বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।চারিদিকের সুন্দর পরিবেশ দেখে মনটা নেচে উঠলো।একটা গান ধরলাম*কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে গানের সুরে মেলে দিলেম এই ডানা*হঠাৎ ১টা ছোট ছেলে এসে ১টা চিরকুট দিলো..দিয়ে বললো_ভাইয়া সামনের রিক্সায় বসে থাকা আপু এটা দিলো..আমি তাকিয়ে দেখলাম নীল পার ওয়ালা ১টা হলুদ শাড়ীর আঁচল উড়ছে।অমনি চলে যেতে লাগলো রিক্সাটা..আমি পড়তে লাগলাম__বাহ অনেক সুন্দর গান করেন আপনি__এমন ১টা চিরকুট,তাও আবার একজন মেয়ের কাছ থেকে পেলে যেকোনো ছেলের ইচ্ছে হবে মেয়েটিকে দেখার..তেমনি ভাবে আমারও হয়েছিলো।কিন্তু মেয়েটা তো ততোক্ষণে অনেক দুরে চলে গেছে।কি আর করার,হয়তো আর মেয়েটা কে দেখাই হবে না।যাই হোক এর দুই দিন পরে এক চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম বন্ধুরা মিলে।অনেক হাসাহাসি করছিলাম সবাই।হঠাৎ আরও একটা ছেলে এসে একটা চিরকুট দিলো আমায় আর দিয়ে বললো ট্যাক্সিতে বসে থাকা এক আপু দিছে।আমি বসেছিলাম,যেই উঠবো অমনি ট্যাক্সিটা চলতে থাকলো।চিরকুটটা পড়তে থাকলাম__কি সুন্দর করে হাসেন আপনি,অবশ্য যার গানের কন্ঠ এতো সুন্দর তার হাসিতো সুন্দর হবেই__যা ভেবেছিলাম,সেদিনের সেই মেয়েটাই ছিলো ট্যাক্সিতে।কিন্তু আমাকে দেখে পালিয়ে যাচ্ছে ক্যানো এভাবে?সেদিন ঘটনাটা সাধারণভাবে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তো দেখছি ব্যাপারটা রহস্যজনক। মেয়েটা তো রীতিমতো ফলো করছে আমায়। কিন্তু ক্যানো? নাহ যে করেই হোক, আমাকে জানতেই হবে কে এই মেয়েটি। পরদিন একটা পাকের বেঞ্চে গিয়ে বসলাম। চোখ কান খোলা রেখে গান গাইতে শুরী করলাম। গান শেষ কিন্তু চিরকুটের তো দেখা নেই। তাহলে কি আজ মেয়েটা পিছু নেয় নি। আরেকটা গান ধরলাম। ভাবলাম যদি আসে** আমাকে আমার মতো থাকতে দাও...........** নাহ সেদিন কেউ এলো না চিরকুট নিয়ে। আসবে না ভেবে বাড়ীর দিকে হাটা দিলাম। পরদিন একটা বড় বটগাছের নিচে বসে আছি। একটা গান ধরলাম** সেদিন দেখা হয়েছিলো, আজও পারিনি কিছুই বলতে, যে তোমায়.........** গান বলছি হঠাৎ দেখি একটা ছেলে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি গান থামালাম না, কারণ গান থামালেই পালিয়ে যাবে হয়তো। গাইতে গাইতেই চারিদিকে খুজতে লাগলাম। পিছনে একটা ট্যাক্সি ছাড়া আর কোনো গাড়ি লেখতে পেলাম না। সাবধানে ট্যাক্সির দিকে এগোচ্ছি। আমার উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালাতে লাগলো কিন্তু পালাবার আগেই ধরে ফেললাম। ট্যাক্সির ভিতরে তাকাতেই যেনো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। কাঁপা কাঁপা স্বরে বললাম... একি তু তু তুমি...পালিয়ে যাওয়ার আগে ধরে ফেললাম।একি তুমি..**এবার পরিচয় দেয়ার সময় হয়েছে।আমি হৃদয় আর আমার সামনে যে বসে আছে সে ছবি।আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ছবির সাথে আমার এক মধুর সম্পর্ক ছিলো।আমি ছিলাম বেকার।ছিলাম বললে ভুল হয়, এখনও তো তাই আছি।মাষ্টার্স পাশ করার পরও যখন চাকরি পাচ্ছিলাম না তখন কীসের জন্যে কোনো মেয়ে আমার সাথে ঘর বাধাঁর স্বপ্ন দেখবে।