বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানি দেখা হবে ১০

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #জানি_দেখা_হবে #Part_10 .. তারাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকলো ধ্রুব। পিছনে পিছনে আসলো তুরিন। পরনে তার লাল শাড়ি, বুঝায় যাচ্ছে এই মাত্র বিয়ে করে ফিরেছে ওরা। তারা ছলছল চোখে ওদের দেখছে। কিছু বলতে পারছে না। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। শারা শরীর কাঁপছে ওর। ঘরের ভেতরে ঢুকেই দাড়ালো ধ্রুব। সাথে তুরিনও। ধ্রুব তারার দিকে ঘুরে তাকালো। তারা এখনো ঠাঁই দাড়িয়ে আছে। তারার সামনে ধ্রুব একটা তুরি বাজালো। সাথে সাথেই তারা হুশ ফিরে পেলো। তখনই ধ্রুব বললো.. - আজ থেকে আমি তুরিনের হাজবেন্ড। আর তুরিন আমার ওয়াইফ। তুমিতো বলেছিলে তুরিন যদি আমাকে বিয়ে করে তাহলে তুমি মেরে দিবা আমাকে, তাইনা? এভাবেই তো ব্ল্যাকমেইল করে আমাকে নিজের করে নিয়েছো। তুরিনের থেকে দুরে সরিয়েছো। আজ থেকে তো আমি তুরিনের হাজবেন্ড, দেখি আমাকে মারতে পারো কিনা। তারা অবাক হয়ে বললো. - আমি ব্ল্যাকমেইল করেছিলাম? আপনাকে মারতে চেয়েছিলাম? - তা নয়তো কি? - সব মিথ্যা। কে বলেছে আপনাকে এইসব ? সাথে সাথেই তুরিন ন্যাকা কান্না শুরু করে বললো.. - দেখেছো ধ্রুব দেখেছো, আসতে না আসতেই ও আমাকে মিথ্যাবাদী বানিয়ে দিচ্ছে। - তুমি কাদবে না তুরিন। একদম কাদবে ন। এতোদিন অনেক কেদেছো। এখন থেকে ও কাদবে। ওর কাঁদার দিন সবেমাত্র শুরু। . তারা কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। ভেবেছিলো আজ ধ্রুব ওকে নিজের করে নিবে। কিন্তু নাহ, আজ যে সে আরো বেশি পর হয়ে গেলো। ঘরে শুয়ে ছিলো ধ্রুবর মা। বাইরে কথার আওয়াজে উঠে রুম থেকে বাইরে গিয়ে তিনিও চমকে গেলেন। অবাক হয়ে বললেন.. - এই মেয়েটা কে ধ্রুব? - আমার বউ। - মানে? কি বলছিস এইসব তুই? তোর বউ তো তারা। - তারা আমার বউ কোনোদিন ছিলোনা। আর কোনোদিন হবেও না। ও একটা রাক্ষসী। ও একটা ছলনাময়ী। যে ছলনা করতেই জানে। - মাথা ঠিক নেই তোর ধ্রুব। এই মেয়ে নাম কি তোমার? - তুরিন। মুখ বাকা করে বললো নিজের নামটা। - তুরিন, মানে সেই মেয়েটা? যে বয়ের দিন পালিয়ে গিয়েছিলো? - না মা, ও পালায়নি। ওকে ব্ল্যাকমেইল করে সরিয়ে দিয়েছিলো এই মেয়েটা। তারাকে উদ্দেশ্য করে বললো ধ্রুব। তারা কিছু বলছেনা। বেচারি শুধু কাঁদছে আর নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। ধ্রুবর মা বললেন. - কিসের জন্যে ব্ল্যাকমেইল করবে ও? - আমাকে বিয়ে করার জন্য। তুরিনকে আমার জীবন থেকে সরানোর জন্য। ধ্রুবর বলা কথাগুলো সব