বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১
আজও আনমনে বসে আসে ছেলেটি আর সেটা খুব ভালভাবে খেয়াল করছে আদিরা। ছেলেটা সবসময় চুপচাপ থাকে। আদিরা ছেলেটা কে ফলো করছে আজ অনেকদিন কিন্ত কোনোদিন কারোও সাথে হেসে কথা বলতে দেখেনি ছেলেটাকে। ছেলেটা কি হাসতে পারেনা। এসব ভাবতে ভাবতে আদিরার মার ডাক আসে।
,,
মা:--আদিরা!!!
আদিরা::--আসছি মা।
:::--কিরে কোথায় ছিলি??
::--একটু ছাদ এ গেছিলাম।
::---ওহ। অনু ফোন দিয়েছিল। কি কথা নাকি আছে!! (অনু আমার সবচেয়ে কাছের ফ্রেন্ড)
::--আমি পরে কথা বলে নেব।
,,
২
আদি আজও মেয়েটা কে দেখছে। কেমন যেন ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকে। আদির খুব অস্বস্তি হয়। আদি কেন জানি মেয়ে জাতিটা কে সহ্য করতে পারেনা। তারা সবাই বিশ্বাসঘাতক। কথা রাখেনা। এসব ভাবতে ভাবতে ১৭ নাম্বার সিগারেট টা মুখে নিল।
,,
আদি এবার অনার্স ৩য় বর্ষ। ওর ফ্যামিলি বলতে একমাত্র জুবায়েদ। জুবায়েদ আদি এর সবচেয়ে ভাল বন্ধু। বলতে গেলে নিজের ভাই এর মত। আর ওর বাবা মা চলে যায় যখন ওর বয়স ১৩। আজ ওর বয়স ২১। জিবনের এই ৮ টা বছরে কখনো সুখের মূখ দেখেনি আদি। আর আজ ও বেচে আছে একমাত্র জুবায়েদ এর জন্য। জুবায়েদ এর সাথে ওর পরিচয় হয় যখন ও ইন্টারে পড়ত। তখন থেকে জুবায়ের ওকে মানসিক ভাবে সাহায্য করে চলেছে। নাহলে হয়ত আদি বেচেই থাকত না। আজ আদির কাছে কস্ট নামক কোনো অনুভূতি নেই, নেই ভালবাসা নামক কোনো অনূভুতি। তার কাছে এগুলোর কোনো মানে নেই। সবই মোহ বা আবেগ।
,,
৩
আদিরা এবার অনার্স ১ম বর্ষে। আর অনু বাদে ভার্সিটিতে ওর কোনো ফ্রেন্ড নাই। আদিরা আর অনু একসাথে বসে আছে
,,
আদিরা::--দোস্ত!!!
অনু::--বল,,শুনছি
::---তোকে ঔই ছেলেটার কথা বলছিলাম না??
::--সাইকো টার কথা।
::--সাইকো বলস কেন???? আমার ওর ব্যাপারে জানতে খুব ইচ্ছা করে। ও কেন এরকম। হয়ত ভয়াবহ কোনো অতীত আছে আর আমি সেই অতীত টা জানতে চাই।
::--তো কথা বল ওর সাথে
::--ও তো কারও সাথেই কথা বলেনা।
::--শুন,,,বিকেলে বা সন্ধায় যাবি। তখন কথা বলতে পারে।
::--টাংকু জানু
::--যা ভাগ
::---এমন করস কেন???তুই না আমার জানু।
::--বিয়া করবি আমারে??
::---তোরে বিয়া করলে তোর বিএফ কি করব রে??
::--দুস্ত। তুই জুবায়েদ ভাই এর হেল্প নিতে পারিস। জুবায়েদ ভাই তোর সাইকোর খুব কাছের।
::--ঠিক বলছিস
::---এখনই যা।ক্লাসে পাবি!!
::--হুম
,,
আদিরা সোজা চলে যায় জুবায়েদ এর কাছে। আচ্ছা আদিরা কেন ওই ছেলের প্রতি এত আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাহলে কি ও ওই ছেলের প্রেমে পড়ে গেল। হতে পারে। ছেলেটার চেহারাটায় এক অদৃশ্য মায়া। ভাবতে ভাবতে জুবায়েদ এর কাছে চলে আসে আদিরা
,,
আদিরা:::- কেমন আছেন জুবায়েদ ভাই??
জুবায়েদ::--ভাল। বাট তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না।
::::--আমি অনুর ফ্রেন্ড।
::--ওহ। হুম বল?
::--ভাইয়া। আমার একটা হেল্প লাগবে। আপনি কিন্ত না করতে পারবেন না।
::--বল। সাধ্যের ভেতরে হলে অবশ্যই বলবো।
:::--আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড এর সম্পর্কে জানতে চাই্।
::--কার কথা বলছ তুমি??? আদি??
:::--মনে হয়। আমাদের পাশের ফ্লাট এ থাকে। ওই যে বাসাবো তে
::--হুম। ওর নাম আদি। কিন্ত তুমি ওর ব্যাপারে কেন জানতে চাও??
:::--হয়ত ভালবেসে ফেলেছি!!!
:::--তাহলে ভুলে যাও। ও কখনো প্রেম করবেনা। ইনফেক্ট ও মেয়েদের সহ্য করতে পারেনা।
::-- কেন???
::---তাহলে তোমাকে ওর ছোটোবেলা থেকে জানতে হবে।
:::--আমি জানতে চাই ভাইয়া?? প্লিজ বলেন
::--তাহলে শুন!!
