বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#মেঘের_ওপারে_রৌদ্দুর__
writter..imran khan
#পার্ট__২য়__
.
মেয়েটা খুব বেশি রাগ নিয়েই সামনে আসতে লাগল৷যত সামনে আসছে ততই ওর রাগি রক্তমাখা মুখটা আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে আসছে৷সামনে এসেই আমার দিকে কেমন ক্ষুদার্ত বাগিনির মত তাকিয়ে আছে৷কি করব বুঝতে পারছিনা৷হঠাৎই বলা শুরু করল
.
--কিরে ছোটলোকের বাচ্ছা৷ ভয়ে এই কয়দিন আসিস নি কেন?আজকে তো তোর রক্ষা হবে না৷
.
--আপনি আমার সাথে কেন এমন করছেন?আমি তো আপনার কোনো ক্ষতি করিনি৷তাহলে আমার সাথে কেন এত বাজে ব্যবহার করছেন?আর আমার শরীরটা বেশি ভালো না৷প্লীজ রাস্তা ছাড়ুন৷
.
--তোকে কেমন বলদ বলদ লাগে রে৷আর খুব মারতে ইচ্ছা হয়৷আয় তোরে মারি
.
--দেখুন,আমি গরীব,তাই বলে আমার দূর্বলতার সুযোগ নিতে আসবেন না৷খুব বেশি খারাপ হবে৷
.
--ওই তুই কি বললি এটা?তুই কি করবি আমার?আর কি করতে পারবি?
.
বলেই শার্টের কলার ধরে টানতে লাগল৷খুব বেশি রাগ হচ্ছিল তখন৷রাগ টাকে কোনোমত কন্ট্রল করে ৷নম্র ভাষায়ই বলতে লাগলাম
.
--প্লীজ,রাস্তা ছাড়েন,আমি ভিতরে যাব
.
--তুই আর ভিতরে যেতে পারবিনা৷এখন আমার জন্য জাল মুড়ি কিনে নিয়ে আয়৷আজ থেকে তুই আমার চামচা৷আমার চামচামি করবি,অনেক টাকা দিব৷এত টাকা দিব যে,যেটা তোর ওই ফকিন্নি বাবাও দিতে পারিনি
.
বাবাকে নিয়ে কথাটা বলাতেই রাগ টাকে আর ধরে রাখতে পারলাম না৷হাতটা উঠে গেল৷
.
--ঠাসসসসস,কি পেয়েছিস?গরীব বলে ,সহজ সরল ভাবে থাকি বলে আমি ভিক্ষুক?তোর টাকা নিয়ে তুই থাক৷রাস্তা ছাড় নয়ত আরেকটা এমন ভাবে দিব তোর এই গাল নিয়ে আর বাসায় যেতে পারবিনা৷
ফাজিল কোথাকার....
.
এই টুকু বলেই ভিতরে চলে গেলাম৷
ভিতরে গিয়ে একদমি ভাল লাগছিল না৷
কোথায় যাব আমরা?আমাদের মত মধ্যবিত্তদের জন্য কি এই পৃথিবীতে কোনো জায়গা নেই৷সব জায়গায় কি শুধুই টাকার অহংকার???
গরীবদের জন্য কি এই পৃথীবি না??
খুব বেশি কষ্ট হচ্ছিলো৷একে তো বাসায় চাচির কথা শুনতে শুনতে মাথাটা খারাপ হয়ে যায়৷মনটা ভেঙ্গে যায়৷আর এই দিকে এই মেয়েটাও আমার পিছু লেগেছে৷৷
.
আমার মনে হয় আর এই কলেজে পড়ালেখা হবেনা৷
কারন আমি যে গরীব৷আর গরীব হয়ে কোনো ধনী অহংকারীর শিকারে পরিনত হয়ে গেছি৷
.
এর ভিতরই শরীরটা অনেক বেশি খারাপ লাগা শুরু করল৷শরীর টা কেমন কাঁপতে লাগল৷না একদমই ভালো লাগছে না৷
বাসায় যাওয়ার কথাও ভাবতে পারছিনা,কারন বাসায় গেলেও চাচির মুখের বিশ্রি কথা শুনতে হবে৷আর এখানে থাকলে লাবনি নামের মেয়েটার যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে৷তারওপর আজকে ওর গায়ে হাত তুলে ফেলছি৷ও যেমন রাগি৷নিশ্চয় আমার কিছু একটা করে ফেলবে৷৷
.
কলেজ থেকে বের হয়ে গেলাম৷রাস্তা দিয়ে হাটছি৷শরীরটা অনেকটা বেশিই খারাপ লাগছে৷তাই রাস্তার পাশেই একটা গাছের নিচে বসলাম৷.
.
