বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানি দেখা হবে (পর্ব ৮)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #জানি_দেখা_হবে imran khan #Part_08 .. তারা রুমের এক কোনে বসে আছে আর কাঁদছে। কি এমন ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে ও। যেখানেই থাকুক না কেন, দুঃখ তার পিছু ছাড়েনা। .. কয়েকটা দিন কেটে গেলো। ধ্রুব অফিস যাচ্ছে, অনেক রাত করে বাসায় আসছে। তারা নিজের মতো করে সংসার সামলাচ্ছে। সম্পর্ক টা এখনো সেখানেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কোনো এদিক ওদিক হয়নি। রাতে খাবার সার্ভ করছিলো তারা। ধ্রুবর বাবা বললো.. - মা, তুইও খেয়ে নে। - উনি আসলে খাবো বাবা। আপনারা খান। - ওর অপেক্ষায় থেকে তো শেষে তোকে না খেয়ে থাকতে হয়। এখন বস আমাদের সাথে। - আরে বসে পর, এতো করে যখন তোর শশুর বলছে। পাশ থেকে ধ্রুবর মা বললো। - আচ্ছা মা, শশুর শাশুড়ির জোরাজুরিতে বসতে হলো তারাকেও। কয়েক লোকমা মুখে দেওয়ার পর মা বললেন_ - তোদের কি এভাবে থাকলে চলবে? সংসার টা তো আগানোর প্রয়োজন তাইনা। - কেন মা? কি হয়েছে? - এইযে তোরা আছিস ছন্নছাড়া অবস্থায়। কারো সাথে কারো কোনো ভালো সম্পর্ক নেই। এভাবে তো আর হবেনা। - আমি কি করবো মা? উনি তো আমাকে মেনেই নিতে পারেনা। নিচের দিকে তাকিয়ে বললো তারা। - একটা বাচ্চা নিয়ে নে। দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে। মায়ের কথায় তারা যতোটা লজ্জা পেলো তারচেয়ে বেশি কষ্ট পেলো ও। কারণ, মা তো আর জানেনা, একই ছাদের নিচে থাকলেও সম্পর্ক টা এখনো সেইরকম হয়নি। .. রাতে এক কাপ কফি নিয়ে ছাদে বসে আছে তারা। রাত আনুমানিক ১২ টা কিংবা তার বেশি। এখনো ধ্রুব বাসায় আসেনি। এতো রাত পর্যন্ত কি করে ও বাইরে কিছুতেই মাথায় আসেনা তারার। কিছুক্ষন থাকার পর হালকা ভয় করতে লাগলো তারার। অনেক রাত হয়ে গেছে, ছাদে থাকা ঠিক না। তাই নিচে রুমে চলে গেলো ও। তখনই কলিংবেল বেজে উঠলো। তারা তারাতাড়ি গিয়ে দরজাটা খোলে দিলো। ব্লেজার টা একটা কাঁধের উপর ফেলে ভিতরে ঢুকলো ধ্রুব। ছন্নছাড়া অবস্থায় রুমে বিছানায় গা হেলিয়ে দিলো ধ্রুব। তারা কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে বললো.. - আপনাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। কিছু হয়েছে কি? - নাহ, তেমন কিছুই হয়নি। খুব কাজের চাপ ছিলো আজ। শান্ত গলায় বললো ধ্রুব। - আচ্ছা, আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি খাবার আনছি। - হুম যাও। তারা চলে গেলো খাবার আনতে। আর ধ্রুব উঠে চলে গেলো ওয়াসরুমে। . খাবার শেষে ধ্রুব শুয়ে আছে নিজের বিছানায়। আর তারা ফ্লোরে চাদর টা বিছিয়ে নিচ্ছে শোয়ার জন্য। ধ্রুব তা অবলোকন করছে। কেন জানি তারার ফ্লোরে শোয়াটা আজ ওর কাছে ভালো লাগছেনা। কিছু না ভেবেই ধ্রুব বললো_ - তুমি বিছানায় এসে ঘুমাতে পারো। তারা ভ্রু কুঁচকে ধ্রুবর দিকে তাকালো। ধ্রুব তা বুঝতে পেরে ইতস্তত করে বললো.. - নাহ মানে, ঠান্ডা পরছে তো, তাই বলছিলাম আরকি। - আপনার কোনো সমস্যা হবেনা তো? - দুরত্ব বজায় রেখে ঘুমালে আমার কোনো সমস্যা নেই। তারা কিছু না বলেই নিজের বালিশটা নিয়ে বিছানায় উঠ গেলো। ধ্রুব