বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান AB Siddik (০ পয়েন্ট)

X তুষারের বাবা এক বছর আগে মারা গেছেন । মৃত্যুশয্যায় তাঁর একটাই কথা – বন্ধুকে দেওয়া কথার যেন খেলাপ না হয় । তাঁকে যেন ওয়াদা খেলাপকারী বানানো না হয় । তুষার নিজে বাবার হাতে হাত রেখে বলেছে – সেদিকটা ও নিশ্চিত করবে । তখনও ও জানত না ঠিক কি বিষয়ে কথা বলছে বাবা । আগে কখনও ওর সামনে এর আলোচনা হয় নি । বাবার মৃত্যুর পর মা জানায় ওকে পুরো কাহিনী । তুষারের ছেলেবেলা কাটে চট্টগ্রামে । বাবার কর্মস্থল সেখানেই ছিল তের বছর । তুষারের জন্মও ওখানে । সাত বছর পর্যন্ত ওখানে ছিল ও । বাবার ছেলেবেলার বন্ধু কাম কলিগ আরিফুজ্জামানও ছিলেন ওখানে । দুটো পরিবার মিশে গেছিল ওতোপ্রোতভাবে । তুষারের ছয় মাসের ছোট একটা মেয়ে ছিল তাঁদের । অনেক বাঙ্গালী বন্ধুদের মতই ঠিক করেন নিজেদের ছেলে-মেয়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে সম্পর্ক চিরস্থায়ী করে ফেলতে । পরবর্তী এতগুলো বছরের মাঝে কেউই ভুলে যাননি সে কথা । তুষারের বাবা সিগারেট খেতেন প্রচুর । লাংসে যখন ক্যান্সার ধরা পড়ল তখন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে গোটা ফ্যামিলির । বাবাকে নিয়ে ছোটাছুটি করে নি এমন কোন জায়গা নেই । কিছুতেই কিছু হল না । অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যেতেই থাকল । মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে ছেলেকে প্রতিজ্ঞা করিয়ে যান তিনি । ‘বাবার দেওয়া কথা আমার কাছে আমার জীবন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ । রাজি হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না ।’ শেষ কথা তুষারের । * রেস্টুরেন্টের নিরিবিলি কোণায় বসে তুষার আর তৃণা । এই জায়গায় ওকে একরকম ধরেই এনেছে তৃণা । আড়চোখে মেয়েটাকে দেখল তুষার । লজ্জা পাচ্ছে মনে হয় । মাথা নিচু করে বসে আছে একটা উত্তরের আশায় । নারীর লজ্জার সাথে সৌন্দর্য্যের একটা যোগসূত্র আছে মনে হয় । গালের লালচে আভা আর নিচের ঠোঁট আলতো করে কামড়ে ধরায় তৃণাকে আরও সুন্দরী লাগছে । চুলের রেখা গুলো চোখের গরাদ দিয়েছে । বুকের ভেতর খালি খালি লাগল তুষারের । এত সুন্দর একটা মেয়েকে কষ্ট দিতে হবে ভেবে । কান্নাকাটি না লাগালেই হয় । সুন্দরী একটা মেয়ের কান্না দেখার চেয়ে দূরবর্তী কিছুই নেই তুষারের কাছে।  ধীরে ধীরে ওকে খুলে বলল তুষার । ওর জীবনের গল্প । ছেলেবেলার অদ্ভুত সেই সিদ্ধান্তের কথা । শুনতে শুনতে পানি জমে ওঠে তৃণার চোখের কোণে । ভূতের মত বেরিয়ে পড়ে দুইজনে । আজ কি যেন হয় তুষারের । তৃণাকে বাসায় পৌঁছে দেয় ও । নিজের বাসায় ফিরে আসার সময় অদ্ভুত একটা খারাপ-লাগা অনুভূতি কাজ করে ওর ভেতর । বাবার কথা ভেবে মাথা থেকে বের করে দেয় সবকিছু । * তিনটি দিন পার হয়ে গেছে । ভার্সিটি যেতে আর ইচ্ছে করে না তুষারের । বন্ধুদের ফোন অগ্রাহ্য করে । আর ছয়টা মাস পরই ভার্সিটি-জীবন শেষ ওর । এর পরই মা বিয়ের কথা টানবেন । আজকাল ঘুরে ফিরে শুধু তৃণার মুখটাই ভেসে ওঠে তুষারের মনে । আসলেই কি ও মেয়েটাকে দেখতে পারত না ? একটা কথা ঠিক – তিক্ত একটা অনুভূতি প্রথম প্রথম ওর ভেতর কাজ করছিল যখন ওকে প্রথম দেখে । কারণ ওর মনে হয়েছিল বন্ধুদের থেকে দূরত্বের জন্য তৃণাই দায়ী । যদিও মেয়েটার দোষ আসলে ছিল না । অথচ – এর ওপর ভিত্তি করেই অসংখ্যবার ওকে অপমান করে তৃতীয় কাওকে কিছু বলেছে তৃণার সম্পর্কে, তৃণার সামনেই । মেয়েটার হাসিখুশি মুখ অনুজ্জ্বল হয়ে যেতে দেখে ভেতরে ভেতরে তৃপ্তি পেয়েছে ।  