বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাদা ডাইনির কুঠি
শেষ পর্ব
সঞ্জয় থমকে গেল। উত্তর দিতে প্রায় তিরিশ সেকেণ্ড দেরি হল ওর। 'না না জানতাম না, ওই গুজব শুনেছিলাম আর কি। তুমি আবার এ নিয়ে এষার সাথে কথা বলেছো। মেয়েটার এমনিতেই মাথার ঠিক নেই।'
'হ্যাঁ বেচারা খালি নিজেকে দোষী ভাবছে। সৌমিত্রদা ওর মনে দুঃখ দিয়েছিলেন বটে। ওকে ঘর ভাঙতে বারণ করেছিলেন, চন্দনের সঙ্গে সম্পর্কটা আবার করে শুরু করতে বলেছিলেন। প্রীতি নয়, সেদিন এষার সাথে কথা বলতে বলতেই তো সৌমিত্রদা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তবে সে অসুখের জন্য এষা বোধহয় দায়ী নয়। ও বেচারা তো এক গ্লাস জল আনতে ছুটে গিয়েছিল।'
'সাতসকালে কি সব গল্প বানাচ্ছ মিলিদি? তুমি তো নেশা টেশা করতে না।' সঞ্জয়ের গলাটা রুক্ষ শোনাল, 'ফোন-টোন গুলো করতে হবে না কি?'
'আরে ফোন করার সময় তো পড়েই আছে, শোন না। আমার কিন্তু একটা নালিশ আছে। তুই আর সৌমিত্রদা যে পার্টনার, একসঙ্গে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করছিলি, এটা তো বলিসনি। জানলে আমিও নেমে পড়তাম। অবশ্য এই রিশেশনের বাজারে রিয়েল এস্টেটের যা অবস্থা। শুনলাম ২০০৮ সালের হাউসিং বাবলটা ফাটার সময় তোর নাকি সৌমিত্রদার কাছে অনেক টাকা ধার হয়ে গেছিল--এই ধর কয়েক মিলিয়ন, তাই না! প্রীতি যে বলল, সৌমিত্রদার কাছ থেকেই শুনেছে।'
'আউট্রেজিয়াস। তুমি কি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছ মিলিদি! মতলবটা কি তোমার?'
'আরে না না আগে তো সবটা শোন। সুপ্রতীকের অনেক গলফ খেলার বন্ধু আছে জানিস তো। তার মধ্যে একজন তোদের ডিপার্টমেন্টের ডাক্তার, রিচ গোলডম্যান না কি যেন নাম। বলল তুই নাকি কি একটা রিসার্চ প্রজেক্ট নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিস, এনকোয়ারি হবে, সাসপেনশনও হতে পারে। কি একটা নতুন ওষুধ যেটা নাকি একটু বেশি ডোজে নিলে রক্তচাপ হু হু করে বেড়ে যায়, পেশেন্টের স্ট্রোক বা হার্ট-অ্যাটাক অবধারিত।'
সঞ্জয়ের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। চাপা দাঁতের ফাঁক দিয়ে হিসহিস করে কথাগুলো বেরুল, 'আমাকে ফাঁসাতে চাইছ তাই না? ডিটেকটিভ হয়েছ? সৌমিত্রদার সাথে শোবার ইচ্ছা তোমারও ছিল বুঝি? নাহলে ওর জন্য এত দরদ কিসের? লোকটা আমার টাকা নিয়ে ব্যবসা করে আমাকেই ডুবিয়েছে কিন্তু নিজে ঠিক পিছলে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। আর আমার রিসার্চের ব্যাপারে আমি তোমার কাছে কৈফিয়ৎ দেব না। তোমাদের সব ছেনালিপনা আমার জানা আছে।'
'এই তো আসল চেহারাটা দেখা যাচ্ছে। ডঃ সঞ্জয় মজুমদার, ওই ওষুধটার নাম ক্রিবোস্ট্যাটিন তাই না? ওটার ওপর তোমার অনেক আশা ছিল কিন্তু ওই বিপজ্জনক টক্সিসিটির জন্য পুরো প্রজেক্টটাই সোজাসুজি বাতিল হয়ে যেত। মরিয়া হয়ে তুমি ডাটাগুলোকে এদিকওদিক করে, নানাভাবে জোচ্চুরি করে রিপোর্ট দাখিল করলে যাতে তোমার গ্রান্ট বজায় থাকে, প্রমোশনটাও হয়ে যায়। কিন্তু এদিকে তোমাদের রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা ডকে উঠেছে, সৌমিত্রদার সে ক্ষতি সহ্য করার ক্ষমতা থাকলেও তোমার নেই। ওদিকে তোমার জুয়াচুরিও ধরা পড়ে গেছে, চাকরি থাকবে কিনা সন্দেহ।'
