বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Part 2:
আবীর,
-হ্যাঁ, বলুন।
-আসলে কালকের ব্যবহারের জন্য দুঃখিত। আর ধন্যবাদ টিস্যু পেপার দেওয়ার জন্য। আপনি ওটা না দিলে যে কি হতো!
-এই ব্যাপার, এতে ধন্যবাদ বা sorry বলার কি আছে। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে একই কাজ করত।
-না, আসলেই ব্যবহারটা একটু কটু হয়েছে।
-না কোনো ব্যাপার না। কতক্ষণ আর দাড়িয়ে থাকবেন। ক্যান্টিনে গিয়ে বসা যাক। কলেজ শুরু হতে একটু দেরি আছে।
মনে মনে বললাম, এতো মেঘ না চাইতেই জল। আসলে লোকটিকে একটু একটু করে পছন্দ করতে শুরু করেছি।
আমি কি ভুল কিছু করছি??
ভাবতে ভাবতে ক্যান্টিনে পৌছে গেলাম।
আবীর,
-মানু দা, দুইটা চা দিও তো, সাথে ঐ টিপ বিস্কুট ও দিও।
-এগুলোর কি দরকার ছি,,,,,,, ,,,,,,,,,,
-চুপ, এগুলো খেয়ে নিন। কলেজ শুরু হয়ে যাবে। এই কাপটা নিন। কারন আমি চিনি খাই না।
মনে মনে একটু অবাক হলাম। এত কম সময়ে কেউ এতো ফ্রি হতে পারে?? এই তো একদিন আগেও আবীর বাবুকে চিনতাম নাহ। এর মধ্যেই,,, ,,,,,,,,,
ঘোর কাটলো আবীর বাবুর ডাকে।
-এই যে,আপনার চা তো ঠান্ডা হয়ে যাবে।
-ও হ্যাঁ।।
-আচ্ছা, আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়???
-মনপুরা।
- Ohio, nice places.
-হুম, আপনার???
-সেটা নাহয় নাই জানলেন।
-কেনো??
টিং টিং টিং,,,,,, ,,,,,,,,
-পড়ে বলবো। এখন কলেজে যাওয়া যাক।
-এটা কিন্তু একদম ঠিক না।
আবীর একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল। কি সুন্দর হাসি।
মনের মধ্যে যেন একটা গান বেজে উঠলো, "মার ডালা, ও মার ডালা"।
কি সব ভাবছি এগুলো। ধ্যাত বাল।
ক্লাসে ঢুকতেই মায়া হারামিটা জেরা করতে শুরু করলো,
-কিরে, কেমন??
- মানে,(হারামিটা আবীরের কথা বলছে না তো )
-ঐযে তোর হবু রাজকুমার। কেমন??
-কে,, কার কথা বলছিস তুই??
-ঢং,যেন ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারে না। আমি আবীর বাবুর কথা বলছি। কেমন??
-ভালো।
-শুধুই ভালো, আর কিছু না??
-ফাজলামো বন্ধ কর।
মনে মনে বললাম (কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিস না।)
-ছেলেটা কিন্তু খুব ভালো। খুব বড়লোক ওরা।আমারটার থেকেও বেশী বেশী সপিং করিয়ে দেবে। হাত করে ফেল।
-ছিঃ, একটা হারামির সঙ্গে বন্ধুত্ব করছি। দুর হ এখান থেকে।
মায়া হাসতে থাকে।
ছুটির পর হোস্টেলে চলে আসলাম।
সন্ধ্যার পরে পড়তে শুরু করলাম। কিন্তু ঘুড়ে ফিরে ঐ আবীরের কথাই মনে হচ্ছিল। আমি কি প্রেমে পড়লাম নাকি।।
নাহ্,এসব হতে পারে না। সামনে আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে। এগুলো বাদ দেওয়াই উচিত।
প্রায় চার মাস হয়ে গেল। কলেজ আর হোস্টেল। এর বাইরে কিছু না। মাঝে মাঝে আবীর বাবুর সাথে দেখা হয়। কিন্তু কোনো কথা হয় নি। মায়ার কাছে শুনেছিলাম যেও এই কলেজেই পরে। ওর বিএড এর বন্ধু হওয়ার শুবাদে অনেক কিছু জানে।
আজ কলেজে হাফ ডে ছিলো। কোনো এক কারনে এরকম হয়েছে। রেলিং ঘেঁষে দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ পিছন থেকে মায়া ডাক দিলো। ঘুরে দেখলাম মায়া, ওর বয়ফ্রেন্ড আর আবীর বাবু।
-চল, ঘুরে আসি।
-কোথায়??
-রেস্টুরেন্টে।
-আমার ভালো লাগছে না। তোরা যা।
-মারবো এক চর। তুই ছাড়া আমার আর কে আছে বল। তুই না গেলে আমিও যাবো না।
মায়ার বিএড মানে মাহি দাও খুব অনুরোধ করলো। তার সাথে তাল মেলালেন আবীর বাবু।
অগ্যতা যেতেই হলো।
প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে গেল। মায়া আর মাহিদা আমাদের রেস্টুরেন্টে রেখে গেলো একা ফেলে।
দুজনেই চুপচাপ ছিলাম।
আবীর বাবু নিরবতা ভেঙে বললেন,
-এখানে থেকে বোরিং হওয়ার কোনো মানেই হয় না। চলুন কোথাও হেটে আসা যাক।
-ঠিক বলেছেন। চলুন।
দুজনে একসাথে হাটতে লাগলাম রাস্তার পাশে।
পথে দেখলাম একজন আইসক্রিম ওয়ালা। মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা।
ওমা, আবীর বাবু আমার দিকে আর আইসক্রিম ওয়ালা দিকে তাকিয়ে হাসছে।
একটু মিথ্যে রাগ দেখালাম। পথিমধ্যে কোনো কথা হয়নি।
সন্ধ্যা নেমে এলো, কিন্তু মায়া বা মাহি দার কোনো পাত্তা নেই। কী করে এখন একা একা হোস্টেলে যাবো??
আবীর বাবু হঠাৎ বলে উঠলো,
-ভয় পাবেন না, আমি আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসবো।
আশ্চর্য ,উনি কি করে জানলেন যে আমি ভয় পেয়ে আছি??
কথার মোর ঘুরাতে বললাম,
-ভয় কেন পাবো, আমি কি বাচ্চা নাকি। আচ্ছা আপনার বাড়ির কথা বললেন নাতো??
- বলবো।ধীরে ধীরে সব বলবো।
আমি আর বেশি কথা বাড়াই নি। কারন এমনিতেই মায়ার ওপর রাগ হচ্ছিল।
আধ ঘন্টা পর হোস্টেলে পৌছে গেলাম। আবীর বাবু ও good bye বলে চলে গেলেন। অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছিলো। সাথে রাগ ও হচ্ছিল মায়া হারামিটার ওপর।
রুমে ঢুকেই দেখি মায়া আবার একগাদা সপিং করিয়ে এনেছে।
আজ ওর একদিন কি আমার একদিন।
,,,,,,,,,============(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now