মায়ের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। মা গিয়ে তারাকে বললো.. - কিরে, কি বলছে এইসব ধ্রুব? - আমি কিছু জানিনা মা। শুধু জানি আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাঁদতে কাঁদতে বললো তারা। . - হুহ, ঢং দেখে বাচিনা। পাশ থেকে তুরিন বলে উঠলো। ধ্রুবর মা রাগী চোখে তুরিনের দিকে একবার তাকালো। কিছু বললোনা। তারাকে শান্তনা দিয়ে বললো.. - কাদিস না মা। কেউ তোকে বিশ্বাস না করলেও আমি করি। মা ধ্রুবর সামনে এগিয়ে গেলো। ধ্রুব অন্যদিকে ফিরে তাকিয়ে আছে। মা বললো.. - তুই কি এই মেয়েকে বিয়ে করেছিস? - বার বার এই মেয়ে এই মেয়ে করছো কেন মা? ওর একটা নাম আছে। ও তুরিন। আর হ্যাঁ আমরা বিয়ে করেছি। কাজী অফিস থেকে বিয়ে করেই বাসায় আসলাম। আর একটা কথা, যদি বলো ওকে তোমরা মানতে পারবেনা, ওকে ছেড়ে দিতে হবে,, তাহলে জেনে রাখো, দরকার হলে এই বাড়ি ছেড়ে দিবো। তবুও তুরিনকে ছাড়বোনা। মা হাসলো। বললো. - বাহ, এই মেয়েটা আসতে না আসতেই দেখছি ওর উকালতি করা শুরু করেছিস। ধ্রুব কিছু বললো না। মা চিন্তা করে বলতে লাগলেন.. - এখন আমি ওর বাবাকে কিভাবে সামলাই। - আমি সব সামলাবো মা। আপনাকে কোনো চিন্তা করতে হবেনা। তারার কথায় মা অবাক হয়ে বললো.. - কি বলছিস মা তুই? তুই পাগল হয়ে গেছিস নাকি? - আমি ঠিক আছি না। তারা এক দৌড়ে রুমে চলে গেলো কাঁদতে কাঁদতে। মা আরেকবার ধ্রুব আর তুরিনের দিকে তাকালো। তারপর তিনিও হনহন করে চলে গেলেন নিজের রুমে। .. ধ্রুবদের বাসার ড্রয়িং রুমটা মানুষে গিজগিজ করছে। কিছুক্ষন আগে তুরিনের বাবা মা এসেছে বাসায়। সাথে তারার মামা ও। ধ্রুবর বাবা সবাইকে খবর দিয়ে আনিয়েছে। সবাই গম্ভীর মুখে বসে আছে। নিরবতা ভেঙ্গে ধ্রুবর বাবা বললো.. - বিয়ের দিন কোথায় ছিলো আপনার মেয়ে? আমার ছেলেটা অনেক আশা নিয়ে গিয়েছিলো ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করবে বলে। কখন কোথায় ছিলো আপনার মেয়ের ভালোবাসা? সবার মান সম্মানের দিকে তাকিয়ে তারা মা বিয়েটা করেছে। এখন কোথায় ওদেরকে একটু সুখে থাকতে দিবে তা না করে এই মেয়েটা আবারও আমার ছেলের জীবনে এন্ট্রি নিয়েছে। এটা কি ঠিক করলো আপনাদের মেয়ে? - আমরা আসলে দুঃখিত. । নিচের দিকে তাকিয়ে বললেন তুরিনের বাবা। ধ্রুব রেগে গিয়ে বললো.. - কি শুরু করেছো তোমরা? ওদেরকে কেন এখানে ডেকেছো? আমরা নিজেরাই নিজেদের বিয়ে করেছি। আর তাছাড়া যাকে বলছো সেতো নাটের গুরু। ওনার উস্কানিতেই তো ওই তারা আমার তুরিনকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজে বিয়েটা করেছে। . ধ্রুবর কথায় তারার বাবা আর তারা দুজনেই