বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভ্যাম্পায়ার (১)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান =_= (০ পয়েন্ট)

X লেখক:শাহরিয়ার_হাছান পর্ব-১ ভ্যাম্পায়ার সন্দেহে তিনজন যুবক গণ পিটুনির শিকার । খবরের কাগজে এমন শিরোনাম দেখে রিদয় একটু বিচলিত হলো । রিদয় কাল বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছিল ভ্যাম্পায়ার সন্দেহে নাকি তাদের এলাকায় তিনজন লোককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকার লোকজন । রিদয় তখন অট্টহাসিতে ফেটে গেছিল । এখন সে বুঝতে পাড়ল কথাটা আসলেই সত্য । রিদয় ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে খবরের কাগজ পড়ায় মন দিলো । রিদয়ের খবরের কাগজ তেমন পড়ে না ।আজ মন চাইল তাই পড়া । সকাল সকাল খবরের কাগজ পড়তে বেশ ভালোই লাগে তার । রিদয় খবরের কাগজে তিনজন গণ পিটুনির শিকারের পুরো ঘটনাটা পড়ল । পত্রিকার বিবরণটা কিছুটা এমন ছিলো, “বেশ কিছুদিন যাবৎ আরিফ, সুজন আর মিরাজ নামের তিনজন ছেলেকে শ্রীপুর এলাকায় ঘুরতে দেখা যায় । তাদের বেশির ভাগ রাতেই বেলায় দেখা যেত। দলবদ্ধ ভাবে চলত তারা । রবিবার সকালে নিলান্তী আফরিন তার ছোট্ট মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিল না । একই দালালে বসবাস করত আরিফ,সুজন আর মিরাজ । খুঁজাখুঁজির এক পর্যায় আরিফ, সুজন আর মিরাজ যে তলাতে থাকতো সেখানে নিলান্তী আফরিনের মেয়েকে পাওয়া যায় । ঘরে আরিফ, সুজন এবং মিরাজ কেউই ছিলো না । ঘরের ভিতর থেকে নিলান্তীর ছোট্ট মেয়ের রক্ত শূন্য মৃত দেহ পাওয়া যায় । এর কিছুক্ষণ পরই আরিফ,রিয়াজ এবং মিরাজকে দালানের নিচে পাওয়া যায় । সাধারণ জনতা তাদের ধরে, কথার কাটাকাটি হয় তাদের সাথে । এক পর্যায় জনসাধারণ ক্ষিপ্ত হয়ে গণ পিটুনি দেয় । ঘটনাস্থলে মারা যায় তারা । ’’ ব্যাখ্যাটি সংক্ষিপ্ত ছিলো । পুরো ঘটনা বিস্তারিত ভাবে খবরের কাগজের অষ্টম পৃষ্ঠায় রয়েছে । রিদয় সোজা হয়ে চেয়ার বসল । কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছল সে । চেয়ার থেকে ওঠে দাঁড়াল রিদয় । বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল সে । সপ্তম তলায় থাকে রিদয় । এই উঁচুতে বেশ ভালোই বাতাস আসে । . . বারান্দায় দাঁড়াতেই শীতল বাতাসের স্পর্শ পেল রিদয় । ফিরে গেল ডেস্কের কাছে । রিদয় খবরের কাগজটা একটু নাড়াচাড়া করে রেখে দিলো । রিদয় ভাবতে লাগল, “ খবরের কাগজে দেয়া তথ্য অনুসারে মেয়েটির রক্ত শূন্য মৃত দেহ পাওয়া যায় । যে কাজটি কোনো ভ্যাম্পায়ারের দ্বারাই সম্ভব । কিন্তু কল্পনা জগতে ভ্যাম্পায়ার নিয়ে পড়া গল্পগুলো তো বলছে ভ্যাম্পায়ার এত দুর্বল নয় । সাধারণ গণ পিটুনিতে মারা যাবার কথা নয় । কাজটি তো ভ্যাম্পায়ারের বলে মনে হচ্ছে না । কিন্তু রক্ত শূন্য মৃত দেহের বিষয়টা তো ফেলে দেবার মতো নয় । কাজটি তো মানুষেরও মনে হয় না আবার ভ্যাম্পায়ারের বলে মনে হচ্ছে না । এই ভ্যাম্পায়ার নিয়ে গুজবটা রটেছে কে? আমি তো এত দিন ভ্যাম্পায়ার নিয়ে ভীতিকর কিছু শুনি নি । ’’ রিদয় কিছুই বুঝতে পাড়ছে না । মাথায় শত শত প্রশ্ন ঘুরছে । রিদয়ের ভাবনায় ছেদ পড়ল । “রিদয় বাবা নাস্তা করতে আয় । ’’ ডাইনিং রুম থেকে রিদয়ের মা ডাক দিলো । রিদয় চেয়ার থেকে উঠে ডাইনিং রুমের দিকে যাবার জন্যে পা বাড়ালো । নাস্তা করার সময় রিদয় তার মাকে বলল, “এই ভ্যাম্পায়ার নিয়ে গুজব কে বা কারা রটেছে? ’’ রিদয়ের মা রিদয়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল । “মা এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?’’ রুটি ছিড়তে ছিড়তে কথাটা বলল রিদয় । “অবাক লাগছে! বিগত পাঁচ দিন ধরে শহরে কি হচ্ছে তুই জানিস না?’’ “কই শহরে কি হচ্ছে? আমি তো কিছুই জানি না । আজ পত্রিকা থেকে জানলাম, তাই তো প্রশ্ন করলাম । ’’ “ঘর থেকে তো বের হস না’ জানবি কি করে?’’ “মা পূজার বন্ধ পেয়েছি সাত দিন । ঘর থেকে বের হতে মন চায় না । কি হয়েছে আমাকে একটু বলবে?’’ “আচ্ছা মন দিয়ে শুন । পাঁচ দিন আগে শহরে অনেক লোকই রক্ত চোষক প্রাণীকে দেখেছে বলে দাবি করে । প্রথম গুজব বলেই সবাই উড়িয়ে দেয়, কিন্তু রাতে বেলায় বহু মানুষ দেখেছে বলে দাবি করে । একজন দুইজন না, প্রায় শতাধিক লোক একই দাবি করে । সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবরটা রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ে । যারা প্রাণীটা দেখেছে তাদের বিবরণ অনুসারে মানবের মতো দেখতে তবে বিভৎস তাদের চেহারা । ডানা যুক্ত, লম্বা দাঁত বিশিষ্ট দৈত্য । তাদের বিবরণ রূপকথার ভ্যাম্পায়ারের সাথে ব্যাপক ভাবে মিল । রাতারাতি ভ্যাম্পায়ারের আতঙ্ক সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে । আর কাল যা হলো তারপর তো ঘর থেকে মানুষ বের হতে ভয় পাচ্ছে । ’’ রিদয় মনোযোগ সহকারে কথাগুলো শুনছিল । রিদয় মায়ের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, “আমিই মনে হয় বাংলাদেশে একমাত্র ব্যক্তি যে ভ্যাম্পায়ার আতঙ্ক সম্পর্কে জানি না । ’’ “তুই যে অলস সেজন্যে । ’’ রিদয় কিছু না বলে নাস্তা খাবায় মন দিলো । জানে সে উত্তর দিলে মায়ের হাতে বকা খাবে । নাস্তা শেষ করে রিদয় বলল, “আচ্ছা মা আপনি এত কিছু জানলেন কি করে? আমার তো মনে হয় না সাংবাদিকরাও এত কিছু জানে । আচ্ছা মা আসলে এতো কিছু জানলেন কি করে?’’ “এই তো পাশের বাসার আন্টি গতকাল আমায় বলল । ’’ রিদয় হেসে বলল, “তার মানে আপনি কাল এসব জেনেছেন , আর আমায় বকছেন । আপনার ছেলে আপনার মতোই দেশ দুনিয়ার খবর রাখে না । আমায় বকছেন আবার। ’’ রিদয় ঠেলা মেরে কথাগুলো বলে চলে গেল নিজ রুমে । . . ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে ভ্যাম্পায়ার সন্দেহে গণ পিটুনিতে মারা যাওয়া আরিফ, মিরাজ আর সুজন । একদিন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু পোস্ট মার্টম এখনো শুরু হয়নি । কোনো ফরেনসিক ডক্টর রাজি হচ্ছেন না । সবার মনে অজানা ভয় কাজ করছে । শেষ মেশ ড.আজাদ রাজি হলেন । ময়নাতদন্তের কাজ তিনি মাত্র শুরু করেছেন । . . রাত আনুমানিক তিনটে বাজে তখন । পোস্ট মার্টমের কাজ প্রাথমিক ভাবে শেষ হয়েছে । অতিরিক্ত আঘাতের ফলে মাথার হাড় আর মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে । সবার মৃত্যুই একই ভাবে ঘটেছে । কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো তিন জনই সাধারণ মানুষ । প্রচলিত ভ্যাম্পায়ারের বিবরণের সাথে এক শতাংশও মিল নেই । ফরেনসিক ডক্টর আজাদ আপাতত নিশ্চিত যে এরা সাধারণ মানুষ । রূপকথার ভ্যাম্পায়ার নয় । তিনজনের পোস্ট মার্টম প্রাথমিক ভাবে শেষ করার পর ফরেনসিক ডক্টর আজাদ ছোট্ট মেয়েটির লাশের কাছে আসলো । রক্ত শূন্য দেহটা সাদা হয়ে আছে । চামড়াগুলো ঝুলে আছে । ছোট্ট মেয়েটিকে আশি নব্বই বছরের বৃদ্ধার মতো লাগছে । শুরুতেই ডক্টর আজাদের নজর পড়ল ঘাড়ে থাকে ছিদ্রের দিকে । দুটো গোলাকার ছিদ্র ।