বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরদিন সকালে রুহির ঘুম ভাংগল,
রুহি ঘুম থেকে জেগেই জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো।
জয় রুহির পাশে হাত ধরে বসে বসে ঘুমোচ্ছিল
জয় রুহির চিৎকার শুনে ঘুম থেকে চমকে উঠল।
জয়ঃ রুহি, রুহি.... কি হয়েছে...???
রুহিঃ আরে জয় দেখ না আমার পেটে কি জানি নাড়া চাড়া করছে।
রুহির কথা শুনে জয়ের মন খুশিতে ভরে গেল,
আর ভাবতে লাগল রুহি আমাকে তুই করে বলছে মানে রুহির সব মনে পড়ে গেছে?আবার চিন্তা করল,মনে যদি পড়েই থাকে তাহলে এত খুশি কি করে? আদির কথা মনে করে তো অস্থির হওয়ার কথা।
জয়ের ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে রুহি জয়ের হাত ধরে বলল কি রে দেখ না।
জয় কিছু বোঝার আগেই রুহি জয়ের হাত টেনে নিয়ে নিজের পেটের উপড় রাখল।
জয়ঃ আরে রুহি শোন, শোন কি করছিস?
জয় অপ্রস্তুত ভাবে রুহির পেটে হাত রাখলেও সে অনুভব করল রুহির বাচ্চা পেটের ভিতর নড়াচড়া করছে।বাচ্চার স্পর্শ পেয়ে জয়ের মধ্যে এক অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করছে বাচ্চাটার নাড়া চাড়া তার মনকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে।জয় এক অজানা ঘোরের মত ঢুকে গেল তার মনে হচ্ছে বাচ্চাটা যেন তার খুব আপন কেউ। আর আপজনের প্রথম স্পন্দন অনুভব করছে।
রুহিঃ আমার কি মনে হয় জানিস জয়, পেটের মধ্যে ব্যাং ঢুকেছে
রুহির কথায় জয় বাস্তবে ফিরল,
জয়ের হাসি যেন আর থামছে না। একমনে হেসে যাচ্ছে।২ বছর ধরে জমিয়ে রাখা হাসি যেন একবারে হেসে ফেলছে।
হাসতে হাসতে জয় বলতে লাগল রুহি কি বল্লি আবার বল প্লিজ...
রুহি রেগে গিয়ে বলল তুই থামবি....আমি ব্যাথায় মরে যাচ্ছি আর তুই হাসছিস।
আহ মাগো কি জোরে জোরে নড়ছে, এটা নড়ছে নাকি লাথি মারছে কে জানে।কিছু একটা কর।
জয় এবার নিজের ইচ্ছায় রুহির পেটে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল এখানে আমার একটা আমানত রেখেছি।তোকে সবচেয়ে বেশি ভরসা করি তাই তোর কাছে রেখেছি।
রুহিঃ আমানত রেখেছিস তাও পেটের ভিতর সেটা আবার লাথিও মারে
কি আজব ব্যাপার, তুই কি যে বলতেছিস কে জানে
জয়ঃ আমার জন্য পাড়বি না এইটুকু সহ্য করতে?
রুহিঃ তোর জন্য তো সব করতে পাড়ি।কিন্তু এটা খুব হারামি খালি লাথি মারে।তোর চেয়েও বেশি হারামি।
জয়ঃ আচ্ছা এবার থেকে যতবার কিক করবে তুই গুনে রাখিস,তুই আমাকেও ততবার মেরে দিস।
রুহিঃ এটা কোন শর্ত হল নাকি তোকে মেরে আমার কি লাভ হবে?তার চেয়ে বল যতগুলি কিক করবে ততগুলি গিফট দিবি।
জয়ঃ আচ্ছা দিব।
রুহিঃ সাথে আদরো করতে হবে।
জয়ঃ তাও করবো।
লিজা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে এসব দেখছে আর রাগে ফুসছে।
লিজা রাগে গজ গজ করতে করতে মনে মনে বলতে লাগল, নিজের বাচ্চার নামে খবর নাই আর অন্যের বাচ্চার জন্য দরদ উতলে উঠছে।
বাচ্চা হয়নি এখনো তাও যে আদর এই বাচ্চা জন্ম নিলে কি হবে কে জানে।
রুহিঃ এখনি অনেকবার কিক করেছে তার বদলে আদর কর।
জয় রুহির মাথায় তার বুলিয়ে দিয়ে রুহিকে জড়িয়ে ধরে বলল আমি আজ খুব খুশি রুহি।
রুহিঃ আহ.... কি করছিস জয়?
