বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাসুল (সা.) যে ধরনের সুগন্ধি পছন্দ করতেন
সুগন্ধি পবিত্রতার প্রতীক। রাসুল (সা.)-এর সুন্নত।
প্রিয় নবী (সা.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন। বিশেষ করে, লোকসমাগমস্থলে যাতায়াত, জুমা ও ঈদের দিন সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে, তার কাছে সুগন্ধি থাকলে ব্যবহার করবে, তারপর জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মাসজিদে যাবে, সেখানে (সামনে যাওয়ার জন্য) লোকদের ঘাড় টপকাবে না এবং মহান আল্লাহর নির্ধারিত নামাজ আদায় করে ইমামদের খুতবার জন্য বের হওয়া থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরবতা অবলম্বন করবে, তাহলে এটি তার জন্য এ জুমা ও তার আগের জুমার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহর কাফফারা হয়ে যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আরো তিন দিনের গুনাহরও কাফফারা হবে। কেননা নেক কাজের সওয়াব (কমপক্ষে) ১০ গুণ হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)
মহানবী (সা.) যে সুগন্ধি পছন্দ করতেন, তার মধ্যে অন্যতম মেশক। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, মেশক প্রসঙ্গে রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উত্তম সুগন্ধি হলো মেশক। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৯২)
মেশককে আমাদের দেশে কস্তুরিও বলে। এটি অত্যন্ত মূল্যবান সুগন্ধি।
পুরুষ হরিণের পেটে অবস্থিত সুগন্ধি গ্রন্থি নিঃসৃত সুগন্ধির নাম। মিলন ঋতুতে পুরুষ হরিণের পেটের কাছের কস্তুরি গ্রন্থি থেকে সুগন্ধ বের হয়, যা মেয়ে হরিণকে আকৃষ্ট করে। ঋতুর শেষে তা হরিণের দেহ থেকে খসে পড়ে যায়। সেটি সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে কস্তুরি তৈরি করা হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ কস্তুরির ওজন ৬০ থেকে ৬৫ গ্রাম হয়।
এই সুগন্ধি এতটাই শক্তিশালী যে কথিত আছে, কস্তুরির একতিল পরিমাণ কোনো বাড়িতে ফেললে বহু বছর সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। তিন হাজার ভাগ নির্গন্ধ পদার্থের সঙ্গে এর এক ভাগ মেশালে সব পদার্থই সুবাসিত হয় কস্তুরির ঘ্রাণে।
কিন্তু কস্তুরির সংগ্রহকারীরা এই সুগন্ধিকে প্রকৃত অবস্থায় রাখেন না। তাঁরা সাধারণত কস্তুরিকে অন্য পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করেন।
কখনো কখনো রাসুল (সা.) চন্দন ও জাফরানের সুগন্ধিও ব্যবহার করতেন। আল্লামা ইবনে আবদুল বার (রহ.) ‘তামহিদ’ নামক কিতাবে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জাফরানের সুগন্ধি ব্যবহার করেছেন। ’
জাফরান শুধু সুগন্ধি হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না, ব্যবহৃত হয় মসলা ও খাবার হিসেবেও। এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও কম নয়। জাফরানে ঘন কমলা রঙের জলে মিশে যায় এমন এক ধরনের ক্যারোটিন থাকে, যাকে ক্রোসিন বলা হয়। এই ক্রোসিন আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার কোষ, যেমন—লিউকেমিয়া, ওভারিয়ান কারসিনোমা, কোলন অ্যাডেনোকারসিনোমা প্রভৃতি ধ্বংস করতেও সাহায্য করে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, জাফরান স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জাপানে পারকিনসন ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন অসুখে জাফরান ব্যবহার করা হয়। এক কেজি জাফরানের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় চার লাখ টাকা। এটি তৈরি করতে এক লাখ ৬৬ হাজারের বেশি ফুলের দরকার হয়।
রাসুল (সা.) যে সুগন্ধিগুলো ব্যবহার করতেন, তার আরেকটি হলো আম্বর। হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—রাসুলুল্লাহ (সা.) কী ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘মেশক ও আম্বরের সুগন্ধি রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবহার করতেন। ’ (নাসায়ি শরিফ, হাদিস : ৫০২৭)
সমুদ্রে বিশেষ এক ধরনের মাছ আছে, যা থেকে মোমের মতো দ্রব্য পাওয়া যায়। সে জিনিস দিয়েই বানানো হয় মহামূল্যবান এই সুগন্ধি। এটি সাধারণত চীন, আমেরিকা, মাদাগাসকার, সোমালিয়া এবং আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। অনেকের ধারণা, সমুদ্রের সেই বিশেষ মাছ হলো নীল তিমি। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বেশি অবগত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now