যদি আমার বাবার বড় বাড়ী, দামি গাড়ী থাকতো তাও ১টা কথা ছিলো। কিন্তু তারা তো ছোট বেলা ই আমাকে একা করে চলে গেছে। চাচার সহযোগীতায় এ পর্যন্ত পড়তে পেরেছি। কিন্তু চাকরির জন্যে যে মামা খালুর দরকার সে মামা খালু তো আমার নেই।তাই আমার চাকরি ও নেই।কিন্তু এসব বলে কি কোনো মেয়ের বা মেয়ের বাবার মন গলানো যাবে।নাহ, ছবির ও গলেনি।খুব ভালবেসেছিলো আমায়।কিন্তু আমার চাকরি না থাকার কারণে ভালবাসা কোনদিক দিয়ে উড়ে গেছে কে জানে।তাই অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায় ছবির। ছবির শেষ কথা ছিলো__ডাক্তারের সাথে বিয়ে হচ্ছে আমার।তোমার সাথে বিয়ে হলে কি হতো আমার।তোমার না আছে চাকরি , না আছে বাড়ীঘর।__ঠিকই বলেছিলো সে।ওর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন চাকরির খোজ করে আর করি নি।কিন্তু সে আমাকে এভাবে ফলো করছে ক্যানো তাও আবার পাঁচ বছর পর? কিন্তু ছবি আমাকে ক্যানো ফলো করছে তাও আবার পাঁচ বছর পর?__কি হলো কথা বলছো না ক্যানো?আর এসবের মানে কি?দেখো পাঁচ বছর আগেও তুমি আমার কন্ঠ আর হাসির তারিফ করেছো।শুধু তাই নয়,আরও অনেক জিনিসের তারিফ করেছিলে,কিন্তু এতে লাভ কি হয়েছে?সেসব কিছুকে আমার কাছে তোমাকে আটকে রাখতে পেরেছে?তাহলে নতুন করে এসবের মানে কী?__আটকে রাখতে না পারলেও ফিরিয়ে আনতে তো পেরেছে,নইলে আমি সেদিন যেখান দিয়ে আসছিলাম,সেখানে তুমি কেনো গান গাইছিলা?__জাস্ট স্টপ।তোমার জন্য কি আমি গানও গাইতে পারবো না।আর তুমি এসব কি বলো?তোমার বিয়ে হয়েছে,পাঁচ বছরে নিশ্চই বাচ্চা কাচ্চাও হয়েছে,সেই তুমি কি বলো এসব?__তূমি কি আমার কোনো খবরই রাখো নি?__প্রয়োজন মনে করি নি?কেউ যখন আমার জন্য দুঃখ করে না,তাহলে আমি ক্যানো তার জন্য দুঃখ করতে যাবো?__৩ বছর আগে আমার স্বামী মরে যায়।আর বাচ্চার কথা বলছো তো,আমি তার ফ্যামিলিতে চাকরানীর মতো ছিলাম,বউয়ের মতো নয়!আর যদি বেঁচে থাকতো তবে এতদিনে নিজেই ডিভোস দিতাম।** এ মুহুতে ছবি আমার প্রেমিকা না হলেও ওর কথাগুলো শুনে কষ্ট হলো। নিয়তির কি নিমম পরিহাষ।__ওহ।__তোমাকে আমি শেষ কি বলেছিলাম মনে আছে?আমার ভাগ্যে সেই সুখটুকু কোনোদিন জোটে নি।শেষবার সুযোগ দিবে....... _শেষবার সুযোগ দাও।__লজ্জা করে না এমন কথা বলতে।তুমি জানো এই ৩ বছর কিভাবে কাটিয়েছি আমি। কতটা কষ্টে দিন কেটেছে আমার।পাঁচ বছর আগে ভেঙে পড়েছিলাম।আর উঠতে পারি নি।আর যার জন্য আজ আমার এ অবস্থা সেই তুমি এসব বলছো?নিলজ্জ..__একটিবার সুযোগ চাইছি।এমন ভুল কখনো হবে না।__চুপ করো।আর কীসের কারণে বলছো এসব?আমার কোনো চাকরি নেই,নেই কোনো বাড়ী,গাড়ী।আমি এখনও একটা মেসে থাকি। __লাগবে না আমার এসব..__লাগবে না আমার তোমাকে..__মানে?__খুব সিম্পল।পাঁচ বছর আগে বাড়ী,গাড়ীর দরকার ছিলো তোমার,কিন্তু এখন দরকার নেই।তেমনি পাঁচ বছর আগে আমার তোমাকে দরকার ছিলো,কিন্তু এখন নেই।__তুমি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো..বাবা তোমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে।আমরা ছোট্ট ১টা ঘরে আমাদের ছোট্ট সংসার সাজাবো।অনেক সুখে থাকবো দুজন। প্লিজ রাজি হয়ে যাও..__লাগবে আমার তোমার বাবার দেয়া ভিক্ষা।প্লিজ লিভ মি..