,,
আদি ছিল ওর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আর খুব আদরের। কস্ট কি জিনিস তখনো ও চিনেনা। এভাবেই কাটছিল ওর জীবন। কিন্ত হটাৎ একদিন ওর জীবনটা ওলট পালট করে দেয় একটা এক্সিডেন্ট। ও আর ওর বাবা মা প্রতি শুক্রবারে ঘুরতে যেত। সেদিনও ওরা ঘুরতে বেরিয়েছিল। কিন্তু ওদের গাড়িটা এক্সিডেন্ট করে। ওর বাবা মা মারা যায়। ওর বয়স মনে হয় তখন তের। তখন থেকে ওর বাড়ির কাজের লোক আর চাচার হাতে মানূষ। ও সবসময় একা থাকতে পছন্দ করত। ইন্টারে ওর একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। মেয়েটা খুব সুন্দর ও ভাল ছিল। মেয়েটাও এর মায়ের মত ওকে কথা দিয়েছিল কোনোদিন ছেড়ে যাবেনা ওকে ছেড়ে। তখন ওর সাথে আমার সবে মাত্র পরিচয়। তখন আদি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফরে আসে। িকিন্ত ওর কপালটাই খারাপ ছিল। কি কারনে যেন মেয়েটা হটাৎ মারা যায়। আর আদি। সারাদিন খালি কাদত,,তারপর ও সিগারেট খাওয়া ধরল। ওর পাশে দাড়ানোর মত কেউ ছিল না। ওর চাচাও নিজের ফ্যামিলি নিয়ে বিদেশে স্যাটেল। তখনই ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। ও অনেকবার সুইসাইড করার চেস্টা করছে। কিন্ত ও আস্তে আস্তে নিজেকে রিকভার করতে পারছে।
,,
কথা গুলো শুনে কখন যে আদিরার চোখে পানি চলে এসেছে বলতেই পারলনা। কথাগুলো শুনে আদির প্রতি ওর ভালবাসাটা আরও শক্ত এবং মজবুত হয়ে গেল। আদিকে ওর চাই ই চাই।
,,
৪
আদি আজও সিগারেট নিয়ে ছাদ এ চলে আসছে। ইদানিং মেয়েটা ওকে খুব ভাবাচ্ছে। তাহলে কি আদি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেল। নাহ নাহ নাহ। এ হতে পারেনা। ও আরেকটা প্রান কেড়ে নিতে পারেনা। ও যাকে ভালবাসে তাকেই বিধাতা নিজের কাছে টেনে নেয়। হ্যা। ও মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্ত ওর ভালবাসার জন্য ও মেয়েটার প্রান নিতে পারেনা। এসব ভাবতে ভাবতে পাশে কারোও অস্তিত্ব অনুভব করে।একি সেই মেয়েটা
,,
মেয়েটি:::--আমি আদিরা
আদি::---তো আমি কি করবো??
::---আপনার নাম কি?? (যদিও জানে)
:::--আদি
::--আমি আপনাকে কিছু কথা বলতে আজ এখানে আসছি
::;--বলেন আর চলে যান
:::--একাকিত্ব রোগটি অনেক খারাপ। কখন যে কি করে বসে বুঝা মুশকিল। মানুষকে ভালবাসলে যে সে তার কাছ থেকে চলে যাবে তা ভাবার কোনো মানে নেই। সবার আয়ু বিধাতা নির্দিস্ট করে দিয়েছে। আপনি যদি মনে করেন তাদের মৃত্যুর পিছনে আপনার কোনো হাত আছে তাতে আপনার পাপ হবে।
::---কথা কি শেষ হইছে
::--না,,,
::--আর কি বলবেন
:::--ভালবাসি আপনাকে
::--হাহাহাহাহা। এরকম সবাই বলে। একসময় ঠিক চলে যাবেন।
::--কথা দিবনা তবে এটুকু বলতে পারি কখনো ছেড়ে যাবনা যতদিন দেহে প্রান থাকবে।
:::--আমার পক্ষে সম্ভব না।
:::--তাহলে আমার মৃত্যর জন্য আপনি দায়ী থাকবেন।
:::--মানে???
::--সুইসাইড করব আমি
::---কেন এরকম করেন আপনারা??? আমি তো মানুষ। কোনো পাথর নই। ভালবাসা জিনিসটা ভূলে গিয়েছিলাম। আবার সেটা মনে সৃস্টি করিয়ে দিলেন। এখন আবার চলেও যাচ্ছেন। আমার অপরাধ টা কি বলতে পারেন (কাদতে কাদতে)
কিছু না বলে আদিরা আদি কে জড়িয়ে ধরল। আজ আদির কান্না আসছে। প্রচন্ড কান্না। আদিরা ওকে থামতে বলছেনা। কারন আর কখনো আদিকে কাদতে দিবেনা আদিরা। আর দুর থেকে আরও একজন চোখের মূল্যবান জল গুলো বিসর্জন দিচ্ছে। জুবায়েদ।
আজ ও অনেক খুশি।আজ অনেকদিন পর ও আদি কে কাদতে দেখছে।
,,
,,
আদি আস্তে আস্তে আবার স্বাভাবিক হয়। এখন ও রোজ ভার্সিটিতে যায়। অনু,, জুবায়েদ,,আর তার পরির সাথে আড্ডা দেয়।
√valoলাগলে janaben
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now