জয়ঃ কি করলাম।
রুহিঃ ব্যাথা পেলাম মনে হল।
জয়ঃ কোথায়?
রুহি এবার নিজেকে ভাল করে খেয়াল করল।
তারপর বলল জয় আমার শরিরে এত ব্যাথা কেন? আর এই কাটা ছিড়ার দাগ গুলিই বা কোথা থেকে আসল? কার এত সাহস হল যে রুহির গাঁয়ে হাত তুলল? কখনি বা মারল কিছু মনে পড়ছে না কেন? রুহি আবার অস্থির হয়ে পড়ল।মাথায় হাত দিয়ে বলল মাথা যন্ত্রনা করছে।
জয় বোঝে গেল তারমানে রুহির সবকিছু মনে পড়ে নি(মনে মনে)
রুহি থাম থাম....কেউ মারে নি আমরা প্রেকটিস করতেছিলাম তুই আমার সাথে পাড়িস নি তাই মার খেয়েছিস।
রুহিঃ কি বললি আমি পাড়ি না? দাঁড়া এবার তোকে দেখাচ্ছি আমি পাড়ি কিনা।বলে জয়কে ধরতে গেল।
জয়ঃ ধরতে পারলে তো মারবি বলেই দৌড়।
রুহিও পিছন পিছন ছুটছে,
রুহিঃ একবার হাতের কাছে পাই দেখিস তোর কি অবস্থা করি।
জয় হাসছে আর সারা বাড়ি ঘুরছে।জয়ের হাসিতে পুরু বাড়ি মুখরিত হয়ে উঠল জয়ের হাসিতে যেন মুক্ত ঝরছে।
বাড়ির সব কাজের লোকেরা মুগ্ধ হয়ে জয় আর রুহির দিকে তাকিয়ে আছে।কারন জয় এতদিন মন মরা হয়ে থাকত।
জয়ের মা এই দৃশ্য দেখে খুশিতে কেঁদেই দিলেন।
আর মনে মনে বলতে লাগলেন রুহি আমার বাড়ির আপদ না, ও আমার ঘরের লক্ষি বাড়িতে পা রাখতে, না রাখতেই বাড়িটা যেন প্রান ফিরে পেয়েছে।
কতদিন জয়কে হাসতে দেখি নি।লাস্ট কবে জয়কে হাসতে দেখেছি ভুলেই গেছি,ভেবেছিলাম জয় মনে হয় হাসতে ভুলে গেছে আর এখন দেখি ছেলের মুখের হাসি থামছেই না।
জয়ের মা মনে মনে দোয়া করলেন খোদা তুমি রুহিকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রেখো।
এদিকে রুহি হঠাৎ করে থেমে গেল।
অগ্নিমুর্তি হয়ে জয়ের দিকে তাকাল,
জয়ঃ বেবে ডলের আবার কি হল ধরতে না পেড়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে নাকি?
রুহিঃ মুটেও না.... তোকে ধরা রুহির কোনো ব্যাপার নাকি শুধু একবার বল্লে নিজেই চলে আসবি সেটার জন্য রাগি নি।
জয় পানি খেতে খেতে বলল তাহলে চেতেছিস কেন?
রুহিঃদেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল এই দেয়ালে তোর আর আমার ছবি ছিল জয়,
সেগুলি কোথায়?