অবাক হয়ে গেলো। ধ্রুবর বাবা বললেন.. - তুই চুপ থাক, তোর মত ছেলে জন্ম দিয়ে আমি অনেক বড় অপরাধ করেছি। তুই কেমন ছেলেরে, ঘরে বউ রেখে এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করে এনেছিস যে কিনা বিয়ের দিনই পালয়েছিলো আরেক ছেলের সাথে । তোকে আমার ছেলে পরিচয় দিতেও লজ্জা লাগে ছিঃ. বাবার এমন কথায় ধ্রুব কিছু না বললেও তার চোখেমুখে বেশ রাগ দেখা গেলো। পাশে থেকে তুরিনের মা হেসে দিয়ে বললো। - যাই বলুন বিয়ান সাহেব। ছেলে মেয়ে যেহেতু দুজন দুজনকে ভালোবাসে সেখানে এভাবে রাগারাগি করার কোনো দরকার নেই। আর ধ্রুব বাবাতো তুরিনকে পছন্দ করে। তারাকে একটুও পছন্দ করেনা। তাই বলছি তুরিনকে মেনে নিয়ে তারাকে বিদেয় করে দেন। এটাতেই মঙ্গল হবে ।আপনি বরং মেনে নিন। - কাকে মানবো আর কাকে বিদেয় করবো সেটা একান্তই আমাদের ব্যাপার। আপনাকে এর মাঝে আসতে হবেনা। গম্ভীর গলায় বললেন ধ্রুবর বাবা। এতোক্ষন আশরাফ সাহেব সবটা নিরবে শুনে গেলোও এখন আর চুপ থাকতে পারলেন না। বললেন.. - তাহলে তারার কি হবে? - মানে? অবাক হয়ে বললেন ধ্রুবর বাবা। - মানেটা খুব সহজ। ধ্রুব তুরিনরে বিয়ে করেছে। ও তো তুরিনে পাগল। তুরিনের সাথেই ও সংসার করবে। আপনারা না চাইলেও। তাহলে আমাদের তারা এখানে থেকে কি করবে? - তুমি কি বলতে চাইছো মামা? - বলতে চাইছি, তোকে আমরা এখান থেকে নিয়ে যাবো। দাত থাকতে তো কেউ দাঁতের মর্যাদা বুঝেনা। কি যে দানা এনেছে সেটা দুদিন পরেই বুঝবে। কিন্তু তুই এখানে পড়ে থেকে মাঝখানে পুড়ে ছাই হয়ে যাস সেটা আমি চাইনা। তাই বলছি তোর এখানে থাকার দরকার নেই। আমরা আজই নিয়ে যাবো তোকে। . - মেয়েরা স্বামীর বাড়ি থেকে মরার পরেই বের হয়। পাশ থেকে বলে উঠলো তারা। - কিন্তু মা „ ওতো আরেকটা বিয়ে করেছে। তোকে থাকতে হলে এখন সতীনের সাথে সংসার করতে হবে। যদিও ও তোর বোন হয়। সেটা কেমন বোন ওরা না জানলেও আমরা সবাই জানি তা। - ইসলামে ছেলেসহ চারটি বিয়ের ব্যাপারে বৈধতা দিয়েছে আল্লাহ। আর উনি তো দুইটা বিয়ে করেছে মাত্র। আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি থাকতে পারবো। - কিন্তু মা, - প্লিজ কেউ আমাকে জোর করোনা। আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দাওনা। তারার কথায় কেউ কিছু বললোনা। রাতের খাওয়া দাওয়া করে সবার যা যার মতো চলে গেলো। তুরিনের মা বেরোতে যাবে তখনই তারাকে পাশে দেখতে পেলো। মুখে শয়তানি হাসির রেখা টেনে ওর পাশে গিয়ে দাড়িয়ে আস্তে আস্তে বললো.. - আমার মেয়েতো। তা বলে তাই করে। বলেছিলোনা ঠিক সময়ে এন্টি নিবে। দেখেছিস তাই করেছে ও। যেটা ওর প্রাপ্য সেটা ওরই। ওর