বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কি সৌমিত্রদা? থেকে যাবেন নাকি রাত্তিরে? মনে হচ্ছে ভূত দেখার এই সুবর্ণ সুযোগ। সৌমিত্রদা—' সঞ্জয় উত্তর না পেয়ে এদিক ওদিক তাকালো। 'আমি দেখলাম উনি দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। নিচের মাঠে ওরা ভূত সেজে কিসব নাচগান করছিল।' সৌম্যা বলল। 'চল, বাসে ফেরার আগে ডেকে নেব। নির্ঘাৎ ওই ভৌতিক বারে বসে রাম টানছে।' সুপ্রতীকের কথা শেষ হতে না হতেই অন্ধকার চিরে একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার শুনতে পেল সবাই। এষার গলা - 'হেল্প! প্লীজ হেল্প!!' পাথরে বাঁধানো উঠোনের উপর ঘাড় গুঁজে পড়ে আছেন সৌমিত্রদা, একটা পা অস্বাভাবিকভাবে কোমর থেকে মুচড়ে রয়েছে, মাথাটা রক্তে মাখামাখি, দেখলেই বোঝা যায় মানুষটা উপরের বারান্দা থেকে পড়ে গেছে। এষার পুরো হিস্টেরিয়া, দাঁতে দাঁত লাগিয়ে গোঁ গোঁ করছে, চন্দন তাকে নিয়ে ব্যস্ত। ভূতের বাড়ির ম্যানেজার ছুটে এসেছেন। সৌমিত্র অজ্ঞান, কিন্তু তখনো বেঁচে আছেন। সঞ্জয় ওঁর মাথাটাকে সাপোর্ট দিয়ে, শ্বাস চালু রাখতে চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই পুলিস আর অ্যাম্বুলেন্স হাজির হল, ঘন্টাখানেকের মাথায় ওরা সকলেই হাসপাতালে। ওদের ট্রিপ ইনসিওরেন্স করা আছে, একটু বাদেই রোগীকে মায়ামিতে এয়ার-লিফট করা হবে। ওদের ছুটি এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। 'কি বলছিস সৌম্যা? লোকটা হাসপাতালে পড়ে আছে আর তোরা ওর বদনাম ছড়াচ্ছিস।' 'যা সত্যি তাই বলছি মিলিদি। সৌমিত্রদার সঙ্গে অরুণাদির সম্পর্ক খুব খারাপ হয়ে গেছিল, বেঁচে থাকলে অরুণাদি ওকে ডিভোর্স করত। আমাকে নিজে বলেছে, সৌমিত্রদার নাকি কি একটা অ্যাফেয়ার চলছিল। এষার সাথে।' 'এসব কথা এতদিন বাদে শুনছি কেন? এখন সৌমিত্রদা নিজেকে ডিফেণ্ড করতে পারবে না বলে?' 'আসলে অরুণাদির মারা যাবার পরে সৌমিত্রদা এমন ভেঙে পড়েছিলেন যে ওই নিয়ে কথা তুলতে সবারই রুচিতে বেধেছিল। এখন মনে হচ্ছে সৌমিত্রদা হঠাৎ আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন কেন? ঐ বাড়িতেই কেন ব্যাপারটা হল? এষা বলছিল—' 'থাক থাক। এষার মতে সৌমিত্রদাকে ভূতে ঠেলে ফেলে দিয়েছে তাইতো? রিডিকুলাস' 'আমি কি তাই বললাম? আচ্ছা, তুমি সঞ্জয়ের সঙ্গে কথা বলে দেখ। অরুণাদির মেডিক্যাল রিপোর্টে কিসব গণ্ডগোল ছিল।' 