কিছু বলছেনা। তারা মুচকি হেসে ধ্রুবর অপজিট পাশে শুয়ে পরলো। তারা আজ কতোটা খুশি সেটা তার চেহারাতেই ভেসে উঠছে। . ফজরের আযান দেওয়ার সাথে সাথেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো ধ্রুবর। বেশ অবাক হয়ে তারার দিকে তাকালো ও। বেশ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে তারা ধ্রুবকে। ধ্রুব গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তারার মুখের দিকে। বেশ মায়াবী লাগছে এই মুহুর্তে তারাকে। কেন জানি ওর কপালে একটা চুমু খেতে ইচ্ছা করছে ধ্রুবর। নিজের মুখটা তারার কপালের দিকে এগিয়ে নিয়েই তুরিনের কথা মনে হলো ধ্রুবর। হটাৎ ই ওর মনে হলো ও তুরিনকে ঠকাচ্ছে। আকস্মিকভাবে একটা জোরে ধাক্কা দিলো ধ্রুব তুরিনকে। আকস্মিক এভাবে ধাক্কা খাওয়ায় হতচকিত হয়ে উঠে বসলো তারা। বললে লাগলো - কিক কি হয়েছে? - তোমাকে বলেছিলাম না দুরত্ব বজায় রাখতে। বেশ রাগী গলায় বললো ধ্রুব। - আমি তো দুরেই শুয়েছিলাম। - আচ্ছা, তাহলে আমি তোমাকে এতোক্ষন জড়িয়ে ধরে ছিলাম তাইনা?? - মাম মানে? - বুঝোনা কিছু? এর জন্যই আমার পাশে এসে শুয়েছিলে?? - আপনিই তো বলেছিলাম এখানে শুতে। - ভুল বলেছিলাম। বুঝেছো? ভুল বলেছিলাম আমি। রাগে ফুসতে ফুসতে বেরিয়ে গেলো ধ্রুব। তারার চোখদিয়ে নদীধারা বয়ে যাচ্ছে। . না খেয়েই ধ্রুব রেডি হয়ে চলে যাচ্ছে অফিসে। তারা পিছন পিছন বলছে.. - না খেয়ে যাবেন না প্লিজ। খেয়ে যান - তুমিই খাও। তোমার হাতের খাবার খাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। - কি হয়েছে ধ্রুব? এইরকম করছিস কেন? - কিছু হয়নি মা। - দেখছি তো কিছু একটা হয়েছে। না খেয়ে চলে যাচ্ছিস কেন? - বাইরে খেয়ে নিবো। বলেই ধ্রুব চলে গেলো। ধ্রুবর মা তারাকে বললো.. - কি হয়েছে ওর? তারা কিছুই বললো না। কেদে সেখান থেকে দৌড়ে নিজের রুমে চলে আসলো। দরজাটা বন্ধ করে কাঁদতে লাগলো তারা। কি এমন অন্যায় করেছে সে? যার জন্য এইরকম করতে হলো। সারাদিন গেলো তারা আর খেলো না কিছু। না খেয়েই কাটালে সারাটা দিন। মা অনেকবার বলেছে খাওয়ার জন্য। কিন্তু ও খায়নি। রাতে সবার খাওয়া দাওয়া শেষ করে ডাইনিং এই বসে থাকলো তারা। কখন ও আসবে সেই অপেক্ষায়। বসে থাকতে থাকতে কখন যে তন্দ্রা লেগে আসলো বুঝতে পারেনি ও। আচমকাই কলিংবেলের আওয়াজে ঘুম ভাংলো তারার। দৌড়ে গিয়ে দরজাটা খোলে দিলো ও। ধ্রুব হনহনিয়ে রুমে চলে আসলো। তারা মেইনডোর টা ভালো করে লক করে রুমে আসলো। ধ্রুব নিজের কাপড় চেঞ্জ করছে। তারা বললো.. . - আপনি চেইঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি খাবার আনছি। - লাগবেনা। - লাগবেনা মানে? সকালে খেয়ে যাননি। এখনো খাবেন না? - আমি খেয়ে এসেছি। - কোথায়? - এতো জবাব তোমাকে কেন দিবো? তুমি কে হও আমার? চিৎকার করে বলে উঠলো ধ্রুব। তারা বললো. - এ বাড়িতে আরো অনেকেই আছে। তাই নিজের রুপটা নিজের রুমেই বন্দি রাখুন। সবাই ঘুমাচ্ছে। ধ্রুব আর কিছু বললো না। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো। তারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লাইট টা অফ করে ডীম লাইটটা জালিয়ে দিলো। সারাদিন না খেয়ে ছিলো ও আসলে ওর সাথে খাবে বলে। কিন্তু সেগুড়ে বালি। তারা বিছানায় গিয়ে বালিশটা ঠিক করে শুবে এমন সময় ধ্রুব উঠ বালিশটা নিচে ফেলে দিলো। তারা অবাক হয়ে বললো.. - বালিশ ফেলে দিলেন কেন? আমি শোব কিসে? - এতোদিন যেখানে শুয়েছিলে সেখানেই শোবে। তারা অস্ফুট স্বরে বললো - ফ্লোরে? - হ্যাঁ ফ্লোরে। - কিন্তু আপনি তো বলেছলেন এখন থেকে এখানেই শুতে। - ভুল বলেছিলাম শুনোনি তখন? আমার পাশে থেকে নিজের শরীরে লালসা দেখানো হয় তাইনা?? - আপনি আমার স্বামী। আপনাকে আমি কেন আমার শরীরের লালসা দেখবো? - কে বলেছে আমি তোমার স্বামী? আমি মানিনা এই বিয়ে। বুঝেছো তুমি? তারা আর কিছু বললো না। ছলছল কন্ঠে বললো - বুঝেছি। ফ্লোরে এসে শুয়ে পরলো তারা। ঘুম আসছেনা। কাঁদছে তো কাদছেই। কোনো বাধা মানছে না। . দিন যাচ্ছে। ধ্রুবর সাথে তারার সম্পর্কটা এখনো স্বাভাবিক হচ্ছেনা। তারা যতোই চাচ্ছে সম্পর্কটা এগিয়ে নেওয়ার ততোই যেনো থেমে থাকছে। ছুটির দিন বিকেলবেলায় ধ্রুব গেলো একটু ঘুরাফেরা করতে। এদিক ওদিক ঘুরেফিরে যখন পুরোনো আড্ডার জায়গাটায় গেলো সেখানে গিয়েই সামনে পেলো রাব্বি, পিয়াস আর রাফসানকে। ধ্রুব এদের দেখে এড়িয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিলো। রাফসান দৌড়ে এসে ওর হাতটা ধরে বললো - চলে যাচ্ছিস কেন আমাদের দেখে? - যাদের আমি বন্ধুই ভাবি না, তাদের সাথে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আমি মনে করিনা। - কি বলছিস তুই? - বুঝতে পারছিস না? তোরা সবাই আমার সাথে চিটিং করেছিস। তোরা জানতি ওরা ছলনা করে আমার তুরিনকে সরিয়ে ওই তারাকে আমার কাধে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু তোরা কেউ আমাকে বলিস নি। তোরাও আমার সাথে ছলনা করেছিস। - মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর। ওই মেয়টা তোকে জাদু করেছে। তাই ওর ছলনা তুই বুঝতে পারছিস না। (পিয়াস) - সবই বুঝতে পারছি। সবই বুঝতে পারছি। - কিছুই বুঝিস নি তুই। যদি বুঝতি তাহলে তারা ভাবির মতো এমন একজন কে এভাবে কষ্ট দিতে পারতি না। (রাফসান) ধ্রুব ভ্রু কুঁচকে তাকালো ওর দিকে। বললো.. - তোকে কে বলেছে তারাকে আমি কষ্ট দিচ্ছি? - যেই বলুক, আমরা সব জানি। ওই নষ্টা তুরিনের জন্য ভাবীকে কষ্ট দিচ্ছিস। আল্লাহ সইবে না। - মুখ সামলে কথা বল। - চুপ থাক শালা। হীরের টুকরো ফেলে কাচঁ নিয়ে টানাটানি করছিস। আসল নকলের পার্থক্য বুঝছিস না। আবার বলছিস মুখ সামলাতে। ঘৃণা করি তোকে।হুহ. ধ্রুবর মাথায় আগুন ধরে গেলো। কিন্তু কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো হনহনিয়ে। রাফসান সেখানেই ঠাই দাড়িয়ে রইলো। পিয়াশ আর রাব্বি এসে রাফসানের কাধে হাত রেখে বললো_ - না জানি আজ ভাবীর উপর দিয়ে কি ঝড় বয়ে যায়। . To be Continued .....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানি না দেখা হবে কি না
→ জানি দেখা হবে-২১
→ জানি দেখা হবে-১৯
→ জানি দেখা হবে-১৮
→ জানি দেখা হবে-১৭
→ জানি দেখা হবে-১৬
→ জানি দেখা হবে-১৫
→ জানি দেখা হবেে-১৪
→ জানি দেখা হবে-২০
→ জানি দেখা হবে ১২
→ জানি দেখা হবে ১১
→ জানি দেখা হবে ১০
→ জানি দেখা হবে (পর্ব ৭)
→ জানি দেখা হবে (পর্ব ৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now