷কেমন ভিজে যাচ্ছে৷
.
--আবিদ,তুই কান্না করছিস কেন?(একদম অসহায়ের মত চাচা)
.
--কই না তো চাচা৷চোখে কি যেন পড়ল৷
আচ্ছা আমি বাজারে যাচ্ছি৷
,
বলেই বাজারের টাকা আর লিষ্ট নিয়ে বাজারে গেলাম৷
যাওয়ার সময় বার বার চাচির কথাগুলো মনে পরতে লাগল৷
সবগুলো বাজারই করলাম৷লিষ্টের মধ্যে চাচি যে দাম লিখে দিছে৷তার থেকে ৫-১০টাকা কমেই সব কিছু কিনলাম৷৷ তাই অনেকটাই খুশি৷টাকা সেভ হইছে৷চাচি খুশি হবে৷হা হা হা৷মনে মনে একটু হাসি দিলাম৷এরপরই দেখলাম ২কেজি পেয়াজ কিনতে হবে৷হাতে আছে ৫০০টাকা৷আর লিষ্টের মধ্যে ২কেজি পেয়াজের দাম আছে ১২০টাকা৷মানে ৬০টাকা কেজি৷
পেয়াজ কেনার পরও অনেকগুলো টাকা থাকবে৷
কিন্তু পেয়াজের বাজারে যেতেই মাথায় আগুন লাগল৷
কারন পেয়াজের দাম ২৫০টাকা করে৷প্রথমে মনে করছি হয়ত দোকানদার মজা করছে৷কিন্তু পরে সব দোকান ঘুরে একই দাম দেখে ৫০০টাকা দিয়েই ২কেজি পেয়াজ কিনলাম৷
.
কারন চাচি বার বার বলেছিল,কোনো কিছু যেন বাদ না থাকে৷বাসায় বাজার নিয়ে যাচ্ছি হাতের সব টাকা শেষ৷তাই বাজার নিয়ে অনেকটা পথ হেটে হেটেই যাচ্ছি৷খুব কষ্ট হচ্ছিলো৷তাও হেটেই যাচ্ছি কারন হাতে টাকা নেই৷
কিন্তু বাসায় যেতে সব কীছুর হিসাব নেওয়া শুরু করল৷সব কিছুর হিসাব দিতে দিতে দেখলাম চাচি একটু খুশি৷কারন অনেক কিছুই একটূ একটু কমে কিনছি৷তারপর অনেকগুলা টাকা সেভ করায়৷চাচি আর হিসাব নিলো না৷হিসাব না নিয়েই বলল
.
--৮০টাকা রেখে দাও৷আর ৩০০টাকা ফেরত দাও
.
কথাটা শুনেই একটু অবাক হয়ে গেলাম৷কারন টাকা নেই বলে হেটে হেটে আসছি৷আর চাচি এগুলো কি বলছে?টাকা ফেরত দিবো মানে?
.
--চাচি আমার কাছে তো কোনো টাকা নেই
.
--টাকা নেই মানে?টাকা গেল কই?(রেগে গিয়ে)
.
--চাচি পেয়াজ ২কেজি ৫০০টাকা
.
---কিহহহহহহ?এত্ত বড় মিথ্যা,চুরি করার আর জায়গা পাসনা
.
--টাকা দে বলছি
.
--সত্যি বলছি চাচি(একদম অসহায়ের মত)
.
--চোরের বাচ্ছা চোর৷১২০টাকার জিনিস তুই ৫০০টাকা বানিয়ে দিলি?বাকি টাকা সরিয়েছিস?আমিতো এটা হতে দিবো না৷
টাকা দে বলছি৷নয়ত আজকে...
.
--সত্যি বলছি চাচি,নয়ত আপনি বাজারে গিয়ে যাচাই করুন ...
.
---ঠাসসসসস,আমারে কি তোর বাজারের মেয়ে মনে হয় যে আমি বাজারে যাবো,টাকা ফেরত দে বলছি,চোর কোথাকার............
.
থাপ্পরটা খেপ গালে হাত দিয়েই দাড়িয়ে আছি৷মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছেনা৷
জীবনের প্রথম বাজার করলাম৷আর সেদিনই চোর হয়ে গেলাম৷পাথরের মত স্তব্দ হয়ে গেলাম৷মাথায় যেন আকাশটা ভেঙ্গে পড়ল৷সব কিছুই কেমন অন্ধকার লাগতে শুরু করল৷মনে হচ্ছে রোদমাখা আকাশটা মেঘের আড়ালেই ঢেকে গেছে৷
মনে হচ্ছে মেঘের ওপারেই রৌদ্দুর হাসে৷তবে সেই রৌদ্দুরটা আমার জীবনে আর আসবেনা৷অন্ধকার করেই রাখবে আমায়...
.
.
চলবে....
.
.
বিঃদ্রঃভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন৷
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now