বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানি দেখা হবে (part 2)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X মায়ের কথায় ধ্রুব হালকা হাসলো। বললো.. - খুব শীঘ্রই তুমি একটা লক্ষি আর মিষ্টি বউমা পাবে মা... - সত্যি? কে মেয়েটা? - আছে একজন। সময় হলেই জানতে পারবে মা। - আমি আজই তোর বাবার সাথে কথা বলবো। মায়ের কথা শুনে ধ্রুব মুচকি হাসি দিলো। সাথে মা ও হালকা হেসে চলে গেলো সেখান থেকে। . কফির মগটা হাতে নিয়ে একটা চুমুক দিলো সে। মায়ের কথা ভেবেই হাসি পেলো ওর। মগটা রেখে পকেট থেকে ফোন বের করে তুরিনের নাম্বারে ডায়াল করলো ধ্রুব। ফোন ওয়েটিং। আবারও কল দিলো.. কিন্তু উত্তর একটাই। ফোনটা পকেটে রেখে দিলো ধ্রুব। হয়তো কারো সাথে দরকারী কথা বলছে। .. রাতের খাবারের পর ধ্রুব নিজের রুমে বসে লেপটপে কাজ করছিলো। এমন সময় বাবা ডাকলো ওকে। লেপটপ টা বন্ধ করে বাবার কাছে গিয়ে বসলো ধ্রুব। - হ্যাঁ বাবা, কিছু বলবে? - তোকে একটা কথা বলতাম ধ্রুব.. - হ্যাঁ বাবা, বলো। - তোর মা কিছুদিন ধরে বলছিলো তোর বিয়ের কথা। আজ তোর মা বললো তুই নাকি কাউকে পছন্দ করিস.. - না মানে, হ্যাঁ বাবা.. - মেয়েটা কে? বাড়ি কোথায়? ঠিকানা দে, আমরা দু একদিনের মধ্যে গিয়েই বিয়ের ব্যাপারে আলাপ করবো। ধ্রুব কিছুটা লজ্জা পেলো বাবার কথায়। তারপরও তুরিনের বাড়ির ঠিকানা বাবাকে বললো। . রাত ১১ টার দিকে ধ্রুব ছাদে গেলো । ছাদের কর্নারে দাড়িয়ে তুরিনকে আবারও কল দিলো সে। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো ওর। কারণ, এখনো তুরিনকে ওয়েটিং এ পাচ্ছে সে। দ্বিতীয় বার আর কল করলোনা সে। মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছে একমনে। কার সাথে এতো কথা বলে ও? যখন কল করি তখনই ওয়েটিং.. !! নাহ! ভালো লাগছেনা একদমই। শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। মনটা খারাপ থাকলেও এই হাওয়ায় প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো ধ্রুবর। এমন সময়ই কল বেজে উঠলো ধ্রুবর ফোনে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো তুরিনের নাম্বার। মুচকি হেসে ফোনটা রিসিভ করলো ধ্রুব। - হ্যালো তুরিন.. - হ্যাঁ বলো। - কি করছো? কার সাথে কথা বলছিলে এতোক্ষন? - এতোক্ষন কই কথা বললাম? একটা ফ্রেন্ডস কল করেছিলো কিছু নোটস এর জন্য। - ওহ.. আর সন্ধ্যায় কার সাথে কথা বলছিলে? - তখন তো মা কথা বলেছিলো ছোট মামার সাথে। - তোমার মায়ের ফোন কোথায়? - ওহ, এতো জেরা করছো কেন? মায়ের ফোনে চার্জ ছিলোনা তো.. - আচ্ছা ঠিকাছে। এখন কি করছো সেটা বলো? - বসে আছি টেবিলের সামনে। তুমি?? - ছাদে বসে আছি আর তোমার কথা ভাবছি। - তাই? - হুম। জানো, তোমার জন্য একটা সুখবর আছে। - আচ্ছা , কি সুখবর শুনি.. - আজ বাবা মায়ের কাছে তোমার কথা বলেছি। উনারা দু এক দিনের মধ্যে তোমার বাড়ি যাবে ..। - কেন? অবাক হয়ে বললো