প্লিজ** কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় ছবি। চোখের কোণায় লেগে থাকা দু ফোঁটা জ্বল মুছে বাড়ীর দিকে হাঁটা দেয় হৃদয়। সারাদিন না খেয়ে থাকে ছবি। আর খেতে বসে খাবার রেখে উঠে যায় হৃদয়।হৃদয়ের কাছের বন্ধু সজিব কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে সব কথা খুলে বলে সে।সব শুনেই সজিব হৃদয়ের গালে ১টা থাপ্পর লাগিয়ে দেয়। আসলে সজিব আগে থেকেই হৃদয় আর ছবির ব্যপারটা জানতো তাই তার এমন আচরণ দেখে থাপ্পর দিতে বাধ্য হয়েছে সজিব। "তুই আমার গালে থাপ্পর মারলি ক্যান... "তোকে তো মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে আমার.. "ক্যান? কি ভুল করেছি আমি? তুই জানিস না পাঁচ বছর আগে ও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো... "ওহ তুই শুধু ছবির টাই দেখলি, নিজের টা দেখলি না।। "নিজের আবার কি দেখার আছে? আমি কি কোনো অন্যায় করেছি? "না। তুই কোনো অন্যায় করিস নি। কিন্তু তবুও তোর আজ এমন হাল। ক্যানো বল? তোর মতো ছাত্র আজও বেকার, তোর কোনো চাকরি নেই, নিজের কোনো বাড়ি নেই। ক্যানো? বল... কি বা বলবি তুই? আরে চাকরি আসবে কিভাবে? তুই এই পাঁচ বছরে কয়টা চাকরির ইন্টারভিউ দিছিস বল? ক্যান ইন্টারভিউ দিস নি? শুধুমাত্র ছবির জন্যে। কারণ তুই জানিস ছবি ছাড়া তোর জীবনে কিছু ছিল না এখনও নেই। সেই ছবিকে কাপুরুষের মতো অপমান করে এলি। "তো কি করবো? "কি করবি বুঝিস না। এখনই যা ছবির কাছে । নিজের অন্তরকে নিজের হৃদয়কে বুঝিস না। তুই ক্যান না খেয়ে উঠে এলি? কারণ ছবির জন্যে তোর কষ্ট হচ্ছে। তুই এখনও ভালবাসিস ওকে? এখনই যা।... তুই কি মনে করিস এভাবে সুখে থাকতে পারবি.. __এখনই যা ছবির কাছে।(সজিব) __কিন্তু আমি তো ওকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছি। না না আমার যাওয়া টা ঠিক হবে না।(হৃদয়) __তোর না যাওয়াটা ভুল হবে.. আচ্ছা তুই তো কিছুই খেলি না... তোর কি মনে হয় ও সারাদিন কিছু খেয়েছে? __না রে। যার জন্যে আমি দায়ী। __নিজেকে দোষী ভাবার সময় এটা নয়। তুই যা.... হৃদয় তাড়াতাড়ি ছুটে গেলো। পুরাতন প্রেমিকার বাসা চিনতে কষ্ট হলো না। কিন্তু ছবির বাসার সামনে গিয়ে থমকে গেলো...(মনে মনে)_ ছবির বাবা যদি মেনে না নেয় ওকে। ওনার তো অনেক টাকা, তাই ওনার বিধবা মেয়ের জামাই খুজতে কষ্ট হবে না। আমার যাওয়াটা কি ঠিক হবে...। ঠিক ওই সময় ছবির বাবা কোথাও যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে বেরিয়েই দেখলেন হৃদয় দাঁড়িয়ে আছে.. _আসসালামু আলাইকুম আংকেল। _ওয়ালাইকুম। ভিতরে আসো। (হৃদয় কথামতো ভিতরে চলে গেলো)। _দেখো হৃদয়, বাবার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিটি তার মেয়ে। আমার কাছেও। আমি আমার মেয়ের এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না। তুমি প্লিজ ওকে গ্রহণ করো। _জ্বী আংকেল। _যাও বাবা। মেয়েটা আমার কিছুই খায় নি সারাদিন। (এরপর হৃদয় ছবির ঘরে গেলো)(ছবি তাকে দেখে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখনই) _উহু কোনো কথা না। আগে এসো খাইয়ে দিচ্ছি তোমায়। শুনেই ছবি জড়িয়ে ধরলো হৃদয়কে। END
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now