জায়গায় অন্য কাউকে সে কখনোই মেনে নিবেনা। তোকে তো নয়ই হুহ। তারা কিছু বলছেনা। শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছে আর শুনছে। - কিগো, কি হলো আসো। - হ্যাঁ আসছি। মেয়েটাকে একটু শান্তনা দিয়েই আসছি। তারপর আবারও তারার দিকে তাকালো তুরিনের মা। বললো.. - তৈরি হো আমার মেয়ের সবকিছু সহ্য করার জন্য। মা চলে গেলো। তারা এখনো পাথরের মতো দাড়িয়ে আছে সেখানে। চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বেয়ে যাচ্ছে ওর। . এভাবে কতোক্ষন পার হয়ে গেলো বুঝতে পারলোনা তারা। সেদিন যে যার মতো শুয়ে পরলো। তুরিনকে রাখা হলো পাশের রুমে। ধ্রুব নিজের ঘরেই শুয়েছে। আর তারা, ও তো বেলকনিতে বসে থেকেই সারারাত কাটিয়েছে। পরেরদিন বেশ ক্লান্ত থাকায় বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলো তারা। মনের মধ্যে অনেক ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার। এমন সময় ধ্রুব রুমে ঢুকলো। পিছনে তুরিন ও। ধ্রুবকে দেখে উঠে বসলো তারা। ধ্রুব অন্যদিকে তাকিয়ে বললো. - এ রুমটা তোমাকে ছাড়তে হবে। - মানে? অবাক হয়ে বললো তারা। পিছনে দাড়িয়ে শরীর দুলাচ্ছে আর হাসছে তুরিন। ধ্রুব বললো.. - বুঝনি? এ রুমটা তোমাকে ছাড়তে হবে। আজ থেকে এ রুমে আমি আর তুরিন থাকব। কথাটা ঢুকেছে তোমার মাথায়? তারার মাথা ঘুরে গেলো ধ্রুবর কথায়। যে রুমে ও নিজে থাকতো, যদিও ধ্রুবর সাথে থাকার ভাগ্য তার হয়নি। তবুও এক ঘরে তো থেকেছে। ধ্রুব বললো.. - এভাবে মুর্তির মতো দাড়িয়ে আছো কেন? কি বললাম শুনতে পাও নি? ধ্রুবর কথায় হুশ ফিরে পেলো তারা। ব্যথিত কন্ঠে বললো.. - যাচ্ছি। তারা যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। ধ্রুব পিছন থেকে বলে উঠলো। - আজ রাতে আমাদের বাসর। আর তুমিতো আমার খুব কাছের মানুষ তাইনা। তাই কাছের মানুষ হিসেবে আমার বাসত সাজানোর দায়িত্বটা আমি তোমাকেই দিলাম। যতো বকশিশ চাইবে ততোই দিব। ধ্রুবর কথায় থমকে গেলো তারা। একি বলছে ধ্রুব? ওর বাসর আমাকে সাজাতে হবে? এতো শাস্তি দিয়েও মন ভরছেনা? এভাবে মানুষিকভাবেও শাস্তি দেওয়াটা বাকি? .. To be Continue .....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানি না দেখা হবে কি না
→ জানি দেখা হবে-২১
→ জানি দেখা হবে-১৯
→ জানি দেখা হবে-১৮
→ জানি দেখা হবে-১৭
→ জানি দেখা হবে-১৬
→ জানি দেখা হবে-১৫
→ জানি দেখা হবেে-১৪
→ জানি দেখা হবে-২০
→ জানি দেখা হবে ১২
→ জানি দেখা হবে ১১
→ জানি দেখা হবে (পর্ব ৮)
→ জানি দেখা হবে (পর্ব ৭)
→ জানি দেখা হবে (পর্ব ৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now