বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রিয়াংকার ডান হাতের তর্জনী পেঁচিয়ে আছে ব্যান্ডেজে ।
হাত কেটে গেছে ?
নাকি নিজে থেকে কেটে চিঠিটা লেখেছে ও ?
✭
‘আজ পারলে প্রিয়াংকারে একটু গুঁতায়া বাইর করার চেষ্টা কর দোস্ত ।’ সাজেশান দেয় জুয়েল ওকে । ‘মুখে কইব না যখন তখন গুতাইন্নাই লাগব । হুদাই কষ্ট পাইব ক্যান ?’
‘হুঁ ।’ সায় দেয় তাহমিদ ।
‘রক্তের চিঠিটাও কি আমি নিয়া যামু ? এভিডেন্স তো ।’
‘না । ওটা আমার কাছেই থাকুক ।’
‘মাইয়াটারে আবার বাসে বেশি জেরা করিস না । যদি আমাদের সন্দেহ ভুল হয় তাইলে কিন্তু ইজ্জত মার্ডার ।’
‘আচ্ছা ।’ তাহমিদের গলার স্বর আজ পরিবর্তিত।
দেখে সন্তুষ্ট হয় জুয়েল । ছেলে প্রিয়াংকাকে জেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ।
কেসটা আনসলভড থেকে যাবে এই ভয়টা ছিল ওর ।
বাসে উঠে ওই ব্যাপারে প্রিয়াংকাকে খোঁচানোর কোন সুযোগই পেল না আজ তাহমিদ ।
‘অ্যাই তোর হাত কিভাবে কেটেছে ?’ সরাসরি প্রশ্ন করে ওকে ।
‘কাল রাতে মাছ কাটতে গিয়ে । কাটাকাটি পারি না তো !’ হাই চেপে বলে মেয়েটা ।
‘ওহ ।’ কি বলবে ভেবে পায় না তাহমিদ ।
‘কাল সারা রাত ঘুমাইনি রে ।’ চোখ বোজে ও । ‘আমি চোখ বন্ধ করে থাকি একটু ।’
প্রিয়াংকার চোখ খোলার অপেক্ষায় থাকে তাহমিদ ।
কিন্তু কিসের কি ! বলতে বলতেই পাঁচ মিনিটের মাঝেই ঘুম !
‘স্বাভাবিক । সারা রাত কেটেছ হাত ।’ মনে মনে বলে তাহমিদ । ‘গতকাল আমার সাহসী প্রেমিকা লাগবে বলাই উচিত হয় নাই । ’
মনটা খারাপ হয়ে যায় ওর ।
বাস তখন দাঁড়িয়ে জ্যামে । দশ মিনিটের দূরত্ব পার হতে এভাবেই লাগায় আধঘন্টা ।
আলতো করে প্রিয়াংকার ঘুমন্ত মাথাটা ঢলে পড়ে তাহমিদের কাঁধে ।
সরাতে গিয়েও সরায় না ও ।
খামের মধ্যে পাওয়া সুগন্ধটা তীব্রভাবে নাকে আসে ওর ।
ঘুমন্ত মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে আজ বড় মায়া হয় তাহমিদের ।
মুখ ঢেকে দেওয়া এক গুচ্ছ চুল সরিয়ে দেয় ও পরম মমতার সাথে ।
পরদিন সকাল ।
লাইব্রেরীর এক নির্জন কোণা বেছে নিয়েছে প্রিয়াংকা আর তাহমিদ ।
আজ যা কথা বলার বলে ফেলতে চায় তাহমিদ ওকে ।
জুয়েলটাকেও আসতে বলেছে । কিন্তু হোৎকাটা দেরী করছে ।
অস্বাভাবিক কিছু না অবশ্য ।
“যতই স্থুল হবে তুমি - গতিবেগ ততই কমবে তোমার” – নীতিতে বিশ্বাসী তাহমিদ ; জুয়েলের দেরীকে গ্রাহ্য না করে তাই আসল কথায় চলে আসে ।
‘প্রিয়াংকা – তোর সাথে কিছু কথা ছিল ।’
‘আমারও ।’ কেমন যেন নিস্তেজ গলায় বলে প্রিয়াংকা আজ ।
নিশ্চিত হওয়ার এই সুযোগ ছাড়ে না তাহমিদ । সন্দেহ ভুল হলে ; অর্থাৎ প্রিয়াংকা ওই চিঠিগুলো না পাঠালে বেশ লজ্জার একটা ব্যাপার হয়ে যাবে । তাহমিদ যে মেয়েটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে – নিজের কাছে আর লুকাতে পারে নি ও । গতকাল বাসেই অনুভূতিটা বুকে একেবারে লাফালাফি শুরু করেছিল । ভাগ্যিস – ঘুমাচ্ছিল প্রিয়াংকা । নাহলে কেলেংকারী হয়ে যেত !
‘বল তাহলে ।’ প্রিয়াংকাকে আগ বাড়িয়ে চাল দেবার আহবান জানায় তাহমিদ ।
‘তোর দিকে আজকাল অনেক মেয়ে নজর দেয় ।’ শ্রাবণের মেঘ জমে প্রিয়াংকার মুখে । ‘আমার এসব একেবারে সহ্য হয় না ।’
ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে তাহমিদ ।
‘তোকে ভালোবাসি আমি, তাহমিদ !’ মুক্তোর মত একফোঁটা পানি পড়ে প্রিয়াংকার গাল বেয়ে ।
‘অ্যাই বোকা মেয়ে ! কাঁদছিস কেন ?’ তাড়াতাড়ি ওর হাত ছোঁয় তাহমিদ । ‘তোকে এটা বলতেই আজ এখানে এনেছি । কখন জানি তোর প্রেমে পড়ে গেছি আমিও । দেখ তো কি রকম গাধা আমি !’
