বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রতিবিম্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অয়ন ভৌমিক (০ পয়েন্ট)

X খুব বাজে একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙল আমার। চোখ কচলাতে কচলাতে অন্যমনস্কভাবে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। আমার শোবার ঘরেই বেশ বড় একটা আয়না আছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই চমকে উঠলাম, আয়নায় আমার জায়গায় অন্য একজন মানুষের প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে! তার মুখ ভয়ার্ত, রক্তশুন্য ও ফ্যাকাশে। নিশ্চয়ই স্বপ্নটা এখনো মাথায় গেঁথে রয়েছে, তাই বেশি পাত্তা দিলাম না ব্যাপারটাকে, কিন্তু সেদিন বিকেলেই আবার সেই লোকটাকে দেখলাম আমার আয়নায়। ভয়ার্ত মুখে সে তাকিয়ে আছে আমারই দিকে। নিশ্চয়ই আমি ভীষণ ক্লান্ত, তাই আমার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে! তাই দ্রুত খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে একটু ভয়ে ভয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। নাহ, আমাকেই দেখা যাচ্ছে আয়নায়। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। কিন্তু সেদিন বিকেলেই আবার দেখলাম ওই প্রতিবিম্বটা। আজ তার চেহারা কিছুটা আমার মতই দেখাচ্ছে। এবার আমি বেশ ভয় পেলাম। পরে কিছুদিন আর ভয়ে ভয়ে আয়নার সামনে যাই নি। এরপর জিনিস টা সম্পর্কে আমার আবার কৌতূহল হতে থাকে। ঠিকঠাক দেখেছিলাম তো সেইসময়? চোখের ভুল ও তো হতে পারে! আমি বরাবরই বস্তুবাদী। তাই একদিন আবার স্থির করলাম আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভালোভাবে প্রতিবিম্বটা দেখব। বুকে যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, সেই ভয়ার্ত মুখই চোখে পড়ল। কালো একটা পোষাক পরেছে প্রতিবিম্বটা। হাত পা পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবে এবার আর আমার এত ভয় লাগল না আমার। হয়তো এটা আমার উত্তপ্ত মস্তিষ্কের কল্পনা। আর এমনিতেও, জিনিসটা তো আর আমার কোন ক্ষতি করছে না। তারপর থেকে সবসময়ই সেটাকে আয়নায় দেখি। অভ্যাসে সব হয়, কথাটা ভুল নয় দেখছি। নয়তো অমন অদ্ভুত একটা জিনিসের সাক্ষী হয়ে আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছি কীভাবে? তবে সেই প্রতিবিম্বকে নিয়ে ঘটা আরেকটি ঘটনা আমাকে আবার ভয়ভীত করে তুলল। সেটা হল প্রতিবিম্বের লোকটার চেহারা! লোকটার চেহারা ধীরে ধীরে পালটে যাচ্ছে! সেটার চেহারা এখন দেখতে সম্পূর্ণ আমার মত! তাছাড়া সেটার ভয়ার্ত মুখ- ধীরে ধীরে একটা ধূর্ত হাসিতে পাল্টে যাচ্ছে! তার চোখের রঙও ধীরে ধীরে গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করছে। এরই মাঝে কেন যেন বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল। শোবার ঘরে ঢুকে আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি, প্রতিবিম্বটা আমার দিকে তাকিয়ে দুলে দুলে হাসছে। নিষ্ঠুর ধরণের হাসি। আমি সাথে সাথে একটা তোয়ালে নিয়ে আয়নার সামনে ঝুলিয়ে দিলাম। ঠিক করলাম আয়নাটা দেখব না। তারপর থেকে আর কখনও আয়নার দিকে তাকাই না। কখনো আয়নার দরকার হলে মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যাবহার করি। মোবাইলেও হটাৎ হটাৎ সেই প্রতিবিম্বটা দেখি। আবার অনেক সময় দেখি, সেলফিতে আমার চেহারা ফ্যাকাশে ও রক্তশূন্য, ভয়ার্ত চোখে আমি তাকিয়ে আছি ক্যামেরার দিকে। একদিন রাতে প্রচন্ড রকম গরমের মধ্যে কারেন্ট নেই, তাই ঘুম আসছিল না। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছিলাম, এমন সময় কোথা থেকে যেন টোকার শব্দ শুনলাম। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে দেখলাম, কেউ নেই। ঠিক তখন বুঝলাম, শব্দটা আসছে ঘরের ভেতর থেকে। আয়নাটা যেখানে রাখা আছে, সেদিক থেকে আসছে শব্দটা। কেউ কাঁচে টোকা মারলে যেমন শব্দ হয়, ঠিক তেমন শব্দ। আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোতে বয়ে গেল। দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছাটাকে দমন করে আমি আয়নার দিকে এগিয়ে গেলাম। ভয়ে ভয়ে আয়নার সামনে থেকে পর্দাটা সরালাম। অন্ধকারে আয়নাটাকে দেখতে লাগছে একটা কালো গর্তের মত। হঠাৎ সেই আয়না থেকে বেরিয়ে এল একটা হাত! ধূসর রক্তহীন একটা হাত। হাতের নখগুলো ওপড়ানো, সবগুলো নখের জায়গায় বিশ্রী একটা ক্ষত। সেখান থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে। হাতটা আমার শার্টের কলার আঁকড়ে ধরল। তারপর একটা হ্যাচকা টান দিয়ে আমাকে নিয়ে গেল আয়নার ভেতর। তারপর কতক্ষন গিয়েছে, জানি না। হয়তো এক মুহূর্ত, হয়তো এক যুগ। এখানে সময় বলতে কিছু নেই। হাতটা আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসার সাথে সাথে কে যেন আমার হাত ও পায়ের সবগুলো আঙুলের নখ উপড়ে ফেলেছে। এখন কেউ সেই ক্ষত ধারালো কিছু একটা দিয়ে খোঁচায়। আমি প্রাণপণে আর্তনাদ করি আর সেই আর্তনাদের মধ্যে কার যেন অস্ফুট হাসির শব্দ শুনতে পাই। এখন মাঝে মাঝে সামনে একজন মানুষকে দেখতে পাই। সে একটু অবাক হয়ে ভয়ভীত চোখে আমার দিকে তাকায়। নিজেকে না দেখতে না পেলেও আমি জানি, আমার চেহারা ধীরে ধীরে সেই লোকটার মত হয়ে যাচ্ছে। আমি এও জানি, একদিন আমি আমার রক্তশূন্য ক্ষত-বিক্ষত হাতটা আয়নার বাইরে বের করে এই লোকটাকে আয়নার ভেতর টেনে নেব। তখন আমার জায়গায় থাকবে সে, আর আমি নখ উপড়ে ফেলব। সেই দিনের কথা চিন্তা করলেই একটা অসুস্থ আনন্দ আমাকে পেয়ে বসে। আমার মুখে হঠাৎ একটা হাসি ফুটে ওঠে। ধূর্ত ও নিষ্ঠুর একটা হাসি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦প্রতিবিম্ব টিচিং হোমের এক অস্থির ছাত্র♦
→ প্রতিবিম্ব part 3
→ প্রতিবিম্ব part 2
→ প্রতিবিম্ব
→ প্রতিবিম্ব
→ দর্পণ_প্রতিবিম্ব ২য় পর্ব
→ দর্পণ_প্রতিবিম্ব ১ম পর্ব
→ প্রতিবিম্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now