রুহির কথা শুনেই জয়ের হাত থেকে পানির বোতলটা পড়ে গেল।
জয় কি বলবে বোঝতে পাড়ছে না তাই আমতা আমতা করে বলল রররর...রুহি আমার কথা শোন।
রুহি সামনে থাকা ফুলদানি টা হাতে নিয়ে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাটিতে ছুড়ে মেরে বলল হ্যা বল আমি শুনছি তো।
ফুলদানির হাজার টুকরা হয়ে যাওয়া প্রমান করে দিল রুহি কতটা রেগে গেছে।
জয়ের মুখের কথা আটকে গেছে কি বলবে বোঝতে পাড়ছে না।
জয় কিছু বলার বা বোঝার আগেই,
রুহি হাত মুট করে নিজের পেটে জোরে আঘাত করলো। ব্যাথায় নিজেই মাগো বলে মাটিতে বসে পড়ল।
জয়ঃরুহি.......!!! দৌড়ে এসে রুহিকে ধরে বলল কি করলি এটা।
রুহি মুখ তুলে বলল তোর কাছে যদি আমার আমানতের মুল্য না থাকে তাহলে আমিই বা তোর আমানতকে রক্ষা করি কি করে?
জয়ঃ তাই বলে নিজেকে কষ্ট দিবি?
রুহিঃতোকে সারাদিন পিটালেও তুই এত কষ্ট পেতি না যতটা এখন পেলি(মনে মনে)
জয়ঃ রুহি তুই এখুনি পাগলামি টা ছাড়তে পারলি না?
রুহিঃ কি করব বল রুহি ক্ষমা করতে শিখলেও তোর বানানো লেডি ডন যে ক্ষমা করতে শিখে নি।এমন কি তার জয়কেও সে ক্ষমা করতে পাড়ে না।
ছাড় আমায় বলে রুহি উঠে যেতে চাইল।
এদিকে লিজা রুহির এই অবস্থা দেখে বেশ আনন্দ পেল।
এবার লিজা রুহির সামনে এসে দাঁড়াল,
রুহি লিজাকে দেখে অবাক হয়ে বলল,জয় ইনি কে?
জয় কিছু বলল না।
লিজাঃ আমি জয়ের বউ.....
রুহিঃ বাহ বাহ বেশ ভালতো জয় আমায় না জানিয়ে তুই বিয়েও করে নিলি?
তুই না আমায় বলেছিলি তুই আমার পছন্দে বিয়ে করবি?অনেক বড় হয়ে গেছিস তুই তাই না।
ভাল।
রুহি জয়ের হাত থেকে একটা ব্রেসলেট খুলে নিল তারপর লিজাকে পড়িয়ে দিয়ে বলল তোমাকে খুব চিনা চিনা লাগছে কোথায় যেন আগেও দেখেছি।
যাই হোক প্রথমবার বউ এর মুখ দেখলাম,খালি হাতে কি করে দেখি কিন্তু আমার কাছে এখন আপাদত কিছু নেই তুমি এখন এটা নাও একটু পর বের হয়ে তোমার জন্য গিফট নিয়ে আসব কেমন।রুহি সাভাবিক ভাবে কথা বললেও,
যারা রুহিকে চিনে সবাই বোঝতে পাড়ছে রুহি মন খারাপ করেছে কারন,রুহি যখন কষ্ট পায় তখনি শুধু এভাবে শান্ত গলায় কথা বলে তা না হলে সবসময় হাসতেই থাকে।
রুহি এবার জয়ের দিকে তাকিয়ে বলল আশাকরি তোর কোন আপত্তি নেই কারন ব্রেসলেট টা আমিই তোকে দিয়েছিলাম।
বলে রুহি উপড়ে যেতে লাগল
জয়ঃ রুহি শোন আমার কথাটা একবার শোন প্লিজ....
