বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দাঁড়াও দাঁড়াও' চন্দন রুক্ষ গলায় বলল, 'মিলিদি তুমি কি বলতে চাইছ? আমরা গুজব ছড়াচ্ছি, না আমাদের নিয়েই গুজব ছড়ানো হচ্ছে? সত্যি কথাটা হল এই যে সৌমিত্রদাকে চিনতে আমরা ভুল করেছিলাম। ভদ্রলোকের এই অবস্থার জন্য উনি নিজেই দায়ী, হি ওয়াজ লিভিং আ ডবল লাইফ। এদিকে শিক্ষিত, অমায়িক, বাংলা সংস্কৃতির ধারক, অন্যদিকে পাক্কা ওম্যানাইজার, সংস্কৃতিচর্চার নামে পরের বৌদের সিডিউস করতে ওস্তাদ। অরুণাদির মৃত্যুর জন্য ওইই দায়ী। যা হয়েছে ভগবানের বিচারেই হয়েছে এখন ও নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই মঙ্গল। পুলিশকে আমি যা বলার বলেছি, আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু রিপিট দেম। ইন ফ্যাক্ট তুমি এসব কথা তুলবে জানলে আমি আসতামই না।' 'চন্দন প্লীজ!' ধরা গলায় এষা বলে উঠল। ওর ঠোঁট কাঁপছে, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। 'চন্দন তুই এভাবে কথা বলছিস কেন? আমরা তোর বন্ধু, তোদের হেল্প করতে চাই। কিন্তু তুই যা জানিস পুরোটা খুলে না বললে কি করি বল? তুই বুঝতে পারছিস এটা একটা সীরিয়াস অ্যালিগেশন? তাও আবার এমন একজনের ওপরে যাকে সবাই সম্মান করে, এবং যে সাংঘাতিকভাবে অসুস্থ।' সৌম্যা আহত গলায় বলল। 'সৌম্যা আমি আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তোরা আমায় মাপ কর, আমি খুব জোর ঘা খেয়েছি, আমাকে একটু সময় দে।' 'কি ব্যাপারে ঘা খেয়েছিস একটু বলবি?' 'না। খুলে আম আলোচনা করার বিষয় এটা নয়।' চন্দন এবার এষার দিকে ফিরল, 'এষা আমি কিন্তু আশা করেছিলাম যে তুমি আমাদের পারিবারিক ব্যাপারগুলোকে কনফিডেনশিয়াল রাখবে। বোঝাই যাচ্ছে তুমি রাখনি। আমাদের বোধহয় ম্যারেজ কাউনসেলারের সাথে আরেকবার বসা উচিত।' এষা এবার কান্নায় ভেঙে পড়ল। সৌম্যা, মিলি ওকে টেনে নিয়ে গেল অন্যদিকে। একটা ঝগড়া লেগে ওঠার আগেই চন্দন গ্লাসটা টেবিলের উপর নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ালো। 'আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে নাটক দেখাতে চাইনা। ভেবেছিলাম আগের দিনের মতো আড্ডা মারব কিন্তু তোমরা ঐ সুইসাইডাল লোকটা আর গডড্যামড বাড়িটা থেকে বেরোতে পারছ না। যখন পারবে তখন ইচ্ছে হলে ডেকো, কিন্তু তার আগে আড্ডা জমবে বলে মনে হয় না। এষা, আমি গাড়িতে গিয়ে বসছি, তোমার ইচ্ছে হলে এসো।' 'তুই কিন্তু বাড়াবাড়ি করছিস চন্দন।' সুপ্রতীকও এবার উঠে দাঁড়িয়েছে। 'তাই নাকি? তা কি জানতে চাও বলেই ফেলোনা। আমি সৌমিত্রকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছি কিনা। না, তবে দিইনি বলে এখন আমার আপশোষ হচ্ছে। আমি বাঙালি ভদ্রলোকের ছেলে, বেইমানি দেখলেও আমার মাথায় খুন চাপে না। শুধ রাগে, দুঃখে মাথাটা জ্বলতে থাকে। আমি বারে বসে রাম খাচ্ছিলাম, বিশ্বাস না হয় বারের লোকটা সাক্ষী আছে।' 'কিন্তু তুই ওকে ধাক্কা মারতে যাবিই বা কেন? সৌমিত্রদা তোর কি ক্ষতি করেছে?' সঞ্জয় অবাক গলায় বলল। 'ন্যাকামি হচ্ছে। তোর বৌকে জিজ্ঞেস কর? এষা নিশ্চয় তার প্রাণের বান্ধবীকে সব কিছু খুলে বলেছে। যাকে বলে ইন্টিমেট ডিটেলস।' 'বিশ্বাস কর, না। আমরা জানি তোদের কিছু একটা ক্রাইসিস যাচ্ছে। কিন্তু ডিটেলস কিছু জানি না।' 