বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অফিসের উদ্দ্যেশে রওনা হয়ে অনেক্ষণ যাবত রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে আছি রিক্সার জন্য । কিন্তু কোন রিক্সার দেখ মিলছে না । নতুন চকুরি নিয়েছি , সময় মত অফিসে না গেলে বস আমার চাকরির ১২ টা নয় ১৩ টা বাজিয়ে দিবে । ভাবলাম দাড়িয়ে না থেকে হেটেই রওনা দেই । পা বাড়াবো, এমন সময় পুলিশের পিকাপ ভ্যান আমার সামনে দাড়ালো । সব কিছু বোঝে উঠার আগেই ৫-৬ জন পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে আসামির মত আমাকে ঘিরে ফেলল ।
: ব্যপার কি? কি হয়েছে?? (আমি)
: দেখে তো ভদ্র লোক মনে হচ্ছে, কিন্তু এ লাইনে কতদিন? (১ম পুলিশ)
(এতোমধ্যে সমস্ত শরীরে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিয়েছে)
: এ লাইনে মানে? আমি কিছু করিনি?
: সব আসামিরা এ কথাই বলে । (২য় পুলিশ)
:দেখুন , আপনাদের কোথাও ভূল হচ্ছে । (আমি)
: কি? আমাদের ভূল হচ্ছে? (রেগে গিয়ে) থানায় নিয়ে গিয়ে এমন পেদানি দেব! বাবার নাম ভূলে যাবি । (১ম পুলিশ)
: দেখুন! দেখুন ! (আমি)
: এ কে থানায় নিয়ে চলো । (২য় পুলিশ)
…… ক‘জন ধরাধরি করে আমাকে গাড়িতে উঠালো , তার পর নিয়ে চলল অজানা গন্তব্যে….
……….অনেক অনুরোধের পর আমাকে লকাপে না রেখে রুমের কোণে ভাঙ্গা একটা চেয়ারে বসিয়ে রেখেছে ।
: ইন্সপেক্টর! আমাকে ধরে নিয়ে এসেছেন কেন? আমার অপরাধ কি? (আমি)
: আপনার নামে অভিযোগ আছে , আপনি প্রতিদিন মহিলা কলেজের সামনে মেয়েদের ইভটিজিং করেন । (ইন্সপেক্টর)
….ইয়া আল্লাহ! এ আমি কি শুনলাম?? অদৌ কি এটা আমার দ্বারা সম্ভব???...
: বিশ্বাস করুন ইন্সপেক্টর ! আমি এসব কিছু জানি না ,এসব কিছু করিনি। আমাকে যেতে দিন , অফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে । ( আমি)
: যিনি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, সেই ম্যাডাম না বললে আমরা আপনাকে ছাড়তে পারছি না । (ইন্সপেক্টর)
……. তুমি আবার এ কোন মছিবতে ফেললে আল্লাহ!!!!!! আজ নিঃশ্চয় আমার চাকরিটা যাবে….এমন সময় অপরূপার ফোন ……
: কোথায় তুমি???? (অপরূপা)
: বাবু ! আমি তো থানায় ।
: থানায়!!! থানায় কেন??
: পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসছে, বলছে আমি নাকি মহিলা কলেজের সামনে মেয়েদের ইভটিজিং করি। কিন্তু, বাবু তুমি তো জানো আমি কত্ত ভালো, আমি কি এসব নোংরা কাজ করতে পারি ?? তুমিই বলো???? (আমি)
: আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম , তুই আসলেই একটা ঠক , লোম্পট , প্রতারক , দুঃচরিত্রহীন লোক । (অপরূপা)
: জানু! আমাকে বিশ্বাস করো……
:কি বিশ্বাস করবো?? তুই আর আমাকে কখনো ফোন দিবি না । আজ থেকে Break Up
: বাবু ! শোন শোন শোন…………..
…………টু টুটুটুটুট লাইনটা কেটে দিল….
…. এ কোন বিপদে পড়লাম ??? অনেক কষ্টে একটা মেয়ে পটিয়েছিলাম , সেটাও আজ গেল । আজ কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠেছিলাম?? হাল ছেড়ে দিয়ে আবার ভাঙ্গা চেয়ারটায় বসে পড়লাম ।
………এমন সময় থানার ভেতর এক ভদ্র মহিলার প্রবেশ । দেখতে যর্থেষ্ট সুন্দরী , মায়াবী চোখ, র্স্মাট এক কথায় সব মিলিয়ে ভালো।
ইন্সপেক্টর: আসুন ম্যাডাম , বসুন, আসামিকে ধরে আনা হয়েছে । ঐ যে ঐখানে বসিয়ে রেখেছি।
(মেয়েটা আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকালো , কিন্তু কি যেন ভেবে মুহুত্তেই চুপষে গেল)
ম্যাডাম: ইনি কে ইন্সপেক্টর ?
ইন্সপেক্টর: কেন ? ইনার বিরুদ্ধেই তো অভিযোগ করেছেন। আমরা একেই ধরে নিয়ে এসেছি ।
ম্যাডাম: আমি তো ইরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি নি ।
ইন্সপেক্টর: কিন্তু আপনার information অনুসারে মহিলা কলেজের সামনে থেকে সকাল ৮টায় চশমা পড়া ইনাকেই পেয়েছি।
ম্যাডাম: ইনাকে দেখে কি বখাটে মনে হয়?
ইন্সপেক্টর: না! ইয়ে! মানে!
ম্যাডাম: ইনাকে ছেড়ে দিন ইন্সপেক্টর।
ইন্সপেক্টর: সেন্টি ! উনাকে ছেড়ে দাও….
………..রাগে, দুঃখে, ক্ষবে, কষ্টে নাকের পানি চোখের পানি একাকার হয়ে যাচ্ছে। থানা থেকে বের হচ্ছি এমন সময় বস এর ফোন ।
: মিষ্টার অরন্ত , কোথায় আপনি? (বস)
: বস আমি থানায় । (আমি)
: অফিস বাদ দিয়ে থানায় কি করেন? (বস)
: বস! এরা বলছে আমি নাকি প্রতিদিন মহিলা কলেজের সামনে মেয়েদের ইভটিজিং করি । কিন্তু বিশ্বাস করেন বস , আমি এ ধরনের ছেলে না ।
: আমার বিশ্বাস , অবিশ্বাসে কিছু আসে যায় না । মোট কথা হলো আপনি সময় মত অফিসে আসতে পারেন নি । (বস)
: চিন্তা করবেন না বস! আমি এখনি আসতেছি! (আমি)
: টেনশন করে আপনাকে অফিসে আসতে হবে না । আমি নিজেই কষ্ট করে Regectition লেটার আপনার ঠিকানায় পৌছে দিব ….
…….হায়! রে কপাল আমার! আজ চাকরিটাও গেল! একবালতি কষ্ট আর দুই গামলা বেদনা নিয়ে ফিরে আসছিলাম, পেছন থেকে মেয়েলী কন্ঠে ভেসে আসলো “sorry” .
...চলবে….
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now