বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শুধু তোমায় ঘিরে (part 5)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #শুধু_তোমায়_ঘিরে #লেখিক-ইমরান খান part 5 ---মা তুমি বিশ্রাম নাও আমি তোমার পাশে শুয়ে আছি। ---আমার বুকে আসে ঈশান। ঈশান খুশি হয়ে আনিশাকে জড়িয়ে ধরে।দুজনে অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে যায়।তাসিন রুমে এসে দুজনকে দেখে হেসে দেয়। দুজনকে দেখলে কেউ বলবে না আনিশা ঈশানের মা না।তাসিন তাদের কাছে দাড়িয়ে দেখে ঈশান প্রশান্তি নিয়ে ঘুমাচ্ছে।আনিশা ঈশানকে এমন ভাবে জড়িয়ে রেখেছে যেন ছেড়ে দিলে হারিয়ে যাবে।তাসিন বই নিয়ে পড়তে শুরু করে।অবসর সময়ে বই পড়ে বলে তার রুমে অনেক বইয়ে রাখা আছে যেন ছোট একটা লাইব্রেরী। কেন জানি আজ তাসিনের বই পড়তে ইচ্ছা করছে না ঈশানীর কথা মনে পড়ছে।আনিশার চালচলনে ঈশানীর মত মনে হচ্ছে। কয়েকবছর আগে কথা তাসিন এবং ওর বন্ধুরা মিলে ঠিক করে তারা টুরে যাবে।যেই কথা সেই কাজ তারা সবাই নির্দিষ্ট দিনে সবাই এক সাথে টুরে বের হয়। তাসিনের ফ্রেন্ড সার্কেলে ছিলো নেহা,স্নেহা,ইরা,তামিম,দিহান, ইফতি।নির্দিষ্ট জায়গায় বাসের জন্য অপেক্ষা করে সবাই। বাস আসলেও ইরা এসে পৌছেনি তখনও।স্নেহা মেকাপ পাগলি সারাদিন মেকাপ করে।স্নেহা বলল, ---আরে ইয়ার ইরা এখন আসেনি কেনো?আমার সব মেকাপ নষ্ট হয়ে যাবে রোদে দাড়িয়ে থাকলে। দিহান রেগে যায় স্নেহার কথায়।ভ্রু কুচকে বলল, ----পেত্নীর মত লাগে তোকে মেকাপ করলে। ইরা হয়তো কেনো প্রবলেমে পড়েছে তাই লেট হচ্ছে। স্নেহার দিহানের কথা পছন্দ হয়নি তার উপর মেকাপ নিয়ে কটাক্ষ করেছে।তাই সে বলল, ----আমার জন্য কত ছেলে পাগল জানিস? ---জানিস সব পাবনার পাগল তোর উপর ক্রাশ খায়।ভালো ছেলে দেখলে বমি করে দিবে।যেমন আমরা করি। ---দিহান আজ তোর খবর আছে? তাসিন দেখলো ব্যাপারটা অন্য দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে।তাসিন তাই ওদের থামাতে বলে।তাসিনের কথায় তারা থেমে যায় কারণ তাসিনের রাগকে খুব ভয় করে।বাকি সবার পরিচয় দেই নেহা ফোন পাগলি সারাদিন বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে।তামিম সারাদিন বই পড়ে বই পড়ার সময় আশেপাশে কি হচ্ছে তার দিকে খেয়াল নেই।রাস্তা হাটতে হাটতে বই পড়ে তাই অনেকবার আছাড়ও খেয়েছে।ইফতি শুধু লিখে রাখে কে কি করছে?দিহান স্নেহা এবং নেহার পিছনে সারাদিন লেগে থাকে।তাসিন সবাইকে কন্ট্রোল করে। , কিছুক্ষন পর ইফতি একটা বড় চার্ট তাসিনের হাতে ধরিয়ে দেয়।ইফতি বলল, ----ভাই পড়। তাসিন পড়ে রেগে যায়।বলল, ----ছাগল এসব কি লিখেছিস? দিহান বলল, ---কি লিখছে তাসিন পড়তো? তাসিন পড়তে শুরু করে, ---সকাল থেকে স্নেহা দশবার মেকাপ করেছে,নেহা ওর পাঁচটা বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলেছে প্রথমটা পনের মিনিট,দ্বিতীয়টা আট মিনিট,তৃতীয়টা বারো মিনিট,চতুর্থটা দুই মিনিট,শেষেরটা চলতে আছে পরে লিখব।তাসিন স্নেহাকে পাঁচবার বকা দিয়েছে, দিহান স্নেহা এবং নেহার সাথে পঁচিশবার ঝগড়া করেছে,তামিম বইয়ের ৪৮ পৃষ্ঠা পড়েছে আর চোখের পানি মুছছে। তাসিন ঘড়ির দিকে আঠারোবার তাকিয়েছে। ছাগল এসব কি লিখেছিস? ---ভাই তোমরা যা করেছ তাই লিখছি। ---তাসিন সরে যা ওর আমি বারোটা বাজাব। তামিম ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে সবার দিকে।স্নেহা নেহা বিষয়টা নোটিশ করে।নেহা বলল, ---তামিম কাঁদছিস কেনো? ----আ আ আ আ আ। ---কি হয়েছে বল? ----উপন্যাসে দেখ নায়কটা আরেকটা বিয়ে করেছে। মন খারাপ করে তামিম উত্তর দেয়।সবাই ওর কথা শুনে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।