বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের একটি কঠিন সত্য

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নায়লা রাফা মাহেরা (০ পয়েন্ট)

X "লোকটি হার্ট এট্যাকে মারা গেছে!" . এটা শুনলেই আমি বলি, হার্ট এট্যাক, ম্যাটাক কিছু না। সে আজরাইল (অা.) কে সামনে দেখছে তাই তার হৃৎপিন্ড কাজ করা থামিয়ে দিয়েছে। একদিন হয়তো আমার, আপনার ও এমন হবে, ডক্টর নাম দিবে হার্ট এট্যাক। কেন হলো – এ এট্যাক তার ময়নাতদন্ত করতে পারবেনা কেউ। . মরণ এত চেনা একটা শব্দ, প্রতিনিয়ত দেখছি, পড়ছি খবর মানুষের মরণের। তবুও ভীষণ অচেনা এক বিস্ময় এ মরণ। সুস্থ থাকার, ভালো থাকার অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাই মরণ সুধা পান করবো বলে। . কি আজব এ জীবন!! . কদিন আগের ঘটনা আমাদের এক পরিচিত মানুষেরই। লোকটা গ্রামের পিচ-ঢালা রাস্তার একেবারে কিনারে দাড়িয়ে। হঠাৎ – এক নসিমন নাকি কি যেন বলে গাড়িটা লোকটার গায়ে লাগিয়ে টেনে, হিচড়ে কতটুকু পথ নেয়ার পর ক্ষান্ত হলো। ততক্ষনে লোকটার প্রাণলীলা সাঙ্গ। . ক্ষীপ্ত গ্রামবাসী ড্রাইভার কে ইচ্ছেমত মারধোর করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ছেড়ে দিলো। . ড্রাইভার টা সুস্থ হয়ে আরেক পরিচিত জনকে যা বললো তা রিতিমত অবাক করা ব্যাপার। সে বললো – আমি বহুবছর যাবত গাড়ি চালাই, এমন ভুল কেন হলো আমার দ্বারা তার ব্যাখ্যা আমার জানা নেই, আমি যখন এখানে আসলাম তখন হঠাৎ দেখলাম চোখের সামনে অসংখ্য রাস্তা, কোনটা দিয়ে যাবো বুঝতে না পেরে এক রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে দিলাম, মানুষের চিৎকারে সম্মিত ফিরে পেয়ে দেখলাম রাস্তা তো একটাই। আর আমার গাড়ির নীচে কেউ চাপা পড়েছে। . এর ব্যাখ্যা কে দিবে? . ● নিয়মিত দক্ষ বাইক চালানো ছেলেটা কেন হঠাৎ ই এক্সিডেন্ট করে মারা যায়? সে কি সামনে আজরাইল (আ.) কে দাড়ানো দেখে দুনিয়ার সব রিতিনীতি ভুলে গিয়েছিলো না? . ● আমার আরেক চাচতো কাকুর ভীষণ জ্বর। তার বোন মাথায় পানি ঢালছিলো, তখন তিনি বলে উঠলেন "উনি কে? চিনিনা তো!! কে উনি আসলো আমাদের ঘরে?" – তার কিছুক্ষণ পরই কাকু চলে গেলেন ইহকালের সব মায়া ছেড়ে। কাকে দেখে তিনি বলেছিলেন – "কে উনি?" . ● নানুর বাড়ির পাশের বাড়িতে এক মহিলা। রুটি বানাচ্ছিলো। হঠাৎ বলে উঠলেন, ওমা! এইডা কেডা আইতাছে? তারপরই সেখানেই তিনি ঢলে পড়লেন মৃত্যুর মুখে। . ● আমার বাবার খুব কাছের বন্ধু একজন আলেম। উনি মৃত্যুর আগে বলে উঠলেন – "এত্তো হুজুর আইছে আমার ঘরে!" সাথে বসা তার স্ত্রী কাউকেই দেখতে পেলোনা! . ● আমার আম্মার এক নিকটাত্মীয় অসুস্থ কিছুদিন যাবত। মৃত্যুর দিন হঠাৎ-ই বলে উঠলেন – "কে গো তাইনে?" এত সুন্দর সোনালী কালার লাঠি আর পাঞ্জাবি পইড়া আসলো এখানে? বলার পরপরই উনি ও চলে গেলের মহা প্রভুর সান্নিধ্যে। . (সবগুলো ঘটনা সত্য!) . এমন প্রতিনিয়ত সেকেন্ডে