'তাহলে জানার দরকারও নেই। এনিওয়ে আমরা ক্যালিফোর্নিয়ায় মুভ করে যাচ্ছি। তোমরা সৌমিত্রকে নিয়ে আদিখ্যেতা কর আর গসিপটা পুরোনো হয়ে গেলে আমাদের কথা দয়া করে ভুলে যেও, লেট আস হ্যাভ আ নিউ বিগিনিং।' মিলি এতক্ষণ এষার কাছে বসে ছিল। এবার সোজা গিয়ে দাঁড়ালো চন্দনের মুখোমুখি। 'চন্দন তোদের মধ্যে কি হয়েছে আমার জানার দরকার নেই। তোর নামে খুনের অপবাদ দেব এটা তুই কি করে ভাবতে পারলি তাও জানিনা। তোরা যেখানেই যাস আমি সবসময় তোকে ভাইয়ের মতোই দেখব। আমার বাড়ি থেকে না খেয়ে কেউ চলে যায়নি, তোরাও যাবি না। আমার প্রস্তাব আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি।' অনেকক্ষণ বাদে সঞ্জয় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিল। ওদের শরীরদুটো চাদরের তলায় কাছাকাছি, সৌম্যা আদরের পরে গায়ে গা লাগিয়ে ঘুমোতে ভালোবাসে। এদেশের ভাষায় এই স্নাগল করার অভ্যেসটা সঞ্জয়ের ভালোই লাগে কিন্তু ওর আবার হাত পা ছড়িয়ে ঘুমানোর অভ্যাস। তাই ও অপেক্ষা করে থাকে কখন সৌম্যা ঘুমিয়ে পড়বে, তারপর আস্তে করে একটু তফাত হয়ে যায়। 'শুনছো'। অন্ধকারের মধ্যে একটা ঘুমে জড়ানো গলা। এই রে সৌম্যা ঘুমোয়নি, ও তার আগেই সরে গেছে। 'ঘুমোওনি?' 'আমি যদি অন্য কারো সাথে অ্যাফেয়ার করি তুমি কি তাকে খুন করতে চাইবে?' 'হয়তো চাইব, পারব কিনা জানিনা। রোগাপটকা মানুষ।' 'আর আমাকে কিছু করবে না?' 'তোমাকে হার্ট করা আমার পক্ষে অসম্ভব সৌম্যা। মজবুরি বলতে পার। কিন্তু রাতদুপুরে এটা কিরকম আলোচনা শুরু করলে বলোতো।' 'এষা আর সৌমিত্রদার ব্যাপারটা কিন্তু পুরোপুরি সত্যি, জানো।' 'তাই নাকি? তা তুমি কি করে জানলে?' 'এষা কনফেস করেছে। ওদের ফেয়ারওয়েলের আগের দিন। মিলিদিও ছিল। কি কেলেঙ্কারি তাই না?' পিলাই টকস--সঞ্জয় মনে মনে হাসল। যৌনমিলন মানুষকে অল্পক্ষণের জন্য সরল আর অসাবধান করে দেয়, গোপন কথা বলার জন্য ওইটাই সবচেয়ে সহজ সময়। 'আমি তো আগেই বলেছিলাম না তোমাকে। সৌমিত্রদার ওপর একটা অ্যাডমিরেশন, ভালোলাগা ওর অনেকদিন ধরেই আছে। মেয়েটা তো নরম মনের রোম্যান্টিক, কবিতা, গান এইসব ভালোবাসে, আর চন্দনটা হল গোঁয়ারগোবিন্দ, ফুটবল ফ্যান। সম্বন্ধ করে বিয়ে, ওদের মনের মিল হয়েছিল কিনা কে জানে। বাচ্চাকাচ্চাও তো হলনা, তাই নিয়ে এষার এত মনখারাপ কিন্তু চন্দন পাত্তাও দেয় না। অরুণাদি মারা যাবার পর ও প্রায়ই সৌমিত্রদার জন্য খাবার নিয়ে যেত, তারপর ওই যে একটা গানের প্রোগ্রাম হল না--' 'ওরা দুজনে দারুণ গেয়েছিল--দুঃখের তিমিরে যদি জ্বলে তব মঙ্গল আলোক, তবে তাই হোক। চন্দন বলল, গাইতে গাইতে সৌমিত্রদা কেঁদে ফেলেছিলেন।' 'ওরা নাকি পরস্পরের মধ্যে একটা ইমোশনাল আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু এটা নিয়ে দুজনেরই খুব অপরাধবোধ ছিল জান। জ্যামাইকা যাবার আগেই এ নিয়ে ওর সাথে সৌমিত্রদার আলোচনা হয়। ওরা ঠিক করে ব্যাপারটা ওখানেই শেষ করবে।'


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ১
→ সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ২
→ সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ৩
→ সাদা ডাইনির কুঠি -০৫ (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now