বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছোটবেলা থেকেই আমার প্রাণীদের অদ্ভুদ একটা টান ছিল।দুর্ভাগ্যবশতো আমাদের বাসায় কোনো প্রাণী ছিল না। কিন্তু নানু বাড়িতে ছিল সব ধরনের পোষা প্রাণী।সেখানে আমি অনেক
বন্ধু পেলাম বিড়াল,পাখি,কুকুর। কুকুর টা নানু বাড়িতে থাকতো না। কোথায় থাকতো জানি না কিন্তু প্রতিদিন একটা সময় আসতো। এলে আমি ওকে খাবার দিতাম।পাখিটার নাম ছিল রিহাদ, আর পাখিটা সবসময় আমাকে ডাকতো । নানু আমায় আদর করে তাহি বলে ডাকতেন , আর নানু আমায় ডাকতেন তখন ওআমায় তাহি তাহি তাহি বলে পাগল করে দিত । একটা বিড়াল ছিল খুব সুন্দর সাদা রঙের, যে কেউ একে ভালোবেসে ফেলবে। নাম ছিল মিনু ছোটমণি নামটা দিয়েছিলেন। আমি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম পরিক্ষা শেষে নানু বাড়িতে গিয়েছিলাম। ওর একটা বাচ্চাও আছে আমি নাম দিয়েছিলাম বিল্লু।
জানি না কেন আমার ওকে বিল্লু ডাকতেই অনেক ভালো লাগতো। আমি হাত দিয়ে ধরতে পাড়তাম না ভয়ের কারণে। মামু বললেন ও এখনো ছোট আমি ওকে ধরলে আমাকে কামড়াবে না।আমি বিল্লু সব সময় খেলা করতাম এর জন্য অনেক বকাও খেয়েছি। এভাবে দুই মাস চলে গেল। আমার স্কুল খুলে যাবে কিছু দিন পর । মা ফোন করে মামুকে বলল আমাকে বাসায় নিয়ে যেতে।ওদের রেখে আসতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। দুইদিন পর মামু আমি বাসায় চলে গেলাম। বিল্লুর কথা খুব মনে পড়তো। আমার পরিবারে কেউ প্রাণীদের পছন্দ করতো না জানি না কেন। কিন্তু আমার মবে হচ্ছিল এটা আমার জগৎ না ঐ প্রাণীদের জগৎ আমার অনেক জগৎ বলে মনে হচ্ছিল। আমি বাসায় এসে কিছুতেই কোনো কাজে মন বসাতে পারছি না শুধু ওদের কথা মনে পড়তো। হয়তো ওদেরও আমার কথা মনে পরতো কিন্তু প্রকাশ করতে পারতো না। প্রায় দশ দিন হয়ে গেল। হঠাৎ রাত ১০ টায় ফোন আসে আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি মামু ফোন করেছে আমি তারাহুরো করে ফোন ধরলাম আর যটা শুনলাম সেটা বিনা মেঘে বজ্রপাত থেকে কম নয় রিহাদ আর এই পৃথিবী নেই । এটা শুনার পর আমার কান্না কে দেখে। মা, ভাইয়া,আপি আমাকে শান্তনা দিলেন তাতে ও কিছু হলো না আমি বললাম আমি রিহাদ কে দেখব আমাকে নিয়ে চলো। ভাইয়া বলল এখন যাওয়া যাবে না ভাইয়া ভিডিও কল দিয়ে রিহাদ কে দেখালেন। নানু বললেন ও আমি যাওয়ার পর থেকে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করেনি, যার ফলে ও অসুস্থ হয়ে যায়। আমি একথা শুনার পর আবার কান্নায় মগ্ন হয়ে যাই। মামু বিল্লু কে নিয়ে আমাদের বাসায় আসেন আমি স্কুলে ছিলাম। যখন বাসায় ফিরে দরজায় কলিং বেল বাজালাম তখন মামু দরজা খুলেদিলেন আমি মামুকে সালাম দিয়ে আমার রুমে যাব তখন অনুভব করলাম কেউ আমার পায়ের কাছে ঘুর ঘুর করছে আর মিও মিও মিও করছে নিচে তাকিয়ে আমি থো হয়ে গেলাম বিল্লু বলে ওকে কোলে নিলাম । সত্যি সেই মুহূর্ত আমার মনে হয় পৃথিবীর সব থেকে সুখী ব্যক্তি আমি।
বিকালে আমি বিল্লু ছাদে গিয়ে অনেক মজা করতাম। বিল্লু আমায় ওকে কোলে নেওয়ার জন্য কতো আকুতি মিনতি করতো। পড়তে বসলে এক লাফ দিয়ে আমার কোলে। ওর ভালোবাসা আমায় শেষ করে দিবে .... আল্লাহর কাছে আমার একটা মিনতি বিল্লু যেন আমার কাছে সব সময় থাকে। মানুষ বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পারে কিন্তু পোষাপ্রাণী করে না। আমার বাবা সবসময় আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব।বাবা লন্ডনে থাকতেন কিন্তু তবুও সবসময় আমাকে সাপোর্ট করতেন। সবার ছোট হওয়া আমার গুরুত্ব সবথেকে বেশি ছিল।এভাবে তিন বছর কেটে গেল। এটাই আমাদের হ্যাপি ফ্যামেলি। কিন্তু হয়তো কারো নজর লেগে গিয়েছিল। বিল্লু হঠাৎ করেই খুব শান্ত হয়ে গেল খাওয়া -দাওয়া করত না আমার সাথে খেলতো না শুধু বসে থাকতো কিছু দিন পর বিল্লু মৃত্যু শয্যা ঢলে পরলো। তখন আমার কান্না দেখে প্রতিবেশিরা জরো হয়ে গেল। কেউ আমার কান্না দেখে হাসছে আর কেউ আমাকে শান্তনা দিচ্ছে।একদিন সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হবে এটাই জীবন........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now