বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রেস্টুরেন্ট এ গেলাম দুই বান্ধবী মিলে খাইতে।
খাওয়া প্রায় শেষ। ব্যাগ হাতে নিতেই দেখি আমার ব্যাগ নাই।কিরে....
কে করল এই কাজ?
কিভাবে সম্ভব? অলরেডি আমি পাশে আছি।
অহ আল্লাহ! এখন খাবারের টাকা দেবো কিভাবে?
মোবাইল,টাকা সব তো গেলোই গেলো এখন টাকা দিতে না পারলে তো মানসম্মান যা আছে সেগুলও খাবারের প্লেটে রেখে যেতে হবে।
ভয়ে গা দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে।
বান্ধবী ইলাকে কলেজ থেকে জোর করে নিয়ে এসেছি ওর কাছেও কোন টাকা টুকু নাই।
দোস্ত এখন কি করা যায়?
চল পালায় যাবো।
কিভাবে পালাবো, যদি ধরা পড়ি?
মানুষ এতকিছু চুরি করে পালিয়ে যেতে পারলে আমরা সামান্য খাবার খেয়ে পালাতে পারব না কেন?
তাহলে একটা কাজ করি, আগে আমি পালিয়ে যাই পরে তুই পালাবি।
ততক্ষণে ওয়েটার বিলের কাগজ নিয়ে আসছে দেখে আমার হাত পা কাঁপতেছে।
আচ্ছা শুন.....আস্তে করে উঠে দৌড় দিলে কেমন হয়?
ধুর কি বলিস। মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।
মাটিতে পড়লে সেগুলো তুলেও পিটে দিবে।
দোস্ত কিছু একটা কর। আমার ভয় করতেছে তাড়াতাড়ি বল কি করবো?
ধুর! হোটেলের মালিকটা এত কিপটে কেন?
অবলা দুটি মেয়েকে সামান্য খাবার মাফ করে দিলেই তো হয়।
দুইজনে আলাপ করতে করতে ইলা হঠাৎ করে জোরে চিৎকার করে কেঁদে উঠে।
আমি তো পুরোটাই থ হয়ে যাই।
কিরে কি হয়েছে?
টেবিলের নিচে আমার পা টিপ দেয়।
ততক্ষণে সবাই খাবারের টেবিল থেকে উঠে আমাদের পাশে চলে আসে।
ইলা হাত দিয়ে নিজের মাথায় বারি দিয়ে দিয়ে বলে....আমার দাদি নাই..... দাদি নাই।
আমি বললাম... দাদি কই গেছে?
ইলা কেঁদে কেঁদে বলে... দাদি মারা গেছে.... আমার দাদি মারা গেছে।
এবার আমিও ইলার সাথে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে লাগলাম।
ইশ! না জানি কত ভাল মানুষ ছিল।
এবার হোটেলের মালিক এসে জিজ্ঞাস করে কি হয়েছে?
ইলা আবারো কেঁদে কেঁদে বলে...আমার দাদি নাই...দাদি নাই।
মালিক ওয়েটারকে বলে ওদের থেকে খাবারের বিল নিও না।বেচারির দাদিটাও মারা গেছে।
আমি তো মহাখুশি।যাক বাবা ইলার দাদি মারা যাওয়াতে অন্তত আজকে রেহাই পেলাম।
দুইজনেই দাদি নাই...দাদি নাই করে কাঁদতে কাঁদতে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে সামনে এগোতেই পিছন থেকে এক ছেলে ডাক দেয়. ...এই মেয়ে তোমাদের কে রেস্টুরেন্ট এর মালিক ডাকতেছে।
এবার ইলা আমাকে বলে...দোস্ত ধরা খাইছি মনে হয়।
কি ধরা খেয়েছিস?
ধুর! বোকা মেয়ে কিছু বুজিস না।
আমার দাদি তো মারা গেছে আমার জন্মের আগে।খাবারের বিল থেকে রক্ষা পাবার জন্য এটা অভিনয়টা করলাম।
তাহলে আমি কেন কান্না করলাম?
ধুর! হুদাই কত গুলো চোখের পানি নষ্ট করলাম।
দোস্ত আমার চালাকি মনে হয় মালিক বুঝে গেছে।
অহ আল্লাহু! এখন উপায় কি?
এবার ইলার মত করে মাথায় বারি দিয়ে দিয়ে আমি কাঁদতে লাগলাম...আমার মোবাইল, আমার ব্যাগ সব গেলরে সব গেলো।
না! এরা এখন আর আমাদের কে বিশ্বাস করছে না।
ওয়েটার আমরা দুইজনকে চেয়ারে বসায় রাখছে।
মালিক এসে বলে... এই মেয়ে তোমার দাদি কবে মারা গেছে?
ইলা আমার কানে কানে বলে..দোস্ত দাদি যে বহুত আগে মারা গেছে বলেছি বোধহয় মালিক শুনে গেছে।
কি করা যায়....
ইলা আবার কান্নার সুর দিয়ে বলে.... দাদি মারা গেছে বহুত আগে...
ইলা আবারো কপালে হাত দিয়ে বারি মেরে মেরে বলে নানা নাই...নানা নাই...।
মনে হয় মালিক এবার নিশ্চিত হয়ে গেছে যে,আমরা চোর বা প্রতারক কেউ।
মালিক থানায় ফোন করে বলে.... হ্যালো পুলিশ ইন্সপেক্টর, আমার হোটেলে দুটি মেয়ে চোর ধরা পড়েছে তাড়াতাড়ি এসে এদের কে ধরে থানায় নিয়ে যান।
আমার মুখ দিয়ে কোন কথা আসছে না।ভয়ে তোতলাতে থাকি।
দোস্ত! দোআ পড়তে থাক।আজ নির্ঘাত কপালে জেলের ভাত আছে।
মুখ দিয়ে কোন দোআই আসতেছে না।
আলিফ,বা,তা,ছা বলে বলে বুকে ফু দিতে লাগলাম।
আমার কিন্তু কান্না পাচ্ছে।
মালিক জিজ্ঞাস করে... তোমাদের বাসা কোথায়?ঠিক করে বল, নয়ত আজ দুইজনের খবর আছে।
আর কত বছর ধরে এই ধান্ধায় জড়িত আছো?
এবার কিন্তু আমার রাগ একশ একশ হয়ে গেছে। ইচ্ছে করছে মালিকের গালে জোরে একটা চড় মেরে হাতের পাঁচ আংগুল বসায় দেই।
আমরা কি চুর? নাকি চুরের বউ?
আমরা তো ভাল মেয়ে, তাই না ইলা..??
হ! আমরা অনেক ভালো মেয়ে।
মালিকের কথায় রাগে গা শিরশির করছে।
আমার বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলে একটা গোল্ড এর রিং ছিল, সেটা খুলে মালিককে দিলাম...এই নিন, এটা বিক্রি করে আপনার খাবারের বিল আর যা যা লাগে সব রেখে বাকি টাকা আপনার হাতে রেখে দিবেন,আমি আগামীকাল কলেজে যাবার সময় নিয়ে নেবো।
আর পুলিশকে মানা করে দেন না আসতে।
হোটেলের মালিক হেসে বলে...আমি তো পুলিশকে ফোন করিনি,শুধু মজা করলাম।ব্যাগ চুরি হয়েছে সেটা বললেই পারতেন।
এই নিন আপনার ব্যাগ।
একটা লোক চুরি করে নিয়ে যাবার সময় ধরে ফেলেছি।..
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now