বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি আশ্চর্য যাত্রা উপক্রমনিকা-০৪

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৪ বর্তমান কথাঃ ১। বেশকিছু দূর গিয়ে রাজা পিছনে তাকিয়ে দেখলেন কেউ পিছু নিয়েছে কিনা । নাহ, সূফী ওপাড় থেকে ফেরৎ গেছে । এই পাড়ে আসে নি । হতাশা গ্রাস করল রাজাকে । সেই সাথে অজানা ভয় চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল তাকে । এই সেই বন যে বন থেকে কেউ কখনো জীবিত ফেরত যেতে পারে নি । চোখ ফেটে জল এল তার । কিন্তু দূর্ভাগ্য, সেই পানি মোছার মত হাত নেই তার । নিজেকে নিজেই অভিসম্পাত দিলেন, কেন যে মন্ত্রীর কথাকে গুরত্ব না দিয়ে সূফীকে বিশ্বাস করতে গেলেন ! নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছেন তিনি, কিন্তু এখন যে আর কিছুই করার নেই । বেশ কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ালেন তিনি । বেঁচে থাকতে কে না চায় ? আর বেঁচে থাকার জন্য চারপাশ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি । ২। নদীর পাড় থেকে ফিরে সূফী প্রথমেই নিজের লাশটাকে গুম করার ব্যবস্থা করল । তারপর প্রাসাদে ফিরে গেল । প্রাসাদে রটিয়ে দিল সূফী তার নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছে, যেহেতু রাজার সাথে তাকে শিকারে বেরুতে দেখে নি কেউ । অনেক কাজ বাকি তার, সাবধানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে । কাউকে কিছু বুঝতে দেয়া চলবে না । সিংহাসনে বসেই প্রথম সিদ্ধান্তটি নিল- শিকারে যাবে সে । অনেকদিন শিকারে যাওয়া হয় না । সেনাপতিকে নির্দেশ দিল- বনের পাশে সৈন্য সমাবেশ করতে। রাজার নির্দেশ পেয়ে সেনাপতি তো ভীষণ অবাক । রাজাকে এর আগেও অনেকবার শিকারে যেতে দেখেছে সে । বেশির ভাগ সময় তিনি একাই যেতেন । মাঝে মাঝে হয়ত দু/একজন তার সঙ্গী হত । কিন্তু এভাবে সৈন্য সমাবেশ করে পুরোপুরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে শিকারে যাওয়ার ব্যাপারটা তার জন্য নতুন । মনে প্রশ্ন জাগলেও কোন দ্বিমত করল না সে । রাজার সঙ্গে দ্বিমত পোষণের ফল ভাল নাও হতে পারে । নিজের সৈন্য নিয়ে বনের দিকে রওনা দিল সে । ৩। ভাগ্যের পরিহাসে রাজার দিন কাটছে এখন ঘাস আর লতাপাতা খেয়ে ! হরিণের শরীরে বন্দি হবার পর দিন তিনেক পেরিয়ে গেছে । এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কি করবেন তিনি ? বন থেকে বেরুনোটা নিরাপদ হবে না । পানি খাওয়ার জন্য খাল পাড়ে পৌঁছে বুঝেছেন ঐপাশে লোকজনের সমাগম হচ্ছে । কে জানে ঐ সূফী শয়তানটা প্রাসাদে গিয়ে কি করছে ? প্রাসাদের কথা মনে পড়তেই তার বুকটা হাহাকার করে উঠল । তার রাণীর কি অবস্থা ? রাণী কি বুঝতে পেরেছে যে তার শরীরে আসলে সে নয় ? শয়তানটা রাণীর কোন ক্ষতি করে বসেনি তো ? ৪। সৈনিক এক- রাজার কি মাথা খারাপ হয়েছে ? এমন সিদ্ধান্ত মানুষ কিভাবে নেয় ? এতো পুরো আত্মহত্যার শামিল ! যে বনে কেউ দুঃস্বপ্নেও যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারে না, শখ করে সেখানে হরিণ শিকারে যাওয়ার অর্থ কি ? সৈনিক দুই- আস্তে