ঠিক তখনই কয়েকটা ছেলে সামনে আসল আমার৷আর হাতে লাঠি৷তাদের সাথেই ছিল লাবনী৷
লাবনী ইশারায় আমাকে মারতে বলেই কেটে গেল৷ছেলে গুলো আর দেড়ি করল না৷কিছু বুঝে উঠার আগেই ছেলেগুলো আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ল৷ লাঠি দিয়ে খুব জোড়ে জোড়ে মারতে লাগল৷
তারপর আর কিছু মনে নেই৷
মারতে মারতে জ্ঞান হারা করে ফেলে৷
যখন জ্ঞান ফিরল৷তখন আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি৷শরীরটা খুব বেশি ব্যথা করছিল৷চোখ খুলে তাকাতেই দেখলাম৷পাশেই আমার চাচা,আর সব বন্ধু৷
জ্ঞান ফিরতেই রনি বলে উঠল
.
--আবিদ কে মেরেছে তোকে?বল,কে মারছে তোকে বল আমায়৷ওর চৌদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে ফেলব(রনি)
.
--আবিদ?ভাই আমার৷বল তোকে কে মারছে?একটাবার শুধু নামটা বল(রাজ)
.
--আমি কাউকেই চিনিনা৷কে মারছে তাও জানিনা৷
.
--আবিদ সত্যি করে বল বলছি(রাজ)
.
--সত্যি বলছি আমি কাউকেই চিনিনা৷
.
সত্যি কথাটা বললাম না৷কারন সত্যি কথা বললেই ওরা লাবনীর সাথে ঝামেলা করবে৷এতে ওদের ক্ষতি হতে পারে৷আমি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারব না,আমার জন্য আমার কলিজার বন্ধুগুলোর কোনো সমস্যা হোক৷
.
অন্যদিকে লাবনী খুব বেশি খুশি কারন সে আমাকে মেরেছে৷নিজের বন্ধবীদের সাথে বলাবলি করছে
.
--ওপপস,আজকে আমি সত্যিই অনেক বেশি খুশি৷ছোটলোকের বাচ্চাটাকে উচিৎ শিক্ষা দিছি(লাবনী)
.
--কি করেছিস রে লাবনি(ওর বান্ধবী)
.
--আর বলিস না,ওই হারামীর বাচ্ছাটা,আমার মুখে থাপ্পর মেরেছিল৷তাই তাকে উচিৎ শিক্ষা দিছি৷ছেলে ভাড়া করে মাইর দিছি ওরে
.
--কি বলছিস লাবনী?তার মানে আবিদকে তুই মার খাইয়েছিস(অনেক বেশি অবাক হয়ে)
.
--হুম৷আমি করেছি
.
--এটা তুই কি করলি লাবনি?এই ছেলেটাকে তুই ভাবে মারতে পারলি?
.
--না পারার কি আছে?
.
--লাবনি তুই অনেক বড় ভুল করেছিস রে
,
--কেন?
.
--এত ভালো ছেলেটাকে এভাবে মার খাওয়াতে পারলি কেমনে?
তুই জানিস ছেলেটা এমনিতেই কত কষ্ট নিয়ে দিন কাটায়?
.
-মানে?কি বলতে চাস তুই
.
--লাবনি,তুই জানিস না,ছেলেটা অনেক ভালো কিন্তু ওর ওপর দিয়ে কত বড় বড় ঝড় বয়ে গেছে৷ওই দিন তোর গায়ে হাত তুলেছে কারন তুই কথায় কথায় ওর মৃত বাবা মাকে নিয়ে গালি দিস বলে
.
--মৃত বাবা মা?(এবার লাবনি অনেকটাই অবাক হয়ে গেছে)
.
--হুম৷জানিস লাবনি,ওর বাবা মা ছোটবেলাই এক্সিডেন্টে দুজনেই মারা যায়৷এর পর থেকেই শুরু হয় ওর জীবনের ভয়াভহ দিন৷
চাচার ঘরে মানুষ হতে লাগল ছেলেটা৷কিন্তু চাচি তার সাথে চাকরের চাইতেও অনেক বেশি বাজে আচরন করে৷খুব বকাঝকা করে৷কথায় কথায় মৃত বাবা মাকে নিয়ে খোটা দেয়৷
ওর নামে যদি কোনো নালিশ ওর চাচির কাছে যায়,তাহলে ওর সাথে কুকুরের মত ব্যবহার করে৷তাই কারো সাথে ঝগড়া করেনা৷আর তুই সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে ছেলেটাকে দিনের পর দিন অপমন করেই যাচ্ছিস৷আর আজকে ছেলেটাকে এভাবে মারতে পারলি৷
আজকে তুই যদি তোর বাবা মাকে ছোটবেলায় হারিয়ে এভাবে ওর মত মানুষ হইতি,তাহলে কি তোর এই অহংকার থাকত?পারতি এভাবে ছেলেটাকে মারতে???