সেকেন্ডে ঘটছে, কেউ বলার সুযোগ পাচ্ছে কারো আগমনের ব্যাপারে। কেউ পারছেনা। আমি, আপনি ও একদিন কিংবা আজই হয়তো তাঁর আগমনের দৃশ্য সচক্ষে দেখবো। তখন আর সুযোগ থাকবেনা কিছু করার, কিংবা মেসেঞ্জারের চ্যাটলিস্ট ডিলেট করার। ফটো লকার, ভিডিও লকারের সব ডিলেট করার। সার্চ হিস্টোরি ক্লিয়ার করার। কারো হক আদায় করার। কারো গীবত করলে ক্ষমা চাওয়ার। সর্বশেষ তাওবা করার। . কারন – তাঁকে দেখার পর যে আর সুযোগ থাকেনা কিছু করার। তিনি যে এক সেকেন্ড ও সময় দিতে নারাজ। মুমিন হলে তখন আল্লাহ জবানে ঢেলে দিবেন কালিমায়ে তাইয়্যেবা। আর তাওফীক না দিলে কালিমা পড়া ছাড়াই যেতে হবে নিশ্চিত, জানাশোনা অথচ অপরিচিত এত গন্তব্যে। যে গন্তব্য যাওয়ার জন্যই এতদিন বেঁচে থাকা। কিছু পেরেশানি হতেই যে গন্তব্য যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকি। . যেদিন সত্যি তিনি এসে পড়বেন নিতে আমাদের সেদিন আফসোসের সীমা থাকবেনা। আরেকটু ভালো কাজ করার, একবার খাঁটি অন্তরে তাওবা করার, আরেকবার নড়বড়ে ইমানটাকে পাকাপোক্ত করার জন্য ১ মিনিট সময় কি তিনি দিবেন?? . আমরা যারা বলি ভালো হবো, ক্ষমা চাইবো এখনো তো যুবক/যুবতী। বৃদ্ধ হতে তো আরো দেরী। তার আগে চেয়ে নিবো ক্ষমা। মুখে না বললেও অন্তরের কোথাও এ ধোকাটা ঘাপটি মেরে বসে আছে। যা আমাদের ভালো হবার পথে অন্তরায়। মৃত্যু তো সবার ঘাড়ের পিছনে দাড়িয়ে। . মৃত্যু যেকোন সময় চলে আসবে, একটি যাত্রীভরা বাস চলতেছিল। হঠাৎ ড্রাইভার বাসটিকে থামালেন। সমস্যা কি জানতে চাইল যাত্রীরা। সে উত্তর দিল, "এই যে বৃদ্ধ লোকটি বাসে উঠার জন্য হাত নাড়াচ্ছেন, তার জন্য আমি বাস থামাচ্ছি।" যাত্রীরা বিষ্মিত হয়ে বলল, "আমরা তো কাউকে দেখছি না।" . সে বলল, "ঐ যে ওখানে তার দিকে তাকান।" আবারও যাত্রীরা বলল, "কাউকে দেখা যাচ্ছে না।" এবার ড্রাইবার বলল, "এখন দেখুন লোকটি বাসে উঠছে!!" যাত্রীরা বিষ্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চিৎকার করে বলছে, "আল্লাহর কসম! আমরা কাউকে দেখছি না।" তারপর এক মুহুর্তের মধ্যেই ড্রাইভার তার আসনেই মারা গেল। হতে পারে এই বৃদ্ধ লোকটিই ছিলেন মালাকাল মউত[আযরাঈল (আ.)]! . ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন মিসরের প্রখ্যাত আলেম লেখক আলী তানতাভী। [তথ্যসুত্র : লা তাহযান, লেখক : ড. আয়িদ আল ক্বারণী, পৃষ্ঠা নং - ৫২৬] . আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন – "হে মানব সম্প্রদায়! সুখ-শান্তি বিনাশকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ করো।" (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ) . "যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন – কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।" (সূরাহ আল-মূলক, আয়াতঃ ২) . --Collected


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now