রুহিঃ তুই এখন আমার পিছন পিছন আসলে আমি নিজের কি অবস্থা করব তুই সেটা ভাল করেই জানিস জয়, তাই এটাই ভাল হবে তুই এখানেই থাক। রাগি লুক নিয়ে বলল।
জয় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেল।
এদিকে লিজার মন আনন্দে ভরে গেল।
লিজাঃ বাহ রুহি তুমি নিজেই নিজের উইক পয়েন্ট বলে দিলে তারমানে জয় তোমাকে কষ্ট দিলে তুমি নিজের ক্ষতি করবে।তাহলে তো আগুনে ঘী ঢালতেই হয়।তোমাকে এখান থেকে বের করতে আমার প্রধান হাতিয়ার হবে জয়।
আমায় আর আটকায় কে।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা
,
,
,
চলবে...!!!!
(এখানে যা যা ঘটল তা বাস্তবে ঘটা সম্ভব নয় কিন্তু আমার কল্পনায় সম্ভব তাই নেগেটিভ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন)
#লেডি_ডন
#পার্টঃ8
#লেখিক..Imran khan
রুহিঃজয়, তুই এখন আমার পিছন পিছন আসলে আমি নিজের কি অবস্থা করব তুই সেটা ভাল করেই জানিস, তাই এটাই ভাল হবে তুই এখানেই থাক। রাগি লুক নিয়ে বলল।
জয় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেল।
এদিকে লিজার মন আনন্দে ভরে গেল।
লিজাঃ বাহ রুহি তুমি নিজেই নিজের উইক পয়েন্ট বলে দিলে তারমানে জয় তোমাকে কষ্ট দিলে তুমি নিজের ক্ষতি করবে।তাহলে তো আগুনে ঘী ঢালতেই হয়।তোমাকে এখান থেকে বের করতে আমার প্রধান হাতিয়ার হবে জয়।
আমায় আর আটকায় কে।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা
,
,
,
বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষা করে, জয় রান্না ঘরে গেল।
লিজাঃ তুমি রান্না ঘরে কি করছো....???
জয়ঃ রান্না করব তাই এসেছি...
লিজাঃ তোমার রান্না করতে হবে কেন খালা তো আছে।
জয়ঃ না খালার রান্নায় হবে না।রুহি এখন কিছু খাবে না কিন্তু যদি আমি খাবার বানাই, আমার কষ্ট হয়েছে ভেবে হয়ত খেয়ে নিবে।
লিজাঃ যতসব আদ্যিকেতা (মনে মনে)
জয় ঝটপট ২ টা টোস্ট সাথে ডিমের অমলেট আর ১ গ্লাস দুধ নিয়ে রুহির ঘরে গেল।
রুহিঃ এই এই এই তুই পারমিশন ছাড়া ঘরে ঢুকলি কেন?
জয়ঃ তোর কাছে এসেছি নাকি?
রুহিঃ এই ঘরে আমি ছাড়া আছেই বা কে?
জয়ঃ আছে আমার আমানত আছে।
রুহিঃ মানে কি জয়?আচ্ছা নিচে শুনে আসলাম তুই বিয়ে করেছিস ওই মেয়েটা তোর বউ আর এখানে এসে বলছিস তোর আমানত....
এই বাচ্চাটা আসলে কার জয়?
আমার হয়ত কিছু কিছু বিষয় মনে নেই তাই বলে আমি পাগল নই।
বাচ্চাটা কার জয় জবাব দে....প্রথম ভেবেছিলাম বাচ্চাটা হয়ত তোর আর আমার যেহেতু তর আমানত বলেছিস। কিন্তু পড়ে ভেবে দেখলাম এটা অসম্ভব আর আমার বিয়ে হয়েছে বলে তো আমার মনে পড়ছে না তাহলে কি আমার সাথে খারাপ কিছু ঘটেছিল?
জয়ঃ খারাপ কিছু ঘটলে কি আমার আমানত বলতাম? সময় হলে সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবি এখন শুধু শুধু মাথায় এত চাপ দিস না কেমন?আর শোন এই বাচ্চাটা জয়ের কাছে রুহির চেয়েও বেশি প্রিয় বোঝেছিস?
