বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বড়দিদি/তৃতীয় পরিচ্ছেদ( পর্ব -১৬)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অন্তরা (০ পয়েন্ট)

X বেলা দশটা বাজিলেই বড়দিদির নিকট হইতে স্নানাহারের তাগিদ আসে। ভাল করিয়া আহার না করিলে বড়দিদির হইয়া প্রমীলা অনুযোগ করিয়া যায়। অধিক রাত্রি পর্য্যন্ত বই লইয়া বসিয়া থাকিলে ভৃত্যেরা গ্যাসের চাবি বন্ধ করিয়া দেয়, বারণ করিলে শুনে না— বলে, “বড়দিদির হুকুম।” একদিন মাধবী পিতার কাছে হাসিয়া বলিল, “বাবা, প্রমীলা যেমন, তার মাষ্টারও ঠিক তেমনি।” “কেন মা?” দু’জনেই ছেলে-মানুষ। প্রমীলা যেমন বোঝে না, তার কখন্‌ কি দরকার, কখন্‌ কি খাইতে হয়, কখন্‌ শুইতে হয়, কখন্‌ কি করা উচিত, তার মাষ্টারও সেই রকম, নিজের কিছুই বোঝে না— অথচ অসময়ে এমনি জিনিষ চাহিয়া বসে যে, জ্ঞান হইলে, তাহা আর কেহ চায় না।” ব্রজবাবু বুঝিতে পারিলেন না, মুখপানে চাহিয়া রহিলেন। মাধবী হাসিয়া বলিল, “তোমার মেয়েটি বোঝে কখন্‌ তার কি দরকার?” “তা’ বোঝে না?” “অথচ, অসময়ে উৎপাত করে ত?” “তা করে।” “মাষ্টারবাবু তাই করে—” ব্রজবাবু হাসিয়া বলিলেন, “ছেলেটি বোধ হয়, একটু পাগল।” “পাগল নয়। উনি বোধ হয় বড়লোকের ছেলে।” ব্রজবাবু বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেমন করিয়া জানিলে?” মাধবী জানিত না, কিন্তু এমনি বুঝিত। সুরেন্দ্র যে নিজের একটি কাজও নিজ়ে করিতে পারে না, পরের উপর নির্ভর করিয়া থাকে, পরে করিয়া দিলে হয়, না করিয়া দিলে হয় না— এই অক্ষমতাই তাহাকে মাধবীর নিকটে ধরাইয়া দিয়াছিল। তাহার মনে হইত— এটা তাহার পূর্ব্বের অভ্যাস। বিশেষ এই নূতন ধরনের আহার-প্রণালীটা মাধবীকে আরো চমৎকৃত করিয়া দিয়াছে। কোন খাদ্যদ্রব্যই যে তাহার মনোযোগ আকর্ষণ করিতে পারেনা, কিছুই সে তৃপ্তিপূর্বক আহার করে না— কোনটির উপরই স্পৃহা নাই, এই বৃদ্ধের মত বৈরাগ্য, অথচ বালকের ন্যায় সরলতা, পাগলের মত উপেক্ষা— খাইতে দিলে খায়, না দিলে খায় না— এ সকল তাহার নিকট বড় রহস্যময় বোধ হইত; একটা অজ্ঞাত করুণাচক্ষুও, সেই জন্য এই অজ্ঞাত মাষ্টারবাবুর উপর পডিয়াছিল। সে যে লজ্জা করিয়া চাহে না, তাহা নহে, তাহার প্রয়োজন হয় না, তাই সে চাহে না। যখন প্রয়োজন হয়, তখন কিন্তু আর সময়-অসময় থাকে না— একেবারে বড়দিদির নিকট আবেদন আসিয়া উপস্থিত হয়। মাধবী মুখ টিপিয়া হাসে, মনে হয়, এ লোকটি নিতান্ত বালকেরই মত সরল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now