ছিদ্র দুটি এক সেন্টিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট । তেমন সময় লাগলো না পোস্ট মার্টম করতে । বলতে গেলে কাটা ছেঁড়া করাই হয়নি । বোঝাই যায় কোনো প্রাণী বা কোনো কিছু দ্বারা শরীরের সব রক্ত বের করে নেয়া হয় , যার ফলে মেয়েটি মারা যায় । পোস্ট মার্টমের কাজ শেষ করে ডক্টর আজাদ ভালো করে হাত -মুখ ধুয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন । ভোর হয়ে এসেছে, আযানের শব্দ পাচ্ছেন তিনি । পরের দিন সকালে প্রায় নয়টা বাজে , আজাদ সাহেবের কাছে ফোন আসলো । ওপাশ থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে আসছে । “আজাদ পোস্ট মার্টম করা যুবকের লাশ তিনটে কোথায়?’’ পুলিশ অফিসারের কথা শুনে ডক্টর আজাদ কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে রইলো । “কি বলছেন আপনি?’’ “লাশগুলো নেই তো । বাচ্চার লাশটা আছে কিন্তু যুবক তিন জনের লাশ নেই । ’’ ডক্টর আজাদ ফোন কেটে দ্রুত হাসপাতালের দিকে রওনা দিলেন । . . হাসপাতালে পুলিশ অফিসারের সাথে ডক্টর আজাদের ব্যাপক হারে তর্কাতর্কি হচ্ছে । পুলিশ অফিসার কথা হলো ফরেনসিক ডক্টর এত উদাসীন কেন? পোস্ট মার্টমকৃত লাশ চুরির করা তো সহজ কাজ নয় । ফরেনসিক ডক্টর আজাদ রেগে গিয়ে বললেন, “শুনেন আমার কাজ হচ্ছে পোস্ট মার্টম করা । পোস্ট মার্টমের পর লাশ কি হবে সেটা দেখা আমার দায়িত্ব নয় । আমি একজন ফরেনসিক ডক্টর, কোনো চৌকিদার নই । আপনারা এখানে লোক রেখেছিলেন । তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে পোস্ট মার্টমকৃত লাশ চুরি হয়েছে । তারা কোথায় তাদের ডাকুন । ’’ পুলিশ অফিসার বলল, “যারা দায়িত্বে ছিলো তাদের উপর হামলা হয়েছে । সবাই গুরুতরভাবে আহত । হাসপাতালে তারা । ’’ ডক্টর আজাদ চটে গিয়ে বললেন , “এতক্ষণ ধরে তাহলে আমার সাথে উঁচু গলায় কেন কথা বললেন? প্রথমত সারা রাত ভরে পোস্ট মার্টমের কাজ শেষ করলাম, আর আপনি আমায় দায়িত্ব বুঝাচ্ছেন? আপনার রাখা লোকগুলো দায়িত্বহীন, নাকি আমি । আশা করি এই ব্যাপারে আমায় আর বিরক্ত করবেন না । ’’ ডক্টর আজাদ হন হন করে হাসপাতাল থেকে চলে গেলেন । পুলিশ অফিসার আজাদ সাহেবের কথায় কিছুটা লজ্জা পেয়েছেন, যার ফলে প্রতিউত্তরে তিনি কিছু বলেন নি । তিন দিন পর থানায় পুলিশ অফিসার রফিক সাহেবের মুখামুখি হয়ে বসে আছে রিদয় । রিদয়ের মুখটা মলিন! পুলিশ অফিসার জনাব রফিক একটা দীর্ঘ প্রশ্বাস নিয়ে বললেন, “তুমি কি নিশ্চিত আরিফ, সুজন এবং মিরাজ-কেই পথে দেখেছিলে?’’ রিদয় বলল, “জ্বী স্যার আমি শত ভাগ নিশ্চিত তারাই ছিলো । সেদিন বিকেলে মায়ের জড়াজড়িতে বন্ধুদের সাথে বাহিরে আড্ডা দিই । ফিরতে রাত হয় । ফেরার পথে দেখেছিলাম । আমি প্রচণ্ড ভয় পাই । তাদের চোখ সাদা ছিলো! কেমন জানি শীতল ছিলো তাদের চোখের দৃষ্টি । ওদের দেখে দৌড়ে আমি পালিয়ে যাই ।’’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now