রুহিঃ না বোঝিনি বোঝিয়ে বল....
জয়ঃ পারব না। খালি পেচাঁস কেন? পড়ে সব বলব বলছি না?
রুহিঃ আচ্ছা।
জয়ঃ এখন বল রাগ কমেছে?
রুহিঃ আমি রাগ করি নি,বাচ্চাটার বিষয়ে টেনশান হচ্ছিল তাই হয়ত একটু বেশি রিয়েক্ট করে ফেলেছি।
জয়ঃ হুম আমি জানতাম আমার বিয়ের ব্যাপারে তুই রাগ করতেই পারিস না।
রুহিঃ দূর আমি কি তর গার্লফ্রেন্ড নাকি যে রাগ করব?বিয়ের ব্যাপারে আমার কোন রিয়েকশান নেই, ছবির ব্যাপারে খারাপ লাগছিল পড়ে যখন শুনলাম বিয়ে করেছিস তখন রাগ কমে গেল।এটাতো ঠিকি কোন মেয়েই চাইবে না তার জামাইয়ের সাথে অন্যমেয়ের ছবি থাকুক তাও সারা দেয়াল জুড়ে।
জয়ঃ আমি জানি রুহি কেউ আমায় না বোঝলেও তুই বোঝবি।
রুহিঃতুই এখন আর রুহির না বলা কথা গুলি বোঝিস না তাই না রে জয়? আমি কতটা কষ্ট পেয়েছি তুই বোঝতে পাড়ছিস না মুখের কথাগুলিই বিশ্বাস করছিস(মনে মন)
জয়ঃ এখন আয় খেয়ে নে প্লিজ...
রুহিঃ খেতে ইচ্ছা করছেনা...
জয়ঃআমি বানিয়েছি রুহি
রুহিঃ দিলি তো দুর্বল করে?
জয়ঃ সত্যি আমি বানিয়েছি।
রুহিঃ আচ্ছা রেখে যা আমি খেয়ে নিব।
জয়ঃ আমি খাইয়ে দেই?
রুহিঃ তোর বউ দেখলে খারাপ ভাব্বে
জয়ঃ খারাপ ভাব্বে কেন আমরা কি প্রেম করছি নাকি? আমি তো আমার আমানতের খেয়াল রাখছি।
রুহিঃ লাগবে না আমি নিজেই খাব।
জয়ঃ আমার সামনেই খা তাহলে...
রুহিঃ আহ জয় কেন ঝামেলা করছিস?আমি কি বাচ্চা নাকি?ক্ষুদা লাগলে নিজেই খাব, ভাল লাগছে না এখন তুই যা।
জয়ঃ হুম বোঝেছি,
ঠিক আছে চলে যাচ্ছি।খালা না হয় তোকে পড়ে খাবার বানিয়ে দিবে আমি এগুলো নিয়ে যাচ্ছি।
রুহির বোঝতে বাকি রইল না জয় কষ্ট পেয়েছে,
রুহিঃ দাড়াঁ হারামি,আর গাল ফুলাতে হবে না।জয়ের কাছে গিয়ে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে আদুরি গলায় রুহি বলল দে খাইয়ে দে।
জয়ঃ আমার লক্ষিটা....হা কর।
,
,
,
জয় গল্প করতে করতে রুহিকে খায়িয়ে দিল,রুহি নিজেও খেল মাঝে মাঝে জয়কেও খাইয়ে দিল।
জয়ঃ নে এবার দুধটা খেয়ে নে।
রুহিঃই ই ই ছি....এটা সরা জয় আমি এটা খাব না।
জয়ঃ এতক্ষন তো নিজের জন্য খেলি এবার আমার আমানতের জন্যেও একটু খা।বলেই জয় রুহির মুখে দুধ তুলে দিল।
রুহি আর কিছু বলার সু্যোগ পেল না।দুধ মুখে দিতেই রুহি গা গুলিয়ে উঠল আর সাথে সাথেই
বমি করে জয় কে মাখিয়ে দিল।
জয়ঃঅস্থির হয়ে বলল, রুহি কষ্ট হচ্ছে...???