'দেখ আমার ধারণা সৌমিত্রদা ডিপ্রেসড ছিলেন। সেদিন বিকেল থেকে মদ খাচ্ছিলেন। ওই বাড়ির মর্বিড পরিবেশ আর অ্যালকোহল সব মিলিয়ে ওঁর মাথায় আত্মহত্যার ঝোঁক চাপে।' মিলি কথাটা শেষ করে দিল বটে কিন্তু অস্বস্তিটা রয়েই গেল। জ্যামাইকার পুলিশ কেসটা বন্ধ করে দিয়েছে। এখানকার পুলিশ কি করছে ও জানে না কিন্তু সঞ্জয় বলছিল কোনো অপরাধ বা ফাউল-প্লে সন্দেহ করা হচ্ছে না, অ্যাটেম্পটেড সুইসাইড বলেই মনে হয়। তবুও একই পরিবারে এরকম পরপর দু-দুটো দুর্ঘটনা হলে প্রশ্ন তো উঠবেই। মিলি এক বছর আগের ঘটনাগুলো মনে মনে সাজাবার চেষ্টা করল, বিশেষ করে একটা সন্ধ্যাবেলার কথা। নিউইয়ার্স ইভ, সৌমিত্রদার বিশাল বাড়িতে খুব জোর পার্টি জমেছে। বারোটার পরে সবাই যখন কিছুটা বেসামাল, এষা সৌমিত্রদার সঙ্গে বেশ একটু ফ্লার্ট করছিল বটে। সবাই হাসছিল কিন্তু অরুণাদিকে ও দেখেছিল মুখ কালো করে এক কোণায় আড়ষ্ট হয়ে বসে আছেন। এষা একটু ন্যাকামি করে বটে কিন্তু ওর মনটা খুব ভালো আর এরকম বড় পার্টির মধ্যে এসব একটু আধটু তো হয়েই থাকে। অ্যাক্সিডেন্টের দিন অরুণাদি নাকি ড্রাঙ্ক ড্রাইভিং করছিল, যেটা একটু অস্বস্তিকর হলেও অসম্ভব কোনোমতেই নয়, ও নিজেই তো কতবার টিপসি হয়ে ফিরেছে। এসব আবোলতাবোল কথা ভাবতে ভাবতেই ও হাসপাতাল পৌঁছে গেল। 'সঞ্জয়, কেমন আছে রে সৌমিত্রদা আজকে?' 'ওই একই রকম মিলিদি। হাত পা ভাঙা, লাংস আর কিডনিতে ফুটো, ওসব বেশ তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে উঠছে কিন্তু মাথা আর ঘাড়ের ইনজুরিটাই সমস্যা। জ্ঞান ফিরলেও কোয়াড্রিপ্লেজিয়া মানে পুরো শরীরটাই অসাড় আর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কিছুদিন না কাটলে বোঝা যাবে না।' 'সঞ্জয় তোর সাথে কথা আছে। চল কাফেতে গিয়ে বসি। আচ্ছা অরুণাদির অ্যাক্সিডেন্ট নিয়ে তুই ঠিক কি কি জানিস বলতো? তোর হাসপাতালেই তো নিয়ে এসেছিল।' 'মিলিদি এসব কনফিডেনসিয়াল কিন্তু তোমাকে এটুকু বলতে পারি যে অরুণাদির রক্তে শুধু অ্যালকোহলই ছিল না, নারকোটিকও ছিল। অথচ ওঁর ওইরকম কোনো প্রেসক্রিপশন ছিল না।' 'অরুণাদি নেশা করত এটা বিশ্বাস করা মুশকিল। আচ্ছা ওদের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়েছিল কিনা শুনেছিস।' 'তুমি যা যা শুনেছো আমিও তাই শুনেছি। বাঙালি তিলকে তাল করে। কিন্তু কয়েকটা ব্যাপার খটকা লাগারই মতো। হাসপাতালে আমরা ছাড়া একটি অল্পবয়সী মেয়ে দু-একবার এসেছিল ওঁকে দেখতে। ভারতীয়, বোধহয় বাঙালি, প্রীতি সিন্‌হা না কি যেন একটা নাম, কিন্তু অ্যাকসেন্ট শুনে মনে হয় সেকেণ্ড জেনারেশন। আমরা কেউ ওকে চিনিনা। লোকের কিউরিওসিটির তো অভাব নেই, আর সৌমিত্রদাও নির্বাক, তাই অবাধে গুজব ছড়াচ্ছে। কেন জানিনা চন্দন ওঁর উপর খাপ্পা, অথচ জ্যামাইকায় যাবার আগে তো কিছু বুঝিনি। কে জানে বাবা—' 'এষাই তো ওকে পড়ে যেতে দেখেছে তাই না?' 'হ্যাঁ, তারপর থেকে ও কেমন একটা নার্ভাস ব্রেকডাউনে ভুগছে। হয়তো সেইজন্যই চন্দনের রাগ।' 'আজ সন্ধ্যায় ওদেরও ডেকেছি, কথা বলে দেখবো তখন। সৌম্যাকে বলিস তাড়াতাড়ি চলে আসতে।' 