বল । এসব কথা রাজার কানে গেলে তখন তোরও গর্দান যাবে । রাজাবেশী সূফী সেনাপতিকে আদেশ দিয়েছে তার সমস্ত সৈন্য নিয়ে যাতে ঘন জঙ্গলটায় অভিযান চালানো হয় । বনের সকল মায়া হরিণকে তার চাই । ৫। হরিণের শরীরে আবদ্ধ হওয়ার চতুর্থ দিন । বনজুড়ে তোলপাড় । সৈন্যরা নির্বিচারে প্রাণী হত্যা করে চলেছে । রাজা বুঝতে পারছেন এই সবই ঐ সূফীর কূট বুদ্ধি । সামনে তার মহাবিপদ । কিছু একটা তো করতে হবে । চার পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলেন কি করা যায়? ভাবতে ভাবতেই বিশাল এক অশ্বস্থ গাছের নিচে একটা মৃত টিয়াকে পড়ে থাকতে দেখলেন । আর কোন কিছু না ভেবেই তিনি টিয়ার শরীরে প্রবেশ করলেন । বন থেকে পালানোর এখন এই একটাই উপায় । সূফী যখন বনের মাঝে রাজাকে খুঁজে মরছিল, টিয়ার শরীরে ভর করে রাজা তখন প্রাসাদের পথে উড়ছিলেন । ৬। চারজন সৈন্যের একটি দল দেখল বিশাল এক অশ্বস্থ গাছের নিচে একটা হরিণ মরে পড়ে আছে । তবে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য তারা কেউ সত্যটি জানালো না । সবার কাছে বড়াই করে জানাল, হরিণটিকে তারা বহু কষ্টে হত্যা করেছে । একটা মায়া হরিণ শিকারের খবর শুনে রাজাবেশী সূফী ছুটে এল । এসেই চিনতে পারল এটাই সেই হরিণ । খুশীতে তার মনে আনন্দের ঢেউ বইতে শুরু করল । তার শত্রু চিরতরে শেষ । এখন সে নিশ্চিন্ত ! ৭। রাণী খেয়াল করলেন, ইদানীং তার শয়নকক্ষের পেছনে যে বিশাল কড়ই গাছটা আছে তাতে একটি টিয়া বসে সারাদিন তার দিকে তাকিয়ে থাকে । প্রথম প্রথম তিনি অবাক হলেও পরে পাখিটার জন্য অনেক মায়া অনুভব করলেন । কেন জানি তার মনে হয়, পাখিটা তাকে যেন কিছু বলতে চায় । কেন না জানি, পাখিটাকে তার অনেক আপন মনে হয় । এক বিকেলে রাণী প্রাসাদের ছাদে উঠেছিলেন । এমন সময় হঠাৎ টিয়ার ডাক শুনে চমকে উঠলেন । পিছনে তাকিয়ে দেখলেন পাখিটা রেলিং এ এসে বসেছে । কি মনে করে তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন । আর সাথে সাথেই পাখিটা উড়ে এসে তার হাতে বসল । রাণী তো মহাখুশী । পিঠে হাত বুলিয়ে পাখিটাকে আদর করে দিলেন, চোখ বুজে পাখিটা আদরটুকু উপভোগ করল । তারপর হাত থেকে লাফ দিয়ে কাঁধে চড়ে বসল । রাণী বাচ্চাদের মত খুশী হয়ে আদুরে গলায় বললেন- ওরে আমার সোনা পাখি, যাবি আমার সাথে ? পাখিটা কি বুঝলি কে জানে ! কিন্তু সেটা মাথা নেড়ে সম্মতি দিল । রাণী অবাক হলেন। তারপর পাখিটাকে নিয়ে প্রাসাদে ফিরে এলেন । ৮। পাখির দেহে বন্দি রাজা বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রাসাদে আছেন । সারাদিন রাণীর আশেপাশে ঘুরঘুর করেন, ইশারায় তাকে কিছু বলার চেষ্টা করেন । কিন্তু মানুষের কি আর সাধ্য পাখির ইশারা বুঝে ? অগ্যতা রাজা হাল ছেড়ে দিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকলেন । রাণীর শয়নকক্ষে একটা দোলনা টাঙ্গানো হয়েছে । রাতটা রাজা সেখানে কাটান । রাতে রাজার দেহধারী সূফী যখন রানীকে স্পর্শ করে, রাগে কিড়মিড় করতে থাকেন তিনি । কিন্তু নিয়তির কাছে যে বড় অসহায় তিনি ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now