রুহিঃ পেটে চেপে ধরে অভিমানি কন্ঠে বলল হুম।
জয়ঃ এই সময় এমন একটু হয়। একটু সহ্য কর প্লিজ।চল চোখে মুখে পানি দিয়ে দেই ভাল লাগবে।
রুহিঃ যেতে পাড়ছি না কষ্ট হচ্ছে...
জয় রুহিকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে দিল আর বলল যা এখন একটু রেস্ট নে তাহলেই ঠিক হয়ে যাবে।
রুহি আস্তে আস্তে চলে গেল রুহির মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সে ঘাবড়ে গেছে।
জয়ঃরুহি নিজেই তো এখনো বাচ্চা এর আবার বাচ্চা কিভাবে হবে আল্লাহ জানে।
জয় রুহির রুম থেকে বের হতেই লিজা জয়ের অবস্থা দেখে বলল ছি কি অবস্থা তোমার গা ঘিন ঘিন করছে না?
জয় হেসে উত্তর দিল না করছে না মন থেকে ভালবাসলে তার কোন কিছুকেই কখনো ঘৃনা করা যায় না।
লিজাঃএই ভালবাসা কতক্ষন ধরে রাখতে পাড়ো সেটাই দেখব। (মনে মনে)
জয় ফ্রেশ হয়ে নিচে বসে মোবাইল টিপছিল, হঠাৎ রুহি এসে বলল জয় কার্ড দে শপিং করতে যাব আর শোন মাকে ফোন করে বলিস তো খাবার পাঠাতে মার হাতে অনেক দিন খাইনি।
জয় অবাক হয়ে ভাবতে লাগল মামা মামি মারা গেছে রুহি সেটাও ভুলে গেছে?(মনে মনে)
রুহিঃ কিরে মুখটা পেঁচার মত করে আছিস কেন কার্ড দে।
জয়ঃ না কিছুনা আচ্চা শুন আমিও যাই তোর সাথে।
রুহিঃ না তোর বউ এর গিফট কিনতে যাচ্ছি তুই দেখে নিলে মজা শেষ হয়ে যাবে।
রুহি বেরিয়ে গেল,কিন্তু বাড়ির সামনে রাস্তায় এসে একবার ডানে আবার বাম দিকে থাকাচ্ছে।
পিছন থেকে জয় এসে বলল থেমে গেলেন কেন ম্যাম?
রুহিঃকোন দিকে যাব সেটাই বোঝতে পাড়ছি না বাড়িটার কথা ত মাথায় আছে কিন্তু শপিংমল টা জানি কোন দিকে?
জয়ঃ হুম বোঝেছি,বাইকের পিছনে উঠ শপিং মলে নামিয়ে দিয়ে আসি প্রমিজ নামিয়ে দিয়েই চলে আসব।
রুহিঃ ঠিক তো?
জয়ঃ পাক্কা....
রুহি রাজের পিছনে বসে রাজকে জড়িয়ে ধরে বসল।জয় রুহিকে মলে নামিয়ে দিয়ে বলল ফিরতে পাড়বি তো?
রুহিঃ হুম পাড়ব তুই যা।
রুহি মলে গিয়ে একটা ডায়মন্ডের নেকলেস নিল কিন্তু যখন পে করতে যাবে কার্ডের পিন ভুলে গেছে।
রুহিঃ আরে রুহি কি ছিল পিন মনে কর ফাউল।
কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পাড়ছে না বোকার মত দাঁড়িয়ে আছে।
পিছন থেকে আবার জয় এসে বলল আবার কি হল ম্যাম?
