বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তাবুক যুদ্ধে মুনাফিকদের কার্যাবলী

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান K.M.Tafsirul Islam Rakib (০ পয়েন্ট)

X এক দিকে প্রচণ্ড গরম, অপর দিকে মৌসুমের ফসল -খেজুর কাটার সময় অতি সন্নিকটে, এমনি প্রতিকুল মুহূর্তে যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ রাযি. রোমীয় সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে তাবুক যুদ্ধের দীর্ঘ সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন, তখন মুনাফিকরা সাধারণ লোকদেরকে অত্যাধিক গরম দীর্ঘ সফরের কষ্ট ক্লেশ ও প্রতিপক্ষের প্রবল শক্তিশালী হওয়া ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার ব্যাপারে প্ররোচিত করছিল। এ উদ্দেশ্যে তারা এক ইয়াহুদীর বাড়ীতে একত্রিত হয়ে শলা-পরামর্শও করল। সংবাদ পেয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ইয়াহুদীর বাড়ী জ্বালিয়ে দেয়ার আদেশ দেন। মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাই প্রথমে তার অনুসারী বিরাট দল নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখিয়েও রওয়ানা হওয়ার মূহুর্তে পিছু টান দেয়। তাবুক যুদ্ধে যাওয়ার সময় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি. কে আহলে বাইতের দেখা শুনা করার জন্য মদীনায় রেখে গিয়ে ছিলেন। তখন মুনাফিকরা বলাবলি করতে লাগলো যে, আলীর রাযি. প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট তাই তাকে যুদ্ধে নিয়ে যাননি। শেরে খোদা হযরত আলী রাযি. একথা শুনে তক্ষুনি যুদ্ধ সাজে সজ্জিত হয়ে জরুফ নামক স্থানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মনযিলে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, মুনাফিকরা এমন বলাবলি করছে। আপনি কি সত্যিই এজন্য আমাকে মদীনায় রেখে এসেছেন ? মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- তারা মিথ্যা বলছে আমি আমার পরিবার পরিজনের জন্য তোমাকে আমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছি। হে আলী! তুমি কি আমার জন্য এরূপ হতে সন্তুষ্ট নও যেরূপ ছিলেন হযরত হারুন আ., হযরত মুসা আ. এর জন্য। অবশ্য আমার পর আর কোন নবী নেই। তখন হযরত আলী রাযি. মদীনায় ফিরে এলেন। তাবুক যুদ্ধে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উট হারিয়ে গেলে এক মুনাফিক বলতে লাগলো মুহাম্মদ নবী হওয়ার দাবী করে এবং লোকদেরকে ‘আসমানের সংবাদ শোনায়। অথচ স্বীয় উটের সংবাদ তার জানা নেই। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক ব্যক্তি এরূপ বলছে আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি আমার মাওলা আমাকে যা জানান তা ছাড়া আমার কিছুই জানা নেই। আর উটের সংবাদ আমাকে আল্লাহ তা’আলা জানিয়ে দিয়েছেন। উপত্যকার একটি ঘাটিতে গাছের সাথে তার দড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ার সে আটকে রয়েছে কেউ গিয়ে নিয়ে এস। এক দল মুনাফিক পথিমধ্যে মুসলমানদের হীনবল করার উদ্দেশ্যে তাদের এই বলে ভয় দেখাচ্ছিল যে, তোমরা কি রোমীয় সৈন্যদের বীরদের আরব যোদ্ধাদের ন্যায় অপরিপক্ক ভেবেছ? মাথা দেখে নিও। সবাইকে রশি দিয়ে বেধে রেখে দেবে। তাদের মধ্যে হতে একজন মুনাফিক বলল তোমরা সাবধানে কথা বলো তোমাদের উপর না জানি একশ করে চাবুক মারার আদেশ হয় এবং আমাদের সম্পর্কে কুরআন নাযিল হয় যে তাতে আমাদের এই কথোপকথন প্রকাশ করে দেয়া হয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আম্মার রাযি. কে তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন তারা সবাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলো যে, আমরা ঠাট্টা বশতঃ পরস্পর এরূপ বলছিলাম। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হত্যার লোমহর্ষক ষড়যন্ত্রঃ তাবুক হতে প্রত্যাবর্তনের পর কতিপয় মুনাফিক গোপনে পরামর্শ করলো যে, যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়ের উঁচু সরু পথে আরোহণ করবেন, তখন ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে তাকে হত্যা করা হবে। এ উদ্দেশ্যে উল্লেখিত ষড়যন্ত্রকারীরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলো। ওহীর মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত হয়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি পাহাড়ের সুরু রাস্তার নিকট পৌঁছে বললেন- যার ইচ্ছে হয় সে এই পর্বত উপত্যকার প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে যেতে পারে- অথবা পাহাড়ের উপর সরুপথ দিয়ে যেতে পারে, এই বলে নিজে পাহাড়ের উপর সরু রাস্তা দিয়ে যেতে লাগলেন। ষড়যন্ত্রকারী দল মোক্ষম সুযোগ বুঝে রাত্রির অন্ধকারে মুখোশ পরিধান করে এই সরুপথ দিয়ে ‘আসতে লাগল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তখন ছিলেন শুধু হযরত হুযাইফা রাযি. ও হযরত আম্মার রাযি. হযরত হুযাইফা রাযি. পিছনে ছিলেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সুরু পথে আরোহণ করলে পিছন হতে উল্লেখিত অভিশপ্ত দলের আগমনের আওয়াজ শোনা গেল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় তখন ক্রোধের লেলিহান শিখা জ্বলছিল। তিনি তাদেরকে পেছনে বিতাড়িত করার আদেশ করলেন। হযরত হুযাইফা রাযি. পিছন ফিরে তাদের উটের মুখে তীর নিক্ষেপ করলেন। যখন তারা হযরত হুযাইফার রাযি. সম্মুখে উপস্থিত হল তখন তারা ঘটনা জানাজানি হয়ে গেছে ভেবে তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দ্রুত গতিতে পিছনে ফিরে কাফেলার সাথে মিলিত হয়ে গেল। হযরত হুযাইফা রাযি. তাদের বিতাড়িত করে ফিরে এলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত উট চালানোর আদেশ করেন। অতঃপর সরু রাস্তা অতিক্রম করে উপত্যকা ঘুরে আসা কাফেলার অপেক্ষায় রইলেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত হুযাইফা রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি ঐ দলটিকে চিনেছ? তিনি আরজ করলেন সওয়ারী কার কার ছিল তা তো চিনেছি। কিন্তু আরোহণকারীদের চিনতে পারিনি। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন- তুমি তাদের উদ্দেশ্য বুঝেছ? তিনি আরজ করলেন, না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদেরকে পাহাড়ের উপর হতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা। আর বললেন যে, ঘটনা এখন কারো নিকট প্রকাশ করো না। আল্লাহ তা’আলা আমাকে তাদের উদ্দেশ্য ও সকলের নাম জানিয়ে দিয়েছেন। ইনশাল্লাহ সকালে প্রকাশ করে দেবো। ইবনে ইসহাক রহ. বর্ণনা করেন যে, সকালে উঠে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাম উল্লেখ পূর্বক তাদের বক্তব্য তুলে ধরলেন। তাদের মধ্যে হতে ‘জুল্লাস’ নামক মুনাফিক বলেছিল- “আজকের রাতে আমরা মুহাম্মাদকে পাহাড়ের উপর হতে নিক্ষেপ করেই ছাড়ব। যদিও মুহাম্মদ ও তার সাহাবীরা রাযি. আমাদের চেয়ে উত্তম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now