বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রহস্যময়_বই ৩
কিছুক্ষণের জন্য তৌহি চুপ করে গেলো। জিলাপির মতো প্যাঁচানো একটি ভাবনায় পড়ে গেলো সে।রুমি এসব কী বলছে। তার মানে কী তাদের সন্তানের উপর কোন বিপদ আসতে চলেছে। না এমন কিছু হবে কেনো। নিজেই উল্টাপাল্টা ভাবছে ভেবে নিজেকে শান্তনা দেয় তৌহি। কিন্তু তবুও তার মনের ভিতর একটি আশংকা থেকেই যায় তার সন্তানের উপর বিপদ আসবে কী না সেটা নিয়ে।
তৌহি রুমিকে কোন ভাবে শান্ত করে শুইয়ে দেয়। সে নিজেও শুয়ে পড়ে কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই।
"আমি স্পষ্ট দেখেছি লোকটা আমার সন্তান কে হাত দিচ্ছিলো "রুমির এই কথাটা বার বার তৌহির কে ধাঁদার মধ্যে ফেলে দেয়।
পরদিন অফিস থেকে ফিরার পর তৌহি দেখতে পায় রুমি বই পড়ছে। দেখে খুব খুশি হয়।
রুমিকে খাবার দেওয়ার কথা বলে না কারণ এই অবস্থায় তার পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন তাছাড়াও সে বই পড়ছে।খাওয়া শেষে তৌহি ও বই পড়তে শুরু করে।বই পড়া শেষে রুমি কি করে সেটা দেখার জন্য গিয়ে দেখে গতকালের সেই বইটি ই পড়ছে।এভাবেই বেশ কয়েকদিন কেটে গেলো।রুমির সব কিছুই তৌহির কাছে স্বাভাবিক ছিলো কিন্তু একটি জিনিষ খুব অবাক লাগে রুমি প্রতিদিন সেই একই বই পড়ে। কিন্তু সে বিষয় টাকে আমলে নেয় না।
আরো কিছুদিন এভাবেই কেটে যায়। হঠ্যাৎ একদিন রুমি অসুস্থ হয়ে যায়।রুমির অপারেশন হবে। যথাযথ ভাবে রুমির অপারেশন হয়ে যায়। তাদের একটি সন্তান হয়েছে। কন্যা সন্তান।তৌহি তার মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে আছে। রুমি তার মেয়েকে কোল নেওয়ার জন্য পাশ ফিরল। তখন তৌহির দেখলো যে সেই বইটি রুমির পাশে। সাথে সে বইটি হাতে নিয়ে।
-আরে রুমি তুমি এই বই এখানে আনলে কেনো?
-কই কোন বই!
-এই যে এই বই(বইটিকে দেখিয়া)
-না আমি তো আনি নি।
-তাহলে কে এনেছে।
রুমি কিছু বলে না তার মেয়েকে আদর করতে থাকে। দুইদিন পর রুমিকে হসপিটাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই কদিন তৌহি অফিসে যাবে না। অফিস থেকে সপ্তাহ খানেক এর জন্য ছুটি নিয়েছে। রুমির মা ও এসেছেন তাদের বাসায়।
একদিন সকালে মেয়ের কান্নায় ঘুম ভাঙে তৌহির। উঠে দেখে তার মেয়ে কান্না করছে। পাশেই রুমি বসে আছে। বই পড়ছে। তৌহির ভীষণ রাগ হলো।
-এই,রুমি!
-কী হয়েছে, এমন চেঁচাচ্ছ কেনো?(বিরক্তিকর ভাব নিয়ে)
-কীহ!আমি চেঁচাচ্ছি কেনো। আমাদের মেয়ে কান্না করছে তুমি দেখছো না।
-হ্যা দেখছি তো কী হয়েছে।
-কী হয়েছে মানে। তুমি তার কান্না থামাবা না।
-তুমি দেখছো না আমি বই পড়ছি।তুমি থামাও আমাকে ডিস্টার্ব করো না।
বলে রুমি উঠে অন্য রুমে চলে গেলো। রুমির এমন চেঞ্জ দেখে তৌহি রীতিমতো এক ধরনের শক খেলো। তাদের মেয়ে কান্না করছে অথচ রুমি বইয়ে ব্যস্ত।
কিছু খরচ আনার জন্য তৌহি বাহিরে যায়। এসে দেখে মেয়ে নানির কোলে শুয়ে আছে।
তৌহি তার শাশুড়ি কে জীজ্ঞেস করে,
-রুমি কোথায়?
-সে তো বই পড়ছে।
তৌহির খুব রাগ উঠে। সে গিয়ে খপ করে রুমির হাত থেকে বইটি কেড়ে নেয়।
-কী বেপার তুমি দেখি বই পড়ায় অনেক মুগ্ধ হয়ে গেলে।
-কেনো কী হয়েছে?
-কী হয়েছে আমাকে বলছো। এটা তো আমার বলা উচিৎ ছিলো তোমাকে। যে মেয়ে দুই ঘন্টার বেশি বই পড়তেই পারতো না সেই মেয়ে এখন সারাদিন বই পড়ে। তার মেয়ে কাদে কিন্তু সে পাশে বসে থেকে বই পড়ে। সমস্যা কী তোমার?
