বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই যে হারামী, আমাদের একা ফেলে এসেছিস কেন??
আর আবার এই সপিং করে এনেছিস! মাহি দা কে কি ব্যাংকের চাবি মনে করেছিস??
আর মাহি দাও সেই পাগল।
- এই মাহির নামে একটাও আজেবাজে কথা বলবি না। আর সাতদিন পর পুজো। এই জন্য এতো কিছু।
শ
-শুধু পুজোর জন্য এতো সপিং?? এখানে তো 12টা জামা!! কি করবি এগুলো দিয়ে?? এখানে তো একটা বাদে বাচ্চাদের সাইজের !!তুই বাচ্চা হলি কবে থেকে??
শুধু শুধু টাকা নষ্ট করা বন্ধ কর।
-বাদ দে। আচ্ছা আবীর দার সাথে কেমন সময় কাটালি??
-লাথি খাবি শয়তান। আমাদের ঐভাবে রেখে এসে এখন আবার কোন মুখে জিজ্ঞেস করছিস!??
-আসলে তোদের একা রাখার জন্যই এরকম করছি। এখন বল না, কেমন কাটালি??
আবীর বাবুর কথা বলতে ই তার ভাবনায় হারিয়ে গেলাম।
-এই, বল না।
-বাদ দে। কোন মুখে জিজ্ঞেস করছিস। আর তোদের এই প্লানে আবীর বাবু ও ছিল। তাই না???
-আরে, ভগবানের দিব্বি, তিনি এসব কিছু ই জানেন না।
-আচ্ছা, পড়তে বস। সামনে পরীক্ষা।
,,,,,,,,,,,,,,
ঐ দিন পর থেকে আবীর বাবুকে খুব মিস করতাম। আমি কি তার প্রেমে পড়ে গেছি নাকি???
কিন্তু একতরফা প্রেম হয় না।
প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে আমি আবীর বাবুর সাথে কথা বলার বাহানা খুজতাম।দেখাও করতাম তার সাথে। আসতে আসতে ভালোই বন্ধুত্ব হল। কখনো তিনি আমার কাছে আসতেন কথা বলতে, কখনো আমি।
একটা জিনিস খেয়াল করতাম, আবীর বাবু আমাকে ছাড়া কারোর সাথে তেমন কথা বলতো না। এমনকি মায়ার সাথেও না।
তাহলে কি তিনিও কি আমায় পছন্দ করেন???
আজ কিছুই ভালো লাগছে না। ক্যাম্পাসে বসে আছি। খুব খিদে পেয়েছে। কিন্তু ক্যান্টিনের খাবার খেতে ইচ্ছে করছে না। তাই বসে আছি।
হঠাৎ আবীর বাবু আসলেন। আজ ওনাকে আরো সুন্দর লাগছে। নাকের ওপর একবিন্দু ঘাম যেন পাহাড়ের চূড়ার একবিন্দু শিশিরের মতো অহংকার করছে।
এসে বললেন,
-চলুন, আজ কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। ক্যান্টিনের খাবার ভালো লাগছে না।
-আপনি যান। আমি যাবো না, ক্যান্টিনে গিয়ে খেয়ে নেবো। আমার ভালো লাগছে না।
-আরে চলুন না। আপনি না গেলে হয়তো আজ আমার খাওয়াই হবে না।
-কেন??
-তা জানি না। চলুন না। বন্ধু হিসেবে অনুরোধ করছি।
আমি না গেলে উনি খাবেন না। এটা ভেবেই খারাপ লাগছে। আচ্ছা উনি কি করে জানলেন যে আমি ক্যান্টিনে গিয়ে খাবার খাব না??
যাই হোক, আবীর বাবুর জন্য যেতেই হলো।
একটি ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে গেলেন। আবীর বাবু মেনু কার্ড আমাকে দিয়ে খাবার অর্ডার করতে বললেন।
আমি কার্ডটি তার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বললাম,
-আপনিই অর্ডার করুন। আজ আপনি বলুন। দেখি আপনার চয়েজটা কেমন।
-যা অর্ডার দেবো তাই খেতে হবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-ভেবে বলুন।
-ভয় দেখাচ্ছেন???
-নাহ্।
-আচ্ছা, এখন আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।
-কি বলবো??
-আপনি কোথায় থাকেন, ভবিষ্যতে কি করবেন, আপনার পরিবারে কে কে আছে,।
-আমি আর আমার মা নিয়ে আমাদের পরিবার। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর, আমরা মামার বাড়িতে আশ্রয় নেই। আমার মামার বাড়ি সিলেটে। আমার একটা মামাতো বোন ও আছে। একদিন কথা বলিয়ে দেবো। খুব ফ্রেন্ডলি মাইন্ডের। ভবিষ্যতে একটা ভালো চাকরি যোগার করার চেষ্টা করবো।
আর কিছু??
-আচ্ছা, আপনার কি প্রেমিকা আছে ???
প্রশ্নটা করায় আবীর বাবু এমন একটা ভাব করলো, যেন আমি কোনো ভুল কথা বলে ফেলেছি।
- আমি কি কোনো ভুলকথা বলেছি আবীর বাবু??
পরক্ষণেই এমন ভাবে হাসতে শুরু করলো যে, আমার প্রশ্নটা তার কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে।
আবীর বাবু হাসি থামিয়ে বললেন,
-চেষ্টায় আছি। এখনো মনের মতো কাউকে পাইনি। অবশ্য একজনকে হয়তো আমি পছন্দ করি। দেখি কি করা যায়।
আমি মনে মনে (তাহলে আমারও একটা সুযোগ আছে। আচ্ছা উনি কি আমাকেই পছন্দ করেন নাতো??ধুর, উনি কত সুন্দর। আর আমি তো,,,,,,,,,, ,,,,,,,,,,,)
খাবার এসে গেছে।
-একি, এগুলো তো আমার পছন্দের খাবার।
আবীর বাবু বললেন,
-অনুমান করেছিলাম। যাইহোক এভাবে আপনি আপনি করে বললে আমার খুব খারাপ লাগে। তুমি করে বলবেন। এটলিস্ট আমরা তো ভালো বন্ধু। তাই না??
-ওকে, তবে আপনাকে ও তুমি করে বলতে হবে।
-হুম বুঝলাম। এখন খাও।নআছে তো খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।
-ঠিক আছে।
খাওয়ার পর বিলটা আমিই দিতে চাইছিলাম। আমি তো আর মায়ার মতো নই। কিন্তু বিলটা আবীর বাবু দিয়ে দিলেন।
পরে আধঘন্টা পর হোস্টেলে পৌছে দিয়ে গেলেন।
আজ আর পড়াতে মন বসছে না। শুধু আবীর বাবুর কথা মনে পড়ছে।
সত্যি সত্যি কি আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি???
নাকি অন্য কিছু???
(পরের পার্টগুলো খুব ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি)
,,,,,,,,,চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now