রুহিঃ আরে দেখ না পিন টাই তো ভুলে
গেছি।
জয়ঃ জানতাম ঝামেলা লাগাবেন তাই যেতে চেয়েও পাড়লাম না।
আপনি বডিগার্ড ছাড়া চলতে পাড়েন নাকি?
রুহিঃ হারামি তুই আমাকে ফলো করছিস।
জয় তাত একটু করছিলামি কিন্তু এখন এসব ছাড়, চল বাড়ি যাই বলে জয় পে করে দিল।
রুহি ভ্রুকুচকে জয়ের দিকে তাকাল।
জয়ঃআরে কি কিনেছিস সত্যি দেখি নি রাগ করছিস কেন?
রুহি এসে জয়ের হাত ধরে বলল এটা কি?
জয়ঃ ব্রেসলেট।
রুহি সেটা তো আমিও দেখছি কিন্তু এটা তো আমি লিজা কে দিয়েদিছিলাম তুই পড়েছিস কেন?
জয়ঃএটা আমি ছাড়া অন্য কারোর পড়ার অধিকার নাই তাই নিয়ে নিছি।বকবক না করে বাড়ি চল।
রুহিঃ হারামি, চল
রুহি বাড়ি এসে বলল জয় তুই উপড়ে আসিস না আমি লিজাকে সারপ্রাইজ দিব।
জয়ঃ যা আপনার ইচ্ছা।
রুহি উপড়ে চলে গেল আর জয় রান্না ঘরে।কারন রুহি মায়ের হাতের রান্না খেতে চেয়েছে তাই জয় নিজে রান্না করবে বলে রান্না ঘরে গেল।
রুহি উপড়ে গিয়ে লিজাকে নেকলেসটা দিয়ে বলল দেখো তো কেমন হয়েছে?
লিজা নেকলেস্টা টা হাতে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল আমার বর এর পকেট কেটেই তো কিনেছো তাইলে এত আদ্যিকেতা দেখাচ্ছ কেন?
রুহিঃ আরে লিজা কি বলছো এসব? জয় আর আমার টাকা আলাদা নাকি?
লিজাঃ আগে আলাদা ছিল না কিন্তু এখন আলাদা।তুমি কি বোঝতে পাড়ছো না তুমি আমাদের ২ জনের মধ্যে একটা ঝামেলা হয়ে ঢুকে পড়েছো
রুহির প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থা হয়ে গেছে,
লিজাঃ শোনো,জয় এখন তোমার জন্য যা করছে সবটাই দয়া আর করুনা ভালবাসা না।
রুহিঃ বাজি রেখে বলতে পাড়ি জয় আমাকে দয়া করছে না।ও আমাকে ভালবাসে বলেই আমার জন্য সবাই করি।
লিজাঃ তাহলে হয়ে যাক বাজি জয় যদি তোমার কথায় চলে তাহলে তুমি যা বলবে আমি তাই মেনে নিব।আর যদি আমার কথামত চলে তাহলে তুমি এ বাড়ি ছেড়ে জয়কে ছেড়ে সারাজীবনের জন্য চলে যাবে রাজি?
রুহিঃ ঠিক আছে রাজি.....
লিজাঃ কিন্তু এই বাজির ব্যাপারে জয় কে কিছু জানানো যাবে না।
রুহিঃ আচ্ছা জানাব না কিন্তু শুধু শুধুই বাজি ধরেছো জয়ের কাছে সারা পৃথবী এক দিকে আর আমি অন্যদিকে হলেও জয় আমাকেই বেঁচে নিবে।
লিজাঃ আগের দিন ভুলে যাও রুহি, জয় এখন শুধু আমাকে ভালবাসে....
আর তোমাকে তুমার বাচ্চার জন্য করুনা করছে।
রুহিঃ অনেক বলেছো আর না।দেখাই যাক কি হয়।
,
,
,
চলবে...!!!
(কি মনে হয় জয় কাকে জিতিয়ে দিবে রুহিকে নাকি লিজাকে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now