চোখে পানি নিয়েই হেসে ফেলে প্রিয়াংকা ।
এই সময় লাইব্রেরীতে ঢোকে জুয়েল ।
প্রিয়াংকার কান্না-হাসির সাথে ওদের হাতে হাত ধরে রাখা দেখেই যা বোঝার বুঝে ফেলে ও ।
বিশাল শরীরের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র দাঁতগুলো ঝিলিক মারে ।
গোয়েন্দা জুয়েলের এতটা আনন্দিত চিত্র আগে কখনও দেখেনি কেউ ।
‘তুই একটা পাগলি, প্রিয়াংকা !’ এবার আলতো ধমক দেয় ওকে তাহমিদ । ‘আমাকে সরাসরি বলতেই পারতি । নোট রেখে গেছিস তাও মানা যায় । তাই বলে হাত কেটে সেই রক্ত দিয়ে চিঠি লেখাটা বাড়াবাড়ি করেছিস ! এরপর যদি আর ...’
প্রিয়াংকার মুখে নিখাদ বিস্ময় দেখে থেমে যায় তাহমিদ ।
‘তুই ভাবিস আমি ওই চিঠি রেখে তোকে মিথ্যা করে বলেছি ? আর কিসের রক্ত মাখা চিঠি ?’
‘তুই লেখিস নি বলতে চাস -’ এক সেকেন্ড ভাবে তাহমিদ । ‘তাই তো ! আমি আগে কেন বুঝি নি ?? ‘স্বস্তি’ লেখা ছিল চিঠিতে । ’ পকেট থেকে বের করে চিঠিটা ।
“তবুও তোমাকে না জানিয়ে স্বস্তি পাচ্ছি না” লাইনটা দেখায় প্রিয়াংকাকে ও।
‘কলম দিয়ে ‘স্বস্তি’ লেখাটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে । কিন্তু কেউ হাত কেটে স্বস্তি লেখবে না । প্যাঁচ দেখেছ ? এরচেয়ে প্রতিশব্দ ব্যবহার করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে । এইটা এই মোটকুর কাজ । নির্ঘাত !! ’
একটা কলম বন্দুকের মত তাক করে ও জুয়েলের দিকে ।
‘আরে আরে চ্যাতস ক্যারে ?’ হাহাকার করে ওঠে জুয়েল । ‘দেখলাম তোগোর ভিতরে ভালোবাসা পাংখা মেলতেছে কিন্তু কইতেছস না একজন আরেকজনরে তাই ক্যাটালিস্ট দিছি জাস্ট ।’
‘দাঁড়া বলিস না ।’ হাত তুলে ওর দিকে তাহমিদ । ‘আমার পিছে বের হওয়ার সময় তুই ভেতরে খাম ঢুকাইছিস এইটা তো পানির মত সোজা । আর লেখাইছিস তোর ছোটবোনকে দিয়ে, প্রথম চিঠিটা । আর রক্ত ... উমম রক্তের ব্যাপারটা নিশ্চয় আংকেলের কাছে ব্লাডব্যাগ হাতাইছিস । আর কোন ব্যাখ্যা থাকতে পারে না । খামের মধ্যে বাসা থেকে পারফিউম মেরে এনেছিলি সেটা তো বোঝা সহজ । অ্যাম আই রাইট ?’
‘পুরাই ।’ মাথা নাড়ায় জুয়েল । ওর বাবা একজন বায়োলজিস্ট । ‘ব্লাড ব্যাংকের কিছু নষ্ট হওয়া স্যাম্পল নিয়া বাবা কাজ করতাছিল । ওইদিন গেলাম দ্যাখা করতে । দেখি একটা থাইকা গেছে কাজ শেষেও । নিয়া আইতে চাইলাম । দিয়া দিল । তখন থেকেই মাথায় ঘুরতাছে প্ল্যানটা ।’
‘ইয়াহ !’ আনন্দে মাথা ঝাঁকায় তাহমিদ । ‘এইটা আট নম্বর ।’
‘দাঁড়া দাঁড়া!’ ধরে ফেলে প্রিয়াংকা, ‘কলেজ কেসগুলো তুই সব সলভ করেছিলি, তাই না তাহমিদ ? তারপর জুয়েলকে দিয়ে বলাইছিলি ? হুম – ওকে যাতে সবাই সমীহ করতে বাধ্য হয় তাই –’ এক মুহূর্ত থেমে নতুন দৃষ্টিতে দেখে আজ প্রিয়াংকা তাহমিদকে । তবে ওই একমুহূর্তই ।
‘তুই একটা ইবলিশ রে !’ কিল দেয় প্রিয়াংকা তাহমিদকে এবার ।
‘তোর মাথা ।’ এড়িয়ে যাতে চায় তাহমিদ ।
আবার কিল দেয় ওকে প্রিয়াংকা ।
এই দুইটা এইভাবে আজীবন খুনসুটি করুক ।
একমুখ হাসি নিয়ে লাইব্রেরী থেকে বের হয়ে আসে জুয়েল ।
বুকে একরাশ ভালোলাগার অনুভূতি ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now