তুরিন। - কেন আবার, তোমাকে বন্দি করতে। - মানে? কপাল কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলো তুরিন। - মানে, তোমাকে আমার মনের খাঁচায় পুরোপুরি বন্দি করতে। তোমার আমার বিয়ের কথা পাকা করতে .. । বেশ খুশিমনে কথাটা বললো ধ্রুব। - ব বি বিয়ে মানে? কি বলছো তুমি? বিয়ের কথা পাকা করতে মানে? - কি হলো? হটাৎ তুতলাতে লাগলে কেন? খুশি হওনি তুমি? - কি যে বলো, খুশি হবোনা কেন। আচ্ছা আমি এখন রাখছি। ঘুম আসছে। - এই কি হলো? হটাৎ ঘুম আসলো কি করে? এতোক্ষন তো ঠিক ঠাক ছিলে.. । এই যাহ.. ফোনটা কেটে দিলো। Ok.. আমিও গিয়ে ঘুমিয়ে পরি.. । . - ২ দিন পরঃ - তাহলে এই কথায় রইলো.. আগামী শুক্রবার বিয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। (ধ্রুবর বাবা) - আগামী শুক্রবার, তার মানে তো আর মাত্র তিনদিন (তুরিনের বাবা) - হ্যাঁ, বিয়েটা আমি তারাতাড়িই সাড়তে চাই, যেহেতু ওরা দুজন দুজনকে পছন্দ করে। আর তাছাড়া, শুভ কাজ যতো তারাতাড়ি করা সম্ভব, ততোই মঙ্গল। আপনাদের কোনো আপত্তি আছে? - কি যে বলেন, আপত্তি থাকবে কেন? এটাতো আমাদের জন্য খুশির কথা (তুরিনের মা) - আচ্ছা বেয়াইসাব, বিয়ের কথা পাকা করলাম, কিন্তু বিয়ের কনেকেই দেখলাম না এখনো। কোথায় আপনাদের মেয়ে? (ধ্রুবর মা) - ইয়ে মানে, ও একটা ফ্রেন্ড এর বাসায় গেছে। কি নাকি পড়ার ব্যাপারে জানতে। ( তুরিনের মা) - আজ আমরা আসবো, তাও গেলো? - আসলে ওতো জানতো না আপনারা আজ আসবেন। (তুরিনের বাবা) - আমরা তো সকালে জানালাম আজ আসবো। যাইহোক, বাদ দেন। ছেলে মেয়ের পছন্দ আছে, আমাদের না দেখলেও চলবে। - এই তুরিনের মা, ওদের জন্য একটু চায়ের ব্যাবস্থা করো তো, যাও.. (তুরিনের বাবা) - যাচ্ছি । তুরিনের মা চলে গেলো কিচেনে। - শুনেছি, আপনার আরেকটা মেয়ে আছে, ও কোথায়? (ধ্রুবর বাবা) - ও তো এখানে থাকেনা। মামার বাড়িতে থাকে। - ওওওও.. ... - কেমন দেখলে তুরিনকে মা? - দেখলাম আর কই, ওতো বাসাতেই ছিলোনা। - বাসাতে ছিলোনা? কোথায় ছিলো? - বন্ধুর বাসায়। আচ্ছা এখন চল খাবি। রাত তো আর কম হলোনা। বেলকোনি থেকে মা উঠে চলে গেলো ভিতরে। ধ্রুব বেশ চিন্তা নিয়ে মায়ের কথাটা ভাবছে। আজ বাবা মা গেলো ওকে দেখতে, আর ও বাসাতেই ছিলোনা। আমার মা বাবার চাইতে বন্ধুর বাসাতে যাওয়াটাই ওর কাছে বেশি হলো। . ধ্রুব ফোনটা বের করে তুরিনকে কল দিলো। দুবার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ করলো তুরিন। - হ্যলো ধ্রুব বলো.. - কোথায় ছিলে আজ? - কেনো? - আজ আমার মা বাবা গেছিলো তোমার বাসায়, সেটা তুমি জানতে না? - হ্যাঁ জানতাম তো। কেন কি হয়েছে??? - জানতে তাও বাসায় থাকোনি। আমার বাবা মা তোমাকে দেখতে গিয়েছিলো। আর তুমি? - ওহ, এইসব কথা বলতে আমাকে ফোন দিয়েছো? বাদ দাওনা। অন্য কথা বলো প্লিজ.. - Ok .. কি করো এখন? - কিছুই করছিনা। বসে আছি। - আজ বাবা মা আমাদের বিয়ে ঠিক করেছে, সামনের