ছিঃ লাবনি৷তুই আসলেই টাকার অহংকারে জানোয়ার হয়ে গেছিস৷
.
কথাগুলো বলেই লাবনীর বান্ধবী ওখান থেকে চলে গেল৷আর অন্য দিকে লাবনি তখনও ওখানেই বসে আছে৷টপটপ করে চোখ দিয়ে ওর পানি পড়তে লাগল৷বার বার ভাবতে লাগল,সত্যিই তো আজকে আমি গরীব ঘরে জন্ম নিলে,কেউ আমার সাথে এমন করলে আমার কেমন লাগত?আর এই ছেলেটাকে আমি এত কষ্ট দিলাম?মুহুর্তেই লাবনির ভিতর কেমন মনুষত্ব জেগে উঠল৷
ক্লাস না করে বাসায় চলে গেল৷
বারবার ভাবতে লাগল এটা আমি কি করলাম৷খুব বেশি কান্নাও করতে লাগল লাবনি৷রাতে একদমই ঘুমাতে পারছিলনা৷
.
এই দিকে আমার অবস্থা একটু ভালো না হতেই চাচি,চাচার সাথে খুব বেশি বাজে ভাবে কথা বলা শুরু করল৷আমার হসপিটালের খরচ চাচাই দিয়েছিল৷আর সেটা নিয়েই চাচি চাচার সাথে খারাপ আচরন শুরু করে দিল৷সেদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম
.
""আল্লাহ????কেন তুমি আমার বাবা মাকে তোমার কাছে নিয়ে গেছো?কেন আমার মাথার ওপর থেকে মা বাবা নামক ছায়াটা কেড়ে নিছো?
কিন্তু নিয়তির কাছে সবই হার মানে৷কোনো উত্তর নেই এর"
অসুস্থ অবস্থায়ই হসপিটাল থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম৷সেদিন দেখেছিলাম চাচার চোখে অসহায়ত্বের চাপ৷চোখের পানি যে কিভাবে টপটপ করে পড়ছে বলে বোঝানো যাবেনা৷
বাসায় চলে গেলাম৷ পুরো শরীর খূব বেশি ব্যথা করছিল৷কোনো ঔষধ নেই তখন৷শেষ হয়ে গিয়েছিল৷পকেটে টাকাও ছিলনা৷কারন মাসের শেষের দিক৷টিউশনির টাকা পেতে আরও ১০-১৫দিন লাগবে৷
প্রচন্ড ব্যথায় জিব্বা কামড়াচ্ছিলাম৷চিৎকার করতে পারছিলাম না৷কারন চিৎকার করলেই চাচা আমার জন্য কষ্ট পাবে৷আর চাচির সাথে চাচার জগড়া হবে৷
.
ব্যথায় বেহুশ হবার অবস্থা৷ঠিক তখনই কারও মায়ামাখানো হাতের স্পর্শ পিঠের মধ্যে অনুভব করতে লাগলাম৷পিছনে তাকাতেই দেখলাম লাবনি৷
ওর চোখ দিয়ে কেমন বৃষ্টির মত অশ্রু ঝড়তে শুরু করছে৷ওর চোখের নিচে কেমন কালো হয়ে গেছে৷এই কয়েকদিনে কেমন শুকিয়ে গেছে৷
কিন্তু তারপরও ওর প্রতি মায়া লাগল না৷খুব বেশি রাগ হলো ওর প্রতি৷ওর জন্যই আমার এই অবস্থা৷আর চাচার সংসারে নতুন ঝগড়া ওর জন্যই৷
.
আমি ওর হাতটা আমার পিঠ থেকে নামিয়ে দিলাম৷
ওকে বলা শুরু করলাম
,
--মরে গেছি কিনা দেখতে এসেছেন?মরি নি তো৷সুস্থ হয়ে কলেজে গেলে আবার মারবেন৷এবার একেবারে মেরে ফেলবেন৷আল্লাহর দোহায় লাগে,এভাবে তিলে তিলে শেষ করার দরকার নেই৷মেরে ফেললে একেবারে মেরে ফেলেন৷
.
কথাটা বলেই ওর দিকে রাগ নিয়ে তাকাতেই দেখলাম৷
মেয়েটা একদম চুপ হয়ে অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে একনজরে তাকিয়েই আছে৷
আর চোখ দিয়ে অঝরে বৃষ্টি ঝড়েই যাচ্ছে৷কান্না মাখা মুখটা কতটা অসহায় লাগছে ওর৷কতটা নিষ্পাপ মনে হচ্ছে ওর কান্না মাখা মুখটি৷কিন্তু ভাবতেই অবাক লাগে,এই নিষ্পাপ মুখের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ানক মানুষরূপধারী জানোয়ার৷
.
.
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now