-আমার আবার কীসের সমস্যা। তুমি খামাখা আমাকে বই পড়ায় বাধা প্রদান করছো।
বলে রুমি বই হাতে নিতে যাবে অমনি রুমির হাত চেপে ধরলো তৌহি। নিচ থেকে বই হাতে নিয়ে,
-এই বই পড়তে কদিন লাগে। প্রতিদিন দেখি এই পড়ো।
-আমার ভালো লাগে পড়ি।
বইটিকে বিছানায় ছুড়ে মেরে
-তাই বলে মেয়ের দেখাশোনা বাদ দিয়ে দিবে।
-এর প্রতিদান তোমাকে দিতে হবে।
বলে রুমি রাগ করে চলে যায়।
কীসের প্রতিদান বুঝতে পারে না তৌহি।
তৌহি কি রুমি কে বেশি কিছু বলে ফেলেছে এসব ভাবছে ঠিক তখনি একটি শব্দ হয়।
গিয়ে দেখে রুমির হাত বেয়ে রক্ত পড়ছে।
সাথে সাথেই ফার্স্টএইড বক্স এনে রুমির হাত ব্যান্ডেজ করে দিতে দিতে,
-আমার উপর রাগ করে হাত কেটে দিলে?
-..!
অনেক ঘাড় ভাবে কেটে গেছে।
-কী দিয়ে কেটেছো হাত অনেক রক্ত পড়ছে।
-আমি হাত কাটিনি।
-তাহলে কি গায়েবি কেটে গেলো।
-হ্যা আমি বুঝতেই পারি নি।
-কী যা তা বলছো।
-না আমি সত্যি বলছি।
তৌহি বুঝতে পারে রুমি লুকানোর চেষ্টা করছে।সন্ধার সময় কারেন্ট চলে যায়। চার্জ লাইট গুলোতে ও আজ চার্জ নেই। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে তৌহি তার মেয়ের পাশে বসে আছে। তার শাশুড়ি ও পাশে এসে বসলেন। কিন্তু রুমি কোথায়।বেশ কয়েকবার ডাক দেয় রুমিকে কিন্তু সাড়া পায় না। তৌহি তার শাশুড়ি কে বলে,
-আপনি একটি বসুন। রুমি কোথায় আমি দেখে আসছি।
তোহি উঠে গিয়ে রুমি কোথায় খুঁজতে শুরু করে।ষ্টোর রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে কথাবার্তা শুনতে পায়। হ্যা রুমির কণ্ঠ কিন্তু অন্য কারো কণ্ঠ শুনা যাচ্ছে না। রুমি কার সাথে ঝগড়া করছে।
সে একটি কথাই বার বার বলছে,"না এটা সম্ভব নয়। আমি এটা পারবো না"
তৌহি কথাটির অর্থ বুঝতে পারে না।
সে রুমি রুমি বলে দরজার কড়া নাড়ে।এক মিনিট পর রুমি দরজা খুলে,
-কার সাথে কথা বলছিলে?
-কারো সাথে না।
-আমি শুনেছি তুমি কার সাথে ঝগড়া করছিলে!
- না না।
-আমি কি মিথ্যা বলছি।
-না,তুমি হয়তো ভুল শুনেছো।
-কে ভেতরে?
-কেউ ই না।
তৌহি রুমের ভিতর ঢুকে কিন্তু রুমে তো কেউ ই নেই। তাহলে রুমি কার সাথে কথা বলছিলো। এই এক দরজা ছাড়া ভেতর থেকে বের হওয়ার আর কোন রাস্তা নেই।
-আচ্ছা তুমি এই সময়ে ষ্টোর রুমে কী করছিলে, তাও আবার দরজা লাগিয়ে?
-না আমি এমনি এসেছিলাম। আর বাতাদের ধাক্কায় হয়তো দরজা লেগেছে।
-ভেতরে কী জানালা আছে নাকি যে দরজা লেগে যাবে।
-...!
তৌহি বুঝতে পারে রুমি কিছু একটা লুকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কি সেটা বুঝতে পারছে না।
পরিদন সকালে তৌহি রুমিকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যায়।সব পরিক্ষা করে দেখা যায় রুমি সম্পূর্ণ সুস্থ। তৌহি ডাক্তার কে রুমির অবস্থা সম্পর্কে বলে
।ডাক্তার বলেন রুমি এবার প্রথম সন্তান গ্রহণ করেছে তাই এসব মাঝেমধ্যে হয়। এটা নিয়ে এতো ভাবার কিছু না। ডাক্তার থেকে ফেরার পথে রুমির ব্যাগে সেই বইটি আবারো দেখতে পায়।
সে রুমিকে এই নিয়ে কথা বললে সে দ্বিমত পোষণ করে।
রাতে হঠ্যাৎ করে রুমি ছটফট করতে শুরু করে। তার চোখ দুটো লাল হয়ে যায়।
"তৌহি সে এসে গেছে এসে গেছে "বলে চিৎকার দিতে শুরু করে। তৌহি কিছুই বুঝতে পারে না। সে রুমি কে জিজ্ঞেস করে কে এসে গেছে। রুমি উত্তর দেয় না। বার বার একই কথা বলতে থাকে। আধঘণ্টা এভাবে করার পর রুমি মুর্ছা যায়। তৌহি রুমিকে নিয়ে হসপিটাল এর গেলে ডাক্তার কোন রোগ ধরতে পারে না। হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয় বাসায়। তৌহির মাথাটা ব্যাথা করছে।কী হচ্ছে তার পরিবারের সাথে এখন। এমন সুখের সংসারে কার নজর লাগলো। রুমি কেনো এমন পাগলামি করছে। নাকি এসব বিপদের সংকেত। সামনে কী আরো বড় কিছু অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।এসব ভাবতে ভাবতে চোখ লেগে যায় তৌহির। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় এবং গলায় শক্ত কিছুর চাপ অনুভব করায় ঘুম ভাঙে তৌহির। চোখে মেলে দেখে রুমি তার পাশে বসে তার গলা চেপে ধরে আছে।
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now