বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩।
হীরামন ফিরে এলো কয়েকদিন পর।
পেয়েছে সে দুই সুর্যের দেশ। সেখানে
আসলে সুর্য দুইটা না। সুর্য দুইবার ওঠে। আর রাজ্য
ভরা বরফ। একজন কারিগর নিয়ে গেলে অনায়াসে
পানির রাজপুত্র বানিয়ে আনতে পারবে।
আর রংধনুর রঙ রংধনু থেকেই আনতে হবে না।
রংধনুর সাত রঙ হলেই হবে।
কিন্তু দুই সুর্যের দেশ অনেক দূর। কে যাবে
সেখানে।
কনকলতা লাফিয়ে উঠল, ‘আমি যাব।’
হীরামন না করলো। কিন্তু কনকলতা যাবেই। কিন্তু
একজন মেয়েকে এত বড় অভিযানে কেউই
যেতে দেবে না। তাই সে যুবকের ছদ্মবেশ
নিয়ে রাজার কাছে গেলো।
গিয়ে সব খুলে বললো আর লোক লস্কর ভর্তি
একটা জাহাজ চাইলো। সাথে দিতে হবে রাজ্যের
সবচে দক্ষ কারিগরকে, যে হুবহু রাজপুত্রের
মুর্তি গড়তে পারবে। তাহলেই সে পানির রাজকুমার
নিয়ে ফিরবে।
বহু লোক রাজার ছেলের জন্যে নিরুদ্দেশ
হয়েছে। তাই রাজা যুবকবেশী কনককে নিষেধ
করলেন। কিন্তু ওর চাপাচাপিতে অবশেষে যাত্রা
করার হুকুম দিলেন।
কেটে গেলো ছয় মাস।
তারপর হঠাৎ একদিন শোনা গেলো হৈ চৈ। কনকলতা
ফিরে এসেছে। সাথে পানির রাজকুমার।
রাজা যুবকবেশী কনককে বুকে জড়িয়ে নিলেন।
দিলেন বহু ইনাম।
পানির রাজকুমারকে তখুনি রঙধনুর রঙে রাঙ্গিয়ে
আসল রাজকুমারের মুর্তির মুখোমুখি বসিয়ে দেয়া
হলো। এখন শুধু তিলক পরানোর অপেক্ষা।
রাজার ঘোষণা দিলেন যার আঙ্গুল থেকে রক্ত
নেওয়া হবে তার সাথেই রাজকুমারের বিয়ে
দেবেন। রাজ জ্যোতিষীর পরামর্শে তাই
আয়োজন করা হলো স্বয়ম্বর সভার।
আশে পাশের সব রাজ্যে খবর পাঠিয়ে দেওয়া
হলো। সব রাজ্যের রাজকুমারীদের আমন্ত্রন
জানানো হলো সভায়। যদি ও রাজ্যের আর সব
উপযুক্ত মেয়েই উপস্থিত থাকবে কিন্তু রাজার ইচ্ছা
রাজকুমারীদেরদের মধ্য থেকেই বাছাই করা
হবে রাজার পুত্র বধু। তারপর সে ই রক্ত তিলক
পরিয়ে প্রাণ ফেরাবে রাজকুমারের।
সব শুনে কনকলতার মন আবার খারাপ হয়ে
গেলো। সে এতো কষ্ট করলো আর
রাজপুত্রকে পাবে আরেকজন?