'মিথ্যে কথা, সব মিথ্যে কথা' সঞ্জয় বিড়বিড় করে বলল। সৌমিত্র আগে থেকে টের পেয়ে নিজের পয়সা সরিয়ে ফেলেছিল।'
'তুমি আমাদের সাহায্য চাইতে পারতে কিন্তু তোমার অহংকারে বাধল। তুমি অপরাধের পথে আরো খানিকটা নেমে যাওয়াই ঠিক করলে। অরুণাদির কাছে তুমি প্রীতির কথা জানতে পার। সৌম্যার সন্দেহ ছিল এষার সাথে সৌমিত্রদার কিছু একটা আছে, তুমিও তার আঁচ পেয়েছিলে। সৌমিত্রদা প্রীতির সঙ্গে বিয়ের পরেই টাকাটা ফেরত চেয়েছিলেন। তুমি ভাবলে ক্রিবোস্ট্যাটিনের এই মারাত্মক সাইড এফেক্টটাকে কাজে লাগালে কেমন হয়। তাই ল্যাবের স্টক থেকে ওষুধ সরিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলে, অডিটে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জ্যামাইকার ট্রিপটা ছিল তোমার একটা বড় সুযোগ। ক্যারিবিয়ানের অপরিচিত পরিবেশে ক্রাইমটাকে লুকিয়ে রাখা যায় একটা অস্পষ্টতার চাদরে — ভূতের বাড়ি, হিস্টেরিয়াগ্রস্থ নারী আর ত্রিকোণ প্রেমের কেচ্ছায় জড়ানো পারফেক্ট মার্ডার। অরুণাদি নেই, একমাত্র ছেলে দূরে থাকে, কাগজপত্র কোথায় কি আছে কে জানে, তারপরে এইসব কেলেঙ্কারি। এসবের মধ্যে ধার শোধের ব্যাপারটা ধামা চাপা পড়ে যেত তাই না?'
'ইউ আর টু স্মার্ট টু লিভ মিলিদি।' সঞ্জয়ের মুখে বিকট হাসি। ও পায়ে পায়ে মিলির কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। এইবার ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দিতে গেল। কিন্তু তার আগেই এক ঝটকায় দরজা খুলে সুপ্রতীক ঘরে ঢুকে পড়েছে।
'এই যে ডাক্তারবাবু আরেকটা খুন করার চেষ্টায় আছো নাকি? সেদিন টুক করে সৌমিত্রদার রামে ওষুধ মিশিয়ে দিলে কিন্তু কপাল খারাপ। লোকটা কোথায় ঐসব ভুতুড়ে চেঁচামেচির সময় হার্ট অ্যাটাক হয়ে অক্কা পাবে, তার বদলে বমি করতে করতে ব্যালান্স হারিয়ে বারান্দা থেকে উলটে পড়ে গেল। অ্যানি পামার মাথায় পাঁচ ফুটের কম ছিল, যাতে ওর অসুবিধা না হয় সেইজন্য ব্যালকনির রেলিংগুলো খাটো করে দেওয়া হয়েছিল কিনা। তা সৌমিত্রদার কঠিন প্রাণ বটে, টিঁকে রইল এতদিন, ভালোও হয়ে উঠছিল একটু একটু। বাধ্য হয়ে আজ সন্ধ্যায় সেকেণ্ড ডোজটা দিতে হল তাই না? প্লীজ কাম ইন ইনস্পেক্টার আপনি তো এতক্ষণ ধরে সব কথাই শুনলেন। হিউস্টন পুলিশ তো কেসটা এখনো বন্ধ করেনি।'
'আমার ভয় করছিল।' সুপ্রতীকের কাছে সরে এসে মিলি বলল। ও উত্তেজনায় হাঁফাছে।
'আরে তুমি হলে আমাদের মহিলা ব্যোমকেশ। এরকম সূত্র সাজিয়ে সাজিয়ে অপরাধীকে ধরতে এলেম লাগে। আমাকে বিয়ে যদি না করতে তো দুনিয়ার অনেক উপকার হত, অবশ্য আমি মারা পড়তাম।' সুপ্রতীক ওকে কাছে টেনে নিল।
'আমি এই বেশ আছি বাবা। আমার এখন চিন্তা হচ্ছে বেচারা সৌম্যার জন্য, অন্য কারুর কাছে খবর পাবার আগে আমি ওর কাছে যেতে চাই।'
'একটা প্রতিজ্ঞা করছি। তোমরা মেয়েরা এই যে ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা বকবক কর, আমি আর তা নিয়ে রাগারাগি করব না। ফোনে ফোনেই এই রহস্যের সমাধান করলে কিনা।'
খোলা দরজা দিয়ে ইউনিফর্ম পরা লোকজন ঢুকছে, সঞ্জয় দুহাতে মাথা চেপে মাটিতে বসে। সৌমিত্রদা একইভাবে যেন ঘুমিয়ে আছেন, তাঁর আর এসবে কিছু আসে যায় না। বৃষ্টি-কুয়াশা ভেদ করে এইবার জানলায় দেখা দিয়েছে একফালি ভোরের রোদ্দুর।
সংগৃহীত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now