'সৌম্যা একটা কথা জিগ্যেস করছিল। এষা আর চন্দন বাসের কাছে ছিল, বাড়ির ভেতর ঢোকেনি তাইনা। অথচ সৌমিত্রদার পড়ে যাওয়াটা এষা দেখেছে বাড়িটার ব্যাকইয়ার্ডে, যেখানে স্লেভ কোয়ার্টারগুলো ছিল, সেখান থেকে। ওই দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে অ্যানি নাকি ওভারসিয়ারদের চাবুক মারা দেখত আর খিলখিল করে হাসত। তোমার মনে আছে মিলিদি আমরা যখন কবরখানার দিক থেকে দৌড়ে এলাম, চন্দন ওখানে ছিল না, ও আমাদের সঙ্গেই দৌড়ে এল কিন্তু বাড়ির ভিতর থেকে। এষার মতো ভিতু মেয়ে একলা স্লেভ কোয়ার্টারের দিকে গেছিল কেন?' 'হুঁ। ওই প্যানিকের মধ্যে আমি খেয়াল করিনি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সৌম্যা ঠিকই বলেছে। দাঁড়া দাঁড়া, চন্দনের হাতে একটা ড্রিঙ্ক ছিল না। বারে গেছিল নাকি?' 'এষাকে একলা রেখে? একটু আনলাইক চন্দন, তাই না। ও যেমন পসেসিভ ছেলে।' 'তুই কি বলতে চাইছিস?' 'কিছু না। সৌম্যা বলছিল চন্দন সেই থেকে কেমন যেন অস্বাভাবিক ব্যবহার করছে।' মিলি সৌমিত্রের ঘরে ঢুকল। গলার মধ্যে টিউব ঢোকানো, সৌমিত্রদা চোখ খুলছেন মাঝে মাঝে, কিন্তু কথা বলার প্রশ্নই আসে না। লম্বা, সুপুরুষ লোকটাকে কি অসহায় লাগছে। চারদিকে যন্ত্রপাতি, মনিটরের স্ক্রীনে নানারকম আঁকিবুকি আর সংখ্যা, সব মিলিয়ে একটা বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। মিলি ঠিক করল আজ রাত্তিরে সবার সাথে পুরো ঘটনাটা রিভিউ করবে, যত অস্বস্তিই তাতে হোক না কেন। শনিবার সন্ধ্যাবেলাটা ওদের সারা সপ্তাহে সবচেয়ে আরামের সময়। খেজুরে আড্ডা, হইচই, মদ্যপান আর দেশি সিনেমা দেখে সময়টা কাটে, মাঝে মাঝে পলিটিকস বা সাহিত্য আলোচনাও জমে বেশ। আজকে মুড আলাদা, ওরা বাচ্চাদের বেসমেন্টে পাঠিয়ে দিয়ে, বড় টেবিলটার চারিদিকে গোল হয়ে বসেছে, সকলের মুখ গম্ভীর। মিলিই কথা শুরু করল। 'আমরা সবাই অনেকদিনের বন্ধু, প্রবাসে আত্মীয়স্বজন বলতেও আমরাই। এরকম একটা দুর্ঘটনার পরে আমাদের মধ্যে কিছু কিছু প্রশ্ন বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতেই পারে। তাছাড়া আমাদের আরো বন্ধুবান্ধব আছে, সৌমিত্রদার কথা তো বলাই বাহুল্য, আমাদের হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে রোজ। এতদিন আমরাও একটা শকের মধ্যে ছিলাম। এখন মাথা ঠাণ্ডা করে সেদিনের ঘটনাগুলোর দিকে আরেকবার ফিরে দেখা দরকার। আমরা যদি আলাদা আলাদা গপ্পো বলতে শুরু করি তাহলে বাজে গসিপ আর স্পেকুলেশন ছড়াবে। এ নিয়ে লিগাল ঝামেলাও শুরু হতে পারে, আমাদের রেডি থাকা উচিত।'


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ১
→ সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ২
→ সাদা ডাইনির কুঠি পর্ব ৪
→ সাদা ডাইনির কুঠি -০৫ (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now