আজ প্রথম যেন উপলব্ধি করল – তৃণাকে ও ঘৃণা করত না – মেয়েটাকে ওর ভালই লাগত । শুধুই ভালো লাগত ? গত তিনদিনের প্রতিটি সেকেন্ড কেন তাহলে তৃণা ওর মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে । বুঝল তুষার – আর লুকিয়ে লাভ নেই – এই কয় মাসে তৃণার প্রতি কখন ওর তীব্র একটা ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে – ও জানে না । জানতেও চায় না ও । আজ মনে হচ্ছে – শুধুই একটা ছেলেমানুষী সিদ্ধান্তের জন্য ওর জীবন পালটে ফেলার কোন ভালো কারণ নেই । কেন ওকে বিয়ে করতে হবে সেই মেয়েকে – যার কথা ওর মনেই নেই ঠিকমত ? সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তুষার । তৃণার মোবাইল নাম্বার ওর কাছে নেই । শুধু ফেসবুক আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ হত । এখন ভার্সিটিতে ওদের থাকার কথা । পোশাক পরে বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় তুষার । ঠিক এই সময় মা ঘরে ঢোকে । ‘আরিফুজ্জামান ভাই তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন । বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চান উনারা ।’ ‘খ্যাতা পুড়ি!’ মনে মনে বলে তুষার । মুখের অবস্থা দেখেই মনের কথা পড়ে ফেলেন মা, ‘ছেলেমানুষী সিদ্ধান্ত নিয়ে উনি সচেতন । তোদের মতামত জানতে চান কেবল । মুখদর্শনের ব্যাপার শুধু – বাবা । এরকম মুখ কালো করিস নে ।’ * ছেলে-মেয়েকে নিজেদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ দিয়ে হাওয়া হয়ে গেলেন অভিভাবকদ্বয় । ‘তৃণা !’ আনন্দের সাথেই অবাক হয় তুষার । ‘তুমি আমাকে আগে বলনি কেন??’ ‘আজ তোমাকে অন্য কিছু বলতে এসেছি তুষার ।’ বিষন্ন গলায় বলে তৃণা, ‘তুমি এখন আমাকে জীবনসঙ্গী করতে রাজি, তাই না?’ ‘সানন্দে ! তৃণা তুমি জানো না একয়দিন আমার -’ তুষারকে বাক্য শেষ করতে দেয় না তৃণা । ‘আমার জন্য কোন অনুভূতি নেই তোমার তুষার। তোমাকে আমি কিভাবে বিয়ে করি বল ? তুমি কেবলই রাজি হচ্ছ তোমার বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যে । এমনটা হবে আমি জানতাম । সেজন্যই আমার ভার্সিটি মাইগ্রেট করে তোমার কাছে আসি আমি । ছেলেবেলা থেকেই তোমাকে হাজব্যান্ডের জায়গা দিয়ে এসেছি । আমি জানতাম বাবা-মার ইচ্ছের কথা । সেখান থেকে কখন যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলি ! কিন্তু জানি তোমার মধ্যে কখনও আমার প্রতি কিছুই ছিল না । তোমার ভার্সিটিতে তোমার কাছে এসে চেয়েছিলাম নিজের স্থানটা করে নিতে । কিন্তু হল কই ?’ চোখ মোছে তৃণা । ‘শেষ পর্যন্ত তুমি সেই প্রতিজ্ঞাকেই বিয়ে করতে যাচ্ছ । আমাকে না ।’ ‘তুমি সব না শুনে এসব ধারণা করতে পার না, তৃণা ’ তৃণার দিকে সরাসরি তাকায় তুষার, ‘গত তিনদিন আমি খুব ভালোভাবেই ভেবছি আমাদের ব্যাপারে । আমার মনে হয়েছে – বিয়ের ব্যাপারটা একটা প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে ঠিক করে ফেলার মত বড় ভুল আর কিছুই হতে পারে না। আমি আজই তোমার কাছে যেতাম । আমার সিদ্ধান্ত তোমাকে যেতে । তৃণার কাছে যেতাম । প্রতিজ্ঞার কাছে না ।’ ‘মিথ্যে বলে আমাকে ভুলিও না, তুষার – প্লিজ।’ রীতিমত কাঁদছে তৃণা । ‘সত্য-মিথ্যা যাচাই-এর আগে – একটি বার কি তোমার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, তৃণা ?’ মোবাইল বের করে ফেসবুকে ঢোকে তৃণা । একটি নতুন মেসেজ । ‘মাসের পর মাস নিজের সাথে লুকোচুরি খেলে আমি ক্লান্ত । আমার ভবিষ্যতও যে তোমার হাতে বাঁধা । সিদ্ধান্ত আমার – বলেছিলে তুমি । আমি তোমার হতে চাই । উইল ইউ ম্যারি মি ?’ তুষারের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অঝোরে কাঁদে তৃণা । তবে এ কান্না স্বস্তির – আনন্দের ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ
→ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ (শেষ পর্ব)
→ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ
→ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ
→ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ… .

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now