তাসিন বলল, ---এতে কান্নার কি আছে? ----জানিস নায়িকার খুব কষ্ট। ----শালা তোর বউয়ের তো কষ্ট হচ্ছে না?এতে কান্না করার কি আছে।এটা বই বাস্তব না। ---বই তো কি হয়েছে কষ্টের কথা লেখা আছে তো? ইরা এমন সময় হাপাতে হাপাতে আসে সাথে একটি মেয়েকে নিয়ে। ---সরি আমার একটু লেট হয়ে গেলো। ইরা ঘুমপাগলি বলে সবসময় দেরী করে আসে।নেহা বলল, ---একটু না পুরো দেড় ঘন্টা লেট করে এসেছিস।তোকে না আগে বলেছি দেরী করে আসবি না। ---আমি তো আগে আসতে চেয়েছিলাম বাট বাড়ির সবাই এক আত্নীয় এর বিয়ে হচ্ছে সেখানে যাচ্ছে।তাই ঈশানীকে নিয়ে আসলাম সাথে করে।ও বিয়ে বাড়িতে যাবে না ওকে কি একা রেখে আসব বাড়িতে? ---না এনেছিস ভালো করেছিস ঈশানী তোর কে হয়? ---আমার কাজিন। দিহান তো ঈশানীকে দেখে ক্রাশ খায়।বলল, ---ইরা আমি তোর কাজিনের উপর ক্রাশ খাইছি। ---লাভ নাই ওর বিয়ে আমরা ঠিক করে রেখেছি ডক্টরের সাথে। তাসিন বলল, ---চল সবাই এমনিতে অনেক দেরী হয়ে গেছে। স্নেহা ঈশানীকে সহ্য করতে পারছে না। ঈশানীর গায়ের রং দুধে আলতা,চুল লম্বা,মায়াবী চোখ। সবার চেয়ে ঈশানীকে সুন্দর লাগছে ইরা ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়লেও ঈশানী সাধারন থ্রীপিছ পড়েছে মুখে কোনো সাজ নেই তবু সব সৌন্দর্য মনে হয় ঢেলে দিয়েছে।ঈশানী সবার সাথে এক এক পরিচয় হয়।এরপর সবাই বাসে উঠে বসে।ঈশানী বাসে উঠতে গেলে স্নেহা পিছন থেকে জুতো পা দিয়ে চেপে ধরে।যার ফলে ঈশানীর তাসিন সামনে ছিলো ওর গায়ে পড়ে।তাসিন ঈশানীকে দাড় করিয়ে দেয়।বলল, ---আপনি ঠিক আছেন? ---হুম।ধন্যবাদ ----স্নেহা এখন আমি না ধরলে কি হত জানো? ----সরি তাসিন আমি দেখতে পাইনি। ঈশানী দেখে ওর জুতো একটা ছিড়ে গেছে।বিব্রত কর অবস্থায় পড়ে যায়।এক্সট্রা জুতো নিয়ে আসেনি আবার বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব না। এতক্ষন বাড়ির সবাই বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।ঈশানী মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।তাসিন বলল, ---আমাদের সাথে চলুন কক্সবাজারে গিয়ে নতুন জুতো কিনে নিবেন। ---কিন্তু এভাবে? ---কোনো কিন্তু না ইরা তোর কাজিনকে ছেড়ে আগে কেনো বাসে উঠে বসেছিস? ইরা তাসিনের ডাক শুনে বাস থেকে নেমে ঈশানীকে নিয়ে বাসে উঠে।সবাই ঈশানীকে বলে এসব নিয়ে চিন্তা না করতে।নেহা ইরা তো নিজেদের জুতো খুলে ঈশানীকে দিতে চাইলো বাট ঈশানী হাই হিল পড়তে পারেনা তাই সে নিলো না। বাসের জানালার পাশের সিটে বসে পড়ে। তাসিন দেখে সব সিট ব্লক খালি ঈশানীর পাশে ছাড়া। ইরা জানালার পাশে ছাড়া বসলে ওর মাথা ব্যাথা করে শুধু ওর না স্নেহা বাদে ঈশানী নেহারও।স্নেহা ঈশানীকে দেখে জ্বলছিল তাই ঈশানীর পাশে না বসে ইরার কাছে বসেছে। তাসিন ঈশানীর পাশে বসে পড়ে।ঈশানী কাচুমাচু করে সরে গিয়ে বসে।তাসিন বলল, ---আপনার সমস্যা হলে আমি অন্য জায়গায় গিয়ে বসি? ---না তেমন কিছু না আমার পাশে ছেলে বসেনি কোনোদিন তাই নার্ভাস লাগছে। ---বসেনি না বসতে দেন নি? ----বসতে দেই নি। ---তাহলে আমি উঠে যাই? ---সমস্যা নেই আমার পাশে বসুন।আমি ইরা আপুর কাছে শুনেছি আপনি বাকি সব ছেলেদের মত না। মেয়েদের সম্মান দেন। ---আর কি বলেছে ইরা? ---অনেককিছু অন্য একদিন বলব। ঈশানী জানালা দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তাসিন কানে হেড ফোন লাগিয়ে দিয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যায়।বাস তার আপন গতিতে চলতে থাকে। চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শুধু তোমায় ঘিরে (part 3)
→ শুধু তোমায় ঘিরে (part 4)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now