শুক্রবার। শুনেছো?? - What??? কি বলছো এইসব? বিয়ে মানে? - বিয়ে মানে বিয়ে। তুমি এমন করছো কেন বিয়ের কথা শুনে? আমার কাছে সারাজীবনের জন্য আসবে তুমি। তুমি খুশি হওনি। - হ্যাঁ হ্যাঁ , খুশি হয়েছি তো। খুব খুশি হয়েছি। জোরপূর্বক মুখে হাসির রেখা টেনে বললো তুরিন। - জানতাম তো তুমি অনেক খুশি হবে। তাহলে প্রথমে এমন করছিলে কেন? - না মানে, আমাকে কেউ কিছু বলেনি তো, তাই চমকে গিয়েছিলাম। - কেন, তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম মা বাবা বিয়ের ব্যাপারে আলাপ করতে যাবে। আর কেউ কিছু বলেনি তোমাকে? - না.. - মনে হয় সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলো। - হতে পারে, আচ্ছা এখন রাখছি। - কেনো? - ভালো লাগছেনা। এখন রাখছি। bye। . ফোন টা রেখে দিলো তুরিন। ধ্রুব ফোনটা হাতে নিয়ে বোবার মতো বসে আছে। মাথায় কিছু ঢুকছেনা ওর। হটাৎ এমন করলো কেন তুরিন। চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখগুলো বুজে ভাবনার রাজ্যে পাড়ি জমালো ধ্রুব। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলো টেরই পেলনা ও। . সকালে নাস্তা সেড়ে তাড়াহুড়ো করে অফিসে চলে গেলো ধ্রুব। ধ্রুবর মা ডাইনিং ক্লিন করছিলো এমন সময় ধ্রুবর বাবা কুত্থেকে এসে বললো.. - ধ্রুব কোথায়? - ও তো অফিসে গেছে। - মানে? দুদিন পর ওর বিয়ে, আর ও আজ অফিসে গেছে? মানে কি, হ্যাঁ? - সেটা আমি কি করে জানবো? এক কাজ করো, ধ্রুবকে ফোন দিয়ে বলো ম্যানেজারকে সব বুঝিয়ে চল আসতে। - Ok, কল দিচ্ছি। . - স্যার আসবো? - হ্যাঁ আসুন.. কিছু বলবেন ম্যানেজার সাহেব? - স্যার, আপনার ফোন কি অফ করা? - কেনো বলুনতো? - না মানে, বড় সাহেব ফোন করেছিলেন। আপনার সাথে নাকি দরকারী কথা আছে। কিন্তু আপনার ফোন বন্ধ পাচ্ছে। - কই দেখিতো, পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখলো ফোনটা Airplane মুড হয়ে আছে। হয়তো চাপ লেগে কখন হয়ে গেছে। ফোনটা নরমাল মুড করে ম্যানেজার কে বললেন.. - আপনি এখন আসুন, আমি বাবার সাথে কথা বলে নিবো। - আচ্ছা, বলেই যেতে নিয়ে আবারও ফিরে এলো ম্যানেজার। হাতের ফাইলটা ধ্রুবর সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো.. - স্যার, এখানে আপনার সাইন লাগবে। ধ্রুব ফাইলে সাইন করে দিলে ম্যানেজার চলে গেলো। .. ম্যানেজার যাওয়ার পর বাবার নাম্বারে ডায়াল করলো ধ্রুব। বাবা বাগানটা কর্মচারী দিয়ে পরিষ্কার করছিলো। রিং বাজতেই রিসিভ করলেন উনি। - হ্যাঁ বাবা, ম্যানেজার বললো কল করেছিলে আমাকে, কি নাকি দরকার আছে? - আচ্ছা তোর বুদ্ধি কবে হবে বলতো? - কেন? কি হয়েছে বাবা? - দুদিন পর তোর বিয়ে। আর আজ তুই অফিসে গেলি। আমি এই বয়সে সব একা সামলাই কি করে বলতো? - ওহ sorry বাবা, আমি এখনই আসছি। - হুম তারাতাড়ি আসিস। - আচ্ছা বাবা। .. To be Continued .....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now