আবার সে বুদ্ধি চাইলো হীরামন টিয়ার কাছে।
হীরামন বললো চিন্তার কিছু নেই। সে ব্যবস্থা
করবে।
সভার দিন রাজ্যের প্রায় সবাই ছুটে এলো
দেখতে। বাধ্য হয়ে রাজ দরবারের পরিবর্তে
বাইরে খোলা মাঠে সভার আয়োজন করা হলো।
রাজা আর রাজকন্যারা মঞ্চের উপর আর তাদেরকে
ঘিরে সবাই দাড়িয়ে।
রাজ জ্যোতিষী ফুলের মালায় মন্ত্র পড়ে ছুড়ে
মারলেন। যার গলায় পড়বে সেই হবে রাজবধূ।
হীরামন মালার ভিতর লুকিয়ে থাকলো।
মালা ছুড়ে মারতেই উড়িয়ে একেবারে কনকলতার
গলায় নিয়ে ফেললো।
কোনো রাজকুমারীর গলায় পড়েনি দেখে রাজা
আবারো মালা ছুড়তে বললেন।
আবারো মালা উড়তে উড়তে গিয়ে সোজা
কনকলতার গলায়।
রাজা এবার রেগে গেলেন। হুকুম দিলেন
ওদেরকে দূরে সরিয়ে দিতে।
আবার মারা হলো মালা।
ফলাফল একই। আবার আগের চেয়েও বেশি দূর
উড়ে গিয়ে সেই কনকলতার গায়েই পড়লো।
রাজা রেগে গেলেন খুব। কিন্তু রাজ
জ্যোতিষী তাকে ঠাণ্ডা করলেন। বললেন
তিনবারই যেহেতু কনকলতার গলায় মালা পড়েছে
সেহেতু তার রক্তই নেওয়া হোক। নাহলে
অমঙ্গল হতে পারে।
দোনোমনা করে রাজা রাজি হয়ে গেলেন।
কনকলতা গিয়ে রাজপুত্রের কপালে তিলক পরিয়ে
দিলো। পরদিন ভোরে, প্রভাতের প্রথম
আলো পানির রাজপুত্রকে ভেদ করে আসল
রাজপুত্রের গায়ে পড়তেই ধীরে ধীরে
রাজপুত্রের পাথর মুর্তি প্রাণ ফিরে পেলো।
রাজ্য জুড়ে এক মাস ব্যাপী টানা উৎসবের
ঘোষণা দেওয়া হলো।
এই উৎসবের মাঝেই রাজ্যে শুরু হলো আরেক
উৎসব। রাজপুত্র অরুণকুমার আর কনকলতার বিয়ের
উৎসব। মহা ধুমধামে ওদের বিয়ে হয়ে গেলো।
কিন্তু এই খবরে পাশের এক রাজা খুব চটে
গেলো। তার ইচ্ছা ছিলো রাজকুমারের সাথে
নিজের মেয়ের বিয়ে দিয়ে এই রাজ্যটাকেও হাত
করবে। কিন্তু এই উদ্দশ্য ব্যাহত হওয়ায় সে
রূপনগর আক্রমন করে বসলো।
রুপনগরের রাজা পড়ে গেলেন চিন্তায়।
তিনি নিজে বুড়ো হয়ে গেছেন। রাজপুত্র পাথর
হয়ে থাকায় সমর বিদ্যার কিছুই জানে না। সেনাপতি সহ
আরো অনেক চৌকষ যোদ্ধা দুই সূর্যের দেশ
খুজতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কি করে তিনি
এই যুদ্ধ করবেন?
কিন্তু বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পনতো আর করা যায় না।
তাই সৈন্য সামন্ত যা আছে তা নিয়েই রওনা দিলেন
যুদ্ধ করতে।
যুদ্ধক্ষেত্রে রূপনগরের রাজার পরাজয় যখন প্রায়
নিশ্চিত ঠিক তখনই ময়দানে দেখা গেলো এক
যুবককে। শত্রু শিবিরে একাই লড়াই করতে
লাগলো।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে হঠাৎ শত্রুর আঘাতে
যুবকের শিরস্ত্রান মাটিতে পড়ে গেলো। সবাই
অবাক হয়ে দেখলো, যুবক আর কেউ নয়,
রূপনগরের নতুন রাজবধু কনকলতা। একটা মেয়ে
হয়ে এমন যুদ্ধ করছে দেখে সৈন্যদের হুশ
ফিরলো। রূপনগরের সৈন্যরা নতুন উদ্যমে যুদ্ধ শুরু
করলো। মুহুর্তেই যুদ্ধের মোড় গেলো
ঘুরে।
অচিরেই রূপনগরের বিজয় নিশ্চিত হল।
যুদ্ধ শেষে থেমে যাওয়া উৎসব আবার শুরু
হলো। সাথে সাথে রাজার সংশয় দূর হলো।
ছেলের জন্য সবচে উপযুক্ত বৌটিই পেয়েছেন
তিনি।
অচিরেই তিনি কনকলতার হাতে রাজ্যের শাসনভার
তুলে দিয়ে অবসরে গেলেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now